রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাইকগাছায় চুইঝালের চাহিদার সঙ্গে বেড়েছে দামও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় চুইঝালের চাহিদার সঙ্গে বেড়েছে দামও

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসতেই খুলনার পাইকগাছার হাট-বাজারে ঐতিহ্যবাহী মসলা চুই ঝালের চাহিদা বেড়েছে। মাংসের স্বাদ ও সুবাস বৃদ্ধি করার জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই এলাকার মানুষের কাছে চুইঝালের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। মাংসের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে চুই ঝাল যেন এক অপরিহার্য উপাদান। চুইঝাল ছাড় মাংস বা বিরিয়ানী রান্না যেন পূর্ণতা পায় না। তাই চুইঝাল লাগবেই লাগবে।

ঈদে ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু মসলা চুইঝালের চাহিদা ও দাম দুটোই বহুগুণ বেড়ে গেছে। গরুর মাংস ও খাসির মাংসের স্বাদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে চুইঝাল দারুণ কার্যকরী। ঈদের সময় প্রায় প্রতিটি ঘরেই মাংসের নানা পদ বিরিয়ানি, ভুনা মাংস রান্নায় চুইঝালের কদর থাকে তুঙ্গে। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়েই দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। আকারের চিকন বা মোটা ওপর নির্ভর করে চুইঝাল কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ১০০০ বা তারও বেশি দামে বিক্রি হয়।

খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও যশোর এলাকায় বিখ্যাত মসলা এই চুইঝাল। চুইঝালের শিকড়, পাতা ও ফুল, ফলে ঔষধি গুণ আছে। চুইঝাল মাছ ও মাংসের সাথে রান্না করে খাওয়া হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলের জেলা খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এ সব এলাকায় চুইঝাল মসলা খুব জনপ্রিয়। বর্তমানে দেশের অন্যান্য জেলাতেও ঝাল হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের কান্ড, শিকড় বা লতাকে ছোট ছোট টুকরো করে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যেকোনো ধরনের মাংস, গরুর বা খাসির মাংস রান্না করা হয়। চুইঝালের রান্না মাংস এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এবং খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। তবে চুই এর শিকড়ের মধ্যে কান্ডের তুলনায় কড়া সুঘ্রাণ ও ঝাঁঝালো স্বাদ বেশি থাকার কারণে এটি কান্ডের তুলনায় বেশি ব্যবহৃত হয়। চুইঝাল দিয়ে রান্না করলে মাংসে একধরনের কড়া সুঘ্রাণ এবং ঝাল প্রকৃতির, ঝাঁঝালো ও টক স্বাদ যুক্ত হয় যা মাংসের মধ্যে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের স্বাদ এনে দেয়।

সারাবছরই চাহিদা ও দামের দিক থেকে উপরে থাকে মশলাটি। তবে ঈদ আসলেই চুইঝালের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা পকেট কাটেন ভোক্তাদের। কুরবানির সময় যত ঘনিয়ে আসছে পাইকগাছায় চুইঝালের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে চুইঝালের দোকান নিয়ে বসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। দোকানগুলোতে ভীড়ও বাড়ছে ক্রেতাদের। সাধারণ সময়ে চুইঝাল কেজি প্রতি ৪০০ থেকে হাজার টাকা থাকালেও বর্তমানে আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮শত থেকে এক হাজার ও খুর ভালো মানের চুইঝাল কেজি ১৫শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

নতুন বাজারের চুইঝাল বিক্রেতা মীর কাজল বলেন, মাংস বা বিরিয়ানী রান্নার সব রকম মশলা পাওয়া যায়। আর আদা-চুইঝাল তো আছেই। কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে চুইঝালের চাহিদা ও বিক্রি বেড়েছে। আর এক বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে চুইঝাল চিকন (আকারে ছোট) ৪ শত থেকে ৬শ টাকায় ও কিছুটা বড় চুইঝাল ৮শত টাকা কেজিতে বিক্রি করতাম।

 

কোরবানি উপলক্ষে বাজারে চাহিদা বাড়ায় পাইকারী দরে কিনতেই বেশি টাকা গুণতে হচ্ছে। তাই চুইঝালের সাইজ অনুযায়ী কেজি প্রতি ৮শত থেকে ১৫শত টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। চুইঝাল কিনতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, সারা বছর মাঝে মধ্যে চুইঝাল খাওয়া মাংসের সাথে। কিন্তু কুরবানির সময় গরুর মাংসের সাথে চুইঝাল না হলে চলে না।

গদাইপুর বাজারে চুইঝালের ক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, চুইঝালের দাম ঈদের আগে আরো বাড়তে পারে। তাই ভিড় এড়াতে আগে ভাগেই চুইঝাল কিনতে এসেছি। তবে কুরবানি উপলক্ষে দাম কিছুটা বেড়েছে। ঈদের সময় চুইঝাল দিয়ে রান্না করা মাংস অতিথিদের খুবই পছন্দের। দাম একটু বৃদ্ধি পেলেও, মাংস খেতে চুইঝাল লাগবেই। চুইঝালের মাংস রান্নার স্বাদই অন্যরকম উপলব্ধি হয়।

 

Ads small one

শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের বিচার দাবিতে শ্যামনগরে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের বিচার দাবিতে শ্যামনগরে মানববন্ধন

সংবাদদাতা: রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং চট্টগ্রামে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৪ মে (রবিবার) বেলা ৩টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু জোট (জিকা) এই কর্মসূচির আয়োজন করে। ‘কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচী– সিআরইএ’ প্রকল্পের আওতায় এবং লিডার্স, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও এ্যাম্বাসি অব সুইডেনের সহযোগিতায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ধর্ষণ, নিপীড়ন ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ এবং শিশু রামিসার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে আয়োজিত এই মানববন্ধনে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি সংবলিত ফেস্টুন দেখা যায়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও নারী সহিংসতার ঘটনা সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, যার ফলে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়ছে। শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সমাবেশ থেকে শিশু রামিসার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবির পাশাপাশি দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

 

চলে গেলেন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান গদাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
চলে গেলেন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান গদাই

নিজস্ব প্রতিনিধি: মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধের দুঃসাহসী নায়ক আতিয়ার রহমান গদাই আর নেই। রবিবার সকাল ছয়টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়াস্থ নিজস্ব বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

 

মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর বড় ছেলে তাহজ্জত হোসেন হিরু একজন ব্যাংক কর্মকর্তা, মেজো ছেলে সাহাদাৎ হোসেন হিরু বিসিএস ক্যাডার (আনসার ব্যাটালিয়ন কমান্ডার) এবং ছোট ছেলে মিথুন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারুলিয়ার মৃত এজাহার আলী সরদারের কনিষ্ঠ পুত্র আতিয়ার রহমান এলাকায় ‘গদাই’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন। সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এই মানুষটি আজীবন সাধারণ জীবনযাপন করেছেন এবং দানশীলতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তরুণ বয়স থেকেই অভাবী ও অসহায় মানুষকে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া ছিল তাঁর মানবিক স্বভাব।

তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। রণাঙ্গনের সহযোদ্ধা ও দেবহাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল বারী মোল্ল্যা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “গদাই চাচা ছিলেন অসীম সাহসী ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এক বজ্রকঠিন ব্যক্তিত্ব। ১৯৭১ সালে দেশের টানে কাউকে না জানিয়ে আমাদের নিয়ে তিনি সীমান্ত পাড়ি দেন এবং ভারতের বিহার, দেরাদুন ও হাবলঙে প্রশিক্ষণ নেন। সাতক্ষীরা ও দেবহাটার একাধিক সম্মুখ যুদ্ধে তিনি জীবনপণ লড়েছেন। একবার যুদ্ধের মাঠে গুলি ফুরিয়ে গেলে তিনি এক পাকিস্তানি সেনাকে অস্ত্রসহ জাপটে ধরে বন্দি করেছিলেন। তাঁর এই বীরত্ব বহু মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ বাঁচিয়েছিল।”

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আতিয়ার রহমান গদাই জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি বীর উত্তম মেজর জলিল, আ স ম আবদুর রব এবং তাত্ত্বিক নেতা সিরাজুল আলম খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সাতক্ষীরায় ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের সহযোগী হিসেবে জাসদ গঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হন।

 

রাজনৈতিক কারণে একাত্তর-পরবর্তী বিভিন্ন সরকারের সময়ে তিনি নানাভাবে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকারও হয়েছিলেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াণে স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলো গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

 

কয়রার ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
কয়রার ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ, দলের অব্যাহতিপ্রাপ্ত এক নেতার স্থায়ী বহিষ্কার এবং খুলনা জেলা ছাত্রদলের কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে সাতক্ষীরার কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে উপজেলা ছাত্রদল।

 

রবিবার বিকেলে কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে কপোতাক্ষ কলেজের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মধুর মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আরিফ বিল্লাহ সবুজ, সদস্যসচিব মো. মাহমুদ হাসান, ছাত্রনেতা ইমরান হোসেন, মামুন হোসেন, তাজমিরুল, ইয়াসিন আরাফাত, কপোতাক্ষ কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি তামিম আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল, খান সাহেব কোমরউদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি নূর আলম, কয়রা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মাশরাফি আজাদ, মহারাজপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান, বেদকাশি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন এবং মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়েজকুরনি প্রমুখ।