সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

‘জেল খাটতে কেমন লাগে’ অভিজ্ঞতা নিতে ছয় বন্ধু মিলে শিশুকে হত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
‘জেল খাটতে কেমন লাগে’ অভিজ্ঞতা নিতে ছয় বন্ধু মিলে শিশুকে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শিশু মো. হোসাইন (১১) হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেল খাটতে কেমন লাগে—এমন কৌতূহল থেকেই ছয় জন কিশোর পরিকল্পনা করে শিশুটিকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ‘শিশু হোসাইন তার বাবার সঙ্গে শহরের বিভিন্ন স্থানে ফুল বিক্রি করতো। গত ১৮ এপ্রিল সকাল থেকে নিখোঁজ ছিল। ২৪ এপ্রিল বিকালে ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে হোসাইনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে এক কিশোরকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে আরও চার কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে তারা।’

নিহত হোসাইন নারায়ণগঞ্জ সদরের শিয়া চর তক্কার মাঠ এলাকার সুমন মিয়ার ছেলে। সে বাবার সঙ্গে শহরে ফুল বিক্রি করতো। এ ঘটনায় হোসাইনের বাবা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, ‘অভিযুক্তরা সবাই কিশোর। তারা দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকায় একটি বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা দিতো। সেখানে মাদক সেবনের পাশাপাশি ছোরা-চাকুও মজুত রাখতো। তাদের মধ্যে তিন কিশোর ঘটনার দিন রেলস্টেশন এলাকায় বসে আলোচনা করে—কীভাবে জেল খাটার অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, খুন করলে জেলে যাওয়া সম্ভব। এই বিকৃত কৌতূহল থেকেই তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। এর কিছুক্ষণ পর হোসাইন পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে তাকে টার্গেট করা হয়। কৌশলে গাঁজা খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে আড্ডাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল আরও তিন কিশোর। তাদের পরিকল্পনার কথা জানালে তারাও এতে সম্মতি দেয়। পরে সবাই মিলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হোসাইনের ওপর হামলা চালায়। হোসাইন কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন মিলে তাকে চেপে ধরে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘হোসাইনকে হত্যার পর কিশোরেরা আবার রেলস্টেশনে ফিরে গিয়ে মাদক সেবন করে। পরে আরেক কিশোরকে ঘটনাটি জানানো হয়। তাকে মৃতদেহের অবস্থান ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কয়েকদিন পর ঘটনাটি ধীরে ধীরে জানাজানি হয়। বরিশালের নথুল্লাবাদ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত কিশোরদের মধ্যে অধিকাংশই বিভিন্ন কলকারখানায় কাজ করে। শুধু একজন ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে, এক বছর ধরে সে আর বিদ্যালয়ে যায় না। এ ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে চার জন এজাহারভুক্ত, তদন্তে আরও দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একজনকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি খুবই চমকে দেওয়ার মতো। জেল খাটার কৌতূহল থেকে ছয় কিশোর মিলে ১১ বছর বয়সী শিশুটিকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক একজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

Ads small one

সাতক্ষীরায় গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সাতক্ষীরায় গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরায় সংগঠনটির জেলা কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. তবিবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান হাসান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত, অর্থ সম্পাদক আরিফ সানা, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সোহাগ হোসেন, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি আজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আজমির হোসেন পলাশ, সহসাধারণ সম্পাদক আল আমিন ও মাজহারুল ইসলাম, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজিজ নয়ন, জেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আলতাফ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক সেলিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান হাবিবুর রহমান এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোখলেসুর রহমানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আশাশুনিতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. আমান উল্লাহ বিশ্বাস ওরফে সেফ (৫৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার আমান উল্লাহ উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ফকরাবাদ গ্রামের মাছুম বিশ্বাসের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে ফকরাবাদে ভুক্তভোগী মাছুমা খাতুনের (৩৩) বসতঘরে প্রবেশ করে বাতি নিভিয়ে দেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। এ সময় ওই নারী শয়নকক্ষে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সুযোগে তাঁকে জড়িয়ে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগীর চিৎকারে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় সোমবার মাছুমা খাতুন থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে আশাশুনি থানায় মামলা নম্বর ২১, তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২৫)-এর ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা রুজু করা হয়। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

বিশ্ব অডিওভিজ্যুয়াল ঐতিহ্য দিবস: অতীত সংরক্ষণ, দৃশ্য-শ্রব্য দলিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
বিশ্ব অডিওভিজ্যুয়াল ঐতিহ্য দিবস: অতীত সংরক্ষণ, দৃশ্য-শ্রব্য দলিল

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৭ অক্টোবর বিশ্ব অডিওভিজ্যুয়াল ঐতিহ্য দিবস। ইউনেসকোর উদ্যোগে পালিত এ দিবসের মূল লক্ষ্য চলচ্চিত্র, বেতার, টেলিভিশন, অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মতো দৃশ্য-শ্রব্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং এগুলোর গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘আপনার বিশ্বকে দেখার জানালা’। এ প্রতিপাদ্য বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন, ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সংযোগ তৈরিতে দৃশ্য-শ্রব্য ঐতিহ্যের অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরে।

১৯৮০ সালের ২৭ অক্টোবর ইউনেসকোর ২১তম সাধারণ সম্মেলনে ‘চলমান চিত্রের সুরক্ষা ও সংরক্ষণবিষয়ক সুপারিশমালা’ গৃহীত হয়। ঐতিহাসিক এ ঘটনাকে স্মরণ করে ২০০৫ সালে ইউনেসকোর ৩৩তম সাধারণ সম্মেলনে ২৭ অক্টোবরকে বিশ্ব অডিওভিজ্যুয়াল ঐতিহ্য দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দিবসটি দৃশ্য-শ্রব্য দলিলের গুরুত্ব তুলে ধরা, এগুলো সংরক্ষণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এ কাজে নিয়োজিত পেশাজীবীদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে পরিণত হয়েছে।

অডিওভিজ্যুয়াল আর্কাইভ মানবজাতির সম্মিলিত স্মৃতির এক অমূল্য ভান্ডার। চলচ্চিত্র, ঐতিহাসিক ভাষণ, বেতার অনুষ্ঠান, টেলিভিশনের সংবাদ, লোকসংগীত ও প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে অতীতের ঘটনা এবং মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা পাওয়া যায়। লিখিত দলিলের পাশাপাশি এসব রেকর্ড ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের দৃশ্য, ঐতিহাসিক ভাষণ এবং বিভিন্ন সময়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস জানতে সহায়তা করে। একইভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধ, রাজনৈতিক পরিবর্তন, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও সামাজিক আন্দোলনের দৃশ্য-শ্রব্য দলিল ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সংস্কৃতি ও ভাষার বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এসব আর্কাইভের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ইতিহাস, লোককথা, গান, নৃত্য এবং ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মৌখিকভাবে প্রচলিত হয়ে আসছে। অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব। বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা আঞ্চলিক ভাষা, উচ্চারণ ও লোকসংগীতের রেকর্ড ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষণার উপাদান হিসেবেও কাজ করে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মানুষকে অন্য সমাজের জীবনধারা সম্পর্কে জানতে এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে সাহায্য করে। শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায়ও এসব উপাদান গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উৎস।

তবে দৃশ্য-শ্রব্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। পুরোনো ফিল্ম রিল, চৌম্বকীয় অডিও টেপ, গ্রামোফোন রেকর্ড ও ভিডিও ক্যাসেট সময়ের সঙ্গে তাপ, আর্দ্রতা, ছত্রাক এবং রাসায়নিক অবক্ষয়ের কারণে নষ্ট হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এসব রেকর্ড চালানোর যন্ত্রও আর সহজলভ্য নয়। ফলে মূল উপাদান অক্ষত থাকলেও সেখান থেকে তথ্য উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। পুরোনো রেকর্ডের বারবার অনুলিপি তৈরির ফলে শব্দ ও ছবির মান কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই উপযুক্ত সংরক্ষণাগার, দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি।

এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে পুরোনো শব্দ রেকর্ড ও চলচ্চিত্র ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তর করা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত রেকর্ডের শব্দ ও ছবির মান উন্নত করেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। ডিজিটাল ফাইলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুরক্ষিত সার্ভার, তথ্য সংরক্ষণের উপযুক্ত মাধ্যম এবং একাধিক অনুলিপি রাখার ব্যবস্থা কার্যকর। তবে ডিজিটাল রূপান্তরের পাশাপাশি মূল উপাদানগুলো উপযুক্ত পরিবেশে সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল ফাইলের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও প্রয়োজন। একই সঙ্গে তথ্য চুরি, অননুমোদিত প্রবেশ ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

বাংলাদেশে দৃশ্য-শ্রব্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ। ১৯৭৮ সালের ১৭ মে তৎকালীন তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ফিল্ম ইনস্টিটিউট ও আর্কাইভ’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৪ সালে এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ রাখা হয়। প্রতিষ্ঠানটি দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট উপাদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং এ বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির সংরক্ষণাগারে চলচ্চিত্র ও ঐতিহাসিক দৃশ্যচিত্র সংরক্ষিত রয়েছে। অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন উপাদান সংরক্ষণ এবং জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব সংগ্রহের যথাযথ সংরক্ষণ, ডিজিটাল রূপান্তর, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং জনসাধারণের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দৃশ্য-শ্রব্য ঐতিহ্য সংরক্ষণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইউনেসকোর ‘আমাদের সম্মিলিত ইউনেসকো ইতিহাসের ডিজিটাল সংরক্ষণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্থাটির ঐতিহাসিক নথি ও দৃশ্য-শ্রব্য সংগ্রহের একটি অংশ ডিজিটাল করা হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এ প্রকল্পে জাপান সরকারের সহায়তায় বিপুলসংখ্যক ঐতিহাসিক নথি, চলচ্চিত্র, ভিডিও, আলোকচিত্র ও শব্দ রেকর্ডিং ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তর করা হয়। এর ফলে এসব উপাদান সংরক্ষণের পাশাপাশি গবেষণা, শিক্ষা ও জনসাধারণের ব্যবহারের সুযোগও সম্প্রসারিত হয়েছে। এ উদ্যোগ প্রমাণ করে, ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব অডিওভিজ্যুয়াল ঐতিহ্য দিবস কেবল অতীতের দৃশ্য ও শব্দ স্মরণ করার উপলক্ষ নয়; এসব উপাদান ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের পরিচয়ের মূল্যবান দলিল। তাই সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আর্কাইভ পেশাজীবী, গবেষক ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এসব সম্পদ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। পুরোনো রেকর্ড দ্রুত ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, দক্ষ সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এগুলো সহজলভ্য করাই হোক দিবসটির অঙ্গীকার। কারণ, দৃশ্য-শ্রব্য ঐতিহ্য রক্ষা মানে শুধু অতীতকে বাঁচিয়ে রাখা নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য জ্ঞান, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জানালা খোলা রাখা।