বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

আম্পানের ছায়া: মানুষের অসহায়ত্ব আর সুন্দরবনের লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
আম্পানের ছায়া: মানুষের অসহায়ত্ব আর সুন্দরবনের লড়াই

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

২০২০ সালের মে মাস। পৃথিবী তখন এক অদৃশ্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে মানুষ ঘরবন্দী, শহর থমথমে, হাসপাতালগুলো উদ্বেগে ভারী। ঠিক সেই সময় বঙ্গোপসাগরের গভীরে জন্ম নেয় আরেক আতঙ্কÑঘূর্ণিঝড় আম্পান। ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে এটি পরিণত হয় এক সুপার সাইক্লোনে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করছিলেন, উপকূলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, কিন্তু কেউ বুঝতে পারেনি সামনে কতটা ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে।

 

২০২০ সালের ২০ মে সন্ধ্যার দিকে সুন্দরবন ঘেঁষে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানে আম্পান। ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার গতির ঝড়ো হাওয়া, প্রবল জলোচ্ছ্বাস আর মুষলধারে বৃষ্টি মিলে মুহূর্তেই পুরো উপকূলকে এক অচেনা ভূখ-ে পরিণত করে। কয়েক ঘণ্টার সেই তা-ব কেড়ে নেয় বহু মানুষের জীবন, ধ্বংস করে লাখো মানুষের স্বপ্ন, আর রেখে যায় লবণাক্ত পানির দীর্ঘশ্বাস। আজও সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট কিংবা শ্যামনগরের অনেক মানুষ আম্পানের কথা বলতে গিয়ে থেমে যান।

 

কারও চোখে জল আসে, কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। কারণ, আম্পান শুধু একটি ঘূর্ণিঝড় ছিল না; এটি ছিল উপকূলবাসীর বেঁচে থাকার সংগ্রামে এক নির্মম অধ্যায়। উপকূলের মানুষ ঝড়ের ভাষা বুঝতে শেখে ছোটবেলা থেকেই। আকাশের রঙ বদলে গেলে, বাতাসের আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে উঠলে কিংবা নদীর পানি ফুলে উঠলে তারা আঁচ করতে পারেÑবিপদ আসছে। আম্পানের আগেও তেমন লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় পরিস্থিতি ছিল আরও জটিল। করোনার কারণে মানুষের মধ্যে ছিল ভয় ও অনিশ্চয়তা।

 

আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি, আবার ঘরে থাকলে প্রাণহানির আশঙ্কা। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এক বৃদ্ধ জেলে পরে বলেছিলেন, “করোনার ভয় ছিল, কিন্তু ঝড়ের ভয় তার চেয়েও বড় ছিল। কারণ করোনা ধীরে মারে, ঝড় এক রাতেই সব নিয়ে যায়। ”সরকারি উদ্যোগে লাখো মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপকূলের অনেক মানুষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঘর ছাড়তে চাননি। কারণ তাদের ভয় ছিল অন্য জায়গায়Ñঘর ফেলে গেলে যদি সব চুরি হয়ে যায়? গবাদিপশু কে দেখবে? মাছের ঘের ভেসে গেলে কী হবে? এই দ্বিধা উপকূলের মানুষের চিরন্তন বাস্তবতা। ২০ মে বিকেলের পর থেকেই আবহাওয়া ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

 

আকাশ কালো হয়ে যায়, বাতাসের শব্দ ধীরে ধীরে গর্জনে রূপ নেয়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় প্রকৃতির উন্মত্ততা। প্রথমে টিনের চাল উড়তে থাকে। তারপর একের পর এক গাছ ভেঙে পড়ে। বিদ্যুতের খুঁটি মাটিতে লুটিয়ে যায়। নদীর পানি ফুলে উঠে বাঁধের গায়ে আছড়ে পড়ে। অনেক এলাকায় মানুষ ঘরের ভেতরে বসে শুধু মৃত্যুর অপেক্ষা করেছে। সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর, কয়রা কিংবা দাকোপের বহু মানুষ পরে জানিয়েছেন, সেদিন বাতাসের শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী ভেঙে পড়ছে।

 

কাঁচা ঘরগুলো যেন কাগজের তৈরি খেলনার মতো উড়ে যাচ্ছিল। অনেক পরিবার শেষ মুহূর্তে ঘরের চাল ধরে বসে ছিল। কেউ সন্তানকে বুকে চেপে রেখেছিল, কেউ বৃদ্ধ মাকে আঁকড়ে ধরে কাঁদছিল। জলোচ্ছ্বাসের পানি যখন ঘরে ঢুকতে শুরু করল, তখন আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। রাতের অন্ধকারে মানুষ বুঝতেই পারছিল না কোথায় রাস্তা, কোথায় নদী। অনেক এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তেই গ্রাম পরিণত হয় নদীতে। কেউ গাছের ডালে আশ্রয় নেয়, কেউ স্কুলের ছাদে উঠে প্রাণ বাঁচায়।

 

আম্পানের সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষত তৈরি হয়েছিল ঝড় থেমে যাওয়ার পর। কারণ দুর্যোগের পর মানুষ দেখলÑতাদের চারপাশে শুধু লবণাক্ত পানি আর ধ্বংসস্তূপ। উপকূলের কৃষিজমি লোনা পানিতে তলিয়ে যায়। ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। মাছের ঘের ভেসে যায়। পুকুরের মিঠাপানি নষ্ট হয়ে যায়। অনেক এলাকায় মাসের পর মাস বিশুদ্ধ পানির সংকট ছিল। একজন কৃষক বলেছিলেন, “ঘর ভাঙার কষ্ট একরকম, কিন্তু জমি মরে যাওয়ার কষ্ট আরও বড়। কারণ জমিই ছিল আমাদের বাঁচার ভরসা।”

 

উপকূলের বহু পরিবার দিনমজুরি, কৃষিকাজ কিংবা মাছ চাষের ওপর নির্ভরশীল। আম্পানের পর তারা একসঙ্গে সব হারায়। কাজ নেই, ঘর নেই, খাবার নেই। অনেকে রাস্তার পাশে কিংবা বাঁধের ওপর অস্থায়ী ঘর বানিয়ে থাকতে বাধ্য হয়।সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। বিশুদ্ধ পানির অভাবে নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক নারীকে দূর থেকে পানি এনে রান্না করতে হয়েছে। শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগেছে। গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।দুর্যোগের পর মানুষ শুধু খাবারের জন্য নয়, নিরাপদ পানির জন্যও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছে।

 

উপকূলের মানুষের কাছে তখন এক বোতল মিঠাপানি ছিল সোনার চেয়েও মূল্যবান। প্রতিটি দুর্যোগের পর একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠেÑদারিদ্র্য মানুষকে সবচেয়ে বেশি অসহায় করে তোলে। যাদের পাকা ঘর আছে, সঞ্চয় আছে কিংবা শহরে যাওয়ার সুযোগ আছে, তারা তুলনামূলক দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু উপকূলের দরিদ্র মানুষের জীবন দুর্যোগের পর আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একটি ঘূর্ণিঝড় তাদের বহু বছরের সঞ্চয় মুহূর্তে ধ্বংস করে দেয়। একজন জেলের নৌকা ভেঙে গেলে তার আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। একজন কৃষকের জমি লবণাক্ত হয়ে গেলে তার পরিবার বছরের পর বছর ক্ষতির মধ্যে থাকে।

 

আম্পানের পর বহু পরিবার ঋণের ফাঁদে পড়ে যায়। কেউ এনজিও থেকে ঋণ নেয়, কেউ মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নেয়। কিন্তু জীবিকা স্বাভাবিক না হওয়ায় সেই ঋণ শোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। উপকূলের মানুষের জীবনে দুর্যোগ যেন এক চক্রের মতো। একটি ঝড় কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরেকটি দুর্যোগ এসে আঘাত করে। ফলে তাদের জীবন থেকে স্থিতিশীলতা শব্দটাই হারিয়ে যাচ্ছে। আম্পানের ভয়াবহতার মধ্যে সবচেয়ে বড় আশার জায়গা ছিল সুন্দরবন।

 

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটি আবারও প্রমাণ করেছে, প্রকৃতি কখনও কখনও মানুষের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ হয়ে ওঠে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবন না থাকলে আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। বনাঞ্চলের ঘন গাছপালা ঝড়ের গতি কমিয়েছে, জলোচ্ছ্বাসের শক্তি শোষণ করেছে এবং উপকূলের বহু এলাকা সরাসরি আঘাত থেকে রক্ষা করেছে। উপকূলের মানুষও এই সত্য জানে। তারা বলে, “সুন্দরবন আছে বলেই আমরা এখনও বেঁচে আছি।”কিন্তু প্রশ্ন হলোÑআমরা কি সেই সুন্দরবনকে রক্ষা করতে পেরেছি?

 

বছরের পর বছর বন উজাড়, নদী দূষণ, অবৈধ দখল, কয়লাভিত্তিক শিল্পায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবন হুমকির মুখে পড়েছে। লবণাক্ততা বাড়ছে, নদী ভরাট হচ্ছে, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে।যে বন আমাদের জীবন বাঁচায়, সেই বনকেই আমরা প্রতিনিয়ত দুর্বল করে দিচ্ছি। এটি শুধু পরিবেশগত অপরাধ নয়; এটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন স্পষ্ট। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হতে পারে বাংলাদেশ।

 

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী দেশগুলোর একটি। অথচ ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় দেশটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। উন্নত দেশগুলোর শিল্পায়ন ও অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের প্রভাব এসে পড়ছে বাংলাদেশের উপকূলের দরিদ্র মানুষের জীবনে। একজন কৃষক, যিনি হয়তো জীবনে কোনোদিন গাড়িতে চড়েননি, তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার হয়ে উঠছেন। তার জমি লবণাক্ত হচ্ছে, ঘর ভেঙে যাচ্ছে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। সব দুর্বলতার মধ্যেও বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ।

 

আগাম সতর্কবার্তা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রমের কারণে প্রাণহানি আগের তুলনায় অনেক কমেছে। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু এখন তুলনামূলক কম প্রাণহানি হচ্ছে। এটি অবশ্যই বড় অর্জন। তবে এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক আশ্রয়কেন্দ্র পর্যাপ্ত নয়। অনেক এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নেই। দুর্যোগের পর পুনর্বাসন কার্যক্রম ধীরগতির হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দীর্ঘ সময় সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকে। উপকূলের মানুষ শুধু ত্রাণ চায় না; তারা টেকসই নিরাপত্তা চায়। তারা এমন ভবিষ্যৎ চায়, যেখানে প্রতিটি ঝড়ে তাদের নতুন করে নিঃস্ব হতে হবে না। সব দুর্যোগের পরও উপকূলের মানুষ হার মানে না। এই মানুষগুলোই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাহসের প্রতীক।

 

ঝড়ের পরদিনই কেউ ভাঙা ঘর মেরামত শুরু করে। কেউ জাল সেলাই করে নদীতে নামে। কেউ লোনা জমিতে আবারও ফসল ফলানোর চেষ্টা করে।তাদের জীবন কষ্টে ভরা, কিন্তু সেই জীবনের ভেতরেই আছে বেঁচে থাকার অসাধারণ শক্তি। সাতক্ষীরার এক নারী বলেছিলেন, “আমরা কাঁদি, আবার ঘুরে দাঁড়াই। কারণ বাঁচতে তো হবেই।” এই ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিই উপকূলকে টিকিয়ে রেখেছে। আম্পানের মতো দুর্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।

প্রথমত, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে হবে। অনেক বাঁধ বছরের পর বছর সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকে। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে নি¤œমানের কাজ হয়। ফলে সামান্য জলোচ্ছ্বাসেই বাঁধ ভেঙে যায়। দ্বিতীয়ত, সুন্দরবন রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বন ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। সুন্দরবন বাঁচলে উপকূল বাঁচবে। তৃতীয়ত, উপকূলের মানুষের জন্য বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শুধু কৃষি বা মাছের ঘেরের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।

 

দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। চতুর্থত, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। যারা দূষণ করে, তাদেরই ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে। আম্পান আমাদের একটি গভীর শিক্ষা দিয়েছেÑপ্রকৃতিকে জয় করা যায় না। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে উন্নয়নের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত মানুষের জন্যই বিপদ ডেকে আনে।নদী দখল, বন উজাড়, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, প্লাস্টিক দূষণÑসবকিছু মিলিয়ে আমরা নিজেরাই নিজেদের বিপদ বাড়াচ্ছি। প্রকৃতি একসময় তার প্রতিক্রিয়া দেখায়, আর সেই প্রতিক্রিয়াই হয়ে ওঠে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা জলোচ্ছ্বাস।

 

সুন্দরবন, নদী ও পরিবেশকে রক্ষা করা এখন শুধু পরিবেশবাদীদের দাবি নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। কারণ, উপকূল ভেঙে গেলে শুধু কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে নাÑক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ। আম্পানের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও উপকূলের অনেক মানুষ এখনও সেই ক্ষত বহন করছে। কোথাও এখনও ভাঙা বাঁধের স্মৃতি, কোথাও লবণাক্ত জমির অভিশাপ, কোথাও হারিয়ে যাওয়া মানুষের কান্না। কিন্তু এই দুর্যোগ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে।

 

বুঝিয়ে দিয়েছে, প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ নয়, সহাবস্থানই টিকে থাকার একমাত্র পথ। আজ যদি আমরা সুন্দরবনকে রক্ষা করি, উপকূলকে শক্তিশালী করি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সচেতন হই, তাহলে ভবিষ্যতের প্রজন্ম হয়তো আরও নিরাপদ বাংলাদেশ পাবে।আর যদি আমরা এখনও উদাসীন থাকি, তাহলে আম্পান শুধু অতীতের একটি ঝড় হয়ে থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে ভবিষ্যতের আরও বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ: ফেল করলে তিন মাসে পরীক্ষার সুযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ: ফেল করলে তিন মাসে পরীক্ষার সুযোগ

চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, সাধারণত বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ করা হয়। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। এ দিন ফল প্রকাশিত হতে পারে।

এবার এইচএসসিতে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আর এক বছর অপেক্ষা করতে হবে না। অকৃতকার্য বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে এবার থেকেই অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ দুই মাসের মধ্যে এবং তিন বা তার বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে তিন মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও খাতা পুনর্নিরীক্ষণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর বিষয়ে মত দিয়েছেন। তবে দুটি বিষয়ের বেশি সর্বোচ্চ কতটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ফল প্রকাশের পর দুই মাসের মধ্যে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। ফল প্রকাশের পর এক মাস পুনর্নিরীক্ষণের কাজ চলবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হবে। এরপর পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশ করা হবে।

চেয়ারম্যান বলেন, দুই বিষয়ে পরীক্ষা হলে দুই মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে। তবে তিন বা তার বেশি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হলে সময় বেশি লাগবে। সে ক্ষেত্রে তিন মাস পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, পুনর্নিরীক্ষণ, পরীক্ষার আয়োজন, পরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে ফল প্রকাশ করতে হবে।

দুই বিষয়ে পরীক্ষা, নাকি আরও বেশি—সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, সোমবারের সভায় অন্তর্বর্তী পরীক্ষার ধরন, সম্ভাব্য পরীক্ষার্থী, কতটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুরুতে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ার প্রসঙ্গ এলেও পরে অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘বোর্ড চেয়ারম্যানরা পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তাদের অভিমত দিয়েছেন। তবে দুটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে, নাকি তিন বা তার বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণদেরও সুযোগ দেওয়া হবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ভাষ্য, অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য এ বছর থেকেই অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন বোর্ড চেয়ারম্যানরা।

এক বছর অপেক্ষা না করানোর ঘোষণা উপদেষ্টার

এর আগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে অকৃতকার্য বিষয়ে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উইন্ডি টাউনে গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এসব শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি বিষয়ে খারাপ ফলের কারণে একজন শিক্ষার্থীর অন্য সব মেধা ও সৃজনশীলতা নষ্ট হয়ে যায় না। তাই শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা সনদের ভিত্তিতে একজন মানুষের জীবন মূল্যায়ন করা উচিত নয়।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই সারাদেশে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ আগস্ট।

এবার এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। পরীক্ষার কেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ৪৩৯টি। এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে (জিএমটি ১৪৩৩) ভূকম্পনটি অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে চীন ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক কেন্দ্র (সিইএনসি)।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সিইএনসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর তিব্বতের নাগকু জেলার উচ্চ পার্বত্য এলাকায়, ভূগর্ভের ১০ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।

সিইএনসি জানিয়েছে, তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে ঘটা এই ভূমিকম্পটি স্থানীয়ভাবে বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী কিংহাই প্রদেশের ইউশুতে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ হন, যা আজকের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ২৮০ কিলোমিটার দূরে ছিল।

থানায় গিয়ে নিরাপত্তা চাইলেন রুমিন ফারহানা, ওসি বললেন ‘মব সৃষ্টির কথা’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
থানায় গিয়ে নিরাপত্তা চাইলেন রুমিন ফারহানা, ওসি বললেন ‘মব সৃষ্টির কথা’

দুর্গাপূজায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা না পাওয়া এবং সৌজন্যমূলক আচরণ না করার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সরাইল থানায় ওসির কক্ষে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় ওসিকে উদ্দেশ্য করে রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন।’ সেইসঙ্গে ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, মাটি কাটা ও বালু ব্যবসা থেকে অর্থ নেওয়া এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে গিয়ে খাওয়াদাওয়া করার অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি।

থানার কক্ষে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, তিনি একাধিকবার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অনুরোধ করেছেন। বিজয়নগর ও আশুগঞ্জে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হলেও সরাইলে তা পাননি। তার দাবি, নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিরাপত্তা চাইলে স্থানীয় পর্যায়ে তা দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাকে দেয়নি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘কতবার রিকোয়েস্ট করেছি যে নিরাপত্তা দেওয়া হোক। আমাকে বিজয়নগরে নিরাপত্তা দিয়েছে, আমাকে আশুগঞ্জে নিরাপত্তা দিয়েছে। ওইটা আইন আছে যে নির্বাচিত এমপি নিরাপত্তা চাইলে লোকাল এরিয়াতে হবে। গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগের সময় একজন এমপি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর এবং উনি মারা যাওয়ার পর এই আইনটা হয়।’

ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘উনি আমার লোকের ফোনই ধরেন না এবং বলেন, উনি নির্বাচিত এমপি, ওনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে। তো এ জন্যই মানুষ যা দেখতেছেন, বাইরে আরও ৫-১০ হাজার মানুষ আছে। তো ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে, তাই না? সো মানুষ আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে।’

ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটা, বালু ও ইটভাটাসংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এলাকাটি দাঙ্গাপ্রবণ। কোনও ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় বলে তার অভিযোগ। এসব বিষয়ে জানতে তিনি থানায় গিয়েছিলেন বলেও জানান। তার ভাষ্য, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে ওসির এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।

অভিযোগ অস্বীকার ওসির

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সরাইল থানার ওসি মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা থানায় এক থেকে দেড়শ লোক নিয়ে এসে হইচই করেন এবং আমার কার্যালয়ে কয়েকশ লোক ঢুকে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।’

ওসি বলেন, ‘উনি কিছু লোককে শিখিয়ে নিয়ে আসছেন যে, আমার বিরুদ্ধে আজেবাজে কথাবার্তা বলছে, যা আমি প্র্যাকটিস করি না। উনি বলছেন, আমি নাকি কোনও এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গিয়ে ভাত খেয়ে আসছি। আমি কখনও কারও দাওয়াতেই যাই না। বিয়ের দাওয়াতেও যাই না। রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম ছাড়া কোনও খাবারদাবার, খানাপিনায় অ্যাটেন্ড করি না। শুধু সরকারি প্রোগ্রাম, যেখানে ইউএনও মহোদয় থাকেন, আমি থাকি, ম্যাজিস্ট্রেট থাকেন, তখন আমি যাই।’

মামলার আসামি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন ওসি। তিনি বলেন, ‘উনি লোক সাজিয়ে নিয়ে আসছেন। সে বলছে, আমাকে নাকি মামলার আসামি ছাড়ার ব্যাপারে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। লোকটাকে আমি কখনও দেখছি বলে আমার মনে পড়ে না। আসামিরা আসে, অফিসারেরা ধরে হাজতে পাঠায়, আবার কোর্টে চলে যায়। আমার সঙ্গে ইন্টারোগেশনে কোনও প্রয়োজনই হয় না। সে নাকি আমাকেই ৩০ হাজার টাকা দিছে। এটা তো ওনার শেখানো বিষয়।’

ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘উনি বলছেন, ব্রিকফিল্ড থেকে টাকা নিই। ব্রিকফিল্ড এখানে হাওর অঞ্চল, সবগুলো পানির নিচে ডুবানো। উনি এই অভিযোগটা কোত্থেকে আনলেন?’

পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ওসি বলেন, ‘দুর্গাপূজায় পুলিশের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। থানা এলাকার সব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামগ্রিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চাওয়ার বিষয়টি আলাদা। এ জন্য তিনি পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করতে পারেন। গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি তো একটা টিম ওনার সঙ্গে ওইভাবে এনগেজ রাখা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।’

থানায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওসির

ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, রুমিন ফারহানা তার অনুসারীদের নিয়ে থানার কক্ষে এসে তাকে অবরুদ্ধ করেন এবং থানার বাইরে মিছিল করেন। সেখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনও সংগঠনের লোকজন ছিলেন কি না, তা তিনি জানেন না বলে জানান। তার দাবি, ওই সংগঠনের লোকজনকে গ্রেফতার না করার জন্য সংসদ সদস্য তাকে প্রায়ই চাপ দেন।

এ সময় জবাবে রুমিন ফারহানা ওসিকে বলেছেন, আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আমরা সব জানি। এখন আসছেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংগঠনের লোক চিনাইতে।

ওসি বলেন, থানায় আসা অনেককেই তিনি চিনতে পারেননি। পরে তাদের পরিচয় জানা যেতে পারে। থানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিষয়টি তিনি নোট করে রেখেছেন বলেও জানান।

এ সময় ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার সমর্থকদের তর্কে জড়ানোর ঘটনা ঘটে। তাদের কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করে রাখার জন্য থানার সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেন ওসি।

এদিকে রুমিন ফারহানা থানায় অবস্থানকালে বাইরে তার পক্ষে এবং ওসির বিরুদ্ধে কয়েক শ মানুষকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ ঘটনায় থানা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।