বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় কুকুরের উপদ্রব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কুকুরের উপদ্রব

শেখ সিদ্দিকুর রহমান

ভাদ্র মাস এলেই সাতক্ষীরা শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার কুকুরের উপদ্রব যেন নতুন করে চোখে পড়ে। দিনের ব্যস্ত সময় থেকে শুরু করে রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি, বাজার, আবাসিক এলাকা এবং গ্রামীণ পথে দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় অসংখ্য কুকুর। পথচারী দেখলেই ঘেউ ঘেউ করে তাড়া করা, মোটরসাইকেল ও সাইকেল আরোহীদের পিছু নেওয়া কিংবা নির্জন রাস্তায় দলবদ্ধভাবে অবস্থান করা এখন অনেকের কাছেই নিত্যদিনের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে সন্ধ্যার পর সাতক্ষীরা শহরের অনেক সড়কে চলাচলকারী মানুষকে কুকুরের দল নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কেউ হেঁটে যাচ্ছেন, কেউ মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছেন, কেউবা রাতে জরুরি কাজে বের হয়েছেন-হঠাৎ কয়েকটি কুকুর একসঙ্গে ঘেউ ঘেউ করে তাড়া শুরু করলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভয়ে কেউ দৌড় দেন, কেউ মোটরসাইকেলের গতি বাড়িয়ে দেন। আর তখনই ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

কুকুরের তাড়া খেয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে আহত হওয়া কিংবা পথচারী দৌড়াতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। শিশু ও বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। রাতের বেলায় যারা কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরেন, তাদের অনেককেই কোনো কোনো এলাকায় কুকুরের দল এড়িয়ে চলাচল করতে হয়। শহরের পাশাপাশি ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন রাস্তাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়।

সাতক্ষীরার মতো একটি জেলা শহরে এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে পারে না। এটি শুধু বিরক্তির বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নাগরিক নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি।

রাস্তার কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। শহরের বাজার, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বাসাবাড়ির খাবারের উচ্ছিষ্ট যেখানে-সেখানে পড়ে থাকা তার অন্যতম কারণ। কোনো একটি স্থানে নিয়মিত খাবার পাওয়া গেলে সেখানে কুকুরের দল জমায়েত হয়। একসময় সেই জায়গা তাদের বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নতুন কোনো মানুষ বা যানবাহন সেখানে প্রবেশ করলে কুকুরগুলো অনেক সময় তেড়ে আসে।

সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন বাজার ও খাবারের দোকানের আশপাশে এ ধরনের দৃশ্য কমবেশি দেখা যায়। অনেক জায়গায় দিনের পর দিন ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। খাবারের উচ্ছিষ্ট ছড়িয়ে থাকে রাস্তার পাশে। এসব জায়গা শুধু কুকুরের জন্য নয়, মাছি, মশা, ইঁদুরসহ বিভিন্ন রোগজীবাণু বহনকারী প্রাণীরও নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়। ফলে বিষয়টি নগর পরিচ্ছন্নতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

কুকুরের উপদ্রব নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ কোনো সমাধান নয়। রাস্তার কুকুরকে নির্বিচারে হত্যা করা যেমন মানবিক নয়, তেমনি কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না করে সমস্যাটিকে বছরের পর বছর ফেলে রাখাও দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাণীর জন্যও মানবিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।
কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা-এই বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা দরকার। শুধু একদিন কুকুর তাড়িয়ে দিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। যে এলাকায় খাবার পাওয়া যাবে, সেখানে আবার নতুন কুকুরের সমাগম ঘটবে। তাই সমস্যার মূল কারণ দূর করার দিকেও নজর দিতে হবে।

সাতক্ষীরায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কারণ রয়েছে জলাতঙ্কের ঝুঁকি। কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের পর যথাসময়ে চিকিৎসা না নিলে জলাতঙ্কের মতো ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রোগটি একবার প্রকাশ পেলে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। অথচ সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরায় কুকুরের কামড়ের পর জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগও দেখা গেছে। কোনো কোনো সময় সরকারি হাসপাতালে টিকার সরবরাহ নিয়ে সংকটের খবর এসেছে, আবার পরবর্তীতে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথাও জানা গেছে। ফলে টিকার প্রাপ্যতা সব সময় একই রকম থাকে না। তবে বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। জেলার উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ছাড়া সাতক্ষীরা শহরের আলী মেডিকেলসহ বড় বড় ওষুধের দোকান ও ফার্মেসিতেও কুকুরে কামড়ানোর পর ব্যবহৃত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ইনজেকশন পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। তবে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের টিকা বা ইনজেকশন কখন পাওয়া যাবে, তার সরবরাহ সব সময় এক রকম নাও থাকতে পারে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কুকুর কামড়ানোর পর অনেকেই বিষয়টিকে সামান্য ঘটনা মনে করেন। কেউ ক্ষতস্থানে ঘরোয়া কিছু লাগান, কেউ পরিচিত কারও পরামর্শে চিকিৎসা নেন, আবার কেউ ভাবেন সামান্য আঁচড় হয়েছে বলে টিকার প্রয়োজন নেই। এসব অবহেলা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।

বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। শিশুরা অনেক সময় কুকুর দেখলে ভয় পেয়ে দৌড় দেয়, আবার কেউ কেউ কুকুরের সঙ্গে খেলতে বা তাদের কাছে যেতে চায়। রাস্তার কুকুরকে বিরক্ত করা, ঢিল ছোড়া কিংবা খাবার খাওয়ার সময় কাছে যাওয়া থেকেও অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে। পরিবারের পাশাপাশি স্কুল পর্যায়েও শিশুদের এ বিষয়ে সচেতন করা প্রয়োজন।

রাতের সাতক্ষীরা নিয়েও ভাবতে হবে। শহরের অনেক সড়কে পর্যাপ্ত আলোর অভাব রয়েছে। অন্ধকার রাস্তার পাশে কুকুরের দল থাকলে পথচারীরা আগে থেকে তা দেখতে পান না। ফলে হঠাৎ কুকুর সামনে চলে এলে আতঙ্ক তৈরি হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক এলাকার প্রয়োজনীয় স্থানে পর্যাপ্ত সড়কবাতি থাকলে মানুষের নিরাপদ চলাচল অনেকটাই নিশ্চিত করা সম্ভব।

মোটরসাইকেল চালকদের জন্য বিষয়টি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। কুকুর পিছু নিলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে দ্রুতগতিতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। শহরের ব্যস্ত সড়কে কুকুরের দল একদিকে যেমন যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, অন্যদিকে চালকদের আকস্মিকভাবে গতি পরিবর্তনে বাধ্য করে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।

সাতক্ষীরা পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের উচিত বিষয়টিকে নিয়মিত নগর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা। শহরের কোন এলাকায় কুকুরের সংখ্যা বেশি, কোথায় পথচারীদের বেশি তাড়া করা হয়, কোথায় কামড়ের ঘটনা ঘটছে এবং কোথায় খাবারের উচ্ছিষ্ট বেশি জমে-এসব তথ্যের ভিত্তিতে একটি কার্যকর ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা যেতে পারে।

পাশাপাশি শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও কার্যকর করা জরুরি। বাজার ও খাবারের দোকান থেকে উৎপন্ন উচ্ছিষ্ট নির্দিষ্ট স্থানে রাখার ব্যবস্থা না করলে রাস্তার কুকুরের সংখ্যা ও বিচরণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। নাগরিকদেরও যেখানে-সেখানে খাবারের বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

প্রশাসন, পৌরসভা, স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ, প্রাণী কল্যাণে কাজ করা সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মানুষ ও প্রাণী-দুই পক্ষের নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার।

সাতক্ষীরার মানুষ নিশ্চয়ই এমন একটি শহর চান, যেখানে দিনের ব্যস্ত সময় কিংবা রাতের নির্জন রাস্তায় কুকুরের দল দেখে আতঙ্কিত হয়ে চলাচল করতে হবে না। একই সঙ্গে তারা এমন একটি মানবিক সমাজও চান, যেখানে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা থাকবে না। এই দুইয়ের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। সঠিক পরিকল্পনা, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা, জনসচেতনতা, কুকুরের টিকাদান ও বৈজ্ঞানিকভাবে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উভয় দিকই রক্ষা করা সম্ভব।

ভাদ্র মাসে কুকুরের উপদ্রব নিয়ে মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। আজকের ছোট একটি সমস্যা আগামী দিনে বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হতে পারে। আবার সামান্য অসতর্কতার কারণে একটি পরিবারকে হারাতে হতে পারে তাদের প্রিয় মানুষকে।

সাতক্ষীরার জনজীবন নিরাপদ রাখতে এখনই বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। কুকুরের উপদ্রবকে মৌসুমি সমস্যা হিসেবে না দেখে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি নগর ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাণীর প্রতিও মানবিক আচরণ বজায় রেখে একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।

লেখক: সাবেক ব্যাংকার, কবি ও সাহিত্যিক।

Ads small one

দুই প্রজন্মের পাঠশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
দুই প্রজন্মের পাঠশালা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

শিক্ষা শুধু পাঠ্যবই শেষ করা কিংবা পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার নাম নয়। শিক্ষা মানুষের ভেতরে বিবেক, মূল্যবোধ, আত্মবিশ্বাস ও মানবিকতা তৈরি করে। আর সেই মানুষ তৈরির কাজে শিক্ষকের ভূমিকা অনন্য। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষক–শিক্ষার্থী সম্পর্কেও এসেছে বড় পরিবর্তন। সেই পরিবর্তন আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, সেটিই এখন ভাবার বিষয়।

 

একজন প্রবীণ শিক্ষক রফিকুল স্যার। বয়স আশির কোঠায়। শরীর নুয়ে গেছে, কিন্তু চোখে এখনো শিক্ষকের সেই মমতা। একদিন তাঁর পুরোনো ছাত্র মিজান দেখা করতে এলেন।  মিজান এখন নিজেও একজন কলেজ শিক্ষক। মিজানকে দেখে বৃদ্ধ শিক্ষকের চোখ ভিজে উঠল। কথায় কথায় ফিরে এল বহু বছর আগের স্মৃতি। মিজান তখন পড়াশোনায় দুর্বল ছিলেন। রফিকুল স্যার শুধু শ্রেণিকক্ষে পড়িয়ে দায়িত্ব শেষ করেননি। বাড়িতে গিয়ে পড়িয়েছেন, প্রয়োজন হলে খাতা-কলম কিনে দিয়েছেন, অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেছেন। অর্থাৎ শিক্ষক তখন শুধু শিক্ষক ছিলেন নাÑছিলেন অভিভাবক, পরামর্শদাতা এবং কখনো কখনো পরিবারের একজন আপনজন।

 

কিন্তু সময় বদলেছে। মিজানের ছেলে তানভীর এখন কলেজে পড়ে। দাদার মতো শ্রদ্ধেয় সেই শিক্ষককে দেখে সে-ও শিক্ষকতা সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা জানায়। তার কথায় উঠে আসে নতুন বাস্তবতাÑশিক্ষকরা পড়ান, কিন্তু অনেক সময় শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীর জন্য সময় থাকে না। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে কখনো বলা হয়, ‘কোচিংয়ে এসো।’ এই ছোট্ট কথোপকথনের মধ্যেই বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় পরিবর্তনের ছবি ফুটে ওঠে।

 

একসময় শিক্ষক–শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ভিত্তি ছিল শ্রদ্ধা, স্নেহ, বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতা। এখন অনেক ক্ষেত্রে সেখানে যুক্ত হয়েছে ফলাফল, প্রতিযোগিতা, নম্বর, ভর্তি পরীক্ষা এবং আর্থিক লেনদেনের বাস্তবতা। তবে অতীতকে পুরোপুরি আদর্শ আর বর্তমানকে পুরোপুরি খারাপ হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরে যাওয়া যাবে না। আগের সময়ের শিক্ষাব্যবস্থারও সীমাবদ্ধতা ছিল। আজকের শিক্ষকরা আগের চেয়ে অনেক বেশি চাপের মধ্যে কাজ করেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, পাঠ্যসূচি বিস্তৃত হয়েছে, মূল্যায়ন ব্যবস্থা জটিল হয়েছে, প্রশাসনিক দায়িত্ব বেড়েছে।

 

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনও শিক্ষকদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়Ñশিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর জন্য সময়ই না পান, তাহলে শিক্ষা কতটা পূর্ণতা পাবে? বাংলাদেশে শিক্ষার সবচেয়ে বড় সংকট হয়তো অবকাঠামোর ঘাটতি নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষা কেন দেওয়া হচ্ছে, সেই দর্শনের সংকট। আমরা শিক্ষাকে ক্রমেই পরীক্ষাকেন্দ্রিক করে ফেলছি। শিশুর হাতে বই দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সামনে ফলাফল ও প্রতিযোগিতার চাপও তুলে দিচ্ছি।

 

শিক্ষার্থীর প্রশ্ন করার আনন্দ, নতুন কিছু আবিষ্কারের আগ্রহ কিংবা ভুল থেকে শেখার সুযোগের চেয়ে নম্বর বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে শিখছেÑ‘কত নম্বর পেলাম?’ কিন্তু সে হয়তো জানতে পারছে নাÑ‘আমি কী শিখলাম?’ এখানেই শিক্ষকতার প্রকৃত চ্যালেঞ্জ। একজন শিক্ষক শুধু গণিতের সূত্র, বিজ্ঞানের সংজ্ঞা, ইতিহাসের সাল কিংবা ব্যাকরণের নিয়ম শেখাবেনÑএতেই তাঁর দায়িত্ব শেষ নয়। তিনি শেখাবেন কীভাবে ব্যর্থতার পর আবার চেষ্টা করতে হয়। কীভাবে ভিন্নমতকে সম্মান করতে হয়। কীভাবে অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে হয়। কীভাবে নিজের সাফল্যের পাশাপাশি অন্যের প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দিতে হয়। একটি ভালো শিক্ষকতা একজন শিক্ষার্থীর পুরো জীবনকে বদলে দিতে পারে। বাংলাদেশে এমন শিক্ষকের অভাব নেই।

 

প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক শিক্ষক সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সময় দেন। দরিদ্র শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ান, ঝরে পড়া ঠেকাতে পরিবারকে বোঝান, মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন। তাঁদের অবদান কোনো পরীক্ষার ফলাফলের তালিকায় ধরা পড়ে না। অথচ দেশের মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা অপরিসীম। সমস্যা হচ্ছে, এই মানবিক শিক্ষকতার জায়গাটি অনেক সময় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। একজন শিক্ষককে যদি কেবল পাঠ্যসূচি শেষ করা এবং পরীক্ষার ফল ভালো করার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই ফলাফলকেন্দ্রিক হয়ে উঠবেন। কিন্তু শিক্ষকের মূল্যায়নে যদি শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা, সৃজনশীলতা, সহমর্মিতা এবং শ্রেণিকক্ষের পরিবেশও গুরুত্ব পায়, তাহলে শিক্ষকতার পরিধিও বদলাবে। এখানে অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে।

 

অনেক অভিভাবক সন্তানের সাফল্যকে শুধু পরীক্ষার নম্বর দিয়ে বিচার করেন। সন্তান প্রথম হয়েছে কি না, জিপিএ কত, ভর্তি পরীক্ষায় কোথায় সুযোগ পেয়েছেÑএসব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু সন্তান কেমন মানুষ হচ্ছে, তার মধ্যে সহমর্মিতা আছে কি না, সে অন্যকে সম্মান করতে শেখেছে কি নাÑএসব প্রশ্ন অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়। শিক্ষার উদ্দেশ্য যদি মানুষ তৈরি করা হয়, তাহলে পরিবার ও বিদ্যালয়কে একই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোচিংনির্ভরতা। অতিরিক্ত কোচিং যখন শ্রেণিকক্ষের বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়, তখন শিক্ষার মূল প্রতিষ্ঠানই দুর্বল হয়ে পড়ে। কোচিং থাকবে কি থাকবে নাÑএই বিতর্কের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কেন একজন শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষের বাইরে অতিরিক্ত নির্ভরতার প্রয়োজন অনুভব করছে? শ্রেণিকক্ষে যদি পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা, প্রশ্ন করার সুযোগ এবং ব্যক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে অতিরিক্ত নির্ভরতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে এর জন্য শিক্ষকদের ওপর শুধু দায় চাপালে চলবে না। তাঁদের প্রয়োজন পর্যাপ্ত সময়, প্রশিক্ষণ, সম্মানজনক কর্মপরিবেশ এবং বাস্তবসম্মত দায়িত্ববণ্টন।

 

আজকের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিও বড় পরিবর্তন এনেছে। একজন শিক্ষার্থী এখন কয়েক সেকেন্ডে বিশ্বের নানা প্রান্তের তথ্য পেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অনলাইন শিক্ষা, ডিজিটাল কনটেন্টÑসবই শিক্ষার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। কিন্তু তথ্য পাওয়া আর জ্ঞান অর্জন এক বিষয় নয়। ইন্টারনেট তথ্য দিতে পারে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উত্তর দিতে পারে; কিন্তু কোন তথ্য সত্য, কোনটি মিথ্যা, কোনটি নৈতিক এবং কোন সিদ্ধান্তটি মানবিকÑসেটি বোঝানোর ক্ষেত্রে একজন ভালো শিক্ষকের প্রয়োজন এখনো অটুট। তাই ভবিষ্যতের শিক্ষককে প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে না; বরং প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে আরও মানবিক শিক্ষক হতে হবে। দুই প্রজন্মের এই গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি এখানেই। রফিকুল স্যার তাঁর ছাত্র মিজানকে শুধু পড়াননি; তিনি তাঁর মধ্যে একজন শিক্ষক হওয়ার বীজ বপন করেছিলেন। মিজান যদি তাঁর নিজের ছাত্রদের মধ্যে সেই একই মানবিকতা ছড়িয়ে দিতে পারেন, তাহলে একটি প্রজন্মের শিক্ষকতা পরবর্তী প্রজন্মে উত্তরাধিকার হিসেবে পৌঁছে যাবে। এটাই শিক্ষার সবচেয়ে সুন্দর উত্তরাধিকার।

 

আমাদের মনে রাখতে হবে, ভালো শিক্ষা মানে শুধু ভালো ফল নয়; ভালো মানুষ তৈরি করাও ভালো শিক্ষার মাপকাঠি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের পুরোনো রূপ হয়তো আর হুবহু ফিরবে না। সময় বদলেছে, সমাজ বদলেছে, শিক্ষার পদ্ধতি বদলেছে। কিন্তু সম্পর্কের মূল ভিত্তিÑশ্রদ্ধা, বিশ্বাস, স্নেহ ও দায়িত্ববোধÑকেন হারিয়ে যাবে? একজন শিক্ষক যদি তাঁর শিক্ষার্থীর নাম মনে রাখেন, তার সমস্যার কথা শোনেন, ভুল করলে শুধরে দেন এবং সবচেয়ে কঠিন সময়ে বলেনÑ‘তুমি পারবে’, তাহলে সেই শিক্ষার্থী হয়তো বহু বছর পরও সেই শিক্ষককে ভুলবে না।

 

রফিকুল স্যারের মতো শিক্ষকরা তাই শুধু অতীতের স্মৃতি নন; তাঁরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে একটি প্রশ্নও রেখে যানÑআমরা কি এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারছি, যেখানে একজন শিক্ষার্থী শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, জীবনের জন্যও শিক্ষকের কাছে যেতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হবে।কারণ পাঠশালা বদলাবে, বই বদলাবে, প্রযুক্তি বদলাবে, শিক্ষার পদ্ধতি বদলাবে। কিন্তু একজন শিক্ষকের হৃদয় থেকে শিক্ষার্থীর হৃদয়ে যে আলো পৌঁছে যায়, তার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার ভবিষ্যৎ আধুনিক হোক, কিন্তু তার হৃদয় যেন মানবিক থাকে।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রী কলেজে আইসিটি ল্যাব উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রী কলেজে আইসিটি ল্যাব উদ্বোধন

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: ‘ডিজিটাল শিক্ষায় সমৃদ্ধ হোক আগামীর প্রজন্ম’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রী কলেজে আইসিটি ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে।

সম্প্রতি কলেজে এ আইসিটি ল্যাব উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.এ কে এম আব্দুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য সচিব ড.প্রতাপ কুমার রায়, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মোহাম্মদ আলমোকাররম বিল্লাহ, আইসিটি শিক্ষক রাফজান জানিসহ কলেজের সকল শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

গত রোববার আইসিটি ল্যাব উদ্বোধনসহ আইসিটি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.এ কে এম আব্দুর রহমান।

কর্মশালায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ল্যাব ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা বলেন শুধু পাঠ্য বই নির্ভর না হয়ে প্রযুক্তি নির্ভর দক্ষতা বাড়ানো এ কর্মশালার উদ্দেশ্য।

প্রথম দিনে ল্যাব ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীরা বলেন আইসিটি শুধু একটি বিষয় নয়, লেখাপড়া থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

৫৮ বছরের কলেজ, ৩ হাজার শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষ মাত্র ১৫টি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
৫৮ বছরের কলেজ, ৩ হাজার শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষ মাত্র ১৫টি

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠার ৫৮ বছর পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত সংকট কাটেনি যশোরের মনিরামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে। তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য ব্যবহারযোগ্য শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র ১৫টি। এর মধ্যে একটি পুরোনো ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি পরীক্ষা, ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার ও আবাসন সুবিধার সংকটও রয়েছে।

১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ২০১৮ সালে সরকারিকরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, ওই বছরের ৮ আগস্ট থেকে বেসরকারি আমলে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপনে কলেজটির ৬৩ জন শিক্ষককে সরকারিকৃত কলেজে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সরকারি পরিচয় পেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সে তুলনায় হয়নি বলে কলেজ-সংশ্লিষ্টরা জানান।

প্রতিষ্ঠানপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, কলেজের তিনটি ভবনের একটি পরিত্যক্ত। বর্তমানে একটি দুইতলা ও একটি চারতলা ভবনের প্রায় ১৫টি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে। উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি, অনার্স ও বিএম/কারিগরি শাখার বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরিচালনায় এসব কক্ষ নিয়ে চরম চাপ তৈরি হয়েছে।

নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা, অনার্স, ডিগ্রি ও বিএম পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও কলেজটি ব্যবহৃত হয়। এতে সীমিত অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ও ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগও প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত।

কলেজে কোনো আবাসিক সুবিধা না থাকায় দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন একাডেমিক ভবন, কেন্দ্রীয় পরীক্ষা হল, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও ছাত্রাবাস নির্মাণ এখন জরুরি।

সরেজমিনে এমপি গাজী এনামুল

২৪ আগস্ট মনিরামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ পরিদর্শন করেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। তিনি কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং জরাজীর্ণ ভবন পরিদর্শন করেন। কলেজ-সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ সময় তিনি অবকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাস দেন।

কলেজ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট দূর করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষা-পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।