সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তিন পক্ষের টানাটানিতে গদাইপুর কুরবানির পশুর হাট বন্ধ, এলাকায় চরম ক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ণ
তিন পক্ষের টানাটানিতে গদাইপুর কুরবানির পশুর হাট বন্ধ, এলাকায় চরম ক্ষোভ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছার ঐতিহ্যবাহী গদাইপুর কুরবানির পশুর হাট তিনপক্ষের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩০ বছর পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নিজেদের প্রভাব বিস্তারে ও গরুর হাটের খাজনা আদায়ের নামে অর্থ বাণিজ্যের লক্ষ্যে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, গদাইপুর বাজারে পশুর হাট বসাতে তিনটি পক্ষ আবেদন করে। কোন পক্ষই নিজেদের ছাড় দিতে নারাজ। ত্রিমুখী টানা হেছড়া এবং কয়েকজন ব্যক্তির কারণে বিভিন্ন এলাকার গরুর খামারি, ব্যাপারী, ফড়িয়া, খুচরা গরু লালনপালনকারী ও ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে। বিগত সময়ে কুরবানির ঈদের ১০-১৫ দিন আগেই কুরবানির পশু বিকিকিনি শুরু হয়ে যেত। সকাল থেকে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত কুরবানির পশুর হাটে লোক ও পশুতে জমজমাট থাকত। কিন্তু চলতি বছর পশুর হাট না বসায় ফাঁকা অবস্থা বিরাজ করছে। এতে সবার মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গদাইপুরের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক বাবর আলী গোলদার বলেন, কোনো ঝামেলা ও চাঁদাবাজি ছাড়াই গদাইপুর হাটে অসংখ্য গরু-ছাগল বিক্রি হতো। এ হাটের একটা ঐতিহ্য ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মিলন মেলা বসত।

খুলনার পাইকগাছা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত সব থেকে বড় কোরবানির পশুর হাট এই গদাইপুর। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ও সুন্দর পরিবেশ থাকায় পশুর বাজারে বিক্রেতা ও ক্রেতা সাচ্ছান্দের সাথে পশু বেচা-কেনা করতে পারত। কিন্তু একেবারে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে তিনটি পক্ষ হাটের ইজারা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দপ্তরে আবেদন করেন। তিন পক্ষই অনড় থাকায় বিষয়টি জেলা প্রশাসক দপ্তর পর্যন্ত গড়ায়। শেষমেশ জেলা প্রশাসক ইজারা বন্ধ করে দেওয়ায় এ হাটে পশু বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যায়।

উপজেলার চাঁদখালী, কাসিমনগর স্থায়ী পশুর হাট আর বাঁকা, পৌরসভার সরল ও আগড়ঘাটা নামক স্থানে পশুর হাট বসছে; যা উপজেলার তিন দিকের শেষপ্রান্তে অবস্থিত। এতে বিক্রেতা ও ক্রেতারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
এ বিষয়ে গদাইপুর বাজারের ইজারাদার সাবেক ইউপি সদস্য জবেদ আলী গাজী বলেন, আমি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ কুরবানির পশুর হাটটি ইজারা নিয়ে যে খাজনা আদায় করেছি তা স্থানীয় মসজিদের উন্নয়ন কাজে লাগিয়েছি। একটি দুষ্টচক্রের অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে এটি বন্ধ হয়ে গেল। তবে আমি আশা করছি কর্তৃপক্ষ সর্বসাধারণের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করবেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, হাট ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার জেলা প্রশাসকের। তিনি অনুমোদন দিলে হাট বসবে, আর না দিলে আমার কিছু করার নেই।

 

Ads small one

নদীর পোনা আহরণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
নদীর পোনা আহরণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
সৈয়দ অনুজ, ফকিরহাট (বাগেরহাট): দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি চিংড়ি শিল্প আজ চরম সংকটে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চিংড়ি চাষীরা। নদী থেকে চিংড়ির পোনা আহরণ, পরিবহন, ক্রয় ও বিক্রয়ের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে এই শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে দাবি করে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সোমবার বাগেরহাটের ফকিরহাটের রেনু মার্কেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম গোরা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি  বলেন, বাগেরহাটের ফকিরহাট, মোল্লাহাট, চিতলমারী, রামপাল, মোংলা, খুলনার তেরখাদা, রূপসা, দিঘলিয়া এবং সাতক্ষীরাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের লাখো মানুষ চিংড়ি চাষের ওপর নির্ভরশীল। প্রায় দুই দশক আগে ফকিরহাটের ফলতিতা চিংড়ি মার্কেট “বাংলার কুয়েত” হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। একসময় ‘সাদা সোনা’ খ্যাত এই চিংড়ি খাত থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হলেও বর্তমানে শিল্পটি টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশে বিদ্যমান হ্যাচারিগুলো মোট চাহিদার মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ পোনা সরবরাহ করতে সক্ষম। তাও মানসম্মত নয়। ফলে অধিকাংশ চাষীকেই নদীর প্রাকৃতিক পোনার ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু পোনা আহরণের পর থেকেই জেলেদের পথে পথে হয়রানি, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।

বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে চিংড়ি খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এখনও পর্যন্ত চাষীরা প্রয়োজনীয় পোনার ১০ শতাংশও ঘেরে ছাড়তে পারেননি।”
মৎস্য বিভাগের সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষার নামে বাস্তবতা বিবেচনা না করেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তাদের দাবি, পোনা সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চিংড়ির পোনা আলাদা করে অন্যান্য মাছের পোনা নদীতে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য ও চিংড়ি শিল্প—দুই-ই রক্ষা করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দেশের প্রান্তিক ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষের শ্রম ও উদ্যোগে অনাবাদি জমিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই সম্ভাবনাময় শিল্পখাত। অথচ এখন নানা বিধিনিষেধ ও নীতিগত জটিলতায় শিল্পটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
বক্তারা সরকারের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, চিংড়ি সেক্টরের ঘের থেকে শুরু করে রপ্তানিকারক পর্যন্ত ৭ থেকে ৮টি স্তরে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। শতভাগ রপ্তানিমুখী এই শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে না দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান তারা।

সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি পুকুরের ঘাট নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি পুকুরের ঘাট নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি পুকুরের ঘাট নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুর রউফ।

জেলা মন্দির সমিতির সভাপতি অ্যাড. সোমনাথ ব্যাণার্জীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন, সহসভাপতি স্বপন কুমার শীল, জয়মহাপ্রভু সেবক সংঘের বিকাশ দাস, শিক্ষক সঞ্জয় দেবনাথ, শিক্ষক সঞ্জীব চক্রবর্তী প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ^াসী। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। ২৩৪ বছরের ঐতিহ্যবাহি সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ির পুকুর ঘাট নির্মাণ অতি জরুরী প্রয়োজন। তাই তিনি এ পুকুর ঘাট নির্মাণ কাজের উদ্বোধনের পাশাপাশি সার্বিক সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে সার্বিক সহায়তা করে যাবেন।

শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী ভাঙন পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী ভাঙন পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দূর্গাবাটী-মাদীয়া সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন ড. মোঃ মনিরুজ্জামানসহ বিএনপির উপজেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০ টার দিকে তারা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

 

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সোলাইমান কবির, আশেক ইলাহী মুন্না, পদ্মাপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, সাবেক সেনা সদস্য বুড়গোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী জিএম রুস্তম আলী, ইউনিয়ন যুবদলপর সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহবায়ক ওহিদুজ্জামান প্রমুখ।

এসময় নদী ভাঙনের কারণে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ, বসতভিটা ও ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন নেতৃবৃন্দ। এলাকাবাসী জানান, খোলপেটুয়া নদীর তীব্র স্্েরাত ও জোয়ারের চাপে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নদী তীরবর্তী এলাকা। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

পরিদর্শনকালে ড. মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “খোলপেটুয়া নদীর ভাঙন এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। বিএনপি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

সর্বশেষ পানিউন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় বালু ভর্তি জিও বস্তা ডাম্পিং করছেন, বিষয়ে তাদেরকে ধন্যবাদ জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা। পরিদর্শন শেষে দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তারা।