রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাজেটে মিলতে পারে ৫ সুখবর, পাচারকারীদের জন্যও কি থাকছে সুযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বাজেটে মিলতে পারে ৫ সুখবর, পাচারকারীদের জন্যও কি থাকছে সুযোগ

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এই বাজেটকে ঘিরে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, করদাতা, স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এবার বাজেটে একদিকে যেমন কিছু খাতে কর ছাড় ও বিনিয়োগ প্রণোদনা দেওয়া হতে পারে, অপরদিকে রাজস্ব বাড়াতে তামাক ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।

একইসঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ, স্বয়ংক্রিয় কর রিফান্ড ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবায় কর সুবিধা এবং অন্তঃসত্ত্বা থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর রূপরেখা তুলে ধরতে যাচ্ছে সরকার।

চিনিযুক্ত পানীয় ও খাদ্যপণ্যে ন্যূনতম কর কমতে পারে

আগামী বাজেটে চিনিযুক্ত পানীয় ও খাদ্যপণ্যের ওপর আরোপিত ন্যূনতম টার্নওভার কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে এনবিআর।

বর্তমানে কোনও প্রতিষ্ঠানের মুনাফা হোক বা লোকসান— বিক্রির ওপর নির্দিষ্ট হারে কর দিতে হয়। একে ন্যূনতম টার্নওভার কর বলা হয়। ফলে কম মুনাফার কোম্পানিগুলোর ওপর করের প্রকৃত চাপ অনেক বেড়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, এ খাতে করের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। পানীয় শিল্পের উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, করপোরেট করসহ ন্যূনতম করের কারণে তাদের কার্যকর করহার ৪৩ থেকে ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে।

কোকা-কোলা সিসিআই বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাদাব আহমেদ খান বলেন, উচ্চ করহার ব্যবসার সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।

শিল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের কার্বনেটেড কোমল পানীয় বাজারের আকার ছিল প্রায় ৬ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। দুই বছরের ব্যবধানে তা কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২০১ কোটি টাকায়।

তবে কর কমানোর এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রুমানা হকের মতে, দেশে ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। তাই চিনিযুক্ত পণ্যের ওপর কর কমানোর পরিবর্তে নতুন নতুন চিনিযুক্ত পণ্যকে করের আওতায় আনা এবং সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো উচিত। তার মতে, সরকারকে শুধু রাজস্ব নয়, জনস্বাস্থ্যকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

করদাতাদের জন্য আসছে স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড ব্যবস্থা

দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে বেশিরভাগ করদাতার জন্য স্বয়ংক্রিয় কর রিফান্ড ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে এনবিআর।

নতুন ব্যবস্থায় আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত কর পরিশোধ করে থাকলে আলাদা আবেদন ছাড়াই তিন থেকে চার মাসের মধ্যে সেই অর্থ সরাসরি তার ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।

এনবিআর সূত্র বলছে, বর্তমানে বছরে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা আয়কর আদায় হয়। বিপরীতে প্রতি বছর ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার মতো কর ফেরত দিতে হয়। কিন্তু বিদ্যমান ব্যবস্থায় রিফান্ড পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়। স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড ব্যবস্থা চালু হলে করদাতাদের আস্থা বাড়বে এবং কর ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হৃদরোগ ও কিডনি রোগীদের জন্য স্বস্তির বার্তা

চিকিৎসা ব্যয় কমাতে আগামী বাজেটে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর ছাড় দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে— হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের ওপর ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার, ডায়ালাইসিস যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর ৭.৫ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের কাঁচামালে শুল্ক কমানো, এপিআই (অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস) খাতে বিনিয়োগে কর প্রণোদনা।

বর্তমানে একটি করোনারি স্টেন্টের দাম ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে একটি স্টেন্টের দাম সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা।

বিআইডিএসের গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত ডায়ালাইসিস করা একজন রোগীর মাসিক ব্যয় ৪৬ হাজার টাকার বেশি। ফলে বেশিরভাগ পরিবারকে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়। এ প্রেক্ষাপটে ডায়ালাইসিস সরঞ্জামের ওপর কর ছাড়কে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তামাক ও অ্যালকোহলে বাড়বে কর

একদিকে স্বাস্থ্য খাতে কর ছাড় দেওয়া হলেও অপরদিকে তামাক ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। লক্ষ্য হলো, আগামী অর্থবছরে এসব খাত থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়। বর্তমানে সিগারেটের খুচরা মূল্যের প্রায় ৮৩ শতাংশই বিভিন্ন ধরনের কর। আগামী বাজেটে প্রিমিয়াম, উচ্চ, মাঝারি ও নিম্ন— সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়তে পারে।

অন্যদিকে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মদের ওপর প্রতি লিটারে ৪০০ টাকা নির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর সুযোগ

সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি হতে যাচ্ছে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ বা ‘অর্থনৈতিক সাধারণ ক্ষমা।’

প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদেশে থাকা অর্থ দেশে এনে উৎপাদনশীল শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে বিনিয়োগ করা হলে ওই অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না। তবে এই অর্থের ওপর স্বাভাবিক করহারের চেয়ে কিছুটা বেশি কর আরোপ করা হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এই উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এতে সৎ করদাতারা বৈষম্যের শিকার হতে পারেন এবং ভবিষ্যতে অর্থ পাচারে উৎসাহ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, সরকার যদি প্রকৃতপক্ষে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে এ ধরনের বিশেষ সুযোগ বা প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে। যেহেতু প্রচলিত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা অনেক ক্ষেত্রে জটিল ও সময়সাপেক্ষ, তাই বিকল্প উপায় হিসেবে সরকার এ ধরনের উদ্যোগ বিবেচনা করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে কঠোর ও স্বচ্ছ নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে, প্রচলিত করহারের তুলনায় অতিরিক্ত কর আরোপ করে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে এ ধরনের অর্থ দেশে আনার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।’’

একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচারকারীরা যাতে এই সুবিধার অপব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি যারা দুর্নীতি বা অন্য কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ পাচার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।’’

কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে লাইফ-সাইকেল সামাজিক নিরাপত্তা

আগামী বাজেটের অন্যতম বড় ঘোষণা হতে পারে ‘লাইফ-সাইকেলভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।’ এই ব্যবস্থায় একজন নাগরিক গর্ভাবস্থা থেকেই রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আসবেন। এরপর শিশুকাল, শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন, বেকারত্ব এবং বার্ধক্য— প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা পাওয়া যাবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩২ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে সব নাগরিককে এই কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে আগামী অর্থবছর থেকেই ‘ওয়ান পারসন, ওয়ান অ্যাকাউন্ট’ ভিত্তিক ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বরাদ্দও ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, মাতৃত্ব ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতা ও বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, নতুন বেতন কাঠামো একবারে বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা সরকারের নেই। তাই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন স্কেলে বেতন বৃদ্ধির অর্ধেক আগামী অর্থবছরে এবং বাকি অংশ ২০২৭-২৮ অর্থবছরে কার্যকর করা হতে পারে। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত ভাতা কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজস্ব ও জনকল্যাণের ভারসাম্যের বাজেট

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট একদিকে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করবে, অন্যদিকে সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার রূপরেখা দেবে।

তবে পাচার হওয়া অর্থ বৈধ করার সুযোগ, চিনিযুক্ত পণ্যের কর কমানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকবে। সব মিলিয়ে আসন্ন বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ হবে— রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য তৈরি করা।

Ads small one

সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক ১০

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক ১০

অনলাইন ডেস্ক:  সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

 

রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান।

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ ভোর ৫টার দিকে সীমান্তে দায়িত্ব পালনের সময় বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে অবৈধ অনুপ্রবেশ করার সময় ১০ জনকে আটক করে বিজিবির বারাদি ক্যাম্পের সদস্যরা। আটককৃতদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৩ জন মহিলা ও ৫ জন শিশু রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, আটককৃত ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলমান রয়েছে। প্রাথমিক আইনানুগ কার্যক্রম শেষে তাদের দর্শনা থানায় সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলাও হবে।

 

তিনি আরও জানান, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

রহস্যময় অন্ধকার কোঠা ও গুপ্তধনের লোককথা ঘিরে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
রহস্যময় অন্ধকার কোঠা ও গুপ্তধনের লোককথা ঘিরে চাঞ্চল্য
জুলফিকার আলী
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এক ঐতিহাসিক জনপদ সোনাবাড়িয়া। প্রায় দুই শত বছর আগের গোটা সোনাবাড়িয়াজুড়ে আজও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে জমিদার শাসনের নানা প্রাচীন নিদর্শন। আর এই ঐতিহ্যের সবচেয়ে বড় ধারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘সোনাবাড়িয়া মঠ মন্দির’। প্রায় ৬০ ফুট উঁচু, টেরাকোটা ফলক খচিত এই শ্যামসুন্দর মন্দিরটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে। তবে যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যবাহী এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি এখন চরম জরাজীর্ণ। দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না নিলে এর অবশিষ্ট অংশটুকুও চিরতরে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
​পুকুরের ‘টাকার মেঠে’ ও সুরঙ্গ রহস্য
​এই মঠ মন্দিরকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে কিছু রোমাঞ্চকর ও গা ছমছমে রহস্য। এলাকার প্রবীণদের দাবি, মন্দিরের সামনের বিশাল পুকুরটিতে একটি লোহার শিকল দিয়ে বাঁধা ‘টাকার মেঠে’ বা জালা (গুপ্তধনের পাত্র) ছিল। অমাবস্যা ও পূর্ণিমার রাতে ওই মেঠে থেকে টাকাগুলো বের হয়ে পুকুরের পানিতে কিলবিল করে ভাসতো, যা তৎকালীন সময়ে অনেকেই নিজ চোখে দেখেছেন। এ ছাড়াও লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, পুকুরের মাঝ বরাবর একটি গোপন সুরঙ্গ পথ ছিল, যা দিয়ে সরাসরি মঠ মন্দিরের ভেতরে যাতায়াত করা যেত।
​আশ্চর্য অন্ধকার কোঠা ও স্বয়ংক্রিয় কষ্টিপাথর
​মন্দিরের ভেতরে রয়েছে এক রহস্যময় কক্ষ, যা স্থানীয়দের কাছে ‘অন্ধকারা কোঠা’ নামে পরিচিত। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, একসাথে ১০টি টর্চ লাইট জ্বালালেও সেই কোঠার ভেতরের অন্ধকার দূর করা যেত না; আলোর তীব্রতা ভেদ করে সেখানে শুধু ঘুটঘুটে অন্ধকারই দেখা যেত। তবে ওই কোঠার ভেতরে আসলে কী ছিল, তা আজও এক রহস্য।
​প্রবীণরা জানান, ওই কোঠার মধ্যে একটি অলৌকিক কষ্টিপাথর ছিল, যা প্রতি শনি ও মঙ্গলবারে আপনা-আপনি ঘুরতো। আর এই অলৌকিক দৃশ্য দেখতে ও পূজা করতে তখন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ভিড় জমাতেন। ধারণা করা হয়, কোনো কারণে ওই কোঠার পবিত্রতা নষ্ট হওয়ায় অলৌকিক কষ্টিপাথরটি শিকল কেটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুকুরে পড়ে যায়। বর্তমানে সেই শিকলের মাত্র দুটি আংটা বা কড়া মন্দিরের কোঠায় ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় অনেকেরই বিশ্বাস, সেই ‘টাকার মেঠে’ বা গুপ্তধনের পাত্রটি আজও পুকুরের তলদেশে লুকিয়ে আছে।
​ইতিহাস ও অলৌকিক জনশ্রুতি
​বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র থেকে জানা যায়, বাংলা ১২০৮ সালে রানী রাশমনি এই মঠ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এই মঠ মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে রয়েছে নানা রোমাঞ্চকর অলৌকিক জনশ্রুতি। প্রচলিত আছে, সোনাবাড়িয়ার এক বেলগাছ তলায় রাতের আঁধারে মাটি ফুঁড়ে একাধিক শিব মূর্তি বের হয়েছিল। পরবর্তীতে রানী রাশমনি স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে স্নানের সময় নদী থেকে একটি ভাসমান পাথরের শিবমূর্তি উদ্ধার করেন এবং এই অলৌকিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতেই তিনি এই মঠ মন্দিরটি নির্মাণ করেন।
​স্থাপত্যশৈলী ও কাঠামোগত সৌন্দর্য
​আম, কাঁঠাল, নারকেল, মেহগনি, সেগুন ও দেবদারু গাছের বাগান দিয়ে ঘেরা প্রায় ১৫ একর জমির ওপর অবস্থিত এই মন্দির প্রাঙ্গণ। মূল মন্দিরটির দৈর্ঘ্য ২০ ফুট এবং প্রস্থ ১৫ ফুট। বিশালাকৃতির এই মঠ মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছে ছোট ছোট পাতলা ইট ও চুন-সুরকি দিয়ে। এর দেয়ালজুড়ে রয়েছে নজরকাড়া টেরাকোটা ফলকের কারুকাজ।
​মন্দিরের সামনে রয়েছে একটি বিশাল পুকুর। পুকুরের পাশ দিয়ে ভেতরে ঢোকার জন্য ছিল একটি বড় তোরণ, যার ওপর নির্মিত হয়েছিল নহবতখানা। মন্দিরের পূর্ব পাশ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ১২টি ঘরে একসময় ১২টি শিবলিঙ্গ ছিল। এ ছাড়াও মূল মঠ মন্দিরের দোতলায় ঝুলন্ত দোলনায় থাকত সোনার তৈরি রাধাকৃষ্ণের মূর্তি।
​বৌদ্ধ ধর্মের সংযোগ ও ভিন্নমত
​মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে এলাকার প্রবীণদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও চমৎকার একটি তথ্য পাওয়া যায়। অনেকের মতে, প্রাচীনকালে বৌদ্ধধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে গৌতম বুদ্ধের অনুসারীরা এখানে প্রথম একটি মঠ বা উপাসনালয় তৈরি করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার ও প্রসারে সুবিধা করতে না পেরে তারা সোনাবাড়িয়া ত্যাগ করেন। এরপর মঠটি বেশ কিছুকাল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। বহু বছর পর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই পরিত্যক্ত কাঠামোটি পুনরায় নির্মাণ ও সংস্কার করে এটিকে মন্দিরে রূপান্তরিত করেন।
​বর্তমান দশা ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা
​কালের বিবর্তনে এবং যথাযথ যত্নের অভাবে হারিয়ে গেছে মন্দিরের সেই জৌলুস। চুরি হয়ে গেছে মূল্যবান কষ্টিপাথর ও সোনার মূর্তি। ধসে পড়েছে নহবতখানাসহ অনেক কক্ষ। বর্তমানে দেয়ালের টেরাকোটা খসে পড়ছে এবং পুরো ভবনটিই চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
​এলাকাবাসী ও ইতিহাস সচেতন মহলের দাবি, দক্ষিণবঙ্গের এই অনন্য প্রাচীন স্থাপত্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এই ঐতিহাসিক মঠ মন্দিরটি রক্ষার্থে ও এর রহস্য উদ্ঘাটনে অতি দ্রুত সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখনই সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সোনাবাড়িয়ার এই গৌরবময় ইতিহাস কেবলই রূপকথা হয়ে থাকবে।

৭ দিনের ঈদের ছুটি শেষ হচ্ছে আজ, কাল থেকে খুলবে অফিস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
৭ দিনের ঈদের ছুটি শেষ হচ্ছে আজ, কাল থেকে খুলবে অফিস

অনলাইন ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে টানা ৭ দিনের সরকারি ছুটি শেষ হচ্ছে আজ রোববার (৩১ মে)। দীর্ঘ বিরতির পর সোমবার (১ জুন) থেকে খুলবে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের পুঁজিবাজার।

 

এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা সাত দিনের ছুটি পেয়েছেন। দীর্ঘ ছুটি শেষে সোমবার থেকে কর্মস্থলে ফিরবেন চাকরিজীবীরা।

ঈদের ছুটি শেষে দেশের সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস, ব্যাংক-বিমা কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারবাজারে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে। ঈদের আগে সীমিত পরিসরে কিছু ব্যাংক শাখা খোলা থাকলেও সোমবার থেকে দেশের সব ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন চলবে। একইসঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও নিয়মিত লেনদেন শুরু হবে।

 

অন্যদিকে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকামুখী মানুষের ফিরতি যাত্রা শুরু হয়েছে। শনিবার ও রোববার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। ফলে রাজধানীর সড়কগুলোতেও ধীরে ধীরে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে।

তবে প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে অফিসপাড়ায় কর্মব্যস্ততা তুলনামূলক কম থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অনেক কর্মী সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে সময় কাটান এবং অনেক প্রতিষ্ঠানও প্রথম দিন সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

 

ঈদের ছুটির পর ব্যাংকগুলোতে প্রথম কর্মদিবসে সাধারণত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লেনদেনের চাপ কম থাকে। তবে ছুটির পর জমে থাকা বিভিন্ন আর্থিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সপ্তাহজুড়ে ব্যস্ততা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।