বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: উপকূলের বেড়িবাঁধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ
প্রসঙ্গ: উপকূলের বেড়িবাঁধ

সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদের মানুষের কাছে বেড়িবাঁধ কেবল একটি অবকাঠামো নয়, বরং এটি তাদের জীবন-মৃত্যুর সীমারেখা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও সঠিক তদারকি, কাজের ধীরগতি এবং একশ্রেণির অসাধু মানুষের লোপাটের কারণে এই রক্ষাকবচই এখন উপকূলবাসীর আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি আশাশুনির হাজরাখালী এবং শ্যামনগরের গাবুরায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মানববন্ধন সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আশঙ্কারই বহিঃপ্রকাশ।
আশাশুনির হাজরাখালীর চিত্রটি উপকূলীয় উন্নয়নের এক করুণ চিত্র তুলে ধরে। ২০২২ সালে জাইকার অর্থায়নে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হলেও তিন বছরেও তা শেষ হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, অথচ বাঁধের বড় অংশ এখনো অরক্ষিত। ফাটল আর নদীগর্ভে বিলীন হওয়া বাঁধের দিকে তাকিয়ে শত শত পরিবার এখন ঘরবাড়ি ও মৎস্য ঘের হারানোর শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। যখন কাজ হওয়ার কথা, তখন কাজ ঝুলে থাকে; আর যখন নোনা জল লোকালয়ে ঢোকে, তখন শুরু হয় নামমাত্র ‘জরুরি সংস্কার’। এই চক্রাকার অবহেলা আর কতকাল চলবে?
অন্যদিকে, শ্যামনগরের গাবুরায় যে চিত্র দেখা গেছে, তা কেবল উদ্বেগজনক নয় বরং অপরাধমূলক। বাঁধ রক্ষার প্রধান উপকরণ ‘জিও ব্যাগ’ বা বস্তা রাতের আঁধারে চুরি হয়ে যাচ্ছে। সরকারি সম্পদ এবং জননিরাপত্তার এমন অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না। সম্প্রতি পুকুর থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই জিও ব্যাগ উদ্ধার প্রমাণ করে যে, একটি অসাধু চক্র ব্যক্তিগত লাভের জন্য পুরো এলাকার হাজার হাজার মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
উপকূলীয় বাঁধ রক্ষা কেবল পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের রুটিন মাফিক কাজ হওয়া উচিত নয়। এটি একটি জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু। হাজরাখালীর ঝুলে থাকা কাজগুলো বর্ষার আগেই দ্রুত শেষ করতে হবে। একইসাথে গাবুরার মতো এলাকাগুলোতে জিও ব্যাগ চুরি রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আমরা মনে করি, কেবল বরাদ্দ বাড়ানোই সমাধান নয়; প্রয়োজন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা এবং নিয়মিত তদারকি। সাতক্ষীরার সংশ্লিষ্ট আসনের জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বানÑবর্ষা শুরুর আগেই টেকসই বাঁধ নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নিন। উপকূলের মানুষকে বারবার ত্রাণপ্রার্থী না বানিয়ে, তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নিরাপদ রাখার স্থায়ী বন্দোবস্ত করুন। নোনা জলের থাবা থেকে উপকূলকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

Ads small one

বহিষ্কার হতে পারেন জামায়াত নেতা গাজী নজরুল, এমপি পদের কী হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
বহিষ্কার হতে পারেন জামায়াত নেতা গাজী নজরুল, এমপি পদের কী হবে

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত আছে। এ নিয়ে গত দুদিন মূলধারার গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ধারাবাহিক সংবাদ পরিবেশন হচ্ছে। তিনবার নির্বাচিত এই বয়োবৃদ্ধ এমপির সঙ্গে এক তরুণীর এমন সম্পর্ককে অনেকে অনেকভাবে বিশ্লেষণ করছেন। যদিও গাজী নজরুল এবং তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের দাবি— ওই তরুণীর সঙ্গে এমপির বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। মেয়েটির বাবাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তাদের সম্পর্ক বৈধ হলে লুকোচুরি কেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ। আবার অসম বিয়ের বিষয়টিকেও ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন অনেকে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মধ্যরাত থেকে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিও গত দুই দিন ধরে ব্যাপক শেয়ার হচ্ছে। পরিণত হয়েছে ট্ক অব দ্য কান্ট্রিতে। বুধবার (২২ জুলাই) তার নিজ নির্বাচনি এলাকায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। সচেতন নাগরিকের ব্যানারে ঝাড়ু মিছিল থেকে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

এরই মধ্যে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এতে উল্লেখ করা হয়—প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘‘গাজী নজরুলের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন দলের হাইকমান্ড। দোষী প্রমাণ হলে তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হতে পারে।’’ তবে দল থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত এলে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদের কী হবে, সেই আলোচনাও সামনে আসছে।

সংবিধানের ধারায় কী আছে?

সাধারণত কোনও সংসদ সদস্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কী থাকবে না, এমন প্রশ্ন সামনে চলে আসে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকের উল্লাহ  বলেন, ‘‘কোনও ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়া, নৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়া, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা বা অভিযোগ ওঠার কারণে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার কোনও বিধান নেই। সংবিধানে এমন কোনও অনুচ্ছেদ নেই, যেখানে শুধু অভিযোগ বা নৈতিক সমালোচনার ভিত্তিতে সরাসরি সদস্যপদ বিলুপ্তি হবে।’’

তবে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ তখনই শূন্য হয়, যদি কোনও সদস্য যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন।

ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকের উল্লাহ বলেন, ‘‘দলীয় বহিষ্কার বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই।’’

তবে ফৌজদারি মামলায় তিনি যদি এমনভাবে দণ্ডিত হন, যাতে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে তিনি সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন, তখন বিষয়টি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে। আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন দেখা দিলে সংবিধানের ৬৭(২) অনুযায়ী বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নিকট যাবে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত দেবেন।’’

এ ক্ষেত্রে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ আইনগত ও সাংবিধানিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকির মুখে নয়। দল তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, এমনকি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিলেও, শুধু সেই কারণে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে না। তবে তিনি যদি নিজে দল থেকে পদত্যাগ করেন (সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ), অথবা পরবর্তীকালে এমন কোনও আইনগত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যাতে তিনি সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও প্রযোজ্য আইনের অধীনে সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন, তাহলে সংবিধানে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তার সদস্য পদের প্রশ্ন নিষ্পত্তি হবে জানান ব্যারিস্টার শাকের।

জামায়াতের ব্যাখ্যা

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকালে গণমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তার দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এতে দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উল্লেখ করেন, বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বক্তব্য, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ভিডিও বক্তব্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজ-খবর ও প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’’

গাজী নজরুল বহিষ্কার হচ্ছেন?

জামায়াতের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কোনও নেতার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত বা সংগঠনবিরোধী অপরাধ প্রমাণ হলে গঠনতন্ত্রের পঞ্চম অধ্যায়ের ৬২ ধারায় প্রথমে তার প্রাথমিক সদস্য পদ বাতিল করার নিয়ম আছে। পরবর্তীকালে তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারও করা হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক নেতা জানান, গাজী নজরুল ইস্যুতে জামায়াতের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সর্বস্তরের জনশক্তি চরমভাবে বিব্রত। কারণ ইতোপূর্বে দলটির এই মানের কোনও নেতার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ আসেনি বলে দাবি তার। তাই দল থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগের বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা হতে পারে বলে তিনি জানান।

জানতে চাইলে দলটি সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘‘কোনও নেতা বা জনশক্তির অপরাধ প্রমাণ হলে মাত্রা অনুযায়ী জামায়াত সব সময়েই ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুলের বিষয়টি নিয়ে আমাদের তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সত্যিই যদি তিনি বহিষ্কার হন, তার সংসদ সদস্য পদের কী হবে এমন প্রশ্নে হামিদুর রহমান বলেন, ‘‘সেটির আইনগত দিক খতিয়ে দেখে দলগত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’’

এমপি পদ নিয়ে যা বললেন চিফ হুইপ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের দলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে  বলেন, ‘‘বিষয়টি গণমাধ্যম থেকে জেনেছি। আসলে ঘটনাটি সঠিক কিনা, তা নিশ্চিত নই। তিনি কারও ষড়যন্ত্রের শিকারও হতে পারেন। তারপরও বলবো, তিনি যদি অপরাধী হয়ে থাকেন, তাহলে আদালত সেটি দেখবে। এরপর ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন। তবে তিনি তার দল থেকে পদত্যাগ করলে, আসনটি শূন্য ঘোষণা হবে। সে ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।’’

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ হিজলদী ও তলুইগাছা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, হিজলদী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার বড়ালী হতে ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার চারাবাড়ি হতে ৬ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

 

 

 

 

 

সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বনজীবীদের কষ্ট, পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বনজীবীদের কষ্ট, পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলের বনজীবী, জেলে ও বাওয়ালিদের জীবন সত্যিই চরম অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি এবং কষ্টের প্রতীক। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দাকোপ, কয়রা, শ্যামনগরসহ বিভিন্ন এলাকার লাখ লাখ মানুষ জীবিকার জন্য এই বন ও নদীর ওপর নির্ভরশীল।

রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গভীর বনে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ করতে হয়। এ সময় তাদের প্রতিনিয়ত সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আক্রমণের আতঙ্কে থাকতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ততার প্রকোপে তাদের জীবন ও জীবিকা বারবার বিপর্যস্ত হয়। লবণাক্ত পানি ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও চাষাবাদের জমি নষ্ট হওয়া তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম এবং বনজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময়গুলোতে বনজীবীদের বনে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ থাকে। ওই দীর্ঘ সময়টাতে কাজ না থাকায় অনেকেই চরম মানবিক সংকটে ও অনাহারে দিন কাটান। বনে যাওয়ার জন্য দাদন ব্যবসায়ী বা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। এরপর বন থেকে আহরিত সম্পদ বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পাওয়া সবসময় সম্ভব হয় না, ফলে সারা বছর অভাব পিছু ছাড়ে না। বনদস্যুদের চাঁদাবাজি ও অপহরণের ভয় তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বর্তমানে বনের পরিস্থিতি অনেক অশান্ত এবং বন বিভাগের অনুমতি ও পাস-পারমিট সংগ্রহ করে বনে টিকে থাকা এখনো একটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া।

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার অন্যতম প্রধান নদী শাকবাড়িয়ার তীরে সুন্দরবন সংলগ্ন ১৫টি গ্রাম মঠবাড়ি, কাশিয়াবাদ, কয়রা ৪ নম্বর, ৫ নম্বর, ৬ নম্বর, পাথরখালী, মাটিকাটা, গাববুনিয়া, শাকবাড়িয়া, হরিহরনগর, গাতিঘেরি, বীনাপানি, জোড়শিং, আংটিহারা ও গোলখালী। এই ১৫টি গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এখনও বনের সম্পদের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে। বনজীবীরা মাছ ও কাঁকড়া ধরা, গোলপাতা কাটা ও মধু সংগ্রহ করা। বনের ভেতর ও আশপাশের নদী-খালে এরা চিংড়ি পোনাও ধরে থাকেন। জীবিকা নির্বাহে এটাও তাদের অন্যতম কাজ।

ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৭ লাখ পরিবারের জীবন ও জীবিকা এভাবেই কষ্টে কাটছে। খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, মুন্সিগঞ্জ সহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বনজীবী। উপকূলের সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ দরিদ্র মানুষ তাদের জীবিকার জন্য পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে এসব মানুষের বসবাস, যারা জীবিকার জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা, মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনের গভীরে যান। তবে গত এক দশকে এসব অঞ্চলের মানুষের আয় কমছে সুন্দরবন থেকে।

বন বিভাগ তথ্য অনুযায়ী, ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটারের ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে। সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে ২০১৭ সালে ২৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ৫২ শতাংশ করা হয়েছে। তাই সম্পদ আহরণ সংকীর্ণ হয়ে আসার পাশাপাশি আয় কমেছে সুন্দরবন নির্ভর জনগোষ্ঠীর। বাধ্য হয়ে পেশা বদল করেছেন, নতুন কর্মসংস্থানের খোঁজে বাস্তুচ্যুতও হয়েছেন অনেকে। অনেকে অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শাস্তির শিকার হয়েছেন। বন থেকে মাছ, মধু কিংবা অন্য কোনো সম্পদ বৈধভাবে আহরণ করে আগে যেখানে সচ্ছলভাবে চলত প্রতিটি পরিবার, সেখানে এখন ঋণের বোঝা নিয়ে চলতে হয় তাদের।

সুন্দরবন ঘেঁষা এলাকার অধিকাংশ পুরুষেরা মৎস্য আহরণ, গোলপাতা কাটা, কাঁকড়া ধরা আর মধু আহরণে আর নারীরা ব্যস্ত থাকেন চিংড়ির পোনা ধরায়। পরিবারের সবাই মিলে কঠিন সংগ্রাম করেও তিনবেলা ভাত জোটাতে না পেরে বনজীবীদের অনেকে আবার ফিরছে অন্য কাজে। কেউ এলাকায়, আবার কেউ দূরের শহরে। ঋণ বা দাদনের জালে অনেকটাই বন্দি হয়ে পড়েছেন উপকূলের এসকল জেলেরা। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার থাকে না। এ কারণে সংসার চালাতে কিংবা পরিবারের সদস্যদের মুখে দু-মুঠো ভাত তুলে দিতে জেলেরা হাত পাতছেন বিভিন্ন এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ী কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে। ঋণ নিয়ে তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান করলেও পরবর্তী সময়ে যা আয় করছেন তা দিয়ে চালাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির টাকা দিতে গিয়ে বাড়তি কোনো টাকা আর সঞ্চয় রাখতে পারছেন না।

কয়রার মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রমেন মন্ডল, তিনি প্রায় এক যুগ ধরে সুন্দরবনের ওপর ভর করে জীবনযাপন করছেন। পাসের টাকা, অন্যান্য খরচের টাকা, বনদস্যুর টাকা, ঘুষের টাকা দিয়ে গভীরে গিয়ে যে মাছ পাওয়া যায় তা দিয়ে আসলেই কিছু হয় না। তাই এ বছর আর জঙ্গলে যাইনি। মহাজনের কাছে টাকা ধার করে সংসার চালাচ্ছি।

পাইকগাছার গড়ইখালী গ্রামের জেলে রহমত সরদার বলেন, গত বছরও মাছ ধরতে গিয়ে আমার অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে বনে যাওয়া নিষেধ থাকে। আগের মতো নদীতে মাছ পাওয়া যায় না। আর প্রতিদিন মাছ নিয়ে আড়তে না গেলে আড়তদারদের লোকজন জেলেদের কটু কথা বলে। আড়তদার ও কোম্পানিদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মাছ ও টাকা কেটে নিয়ে নেয়। কোন সঞ্চয় তো হয় না ঝণ করতে হয়। দাদন ব্যবসা ও মহাজনের কবলে পড়ে জেলেরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবন যেমন আমাদের রক্ষা করা প্রয়োজন তেমনি এত গুলো মানুষের জিবীকা নির্বাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করছি বনজীবীদের বিকল্প আয়ের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা করতে। বেশ কয়েকটি প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। বনজীবীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের জন্য যোগ্য করে তোলা হবে।

সরকারের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে উপকূলীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলো নানা পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।