সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সুন্দরবনের বনদস্যু নানা বাাহিনী ডন এর সদস্য পরিচয়ে ছয় জেলেকে অপহরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের বনদস্যু নানা বাাহিনী ডন এর সদস্য পরিচয়ে ছয় জেলেকে অপহরণ

পত্রদূত রিপোর্ট: মাথাপিছু ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণের দাবিতে বনদস্যু সুন্দরবনের নানা ভাই ডন বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে পাঁচটি ছয়জন জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। রবিবার রাত ১১টার দিকে সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ে খাল ও সুবদে খাল থেকে তাদেরকে অপহরণ করা হয়।

 

সোমবার বিকেল তিনটার মধ্যে মুক্তিপণের টাকা না পাঠালে তাদেরকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ সময় ইসমাইল খাঁ নামের এক জেলেকে নৌকার বৈঠা দিয়ে মাথা ফাটিয়ে জখম করেছে বনদস্যুরা।

 

আহত ইসমাইল খাঁ’কে সোমবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাড়ি শ্যামনগরের দক্ষিণ কদমতলীর কুলতলী এলাকায়।

 

অপহৃতরা হলেন, শ্যামনগরের দক্ষিণ কদমতলীর কুলতলী এলাকার দেলোয়ার খাঁর ছেলে ইয়াছিন খাঁ (৩২) ও আলমগীর খাঁ (৩৮), হরিনগরের আব্দুর রহিম মোল্লার ছেলে আল আমিন মোল্লা (৩৫), একই গ্রামের নুরুল হক গাজীর ছেলে কামরুল গাজী (৫০), আব্দুল গফুর গাজীর ছেলে শাহজাহান গাজী (৪৮) ও খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার মহেশ^রীপুর গ্রামের রফিকুল গাজীর ছেলে শহীদুল গাজী (৪৬)।

 

অপহৃত জেলেদের স্বজনরা জানান, শনিবার সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে কাঁকড়া ধরার অনুমতি (পাস) নিয়ে পাঁচটি নৌকায় ১৮জন জেলে সুন্দরবনে যান। প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ি পহেলা জুন সকালে তাদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল।

 

এজন্য তারা রবিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়িয়া খাল ও সুবদে খাল এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় বনদস্যু নানা বাহিনী ডন এর সদস্য পরিচয়ে সশস্ত্র কয়েকজন ডাকাত পাঁচটি নৌকা থেকে ছয়জনকে মাথাপিছু ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

 

দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা সোমবার বিকেল তিনটার মধ্যে বিকাশ নাম্বারে পরিশোধ না করে তাদেরকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় চালতেবেড়িয়া এলাকায় একটি নৌকায় অবস্থান করা দক্ষিণ কদমতলীর কুলতলী এলকার গণি খাঁ’র ছেলে ইসমাইল খাঁকে নৌকার বৈঠা দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। তাকে আশাঙ্কাজনক অবস্থায় সোমবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

 

সুন্দরবনের কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা মনিরুল করিম জানান, বিষয়টি তার জানা নেই।
শ্যামনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খালেদুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে অপহৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ads small one

সাতক্ষীরায় যুবদলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও খাদ্য বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় যুবদলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও খাদ্য বিতরণ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় দোয়া মাহফিল ও খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে শহীদ জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ তারিকুল হাসান, জেলা যুবদলের সমন্বয়ক আইনাল ইসলাম নান্টা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভূট্টু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু রায়হানসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ সময় বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা এবং দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদ জিয়ার দেশপ্রেম, নেতৃত্বগুণ ও উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দোয়া মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতন্ত্রের অগ্রগতি কামনা করা হয়।

কমনওয়েলথ গেমসে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান শিরিন আক্তার: জেলা প্রশাসকের শুভেচ্ছা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
কমনওয়েলথ গেমসে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান শিরিন আক্তার: জেলা প্রশাসকের শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন ‘কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন দেশসেরা স্প্রিন্টার ও দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের এই মেগা ইভেন্টে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি সাতক্ষীরা জেলা তথা সমগ্র বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছে এক অনন্য গৌরব।
জানা গেছে, কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নিতে স্কটল্যান্ড যাত্রার পূর্বে বাংলাদেশের এই চৌকস অ্যাথলেট সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক শিরিন আক্তারের এই গৌরবময় অর্জনের প্রশংসা করে বলেন, শিরিন আমাদের গর্ব। তিনি কেবল সাতক্ষীরা নয়, পুরো বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। আমাদের প্রত্যাশা, কমনওয়েলথ গেমসে তিনি বিজয়ের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। সাক্ষাৎকালে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শিরিন আক্তারও তার এই অগ্রযাত্রায় জেলা প্রশাসনসহ দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা ও দোয়া চেয়েছেন, যাতে তিনি দেশের জন্য সেরা সাফল্যটি ছিনিয়ে আনতে পারেন।

সম্পাদকীয়: সুন্দরবনের তিন মাসের বিশ্রাম ও উপকূলের প্রস্তুতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়: সুন্দরবনের তিন মাসের বিশ্রাম ও উপকূলের প্রস্তুতি

পহেলা জুন থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বনবিভাগ। এই সময়ে বনের ভেতর মাছ ও কাঁকড়া শিকার, মধু আহরণ যেমন বন্ধ থাকবে, তেমনি বন্ধ থাকবে সব ধরনের পর্যটনও। মূলত জুন থেকে আগস্টÑএই তিন মাস সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও মৎস্য সম্পদের প্রজনন মৌসুম। প্রকৃতির নিয়মেই এই সময়ে নিভৃত পরিবেশ প্রয়োজন। তাই সুন্দরবনকে মানুষের আগ্রাসন থেকে সাময়িক মুক্তি দিয়ে যে ‘বিশ্রাম’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয়।

সুন্দরবন কেবল আমাদের অহংকার নয়, এটি উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা সিডর-আইলার মতো প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে এই বন বুক চিতিয়ে লাখো মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করে। কিন্তু বছরের বাকিটা সময় এই বনের ওপর মানুষের যে চাপ থাকে, তা এককথায় নির্মম। তথ্যমতে, বছরে শুধু বৈধভাবেই লাখাধিকবার বনজীবীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করেন, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে হাজার হাজার পর্যটকের আনাগোনা। মানুষের এই অতি-উপস্থিতি, কোলাহল এবং যান্ত্রিক নৌযানের শব্দ বনের ভেতরের প্রাণীদের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। এই প্রেক্ষাপটে, বছরের নির্দিষ্ট একটা সময়ে বনের দরজা বন্ধ রাখা প্রকৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য অপরিহার্য।

তবে এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের মুদ্রার ওপিঠে রয়েছে একটি মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট। সুন্দরবনের ওপর সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার বনজীবী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। এই তিন মাস মাছ, কাঁকড়া বা মধু সংগ্রহ বন্ধ থাকায় এই বিশাল জনগোষ্ঠী হুট করেই পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়বে। অভাবের তাড়নায় এই সময়ে পরিবারগুলো যাতে মহাজনদের চড়া সুদের ঋণের ফাঁদে না পড়ে, কিংবা জীবিকার তাগিদে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনে অনুপ্রবেশ না করে-সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

সরকারের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিবন্ধিত জেলে ও বনজীবীদের জন্য যে খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ চাল) দেওয়া হয়, তা যেন প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কাছে সময়মতো এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু চাল দেওয়াই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি এই তিন মাস তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, তাও ভেবে দেখা দরকার।

পরিশেষে বলা যায়, সুন্দরবন বাঁচলে বাঁচবে উপকূল, আর উপকূল বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ। সুন্দরবনকে সাময়িক বিশ্রাম দেওয়ার এই উদ্যোগ তখনই শতভাগ সফল হবে, যখন বনের সুরক্ষার পাশাপাশি এর ওপর নির্ভরশীল মানুষগুলোর পেটের ভাত নিশ্চিত করা যাবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মানবিক সংকটের টেকসই সমাধানÑএই দুইয়ের সমন্বয়েই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য আবার তার আপন রূপ ফিরে পাক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।