২৮০ বছরের ইতিহাস কিন্তু পর্যটনে অবহেলিত মাইকেলের ‘মধুপল্লী’
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ‘মধুপল্লী’ আজও পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘ ২৮০ বছরের পুরোনো এই স্থানে পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাব এবং নাগরিক সুবিধার ঘাটতি থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন।
যশোর শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মধুপল্লীতে কবির দ্বিতল জন্মভিটা, মধুসূদন জাদুঘর, লাইব্রেরি ও সাগরদাঁড়ি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর বাড়িটিকে পুরাকীর্তি ঘোষণা করলেও এখানে দর্শনার্থীদের জন্য ভালো কোনো রেস্টহাউজ বা বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। শিশুদের জন্য চাইল্ড কর্নার না থাকায় সপরিবারে আসা পর্যটকেরা দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারেন না। এ ছাড়া ঐতিহাসিক দত্তপুকুর পাড়টি এখনো ভালো করে বাঁধানো হয়নি এবং দর্শনার্থীদের বসার পর্যাপ্ত জায়গা নেই।
দর্শনার্থীদের অভিযোগ, মূল ক্যাম্পাসের বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় প্রায়ই কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের উপদ্রব দেখা যায়। এদিকে কবির স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদও পলি পড়ে প্রায় মৃত। স্থানীয়রা নদটি খনন এবং সাতক্ষীরার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে একটি দৃষ্টিনন্দন ব্রিজের দাবি জানিয়েছেন। প্রতিবছর জানুয়ারিতে এখানে ‘মধুমেলা’ উপলক্ষে মানুষের ঢল নামলেও বছরের বাকি সময় এলাকাটি স্থবির থাকে।
মধুসূদন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও কবি খসরু পারভেজ মনে করেন, মধুপল্লী সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ভেতর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পোস্ট অফিসটি সরিয়ে সেখানে পুরোনো আদলের ভবন নির্মাণ করা দরকার। পর্যটকদের আবাসন সংকট দূর করার পাশাপাশি বখাটেদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা জরুরি।
সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন দত্তবাড়ির কাস্টোডিয়ান মো. হাসানুজ্জামান জানান, ক্যাম্পাসটি উত্তর দিকে সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, পুকুরঘাট বাঁধানো এবং কবির আঁতুরঘরকে নান্দনিক রূপ দেওয়া গেলে এটি আরও আকর্ষণীয় হবে।
প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম জানান, চলতি অর্থবছর কিছু সংস্কার কাজ হয়েছে এবং তা চলমান থাকবে। পর্যটকদের সুরক্ষায় আনসার সদস্য রয়েছে। পুরো মধুপল্লীকে ঘিরে একটি বৃহৎ কমপ্লেক্স তৈরির প্রকল্প পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়ন হলে পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়বে।








