বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

আক্রান্ত গণমাধ্যম, আক্রান্ত রাষ্ট্র: নীরবতার কালো কাপড় ও আমাদের গণতন্ত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
আক্রান্ত গণমাধ্যম, আক্রান্ত রাষ্ট্র: নীরবতার কালো কাপড় ও আমাদের গণতন্ত্র

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। ক্যালেন্ডারের পাতায় এটি কেবল একটি দিন, কিন্তু গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি আয়না। যে আয়নায় রাষ্ট্র নিজের মুখ দেখে-তার চরিত্র, তার সহনশীলতা, তার ভয় এবং তার সাহস। একটি রাষ্ট্র কতটা উন্মুক্ত, কতটা সহনশীল, কতটা আত্মবিশ্বাসীÑ তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মানদ- হলো তার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। কারণ গণমাধ্যম শুধু সংবাদ প্রকাশ করে না; এটি ক্ষমতার হিসাব রাখে, সমাজের আয়না ধরে এবং রাষ্ট্রকে প্রতিদিন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়।

 

এবারের এই দিনে সাতক্ষীরার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে যে দৃশ্য তৈরি হয়েছিল-হাত, মুখ ও চোখে কালো কাপড় বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিকরাÑ তা নিছক কোনো কর্মসূচি ছিল না। এটি ছিল এক নীরব চিৎকার, এক প্রতীকী বিদ্রোহ, যা শব্দের চেয়েও শক্তিশালী। “সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়”, “আক্রান্ত গণমাধ্যম মানেই আক্রান্ত রাষ্ট্র”Ñ এই স্লোগানগুলো নতুন নয়। কিন্তু বাস্তবতার চাপেই এগুলো আজ নতুন অর্থে ভারী হয়ে উঠেছে। কারণ, সত্য বলাই যেখানে সন্দেহের কারণ, সেখানে গণতন্ত্রও ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস হারায়।

 

নীরবতার প্রতীক: কালো কাপড়ের তিনটি ভাষাসাতক্ষীরার সেই প্রতীকী অবস্থানকে শুধু আবেগ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এটি একটি রাজনৈতিক ভাষা, একটি সামাজিক সংকেত এবং একটি গণতান্ত্রিক সতর্কবার্তা। হাত বাঁধা মানে কাজের স্বাধীনতা নেই। মুখ বাঁধা মানে কথা বলার স্বাধীনতা নেই। চোখ বাঁধা মানে সত্য দেখার অধিকারও সীমিত।এই তিনটি একসঙ্গে একটি ভয়ংকর বাস্তবতা তৈরি করেÑ যেখানে সাংবাদিক আর অনুসন্ধানী নন, বরং হয়ে ওঠেন নিয়ন্ত্রিত তথ্যের নীরব সাক্ষী।

 

এখানেই প্রশ্নটি সবচেয়ে তীব্র-রাষ্ট্র কি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে সত্য বলা এখন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ? মামলা, গ্রেপ্তার এবং কারাবন্দী সাংবাদিকদের বাস্তবতা সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে তার প্রকৃতি নিয়েও প্রশ্ন। অভিযোগ উঠছে-অনেক মামলা হয়রানিমূলক, অনেক গ্রেপ্তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।কিন্তু সবচেয়ে গভীর সংকট হলো কারাবন্দী সাংবাদিকদের বাস্তবতা। কারাগারে থাকা একজন সাংবাদিক কেবল একজন ব্যক্তি নন; তিনি একটি থেমে যাওয়া প্রতিবেদন, একটি স্তব্ধ অনুসন্ধান, একটি অপ্রকাশিত সত্য।

 

কারাবন্দী সাংবাদিক মানে-একটি সমাজের তথ্য জানার অধিকার সংকুচিত হওয়াএকটি তদন্ত অসমাপ্ত থাকা। একটি ক্ষমতার প্রশ্ন অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া এবং একটি ভয় তৈরি হওয়া-“কে পরবর্তী?”এই ভয়ই সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ এটি শুধু বাইরে থেকে আসে না; এটি ভেতরে ঢুকে যায়Ñ সাংবাদিকদের চিন্তায়, সিদ্ধান্তে, এমনকি শব্দ নির্বাচনে। একজন সাংবাদিক যখন জানেনÑ একটি প্রতিবেদন তাঁকে কারাগারে নিয়ে যেতে পারে-তখন তিনি আর পুরোপুরি স্বাধীন থাকেন না।

 

আত্মনিয়ন্ত্রণ শুরু হয় প্রকাশের আগেই। প্রশ্নটা তাই নির্মমভাবে সরল-সত্য বলা কি এখন অপরাধ? রাষ্ট্র যদি মনে করে কেউ অপরাধ করেছে, তবে বিচার হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত। কিন্তু মতপ্রকাশ বা জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ যদি শাস্তিযোগ্য হয়, তাহলে সেটি গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। গণমাধ্যমের ওপর চাপ শুধু আইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর বাইরে রয়েছে আরও ভয়ংকর বাস্তবতাÑ মব সন্ত্রাস। গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে হেনস্তাÑ এসব এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

 

এটি একটি বার্তা দেয়-“চুপ থাকো।” সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ঘটনার অনেক ক্ষেত্রেই বিচার হয় না। বিচারহীনতা অপরাধকে শক্তিশালী করে, আর ভুক্তভোগীকে করে আরও অসহায়। ফলে তৈরি হয় এক ভয়ংকর সমীকরণ-অপরাধ + বিচারহীনতা = স্থায়ী ভয়, এই ভয়ই গণমাধ্যমকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। গণতন্ত্র কোনো স্থির কাঠামো নয়; এটি একটি চর্চা। আর সেই চর্চার প্রাণশক্তি হলো গণমাধ্যম। স্বাধীন গণমাধ্যম-সরকারকে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করায়, নাগরিককে সচেতন করে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করে। কিন্তু যখন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন-তথ্য একমুখী হয়, সমালোচনা ক্ষীণ হয়, নাগরিক সত্য নয়, ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল হয়, এভাবেই গণতন্ত্র ধীরে ধীরে প্রতীকে পরিণত হয়, বাস্তবে নয়। কারাবন্দী সাংবাদিক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা।

 

কারাবন্দী সাংবাদিকের বিষয়টি কেবল মানবাধিকার ইস্যু নয়। এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সহনশীলতার পরীক্ষা। কারণ, একটি রাষ্ট্র কতটা সমালোচনা সহ্য করতে পারে-তার সবচেয়ে স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায় এই জায়গায়। কারাবন্দী সাংবাদিক মানে কেবল একজন ব্যক্তি নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের ভেতরের গণতান্ত্রিক চাপ। ন্যায়বিচার যদি স্বচ্ছ হয়, তাহলে রাষ্ট্রও দায়মুক্ত। কিন্তু যদি বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামো। সাতক্ষীরা একটি প্রান্তিক জেলা হলেও সেখান থেকে উঠে আসা বার্তা কেন্দ্রের জন্য গভীর অস্বস্তির হলেও গুরুত্বপূর্ণ।

 

সাংবাদিকদের পাশাপাশি লেখক, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন পেশার মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে-এটি কেবল পেশাগত দাবি নয়, এটি সামাজিক দাবি। যখন সমাজ একসঙ্গে কথা বলে, তখন পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিশ্বের অভিজ্ঞতা স্পষ্ট-যেখানে গণমাধ্যম স্বাধীন, সেখানে দুর্নীতি কম, প্রশাসন বেশি স্বচ্ছ এবং নাগরিক আস্থা বেশি। আর যেখানে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত-তথ্য গোপন থাকে, জবাবদিহি দুর্বল হয়এবং ভয় সংস্কৃতি তৈরি হয়। বাংলাদেশ এই সূচকে সন্তোষজনক অবস্থানে নেই-এটি পরিসংখ্যান নয়, এটি সতর্কবার্তা।

 

সবচেয়ে বড় সমস্যা আইন নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতি। সমালোচনাকে শত্রু হিসেবে দেখা, প্রশ্নকে বিরোধিতা হিসেবে চিহ্নিত করাÑ এই মানসিকতা গণমাধ্যমকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। একটি পরিণত গণতন্ত্রে সমালোচনা শক্তি, দুর্বলতা নয়। প্রথমত, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কারাবন্দী সাংবাদিকদের মামলাগুলো স্বচ্ছভাবে পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

 

চতুর্থত, মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি নিতে হবে। পঞ্চমত, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতা গড়ে তুলতে হবে। ষষ্ঠত, গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে। নীরবতা কখনো কখনো নিরাপদ মনে হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ নীরবতা রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক।নীরব গণমাধ্যম মানে নীরব সমাজ।নীরব সমাজ মানে নীরব নাগরিক। নীরব নাগরিক মানে নীরব গণতন্ত্র। সাতক্ষীরার শহীদ মিনারের সামনে কালো কাপড়ে আবৃত সাংবাদিকদের নীরব প্রতিবাদ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় এই নীরবতা ভাঙতে হলে প্রয়োজন ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক সাহস। কারণ গণমাধ্যম স্বাধীন না থাকলে সত্য চাপা পড়ে। আর সত্য চাপা পড়লে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্র নিজেই। “

 

আক্রান্ত গণমাধ্যম মানেই আক্রান্ত রাষ্ট্র”Ñ এই বাক্যটি তখনই সত্যিকারের অর্থ পাবে, যখন কোনো সাংবাদিক সত্য বলার কারণে আর কারাবন্দী হবেন না এবং কোনো সংবাদ সত্য প্রকাশের কারণে আর ভয় সৃষ্টি করবে না।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ হিজলদী ও তলুইগাছা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, হিজলদী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার বড়ালী হতে ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার চারাবাড়ি হতে ৬ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

 

 

 

 

 

সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বনজীবীদের কষ্ট, পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বনজীবীদের কষ্ট, পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলের বনজীবী, জেলে ও বাওয়ালিদের জীবন সত্যিই চরম অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি এবং কষ্টের প্রতীক। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দাকোপ, কয়রা, শ্যামনগরসহ বিভিন্ন এলাকার লাখ লাখ মানুষ জীবিকার জন্য এই বন ও নদীর ওপর নির্ভরশীল।

রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গভীর বনে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ করতে হয়। এ সময় তাদের প্রতিনিয়ত সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আক্রমণের আতঙ্কে থাকতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ততার প্রকোপে তাদের জীবন ও জীবিকা বারবার বিপর্যস্ত হয়। লবণাক্ত পানি ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও চাষাবাদের জমি নষ্ট হওয়া তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম এবং বনজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময়গুলোতে বনজীবীদের বনে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ থাকে। ওই দীর্ঘ সময়টাতে কাজ না থাকায় অনেকেই চরম মানবিক সংকটে ও অনাহারে দিন কাটান। বনে যাওয়ার জন্য দাদন ব্যবসায়ী বা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। এরপর বন থেকে আহরিত সম্পদ বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পাওয়া সবসময় সম্ভব হয় না, ফলে সারা বছর অভাব পিছু ছাড়ে না। বনদস্যুদের চাঁদাবাজি ও অপহরণের ভয় তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বর্তমানে বনের পরিস্থিতি অনেক অশান্ত এবং বন বিভাগের অনুমতি ও পাস-পারমিট সংগ্রহ করে বনে টিকে থাকা এখনো একটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া।

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার অন্যতম প্রধান নদী শাকবাড়িয়ার তীরে সুন্দরবন সংলগ্ন ১৫টি গ্রাম মঠবাড়ি, কাশিয়াবাদ, কয়রা ৪ নম্বর, ৫ নম্বর, ৬ নম্বর, পাথরখালী, মাটিকাটা, গাববুনিয়া, শাকবাড়িয়া, হরিহরনগর, গাতিঘেরি, বীনাপানি, জোড়শিং, আংটিহারা ও গোলখালী। এই ১৫টি গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এখনও বনের সম্পদের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে। বনজীবীরা মাছ ও কাঁকড়া ধরা, গোলপাতা কাটা ও মধু সংগ্রহ করা। বনের ভেতর ও আশপাশের নদী-খালে এরা চিংড়ি পোনাও ধরে থাকেন। জীবিকা নির্বাহে এটাও তাদের অন্যতম কাজ।

ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৭ লাখ পরিবারের জীবন ও জীবিকা এভাবেই কষ্টে কাটছে। খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, মুন্সিগঞ্জ সহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বনজীবী। উপকূলের সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ দরিদ্র মানুষ তাদের জীবিকার জন্য পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে এসব মানুষের বসবাস, যারা জীবিকার জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা, মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনের গভীরে যান। তবে গত এক দশকে এসব অঞ্চলের মানুষের আয় কমছে সুন্দরবন থেকে।

বন বিভাগ তথ্য অনুযায়ী, ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটারের ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে। সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে ২০১৭ সালে ২৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ৫২ শতাংশ করা হয়েছে। তাই সম্পদ আহরণ সংকীর্ণ হয়ে আসার পাশাপাশি আয় কমেছে সুন্দরবন নির্ভর জনগোষ্ঠীর। বাধ্য হয়ে পেশা বদল করেছেন, নতুন কর্মসংস্থানের খোঁজে বাস্তুচ্যুতও হয়েছেন অনেকে। অনেকে অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শাস্তির শিকার হয়েছেন। বন থেকে মাছ, মধু কিংবা অন্য কোনো সম্পদ বৈধভাবে আহরণ করে আগে যেখানে সচ্ছলভাবে চলত প্রতিটি পরিবার, সেখানে এখন ঋণের বোঝা নিয়ে চলতে হয় তাদের।

সুন্দরবন ঘেঁষা এলাকার অধিকাংশ পুরুষেরা মৎস্য আহরণ, গোলপাতা কাটা, কাঁকড়া ধরা আর মধু আহরণে আর নারীরা ব্যস্ত থাকেন চিংড়ির পোনা ধরায়। পরিবারের সবাই মিলে কঠিন সংগ্রাম করেও তিনবেলা ভাত জোটাতে না পেরে বনজীবীদের অনেকে আবার ফিরছে অন্য কাজে। কেউ এলাকায়, আবার কেউ দূরের শহরে। ঋণ বা দাদনের জালে অনেকটাই বন্দি হয়ে পড়েছেন উপকূলের এসকল জেলেরা। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার থাকে না। এ কারণে সংসার চালাতে কিংবা পরিবারের সদস্যদের মুখে দু-মুঠো ভাত তুলে দিতে জেলেরা হাত পাতছেন বিভিন্ন এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ী কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে। ঋণ নিয়ে তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান করলেও পরবর্তী সময়ে যা আয় করছেন তা দিয়ে চালাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির টাকা দিতে গিয়ে বাড়তি কোনো টাকা আর সঞ্চয় রাখতে পারছেন না।

কয়রার মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রমেন মন্ডল, তিনি প্রায় এক যুগ ধরে সুন্দরবনের ওপর ভর করে জীবনযাপন করছেন। পাসের টাকা, অন্যান্য খরচের টাকা, বনদস্যুর টাকা, ঘুষের টাকা দিয়ে গভীরে গিয়ে যে মাছ পাওয়া যায় তা দিয়ে আসলেই কিছু হয় না। তাই এ বছর আর জঙ্গলে যাইনি। মহাজনের কাছে টাকা ধার করে সংসার চালাচ্ছি।

পাইকগাছার গড়ইখালী গ্রামের জেলে রহমত সরদার বলেন, গত বছরও মাছ ধরতে গিয়ে আমার অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে বনে যাওয়া নিষেধ থাকে। আগের মতো নদীতে মাছ পাওয়া যায় না। আর প্রতিদিন মাছ নিয়ে আড়তে না গেলে আড়তদারদের লোকজন জেলেদের কটু কথা বলে। আড়তদার ও কোম্পানিদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মাছ ও টাকা কেটে নিয়ে নেয়। কোন সঞ্চয় তো হয় না ঝণ করতে হয়। দাদন ব্যবসা ও মহাজনের কবলে পড়ে জেলেরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবন যেমন আমাদের রক্ষা করা প্রয়োজন তেমনি এত গুলো মানুষের জিবীকা নির্বাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করছি বনজীবীদের বিকল্প আয়ের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা করতে। বেশ কয়েকটি প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। বনজীবীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের জন্য যোগ্য করে তোলা হবে।

সরকারের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে উপকূলীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলো নানা পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

 

কপিলমুনিতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কপিলমুনি থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ ২ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১১ টায় কপিলমুনি ফাঁড়ী পুলিশ তাদের আটক করে।

পুলিশ জানায়, কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনপেক্টর মোঃ মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে কাশিমনগর মৎস্য আড়ৎ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষও পুলিশকে সহায়তা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির দেহে তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, কপিলমুনির নাছিরপুরের খালেক বিশ্বাসের ছেলে মোঃ জয়নাল বিশ্বাস (২৬) ও আফসার বিশ্বাসের ছেলে মোঃ আলমগীর বিশ্বাস (৪০)। তাদের পাইকগাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনপেক্টর মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এমন নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার থাকবে বলে জানান তিনি।