বিদেশে পাঠানোর নামে কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা দুই ভাই
এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): সার্বিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘গ্লোবাল ভিশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন আরাফাত হোসেন অপু ও মনিরুল ইসলাম দিপু নামের এই দুই ভাই। এদিকে প্রতারণার টাকায় যশোর শহরে তাঁরা নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বনানীতে ‘গ্লোবাল ভিশন’ নামে অফিস খুলে বসেন যশোরের বাসিন্দা অপু ও দিপু। একই এলাকার হওয়ার সুবাদে ঝিকরগাছার ‘মেহেদী টুর অ্যান্ড ট্রাভেলস’-এর মালিকের সঙ্গে তাঁদের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে গত ২০২৪ সালের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সাত মাসে ৩৪টি পাসপোর্ট এবং ভিসা ও আনুষঙ্গিক খরচের নামে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তাঁরা।
টাকা লেনদেনের জন্য তাঁরা ইসলামী ব্যাংক ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের যশোর শাখার ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। ভুক্তভোগীদের একজন কেশবপুরের আব্বাস আলী জানান, ৩৪টি পাসপোর্টের বিপরীতে মাত্র সাতটি ভিসা ও চারটি বিমান টিকিট দেয় সংস্থাটি। তবে যাচাই করে দেখা যায়, ভিসা ও টিকিটÑসবই ছিল জাল। এরপরই ভুক্তভোগীরা বনানী অফিসে গিয়ে দেখেন সেটি তালাবদ্ধ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে যশোর শহরের আর এন রোডে পাঁচতলা বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করেছেন ওই দুই ভাই। এছাড়া শহরে ‘মনপুরা বুটিক’ নামে কাপড়ের দোকান ও নিজস্ব অফিস রয়েছে তাঁদের। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অপু ও দিপু আত্মগোপনে থাকলেও তাঁদের অবৈধ সাম্রাজ্য ও অর্থ লেনদেন দেখাশোনা করছেন দিপুর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা লিজা। লিজাকে আইনের আওতায় আনলে এই চক্রের মূল হোতাদের সন্ধান পাওয়া যাবে বলে তাঁদের ধারণা।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান বলেন, “আমাদের কাছে তাঁদের দেওয়া ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা ও বিমান টিকিটের সব প্রমাণ রয়েছে। সর্বস্ব হারিয়ে আমরা এখন পথে বসার জোগাড়। আমরা এই প্রতারক চক্রের বিচার ও টাকা ফেরতের দাবিতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত অপু ও দিপুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে। যশোর শহরের বাড়িতে গিয়েও তাঁদের সন্ধান মেলেনি। স্থানীয়দের দাবি, এই দুই ভাই ও তাঁদের সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ভুক্তভোগীদের অর্থ উদ্ধারে প্রশাসন যেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়। ভুক্তভোগীদের এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।












