বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ধর্মীয় উপদেশে হোঁচট খাচ্ছে এআই, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ধর্মীয় উপদেশে হোঁচট খাচ্ছে এআই, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

বিভিন্ন গির্জা, ধর্মীয় অ্যাপ কিংবা স্পিরিচুয়াল চ্যাটবটগুলোতে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে এআই মডেলগুলো সুকৌশলে ধর্মকেই বাদ দিয়ে দিচ্ছে। শোক, ক্ষমা, বিয়ে, অপরাধবোধ কিংবা ধর্মান্তরিত হওয়ার মতো সংবেদনশীল ও বিশ্বাসের বিষয়ে সাধারণ এআই মডেলগুলো একেবারেই উপযুক্ত নয়।

কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ কনসোর্টিয়াম সম্প্রতি তিনটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীদের যখন ধর্মীয় মতামতের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়, এআই ব্যবস্থাগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে তখন ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে একপাশে সরিয়ে রাখে। এমনকি ধর্মান্তরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এআই ব্যবহারকারীদের সুকৌশলে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মের দিকে ধাবিত করে এবং অন্য ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। ভ্যাটিকান সিটি থেকে পোপ লিও চতুর্দশের একটি বিশ্বপত্রে সতর্ক করেছিলেন যে, এআই মানুষের বিচারবুদ্ধি নষ্ট করতে পারে, অসমতা বাড়াতে পারে এবং যুদ্ধকে আরও সহজ করে তুলতে পারে।

কনসোর্টিয়াম ফর ইভালুয়েটিং ফেইথ অ্যান্ড এথিক্স ইন এআই এই গবেষণাটি চালিয়েছে। ধর্মের প্রতি এআই-এর প্রতিক্রিয়ার প্রথম নিয়মতান্ত্রিক মূল্যায়ন এই গবেষণা। ২০২৬ সালের ৫ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত আমেরিকার ১ হাজার ১২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এবং ২৭টি বড় ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ওপর ১৫০টি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে এই ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই পরীক্ষায় ওপেনএআই-এর জিপিটি ৫.৫, অ্যানথ্রোপিকের ক্লদ ৪.৭ এবং গুগলের জেমিনি ৩.১ সহ ১৪টি শীর্ষস্থানীয় মডেলের ধর্মীয় প্রতিনিধিত্ব মূল্যায়ন করা হয়েছে।

গবেষণায় যা পাওয়া গেছে

গবেষকদের তথ্যমতে, সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা নৈতিক ও জীবনমুখী বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ৪৫ শতাংশ থেকে ৫৯ শতাংশ ক্ষেত্রে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির উপস্থিতি আশা করেন। অথচ এআই মডেলগুলো মাত্র ৫ থেকে ১৬ শতাংশ ক্ষেত্রে ধর্মের উল্লেখ করেছে। পরীক্ষা করা প্রতিটি এআই মডেলই ব্যবহারকারীদের সুনির্দিষ্ট কিছু বিশ্বাসের দিকে ধাবিত করার একটি পুনরাবৃত্তিমূলক পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছে। যেমন- ক্যাথলিক ধর্ম, বাহাই ধর্ম এবং শিখ ধর্মের প্রতি এআই-এর তীব্র ইতিবাচক পক্ষপাতিত্ব দেখা গেছে। অন্যদিকে জেহোভাস উইটনেসেস নাস্তিক্যবাদ এবং অজ্ঞেয়বাদের প্রতি নেতিবাচক পক্ষপাত তৈরি করেছে।

শোক ও কোনও কিছু হারানোর মতো বিষয়ে মানুষ ৫৯ শতাংশ ক্ষেত্রে ধর্মের প্রাসঙ্গিকতা আশা করলেও এআই তা দেখিয়েছে মাত্র ১৬ শতাংশ ক্ষেত্রে। পরিবার, সন্তান লালন-পালন এবং ক্ষমার মতো বিষয়ে মানুষের প্রত্যাশা ৫৫ শতাংশ হলেও এআই উল্লেখ করেছে মাত্র ১০ শতাংশ। এমনকি বন্ধুদের সঙ্গে মিথ্যা বলা গ্রহণযোগ্য কি না, এমন নৈতিক প্রশ্নে মানুষ ৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ধর্মীয় সমাধান আশা করলেও এআই তা মাত্র ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছে।

ধর্মীয় জীবনে এআই-এর বর্তমান অবস্থা

বাস্তব চিত্র হলো, গির্জার চ্যাটবট, প্রার্থনার অ্যাপ থেকে শুরু করে যাজকদের খুতবা বা ধর্মীয় বক্তব্য তৈরি এবং কাজ পরিচালনার মতো ধর্মীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে এআই ছড়িয়ে পড়েছে। গির্জাগুলো উপাসকদের কাছে পৌঁছাতে এবং ধর্মীয় চ্যাটবট সচল করতে এআই-এর দিকে ঝুঁকছে, যা মূলত একটি বড় প্রশ্ন উসকে দিচ্ছে, ‘আসলে কে বা কী এই ভক্তদের পথ দেখাচ্ছে?’

ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেমের অধ্যাপক রেভারেন্ড জন পল কিমস এক বিবৃতিতে বলেন, এআই যখন এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলো থেকে ধর্মীয় কণ্ঠস্বরকে সক্রিয়ভাবে বাদ দেয়, তখন তা মানবতাকে সমৃদ্ধ করার পরিবর্তে আরও দরিদ্র করে তোলে।

অন্যদিকে ব্রিঘাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক ডেভিড উইনগেট বলেন, গবেষণাটি দেখায় যে এআই সিস্টেমগুলো ব্যবহারকারীদের তাদের জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বাবা-মা, শিক্ষক, বন্ধু এবং থেরাপিস্টদের সঙ্গে আলোচনা করতে উৎসাহিত করে। কিন্তু কোনও যাজক, রাব্বি, ইমাম বা ধর্মীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেয় না।

গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত ধর্মের উল্লেখ করাটা যেমন ধর্মপ্রচারের মতো মনে হতে পারে, তেমনি একে একেবারেই উল্লেখ না করা ধর্মনিরপেক্ষতাকে একমাত্র মাধ্যম বানিয়ে তোলে। তাই এআই-এর উচিত ব্যবহারকারী ধর্ম চাচ্ছেন কি না তা আগ বাড়িয়ে ধরে না নিয়ে, প্রেক্ষাপট অনুযায়ী কখন ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক সম্পদ প্রাসঙ্গিক তা সঠিকভাবে অনুধাবন করা।

সূত্র: অ্যাক্সিওস

Ads small one

লিচুর সঙ্গে ভুলেও খাবেন না যে ধরনের ওষুধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:২৫ পূর্বাহ্ণ
লিচুর সঙ্গে ভুলেও খাবেন না যে ধরনের ওষুধ

 

লিচু একটি সুস্বাদু ও জনপ্রিয় ফল হলেও কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ওষুধের সঙ্গে এটি খাওয়া স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লিচুর সঙ্গে কিছু খাবার ও ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণ করলে পুষ্টি শোষণে সমস্যা, হজমের গোলমাল বা ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই লিচু খাওয়ার আগে এর কিছু সংযম মেনে চলা জরুরি।

সাধারণভাবে লিচু খাওয়ার দুই ঘণ্টা আগে এবং পরে কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ এড়িয়ে চলা ভালো বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন গবেষণা।

যেসব ওষুধের সঙ্গে লিচু খাওয়া উচিত নয়
কিছু ওষুধের সঙ্গে লিচু খেলে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে বা শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

প্যারাসিটামল ট্যাবলেট: এই ওষুধ জ্বর ও ব্যথা কমাতে ব্যবহৃত হয়। লিচুর উচ্চ চিনি উপাদান ওষুধের শোষণ ও বিপাক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

মেটফরমিন (সাস্টেইন্ড রিলিজ ট্যাবলেট): এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি সাধারণ ওষুধ। লিচুতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় রক্তে শর্করা বাড়তে পারে। ফলে ওষুধের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা দেখা দিতে পারে।

ডমপেরিডোন ট্যাবলেট: এটি হজম ও পাকস্থলীর কার্যকারিতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। লিচুর মিষ্টতা ওষুধের তিক্ত স্বাদ কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে এর স্বাভাবিক প্রভাব কমে যেতে পারে।

ভিটামিন কে১ ইনজেকশন: এটি রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যায় ব্যবহৃত হয়। লিচুর ভিটামিন সি কিছু ক্ষেত্রে রক্ত পাতলা করার প্রভাব ফেলতে পারে, যা ওষুধের কার্যকারিতার সঙ্গে বিরোধ তৈরি করতে পারে।

অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট: এই ওষুধ ব্যথা, জ্বর এবং রক্ত জমাট বাঁধা রোধে ব্যবহৃত হয়। লিচুর অ্যাসিড পাকস্থলীর অম্লতা বাড়াতে পারে, যার ফলে ওষুধ দ্রুত শোষিত হয়ে পেটের অস্বস্তি বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
লিচু খাওয়ার ক্ষেত্রে ওষুধের এই পারস্পরিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের জন্য লিচু খাওয়ার আগে সময় ও পরিমাণ সম্পর্কে সতর্ক হওয়া জরুরি।

যদি নির্দিষ্ট ওষুধ চলাকালীন লিচু খেতেই হয়, তবে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এতে খাদ্য ও ওষুধের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে।

অবশ্যই যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।

লিচু পুষ্টিকর এবং উপকারী ফল হলেও কিছু খাবার ও ওষুধের সঙ্গে এটি একসঙ্গে গ্রহণ করা উচিত নয়। সঠিক নিয়ম মেনে খেলে লিচুর উপকারিতা পাওয়া যায়, আর অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়।

সূত্র: কাইনিয়াও হেল্থ

প্রাথমিকে ১৪,৩৮৪ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্তের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
প্রাথমিকে ১৪,৩৮৪ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্তের নির্দেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার (৩ জুন) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে জারি করা স্মারকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, চূড়ান্ত নিয়োগের আগে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে পূর্ব কার্যকলাপ এবং জমা দেওয়া কাগজপত্র ও ডকুমেন্টসের সত্যতা যাচাই করতে হবে।

নিয়োগের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের সম্পর্কে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) প্রতিবেদন সংগ্রহ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদায়নের আগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) দুই মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। পুলিশি তদন্ত, এনএসআই প্রতিবেদন এবং দুই মাসের প্রশিক্ষণ সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরিতে যোগদান করানো হবে।

তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ এর সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চাকরির দুই বছর পর তাদের স্থায়ীকরণ করা হবে।

ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ
ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানার অভিযোগ

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশাকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির একটি আউটলেটকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৯ মে ঈদের পরদিন বিকেলে ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর বাজারে এ ঘটনাটি ঘটে।

তবে ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং সাজানো বলে দাবি করেছেন ইউএনও। তিনি বলেছেন, এমন অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা। আপা সম্বোধন করা কোনো দণ্ডনীয় অপরাধ নয়, বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন প্রচার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সেদিন নিজের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সাধারণ ক্রেতার বেশে তাজপুর বনফুল শাখায় যান ইউএনও মুনমুন নাহার আশা। ইউএনও দোকানের কর্মচারী আব্দুল মান্নানের কাছে প্রথমে চকলেট আইসক্রিম চান। সেটি না থাকায় ইউএনও মিষ্টির কাউন্টারে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টির দাম ও মান জানতে চান। এ সময় আব্দুল মান্নান তাকে ‘আপা’ সম্বোধন করে মিষ্টিগুলো শুকনো এবং দুদিনের পুরোনো বলে জানান।

‘আপা’ সম্বোধন করায় ইউএনও ক্ষুব্ধ হয়ে আব্দুল মান্নানকে বলেন, ‘তুমি আমাকে চিনো? আমাকে আপা ডাকছ কেন? আমি ম্যাজিস্ট্রেট।’ এরপর তিনি ম্যানেজারকে ডেকে এনে বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

আব্দুল মান্নানের দাবি, একটি কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তিনি প্রথমে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। তখন ছয় মাসের জেল ও আরও বেশি জরিমানার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

এই বিষয়ে আব্দুল মান্নান সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) তাহসিনা রুশদীর লুনার শরণাপন্ন হন এবং বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানান।

আব্দুল মান্নান বলেন, আমি ২৬ বছর ধরে বনফুলে চাকরি করছি। চাকরি জীবনে অনেক ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু এমন ঘটনার সম্মুখীন কখনও হইনি। আমার কাছে পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার পর তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তবে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে তার চাকরি রক্ষা পায়। বর্তমানে তাকে বনফুলের সিলেট কারখানায় বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকার জরিমানার অর্থ তার বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে বলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস টি এম ফখর উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার কাছে গিয়েছিলেন। এমপি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করাই সমীচীন হবে।

তবে ‘আপা’ সম্বোধন করায়ই যে জরিমানা করা হয়েছে, এমন দাবি সরাসরি অস্বীকার করেন বনফুল তাজপুর শাখার ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়া। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি বাইরে ছিলাম। মান্নান ম্যাডামকে চিনতে পারেননি। তার আচরণে ইউএনও ম্যাডাম ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তবে বিষয়টি পরে সমাধান হয়ে গেছে।’

জরিমানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুকনো মিষ্টি দু-চার দিন রেখে বিক্রি করা যায়। ঈদের সময় অন্য মিষ্টি ছিল না, শুকনো মিষ্টি থাকায় জরিমানা করেন ইউএনও। জরিমানার টাকাও পরিশোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা এশিয়া পোস্টকে বলেন, বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বনফুলের তাজপুর শাখায় গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। দাখিল করা রশিদ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় তাদের মিষ্টি বাসি। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারি স্বীকার করেন এগুলো অনেক আগের মিষ্টি এবং পুরোনো ও নতুন মিশ্রিত আছে।

তিনি বলেন, এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করার সময় অবিযুক্ত পালিয়ে যান এবং মোবাইল বন্ধ করে রাখেন। পরে বনফুলের ওই শাখার ম্যানেজার তাকে খুঁজে এনে উপস্থিত করেন এবং পলানোর অভিযোগে কোম্পানি ও ওই কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সরকার তথা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করছে।

‘আপা’ সম্বোধনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা। আপা সম্বোধন করা কোনো দণ্ডনীয় অপরাধ নয়। বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে জরিমানা করা হয়েছে।