বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

পলিথিন নিলে সুন্দরবন বাঁচাবে না, আপনিও নয়-ভাবছেন কি?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
পলিথিন নিলে সুন্দরবন বাঁচাবে না, আপনিও নয়-ভাবছেন কি?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলজুড়ে বিস্তৃত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন শুধু একটি বনভূমি নয়, এটি বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনরক্ষার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। শত শত বছর ধরে এই বন উপকূলকে আগলে রেখেছে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াল আঘাত থেকে। কিন্তু আজ সেই সুন্দরবনই নীরবে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষের অসচেতনতা, লোভ ও দায়িত্বহীনতার কারণে। আর এই ধ্বংসযজ্ঞের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছে পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক।একসময় বাজার করতে গেলে মানুষ হাতে কাপড়ের ব্যাগ বা পাটের থলে নিয়ে বের হতো। মুদি দোকানে কাগজের মোড়কে পণ্য দেওয়া হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সহজলভ্য ও সস্তা হওয়ায় পলিথিন আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে ঢুকে পড়েছে। এখন বাজার, হাসপাতাল, স্কুল, অফিস, বাসস্ট্যান্ডÑসবখানেই পলিথিনের দাপট। কয়েক মিনিটের সুবিধার জন্য ব্যবহৃত এই পলিথিন শত শত বছর ধরে পরিবেশে থেকে যায়। অথচ আমরা হয়তো বুঝতেই পারছি না, এই সামান্য অবহেলাই ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎকে।সুন্দরবনের সঙ্গে পলিথিন দূষণের সম্পর্ক অনেকেই সরাসরি উপলব্ধি করতে পারেন না। অনেকে ভাবেন, শহরের ডাস্টবিনে ফেলা একটি প্লাস্টিক ব্যাগ কীভাবে সুন্দরবনের ক্ষতি করতে পারে? বাস্তবতা হলো, নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতিটি নদী, খাল ও জলাশয় একে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত। শহরের ড্রেন বা গ্রামের খাল থেকে ফেলা পলিথিন শেষ পর্যন্ত নদীতে গিয়ে পড়ে। নদীর স্রোত তা বয়ে নিয়ে যায় মোহনায়, আর সেখান থেকে পৌঁছে যায় সুন্দরবনের ভেতরে। জোয়ার-ভাটার পানির সঙ্গে এসব পলিথিন আটকে যায় শ্বাসমূলের মধ্যে, বন্ধ করে দেয় স্বাভাবিক পানি চলাচল।সুন্দরবনের গাছের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তাদের শ্বাসমূল। এই শ্বাসমূলের মাধ্যমেই গাছ অক্সিজেন গ্রহণ করে। কিন্তু যখন পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য শ্বাসমূলের চারপাশে জমে যায়, তখন গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। বনাঞ্চলের মাটি শক্ত হয়ে যায়, জীববৈচিত্র্েযর ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে। ফলে পুরো বাস্তুতন্ত্রই হুমকির মুখে পড়ে।প্লাস্টিক দূষণের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো এর দীর্ঘস্থায়িত্ব। একটি পলিথিন ব্যাগ সম্পূর্ণভাবে মাটির সঙ্গে মিশে যেতে শত শত বছর সময় লাগে। এ সময়ের মধ্যে সূর্যের তাপ, পানি ও বাতাসের প্রভাবে এটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়, যাকে বলা হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক। এই মাইক্রোপ্লাস্টিক নদী ও সাগরের মাছের শরীরে প্রবেশ করে। মাছ, কাঁকড়া, কচ্ছপ কিংবা পাখিরা খাবার ভেবে প্লাস্টিক গিলে ফেলে। এতে তাদের পরিপাকতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অনেক প্রাণী মারা যায়। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, খাদ্যচক্রের মাধ্যমে এই বিষাক্ত কণা মানুষের শরীরেও ফিরে আসে।আজ বিশ্বজুড়ে গবেষকেরা সতর্ক করছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু পরিবেশ নয়, মানবস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। পানীয় পানি, লবণ, মাছ এমনকি বাতাসেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। এসব কণা শরীরে প্রবেশ করে ক্যানসার, হরমোনজনিত সমস্যা, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অর্থাৎ পলিথিনের ক্ষতি কেবল বন ধ্বংসে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সরাসরি মানুষের অস্তিত্বের জন্যও বিপজ্জনক।বাংলাদেশে পলিথিন নিষিদ্ধের ইতিহাস নতুন নয়। প্রায় দুই দশক আগেই সরকার পাতলা পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল। আন্তর্জাতিক পরিম-লেও বাংলাদেশ একসময় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের জন্য প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই আইন কার্যকর হয়নি। এখনও দেশের বাজারগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। অনেক দোকানদার জানেন এটি ক্ষতিকর, তবুও সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় ব্যবহার বন্ধ করছেন না। আবার ক্রেতারাও বিনা প্রতিবাদে পলিথিন গ্রহণ করছেন। ফলে আইন কাগজে থাকলেও বাস্তবে পরিবেশ দূষণ কমছে না।উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ সুন্দরবনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি অনুভব করেন। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটসহ উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ জানেন, সুন্দরবন না থাকলে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত কতটা ভয়াবহ হতে পারত। সিডর, আইলা, আম্পান কিংবা ইয়াসের মতো দুর্যোগের সময় সুন্দরবন ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশাল গাছপালা ঝড়ের গতি কমিয়েছে, জলোচ্ছ্বাসের চাপ কমিয়েছে। কিন্তু যদি এই বন দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতের দুর্যোগ আরও ভয়াবহ হবে। উপকূলের মানুষের জীবন, কৃষি ও অর্থনীতি তখন বড় বিপদের মুখে পড়বে।পলিথিনের কারণে শুধু বন নয়, নগরজীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শহরের ড্রেন ও নালা পলিথিনে আটকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট ডুবে যাচ্ছে। কৃষিজমিতে পলিথিন জমে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। গবাদিপশু খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিক খেয়ে অসুস্থ হচ্ছে। নদীর তলদেশে প্লাস্টিক জমে নাব্যতা কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ পলিথিন এক নীরব ঘাতকের মতো সমাজের প্রতিটি স্তরে ক্ষতি করে চলেছে।দুঃখজনক বিষয় হলো, আমরা এখনও পরিবেশকে আলাদা কোনো বিষয় মনে করি। মনে করি, বন রক্ষা করা শুধু বন বিভাগের কাজ, নদী রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। অথচ পরিবেশ ধ্বংসের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস। বাজার থেকে একটি পলিথিন নেওয়া, রাস্তায় বোতল ফেলে দেওয়া কিংবা নদীতে ময়লা ফেলাÑএসব ছোট ছোট কাজই মিলিত হয়ে বড় বিপর্যয় তৈরি করে।আজ প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতার বিপ্লব। মানুষকে বুঝতে হবে, পরিবেশ রক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়; এটি বেঁচে থাকার শর্ত। স্কুল-কলেজে পরিবেশ শিক্ষা আরও কার্যকর করতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই শেখাতে হবে পলিথিনের ক্ষতি সম্পর্কে। পরিবার থেকে সচেতনতা শুরু করতে হবে। বাজারে গেলে কাপড়ের ব্যাগ নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। দোকানদারদেরও বিকল্প ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে।বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হতে পারে পাটশিল্প। একসময় “সোনালি আঁশ” নামে পরিচিত পাট ছিল দেশের অর্থনীতির প্রধান শক্তি। পরিবেশবান্ধব হওয়ায় বিশ্বজুড়ে আবার পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। পাটের ব্যাগ, কাগজের মোড়ক কিংবা জৈব উপাদান দিয়ে তৈরি প্যাকেজিং ব্যবহারে গুরুত্ব দিলে পরিবেশ যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। এটি হতে পারে পরিবেশ ও অর্থনীতির যৌথ সমাধান।স্থানীয় সরকার, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও আরও সক্রিয় হতে হবে। শুধু অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেই হবে না; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বাজারে বিকল্প ব্যাগ সহজলভ্য করতে হবে। প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নদী ও খাল পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত কার্যক্রম চালাতে হবে। বিশেষ করে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় প্লাস্টিক ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ জরুরি।গণমাধ্যমের ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়মিত পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে পারে। মানুষের কাছে বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরতে হবেÑকীভাবে একটি পলিথিন ব্যাগ শেষ পর্যন্ত একটি প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হয়, কীভাবে একটি বোতল নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে। যখন মানুষ ক্ষতির বাস্তব চিত্র দেখবে, তখন সচেতনতা আরও বাড়বে।ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও পরিবেশ রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবী মানুষের কাছে আমানতস্বরূপ। এই প্রকৃতি ধ্বংস করার অধিকার মানুষের নেই। নদী, বন ও প্রাণিকুল রক্ষা করা মানবিক দায়িত্ব। অথচ আমরা সাময়িক সুবিধার জন্য এমন এক উপাদান ব্যবহার করছি, যা শত বছরের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।আজকের শিশুদের জন্য আমরা কেমন পৃথিবী রেখে যেতে চাই? এমন এক পৃথিবী, যেখানে নদী প্লাস্টিকে ভরা, মাছ বিষাক্ত, বন উজাড় এবং বাতাস দূষিত? নাকি এমন এক পৃথিবী, যেখানে মানুষ ও প্রকৃতি সহাবস্থানে বেঁচে থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদেরই দিতে হবে।পলিথিনের বিরুদ্ধে লড়াই কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। যেমন একসময় মানুষ ধূমপানের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন হয়েছিল, তেমনি পলিথিন ব্যবহারের বিরুদ্ধেও সামাজিক চাপ তৈরি করতে হবে। কেউ পলিথিন ব্যবহার করলে তাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। দোকানদারদের বিকল্প দিতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ আন্দোলনের নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কোথাও প্লাস্টিক ব্যাগের ওপর কর আরোপ করা হয়েছে, কোথাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশও চাইলে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারে। প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক অংশগ্রহণ।সবশেষে মনে রাখতে হবে, প্রকৃতি কখনও হঠাৎ ধ্বংস হয় না। ধীরে ধীরে জমে ওঠা অবহেলা একসময় ভয়াবহ বিপর্যয়ের রূপ নেয়। আজ সুন্দরবনের শ্বাসমূলের ফাঁকে আটকে থাকা একটি পলিথিন হয়তো আমাদের চোখে তুচ্ছ মনে হতে পারে। কিন্তু হাজার হাজার পলিথিন মিলে যখন বনকে অসুস্থ করে তোলে, তখন তার প্রভাব পড়ে মানুষের জীবনেও।সুন্দরবন বাঁচানো মানে শুধু একটি বন রক্ষা করা নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। কারণ সুন্দরবন দুর্বল হলে উপকূল দুর্বল হবে, কৃষি দুর্বল হবে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে, মানুষ আরও বেশি দুর্যোগের মুখে পড়বে। তাই পলিথিনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মানে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে অংশ নেওয়া।আজ থেকেই যদি আমরা সিদ্ধান্ত নিইÑবাজারে গেলে নিজের ব্যাগ ব্যবহার করব, অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক এড়িয়ে চলব, নদী বা রাস্তায় ময়লা ফেলব না, অন্যদেরও সচেতন করবÑতাহলেই পরিবর্তনের শুরু হবে। বড় পরিবর্তন কখনও একদিনে আসে না; ছোট ছোট সচেতনতার সমষ্টিই সমাজকে বদলে দেয়।মনে রাখতে হবে, পলিথিন নিলে শুধু সুন্দরবন বাঁচবে নাÑশেষ পর্যন্ত বাঁচবে না মানুষও। কারণ প্রকৃতি ধ্বংস করে মানুষ কখনও নিরাপদ থাকতে পারে না। সুন্দরবনের শ্বাস যদি বন্ধ হয়ে যায়, একদিন থমকে যাবে আমাদের নিজেদের জীবনও। লেখক:সংবাদকর্মী

Ads small one

শরতেও প্রতিদিন বৃষ্টি, তারপরও কেন কমছে না ভ্যাপসা গরম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
শরতেও প্রতিদিন বৃষ্টি, তারপরও কেন কমছে না ভ্যাপসা গরম

শরতের আকাশে মেঘ, গত তিনদিনই দুপুরের পর রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও টানা, কোথাও আবার অল্প সময়ের ঝুম বৃষ্টি। তবু গরমের অস্বস্তি কাটছে না। বৃষ্টির পর কিছুটা স্বস্তি মিললেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। বৃষ্টি থামার পরই আবার ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

আজ বুধবার, ২৫ ভাদ্র। শরতের প্রায় মাঝামাঝি সময় চলছে। সাধারণত এ সময়ে বৃষ্টির প্রবণতা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা খুব বেশি কমছে না। বরং বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকায় তাপমাত্রা যতটা দেখা যাচ্ছে; মানুষের কাছে তার চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শুধু বৃষ্টি হলেই গরমের অস্বস্তি কমে না। বৃষ্টির পর বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে আর্দ্রতা বেশি থাকে। এতে শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে শরীরের তাপ বের হতে সময় লাগে এবং গরম বেশি অনুভূত হয়। বিশেষ করে বাতাসের গতি কম থাকলে এই অস্বস্তি আরও বাড়ে।

বৃষ্টির পরও কেন গরম

রাজধানীতে বৃষ্টির পর অনেকেই ভেবেছিলেন তাপমাত্রা কমে স্বস্তি ফিরবে। কিন্তু বৃষ্টি থামার পর আর্দ্র বাতাস ও কম বাতাস চলাচলের কারণে গরমের অনুভূতি আবার বেড়ে যাচ্ছে। দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়া মানুষকে ঘামে ভিজতে হচ্ছে। বাসাবাড়িতেও ফ্যানের বাতাসে স্বস্তি মিলছে না অনেকের।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বাংলাদেশে কমে আসতে শুরু করেছে।

আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানায়, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘এই সময় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশি। অন্যদিকে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ‍বৃষ্টি হলেও তা এত যথেষ্ট নয় যে, গরম কমে আসবে। সব মিলিয়ে এই সময় বৃষ্টির পর পর আবারও ভ্যাপসা গরম লাগতে শুরু করে। এই গরম আরও কিছুদিন থাকতে পারে।’ শীতকাল না আসা পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিও হবে, আবার ভ্যাপসা গরমও থেকে যেতে পারে বলে তিনি জানান।

কতটা বৃষ্টি হয়েছে

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী ও বরিশালে ২৫ মিলিমিটার। ঢাকায় হয়েছে ৯ মিলিমিটার। এছাড়া শ্রীমঙ্গলে ২৩, কুমারখালীতে ১৫, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনায় ১৩, মোংলা ও তাড়াশে ১১, যশোর ও রামগতিতে ১০, চাদপুরে ৮, তেতুলিয়া ৭, টেকনাফে ৫, আরিচায় ৬, সিলেট, নেত্রকোনা, হাতিয়া ও মাদারিপুরে ৩,কক্সবাজার ও বগুড়ায় ২, বান্দারবান, চট্টগ্রাম, সীতাকুণ্ড, রাঙ্গামাটি, দিনাজপুর, টাঙ্গাইলে ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকড করা হয়েছে। এর বাইরে আমবাগানে, সৈয়দপুর ও গোপালগঞ্জে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে।

তাপমাত্রা খুব বেশি কমেনি

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রামের রামগতিতে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪, রাজশাহীতে ৩৪ দশমিক ৫, রংপুরে ৩৫, ময়মনসিংহে ৩৫ দশমিক ২, সিলেটে ৩১ দশমিক ৮, চট্টগ্রামে ৩২ দশমিক ৫, খুলনায় ৩৩ দশমিক ৫ এবং বরিশালে ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রায় বড় ধরনের পতন দেখা যায়নি।

মানুষের ভোগান্তি

বৃষ্টি হলেও গরমের অস্বস্তি থেকে মুক্তি না পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। রিকশাচালক, পথের হকার ও নির্মাণশ্রমিকদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় কিছুটা স্বস্তি মিললেও বৃষ্টি থামার পর ভ্যাপসা গরমে আবারও ঘামতে হচ্ছে তাদের।

রাজধানীর গুলশান এলাকায় রিকশা চালান মাসুদ বেপারী বলেন, ‘‘বৃষ্টি হলে মনে হয় গরম কমবে। কিন্তু বৃষ্টি থামার পর আবার গরম লাগে। বাতাসও কম। রাস্তায় রিকশা চালানো খুব কষ্ট হয় তখন। দুপুর গরমের মধ্যে বৃষ্টি হলে আরাম হয়। কিন্তু এরপর যে গরম পড়ে, সেটা সহ্য করা কঠিন।’’

অন্য ধরনের ভোগান্তির কথা জানালেন, রাজধানীর কাওরান বাজারের হকার ইকবাল আলী। তিনি বলেন, ‘‘বৃষ্টি হলে আরাম লাগে ঠিকই, কিন্তু কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির পর যখন কেনাবেচা শুরু করি, তখন শুরু হয় গরমের কষ্ট। কোনোদিকেই শান্তিতে নাই।’’

বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা

ন্যাশনাল ডেস্ক: বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, তা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে একটি বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর সারের সংকট হবে না, যারা গরিব কৃষক আছেন, তারা সার লুট করবেন না; সেটাও হতে পারে না।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না; সেটাও হতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া। এ সময় রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন একেবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম তখন তারাও হট্টগোল করতো। এখন বিএনপির একই ধরনের আচরণ করছে। আরও খারাপ আচরণ।’
এ সময় সংসদের সরকারদলীয় অংশ থেকে হইচই শুরু হলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ‘অর্ডার অর্ডার’ বলে সবাইকে শান্ত থাকতে বলেন। এই সংসদের বেশিরভাগ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহু দেখেছি। ইলেকশনের আগে তাড়াতাড়ি ঋণখেলাপির নাম থেকে বাদ দেয়।’ এরপর রুমিন ফারহানার জন্য নির্ধারিত দুই মিনিট সময় শেষ হয়ে গেলে তার মাইক বন্ধ হয়ে যায়। মাইক ছাড়াই বক্তব্য দিতে থাকেন রুমিন ফারহানা। এই পর্যায়ে আবারও সংসদে হট্টগোল শোনা যায়।
পরে আরও কয়েক দফায় ‘অর্ডার অর্ডার’ বলে সংসদের শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করেন ডেপুটি স্পিকার। এরপর সরকার দলীয় চিফ হুইপের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এসময় চিফ হুইপকে উদ্দেশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘একজন মাননীয় সদস্য বক্তব্য রাখছেন। শি হ্যাজ এভরি লিবার্টি টু স্পিক। বাট অন্যান্য মাননীয় সদস্যরা উনার বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান—সেটা কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে। আমি এজ এ চিফ হুইপ অব ট্রেজারি বেঞ্চ, আপনাকে অনুরোধ করবো, অনারেবল মেম্বারস অব দ্য পার্লামেন্ট, যারা আছেন প্রত্যেকের এখানে লিবার্টি আছে। তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের টার্ন যখন আসে, আপনারা তখন সেটা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান করা কোনও অবস্থাতেই কাম্য না।’

রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব, মেয়ে তানি বললেন ‘মা সম্পূর্ণ সুস্থ’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব, মেয়ে তানি বললেন ‘মা সম্পূর্ণ সুস্থ’

‘মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন রুনা লায়লা’—এমন একটি খবর ও এআই-নির্ভর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার একমাত্র মেয়ে তানি লায়লা। তার দাবি, মা রুনা লায়লা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন।

পরিবার নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তানি লায়লা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রুনা লায়লার সুস্থ থাকার বিষয়টি জানান।

তানি পোস্টে লেখেন, সামান্য কিছু অর্থ উপার্জনের লোভে এ ধরনের পোস্ট, এআই (AI) দিয়ে তৈরি ইউটিউব ভিডিও এবং ভুয়া খবর ছড়ানোর বিষয়টি দেখে আমি সত্যিই বিরক্ত ও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের কন্টেন্টগুলোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা শুরু করবো—একটা একটা করে, যতক্ষণ না এই সব মাথামোটা লোক তাদের এই বাজে কাজ বন্ধ করে।’

তানির ভাষ্য, ‘আমার মা তার জীবনের ছয়টি দশক সঙ্গীতের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। অথচ মানুষ এখনও তাকে এভাবেই অসম্মান করে চলেছে—কী চরম লজ্জার ও অপমানের বিষয় আমাদের জন্য!’

রুনা লায়লা সুস্থ ও জীবিত আছেন জানিয়ে পোস্টে তিনি লেখেন, আমার মা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন; কেউ মারা যাননি বা মৃত্যুর মুখেও নেই—এসবই এআই-এর মাধ্যমে তৈরি ভিডিও ও ছবি।’

গণমাধ্যমের কাছে তানির অনুরোধ তথ্য যাচাই করে নিউজ করার জন্য।

সবশেষে তিনি বলেন, ‘আর সহ্য করা যাচ্ছে না… যারা রুনা লায়লাকে অনুসরণ করেন, দয়া করে এ ধরনের অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করুন।’

এদিকে সাম্প্রতিক সময়েও গানের অনুষ্ঠানে বেশ সক্রিয় ছিলেন রুনা লায়লা। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার দুটি অঙ্গরাজ্যে দুটি কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করেছেন তিনি। তার আগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত একক গানের অনুষ্ঠানেও গান করেছেন এই শিল্পী।