শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা, পে-স্কেল নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা, পে-স্কেল নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আশা-নিরাশার দোলাচল আরও তীব্র হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকরের প্রত্যাশা থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই এই অনিশ্চয়তার অবসান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন পে-স্কেল নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তার সবই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে। কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিংবা পে-কমিশনের কোনো সদস্য এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও একই ধরনের অস্পষ্টতা ছিল, যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চাকরিজীবীদের মনে প্রশ্ন উঠছে, ১ জুলাই থেকে আদৌ পে-স্কেল কার্যকর হবে কি না এবং হলেও তা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক বলেন, ‘মনের ভেতরে একটা ভয় থেকেই যাচ্ছে যে সরকার তো কিছুই বলেনি। আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতি মুহূর্তে ব্রিফিং-বিবৃতি দেওয়া হলেও আসন্ন পে-স্কেল নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আমরা পাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় বা অর্থ-সচিবের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য আসেনি। যার কারণে কর্মচারীদের মধ্যে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে যে আসলেই কি পে-স্কেল হচ্ছে?’

আবদুল মালেক মনে করিয়ে দেন, কর্মচারীরা দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এলে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আগামী ১১ জুন সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে, যার আকার প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা, এই বাজেটে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হবে।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও ‘ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের’ খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। গত ৩১ মে সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য-সচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকরের দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ বছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন না এলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে অনেক নিম্নপদস্থ কর্মচারী জীবিকার তাগিদে চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত খণ্ডকালীন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিন ধাপে তিন বছরে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে সংগঠনের নেতারা বলছেন, অতীতে পে-স্কেল কার্যকরের আগে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হতো এবং প্রথম ধাপে শতভাগ মূল বেতন ও দ্বিতীয় ধাপে অন্যান্য ভাতা চালু করা হতো। এবারও সেই পদ্ধতি অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

দায়িত্বশীল সরকারি সূত্রের আভাস অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে তিনটি অর্থবছর লাগতে পারে। খসড়া পরিকল্পনা অনুসারে, আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পেতে পারেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে নতুন পে-স্কেলের আওতাধীন বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের এই ধীরগতির বাস্তবায়ন পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করেই মূলত কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

এই জল্পনার অবসান ঘটতে পারে আগামী সপ্তাহেই। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে আগামী ৭ জুন বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এরপর ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবেন। সেদিনের বাজেটেই স্পষ্ট হবে— সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের প্রকৃত অবস্থান কী এবং বিদ্যমান শঙ্কা কতটা কাটবে, নাকি আরও বাড়বে।

Ads small one

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক সভা

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে স্থানীয় সরকার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও জেলেদের নিয়ে।

শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইরফান আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আইয়ুব আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোছাঃ মাহমুদা খানম, ইউপি সদস্য মোছাঃ ফাতেমা খাতুন, বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম হাফেজ মোঃ রেজাউল করিম এবং সাবেক ইউপি সদস্য জিএম আব্দুল জলিল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আব্দুর রশিদ।

সভাপতির বক্তব্যে সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইরফান আলী বলেন, “সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা শুধু আইনত দন্ডনীয় অপরাধ নয়, এটি বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিষ প্রয়োগের ফলে মাছের পাশাপাশি অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যায়, যা পুরো খাদ্যশৃঙ্খলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”

প্রধান অতিথি মোঃ আইয়ুব আলী বলেন, “সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে জেলেদের বিষমুক্ত পদ্ধতিতে মাছ আহরণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।”

বিশেষ অতিথি মাহমুদা খানম বলেন, “সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা টিকিয়ে রাখতে হলে বন ও নদীর পরিবেশ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বিষ দিয়ে মাছ ধরার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আব্দুল হালিম বলেন, “গণমাধ্যম সমাজকে সচেতন করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগের মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারণার মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলতে হবে, তাহলে সুন্দরবনে বিশদিয়ে মাছ ধরা বন্ধ হবে।

ইউপি সদস্য ফাতেমা খাতুন বলেন, “সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যক্তি এই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের নিরুৎসাহিত করতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
খতিব ও ইমাম হাফেজ মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করা ইসলামের দৃষ্টিতেও অনুচিত। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।”

সাবেক ইউপি সদস্য জিএম আব্দুল জলিল বলেন, “বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে হলে নিয়মিত প্রচারণা, নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।”

সভায় উপস্থিত বক্তারা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নদী ও জলজ সম্পদ রক্ষা এবং বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জেলে, বননির্ভর জনগোষ্ঠী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

মানুষের নামে পশুর নাম রাখা মানবমর্যাদার অপমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ণ
মানুষের নামে পশুর নাম রাখা মানবমর্যাদার অপমান

প্রকাশ ঘোষ বিধান

মানুষের নামে কোনো পশুর নাম রাখা সামাজিক শিষ্টাচার, ধর্মীয় অনুশাসন এবং মানবমর্যাদার পরিপন্থী। মানুষের নাম পশুর জন্য ব্যবহার করা মানবমর্যাদার অপমান। বিশেষ করে কোনো পরিচিত মানুষের নাম, তারকা বা সেলিব্রিটির নাম কোনো পশু গরু, ছাগলের নাম রাখা হলে সমাজে ওই ব্যক্তির চরম অসম্মান ও উপহাস করা হয়। কোনো ব্যক্তিকে পশুর সাথে তুলনা করা বা পশুর নামে ডাকা অসভ্যতা ও তাচ্ছিল্যের প্রতীক। এটি ব্যক্তির অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। পশুপাখির জন্য সুন্দর ও মার্জিত নাম রাখা যেতে পারে। কিন্তু মানুষের নামের সাথে মিলে এমন কোনো নাম পশুকে দেওয়া অনুচিত।

মানুষের নামে পশুর নাম রাখা সাধারণত আপত্তিকর ও অসম্মানজনক হিসেবেই গণ্য করা হয়। মানবজাতিকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কোনো ব্যক্তির নাম পশুর ক্ষেত্রে ব্যবহার করলে পরোক্ষভাবে সেই ব্যক্তি বা মানবমর্যাদাকে অপমান করা হয়। কাউকে অবমাননা বা তাচ্ছিল্য করার উদ্দেশ্যে পশুর সাথে নামের তুলনা করা অনুচিত এবং এটি ব্যক্তির অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে হেয় প্রতিপন্ন করা, বিদ্রূপ করা বা সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তার নামে পশুর নামকরণ করা নিশ্চিতভাবে মানবমর্যাদার চরম অবমাননা। সমাজ বা রাজনীতির কোনো আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তির নামে হাটের কোরবানির পশুর নাম রাখা মূলত এক ধরনের মনন্তাত্ত্বিক আক্রমণ। এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সমাজের সামনে হাসির পাত্রে পরিণত করে।

সাধারণ অর্থে মানুষের নাম মানুষের জন্যই মানানসই। পশুর নাম সাধারণত তাদের বৈশিষ্ট্য বা শখের বশে রাখা হয়, যা মানুষের নামের সাথে মিলিয়ে রাখা হলে সমাজে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে। পশুর নাম রাখা যাবে, তবে বিশেষ করে মানুষের নাম বা মানুষের মর্যাদার সাথে সম্পর্কিত নাম পশুর জন্য ব্যবহার করা অনুচিত। মানুষের নামে নামকরণ থেকে বিরত থাকা উচিত।

উদ্দেশ্যমূলকভাবে মানুষের নামে পশুর নাম রাখা সামাজিক নীতি এবং মানবিক মর্যাদার দৃষ্টিকোণ থেকে স্পষ্টতই একটি অবমাননাকর বিষয়। মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাদের বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়েছে। তাই পশুকে মানুষের নামে ডেকে সেই সম্মান ক্ষুণœ করা অনুচিত।

সাধারণত কাউকে পশু বলা বা পশুর সাথে তুলনা করাকে সমাজে অবক্ষয়, মূর্খতা বা অসভ্যতার প্রতীক মনে করা হয়। পশুকে মানুষের নাম দিলে তা সামাজিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী দেখায়। কাউকে অবমাননা বা তাচ্ছিল্য করার উদ্দেশ্যে পশুর সাথে নামের তুলনা করা অনুচিত এবং এটি ব্যক্তির অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। পশুর হাটে গরুর নাম টাইটানিক, কালা পাহাড় বা কোনো সেলিব্রিটির নামে রেখে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। আর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নামগুলো অতি-প্রচার পাওয়ার কারণে এটি এক ধরনের সস্তা ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে, যা সুস্থ সামাজিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।

অনেক ক্ষেত্রে পোষা প্রাণীকে পরিবারের সদস্য মনে করা হয়। পরম মমতায় অনেকে তাদের প্রিয় পশুর মানুষের সাধারণ নাম যেমন: টম, টমি, রকি, বা দেশীয় কোনো নাম দিয়ে থাকেন। এটি পশুকে তুচ্ছ করার জন্য নয়, বরং ভালোবাসার কারণে করা হয়। অজান্তেই কোনো পশুর নাম মানুষের নামের সাথে মিলে যেতে পারে। একে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অবমাননা হিসেবে না দেখে কাকতালীয় হিসেবে দেখাই শ্রেয়। তবে নামকরণের পেছনে মানুষের মানসিকতা, উদ্দেশ্য এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে এর ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা রয়েছে।

পশুর নাম রাখা উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে। যদি কাউকে হীন প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এমনটা করা হয়, তবে তা অবশ্যই মর্যাদাহানিকর। আর যদি তা কেবলই স্নেহের বশে করা হয়, তবে তা মনন্তাত্ত্বিকভাবে ভিন্ন অর্থ বহন করে।
সমাজ বা রাজনীতিতে বিতর্কিত বা শত্রুভাবাপন্ন কোনো ব্যক্তির নামে পশুর নাম রাখা এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক আঘাত এবং এটি ব্যক্তির অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তবে বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার উদ্দেশ্যে বা কাউকে সরাসরি ছোট করার জন্য মানুষের নাম ব্যবহার করা এক ধরনের বিকৃত মানসিকতা, যা পরিহার করা উচিত।

সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষের একটি নিজস্ব মর্যাদা রয়েছে। তাই সস্তা বিনোদন কিংবা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার জন্য মানুষের নাম পশুর ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের প্রবণতা রোধে আমাদের সামাজিক সচেতনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা জরুরি।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা পেলো ইরানের ফুটবল দল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা পেলো ইরানের ফুটবল দল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও বৈরী সম্পর্কে বিশ্বকাপে খেলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের ভিসা পাওয়া নিয়ে বাড়ছিল উৎকণ্ঠা। অবশেষে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেছেন তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক।

এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতেও পৃথকভাবে ভিসা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের এক কর্মকর্তা।

ভিসা পাওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে অংশ নিতে পারবে ইরান। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি; বর্তমানে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন টম ব্যারাক বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের ভিসা প্রক্রিয়াকরণে আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের দল যে কাজ করেছে, সে জন্য আমি তাদের নিয়ে গর্বিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘খেলাধুলা সীমান্তের গণ্ডি অতিক্রম করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা খেলোয়াড় ও সমর্থকদের স্বাগত জানাতে আমরা মুখিয়ে আছি।’

ইরানের জাতীয় দল শনিবার তুরস্ক থেকে স্পেনে যাবে। সেখান থেকে তারা মেক্সিকোতে তাদের মূল ক্যাম্পে পৌঁছাবে রবিবার।

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ইরানের দল মেক্সিকোকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করবে। তবে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে।