সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালির তলদেশে নতুন ‘অস্ত্র’ পেলো ইরান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
হরমুজ প্রণালির তলদেশে নতুন ‘অস্ত্র’ পেলো ইরান

হরমুজ প্রণালিতে সফল সামরিক অবরোধের পর এবার বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট লাইনের ওপর নজর দিয়েছে ইরান। ইউরোপ, এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বহনকারী এই সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় তেহরান।

হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহারের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ফি আদায় করার পরিকল্পনা করছে ইরান। গত সপ্তাহে তেহরানের আইনপ্রণেতারা আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়াকে সংযুক্তকারী সাবমেরিন ক্যাবলগুলোকে লক্ষ্য করে একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ঘোষণা করেছেন, ‘আমরা ইন্টারনেট ক্যাবলের ওপর ফি আরোপ করব।’ দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি থেকে রাজস্ব আদায়ের এই পরিকল্পনার আওতায় গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা এবং আমাজনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইরানি আইন মেনে চলতে হবে। সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্স ফি এবং এই ক্যাবলগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের একচেটিয়া অধিকার কেবল ইরানি কোম্পানিগুলোকেই দিতে হবে।

তবে কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এই প্রযুক্তি জায়ান্টরা ইরানকে কোনও অর্থ প্রদান করতে পারবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে অনেক কোম্পানি ইরানের এই বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবলই রাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফর থেকে ফেরার পর পুনরায় যুদ্ধ শুরু হতে পারে, এমন আশঙ্কার মধ্যে ইরান বুঝিয়ে দিচ্ছে যে সামরিক শক্তির বাইরেও তাদের হাতে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অস্ত্র রয়েছে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের মধ্যপ্রাচ্য প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি বলেন, ‘ইরানের এই হুমকির উদ্দেশ্য হলো বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এমন এক বিশাল ব্যয়ের বোঝা চাপানো, যাতে কেউ আর ইরানকে আক্রমণ করার সাহস না পায়।’

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক হাবতুর রিসার্চ সেন্টারের সিনিয়র গবেষক মোস্তফা আহমেদ সতর্ক করেছেন, ইরানি নৌবাহিনীর কমব্যাট ডাইভার, ছোট সাবমেরিন এবং আন্ডারওয়াটার ড্রোনের কারণে এই সাবসি ক্যাবলগুলো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনও ধরনের হামলার ফলে বিভিন্ন মহাদেশজুড়ে একটি ধারাবাহিক ইন্টারনেট বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

এতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে, যা তেল-গ্যাস রফতানি এবং ব্যাংকিং খাতকে অচল করে দেবে। ভারতের বিশাল আউটসোর্সিং শিল্প শত কোটি ডলারের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এ ছাড়া ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে আর্থিক লেনদেন ধীর হয়ে যাবে এবং পূর্ব আফ্রিকার কিছু অংশে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট হতে পারে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে যে তাদের জলসীমায় থাকা ক্যাবলের জন্য ফি চাওয়া আন্তর্জাতিক আইনের (১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন চুক্তি বা ইউএনসিএলএস) পরিপন্থি নয়। তারা মিসরের উদাহরণ টেনেছে, যারা সুয়েজ খালের কৌশলগত অবস্থান ব্যবহার করে ইউরোপ ও এশিয়াকে সংযুক্তকারী ক্যাবল থেকে বার্ষিক কোটি কোটি ডলার ট্রানজিট এবং লাইসেন্স ফি আয় করে।

তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুয়েজ খাল মিসরের খনন করা একটি কৃত্রিম জলপথ, আর হরমুজ প্রণালি একটি প্রাকৃতিক জলপথ, যার আইনি কাঠামো ভিন্ন। এসওএএস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক ইরিনি পাপানিকোলপুলু বলেন, ‘বিদ্যমান ক্যাবলগুলোর ক্ষেত্রে ইরানকে চুক্তি মেনে চলতে হবে। তবে নতুন ক্যাবল স্থাপনের ক্ষেত্রে যেকোনও দেশই তাদের শর্ত নির্ধারণ করতে পারে।’

টেলিজিওগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী ক্যাবলগুলো বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের মাত্র ১ শতাংশেরও কম বহন করে, তাও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই অঞ্চলে ক্যাবল মেরামত করা অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে।

সূত্র: সিএনএন

Ads small one

তনু হত্যায় ডিএনএ পরীক্ষায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ
তনু হত্যায় ডিএনএ পরীক্ষায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আরও তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এর আগে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় তিন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। এবার ডিএনএ নমুনায় পরীক্ষায় আরও এক পুরুষের রক্ত পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে পিবিআই। রবিবার (১৭ মে) রাতে তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে তিন পুরুষের শুক্রাণু তথ্য আমাদের কাছে ছিল। এখন নতুন করে আরও একজন পুরুষের আলামত পাওয়ার তথ্য ডিএনএ ল্যাব থেকে আমাদের দেওয়া হয়েছে।’

পিবিআই জানায়, গত ৬ এপ্রিল এ মামলায় তিন সন্দেহভাজন- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।

আদালতের আদেশ পেয়ে গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে হাফিজুরকে আটক করা হয়। এরপর তাকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন ঢাকায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর বিকালে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়। সেদিন তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

সিআইডির ডিএনএ ল্যাবরেটরি অব বাংলাদেশ পুলিশের ডিএনএ পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনায় মোট ২৪টি আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে নিহত তনুর কালো, লাল ও হলুদ প্রিন্টের কামিজ, বেগুনি রঙের ওড়না, কালো রঙের সালোয়ার, লাল ও হালকা বেগুনি রঙের অন্তর্বাস, চারটি দাঁত, ভ্যাজাইনাল সোয়াব, ৫ ফুট ও ১০ ফুট লম্বা খাকি ও হলুদ টেপ, পুরুষের একজোড়া ছেড়া জুতা, বলপেন ও এক টুকরো কাপড় ছিল। বাকি ১৩টি নমুনা ছিল সন্দেহভাজন ১৩ ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল।

নুসরাত ইয়াসমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওড়না, সালোয়ার ও আন্ডারওয়্যারে মানুষের বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এসব আলামতের বিভিন্ন স্থানে তিন জন ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এক টুকরো কাপড়ে রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। তাতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। সালোয়ার, ওড়না ও আন্ডারওয়্যারে পাওয়া বীর্যের সঙ্গে এই ডিএনএ প্রোফাইলের মিল নেই।

এদিকে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নতুন করে আরও একজন পুরুষের রক্ত রিপোর্ট পাওয়ায় মামলার তদন্তে আরও অগ্রগতি হয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মামলাটির তদন্ত তদারকি করা হচ্ছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। সবকিছু এখনই বলার সময় আসেনি। এখন নতুন করে আরও একজনের রক্ত পাওয়ায় সন্দেহভাজনদের সঙ্গে আরও ৩ জনের ডিএনএ ম্যাচ করাতে হবে। ইতিপূর্বে একজনের (হাফিজুর) ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে।’

এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনও রহস্য বের করতে পারেনি।

তবে ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিন জন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।
সর্বশেষ পুলিশ সদরদফতরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদরদফতরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদরদফতরের পুলিশ পরিদর্শক মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম।

এনইসি সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
এনইসি সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)-এর সভায় সভাপতিত্ব করছেন।
আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন মিলনায়তনে এ সভা শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

সভা চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)-এর সভা শেষে ‘সংবাদ সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে।

দুষ্টচক্র ভেঙে জ্বালানি নিরাপত্তায় ৫ উদ্যোগ সরকারের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ণ
দুষ্টচক্র ভেঙে জ্বালানি নিরাপত্তায় ৫ উদ্যোগ সরকারের

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, জ্বালানি খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা ও ‘দুষ্টচক্র’ ভেঙে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচটি মূল উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ বিষয়ক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভাটি সমন্বিতভাবে আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অনলাইন মিডিয়া ঢাকা স্ট্রিম।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা ও ব্যবহারের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক, অস্বচ্ছ চুক্তি এবং জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করেছে। এই দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাঁচটি উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমত, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য সামনে রেখে জ্বালানি মিশ্রণ পুনর্গঠন করা হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো হবে।

দ্বিতীয়ত, সাধারণ ভোক্তা ও শিল্প খাতের জন্য আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

তৃতীয়ত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করা হবে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমে।

চতুর্থত, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হবে; এ লক্ষ্যে বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

পঞ্চমত, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে একটি ‘বেঞ্চমার্ক’ নির্ধারণ করা হবে।

উপদেষ্টা বলেন, অতীতে কিছু গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি খাত পরিচালিত হওয়ায় প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে জনগণের ওপর ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। এই কাঠামোগত সমস্যা সমাধান না হলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না এবং শিল্পায়নও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং আগামী বাজেট প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করা হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমান জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান মাত্র ৫ শতাংশ, যা খুবই অল্প। জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রাধিকার বৃদ্ধিতে আগামী বাজেটে এডিপিসহ সামগ্রিক বরাদ্দে নবায়নযোগ্য খাতের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। প্রতিবছর ‘ন্যাশনাল অ্যানার্জি ট্রানজিশন রিপোর্ট’ প্রণয়ন ও প্রকাশ বাজেটের সঙ্গে সমন্বিতভাবে জ্বালানি রূপান্তর সংক্রান্ত সব উদ্যোগ, অর্থায়ন ও অগ্রগতি একটি সমন্বিত প্রতিবেদনে তুলে ধরতে হবে। নিজস্ব সক্ষমতা বাড়িয়ে স্টোরেজ সিস্টেমকে ডেভেলপমেন্ট করতে হবে। ইরিগেশনের ক্ষেত্রে ডিজেল পাম্পের পরিবর্তে সোলার পাম্প ব্যবহার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) রেহান আসিফ আসাদ নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইলেকট্রিক যানবাহন ও জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত জ্বালানি কৌশল প্রণয়নে কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, জ্বালানি সংরক্ষণে লিথিয়াম ব্যাটারির ব্যবহার বাড়াতে সরকার কর ও শুল্ক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

ইলেকট্রিক যানবাহন (ইভি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ভবিষ্যতের পরিবহন ব্যবস্থা হলেও এর জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন, চার্জিং অবকাঠামো এবং বিনিয়োগ প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে এ খাতে কিছু প্রণোদনা দিয়েছে এবং আরো উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অনুষ্ঠানে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)-এর বর্তমান নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলমগীর মোরসেদ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গবেষণ ও উন্নয়ন পরিদপ্তরের পরিচালক মনিরুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানাসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।