শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পরিবেশ দিবসে অস্তিত্বের সন্ধিক্ষণে সুন্দরবন ও উপকূল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
পরিবেশ দিবসে অস্তিত্বের সন্ধিক্ষণে সুন্দরবন ও উপকূল

সোহাগ হোসেন

প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস আমাদের পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের বার্তা নিয়ে আসে। কিন্তু বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জনপদ এবং বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জন্য এই দিবসের গুরুত্ব আরও গভীর।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আজ সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান এই অঞ্চলে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং সুপেয় পানির সংকট উপকূলের মানুষের জীবনকে প্রতিনিয়ত দুর্বিষহ করে তুলছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়ছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য।

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের দায় তুলনামূলকভাবে কম হলেও এর বিরূপ প্রভাবের অন্যতম প্রধান শিকার এ দেশের উপকূলীয় অঞ্চল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিডর, আইলা, আম্পান, ইয়াস ও রেমালের মতো ঘূর্ণিঝড় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে এনেছে। দুর্যোগ শেষ হলেও এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। জলোচ্ছ্বাসের নোনা পানি কৃষিজমিতে প্রবেশ করে ফসল উৎপাদন ব্যাহত করছে, অনেক এলাকায় সুপেয় পানির সংকট তীব্রতর হচ্ছে এবং জীবিকার অনিশ্চয়তায় মানুষ বাধ্য হচ্ছে স্থানান্তরিত হতে।

অন্যদিকে, দেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় সুন্দরবনও বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যান্য প্রভাবে বনের পরিবেশগত ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুন্দরী গাছের আগামরা রোগ, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং মিষ্টি পানির উৎস কমে যাওয়া উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুন্দরবন দুর্বল হয়ে পড়লে উপকূলীয় অঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এই বাস্তবতায় সুন্দরবন ও উপকূল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
প্রথমত, উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান বাঁধগুলোর নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, কপোতাক্ষ, বেতনা, ইছামতী, শিবসাসহ উপকূলীয় নদ-নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত খনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক নদী ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে।

তৃতীয়ত, সুন্দরবনে অবৈধ শিকার, বন উজাড়, বিষ দিয়ে মাছ ধরা এবং পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

চতুর্থত, উপকূলজুড়ে ম্যানগ্রোভ বনায়ন সম্প্রসারণ করে প্রাকৃতিক সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে।
পঞ্চমত, লবণাক্ততা-সহিষ্ণু ফসলের চাষ সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
ষষ্ঠত, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সপ্তমত, মৌয়াল, বাওয়ালি ও জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে সুন্দরবনের ওপর চাপ কমে। সবশেষে, সরকার, স্থানীয় জনগণ, গবেষক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; কারণ সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া সুন্দরবন ও উপকূল রক্ষা সম্ভব নয়।

এ ছাড়া লবণাক্ততা-সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সুপেয় পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় জনগণের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও সময়ের দাবি। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া বন সংরক্ষণের প্রচেষ্টা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবকল্যাণকে সমন্বিত করেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আমাদের মনে রাখতে হবে, সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়, এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উপকূল ও সুন্দরবন রক্ষা করা মানে দেশের পরিবেশগত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। তাই সময় এসেছে আনুষ্ঠানিকতার গন্ডি পেরিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের। প্রকৃতিকে রক্ষা করতে পারলেই প্রকৃতি আমাদের রক্ষা করবে-এই উপলব্ধিই হোক বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।

লেখক: সোহাগ হোসেন, পরিবেশ কর্মী, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ, মাস্টার্স (শেষ বর্ষ), সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা।

Ads small one

সম্পাদকীয়/ নির্বিচারে বৃক্ষনিধন রোধে চাই কার্যকর জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ নির্বিচারে বৃক্ষনিধন রোধে চাই কার্যকর জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা

উন্নয়ন প্রকল্প, নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার অজুহাতে দেশে আশঙ্কাজনক হারে গাছ কাটা ও বন উজাড়ের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর মিলনায়তনে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিবেশবিদেরা দেশের সবুজ আচ্ছাদন ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাওয়ার যে তথ্য প্রকাশ করেছেন, তা আমাদের পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর এক মারাত্মক নেতিবাচক বার্তা দেয়। এই বাস্তবতায় দেশে নির্বিচারে গাছ কাটা রোধে একটি ‘জাতীয় বন ও বৃক্ষনিধন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার যে দাবি তাঁরা জানিয়েছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং এর দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।
উত্থাপিত গবেষণা প্রবন্ধ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক বছরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫২ হাজার ৩৭৫টি বৃক্ষনিধনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এই সংখ্যাটি আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ২ শতাংশ কম এবং এটি সচেতনতা বৃদ্ধির ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে, তবুও প্রতিবছর হাজার হাজার পরিপক্ব গাছ এভাবে কেটে ফেলা কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে জেলাভিত্তিক হিসাবে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ২৩ হাজার এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ হাজার বৃক্ষনিধনের তথ্য পরিবেশগত সুরক্ষাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। কক্সবাজারের মতো সংবেদনশীল ও পর্যটন এলাকায় এত বিপুলসংখ্যক গাছ কাটার খেসারত আগামী দিনে ওই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পাহাড় সুরক্ষায় মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
আমরা প্রায়ই দেখি, রাস্তা সম্প্রসারণ কিংবা অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কোনো বিকল্প ভাবনা ছাড়াই শতবর্ষী ও ছায়াসুনিবিড় গাছগুলো সবার আগে কেটে ফেলা হয়। আইন ও নীতিমালা থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ এবং জবাবদিহিতার অভাবে এই অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে, মাঠপর্যায়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃক্ষনিধনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাটিক্ষয়, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং সামগ্রিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তীব্র তাপপ্রবাহের মাধ্যমে আমরা টের পাচ্ছি।
সরকার পরিবেশ সুরক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে নতুন গাছ লাগানোর চেয়ে বিদ্যমান বড় ও পরিণত গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনেক বেশি কার্যকর। বন আইনের কঠোর বাস্তবায়ন, টেকসই কৃষিবনায়ন সম্প্রসারণ এবং নগর পরিকল্পনায় সবুজ অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে পরিবেশগত অপরাধ দমনে ইউনিয়ন বা স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী তদারকি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জলবায়ু সংকটের এই বর্তমান বাস্তবতায় শুধু উৎসব করে গাছ লাগালেই চলবে না, বরং দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সবুজ আচ্ছাদন ও বনাঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। আমরা আশা করি, পরিবেশবাদীদের দীর্ঘদিনের দাবি আমলে নিয়ে সরকার অনতিবিলম্বে একটি কার্যকর জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে এবং বনের ওপর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও তদারকি নিশ্চিত করে পরিবেশ রক্ষায় কঠোর ভূমিকা পালন করবে।

বুধহাটা বাজারে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
বুধহাটা বাজারে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজার এলাকায় ড্রেনেজ সমস্যার কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ লাঘবে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি নজরে আসার পর সাতক্ষীরা জজকোর্টের এপিপি ও আশাশুনি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম নিজস্ব লোকবল নিয়ে ভেঙে পড়া ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে পানি চলাচলের সাময়িক ব্যবস্থা করায় বাজারের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও ভোগান্তি কিছুটা কমেছে।

স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম জানান, বুধহাটা বাজারের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নতুন ড্রেন নির্মাণ ও রাস্তা সংস্কার করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। হঠাৎ করে নেওয়া এই কার্যকর উদ্যোগের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

কয়রায় জমি নিয়ে সংঘর্ষে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু, শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
কয়রায় জমি নিয়ে সংঘর্ষে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু, শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের শিমলারআইট গ্রামে চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে গুরুতর আহত এছার আলী সরদার (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

আজ শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে এছার আলীর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এ সময় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা আব্দুল হালিম সরদারকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত দাবি করে তাঁর ফাঁসির দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দা মো. মজিবুর রহমান, হাফেজ মো. দিদারুল ইসলাম, হাফেজ মো. ইব্রাহিম খলিলসহ কয়েক শ নারী-পুরুষ অংশ নেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলাচলের একটি পথের জমিকে কেন্দ্র করে শামছুর সরদার ও তাঁর ছেলে আব্দুল হালিম সরদারের সঙ্গে এছার আলী সরদার পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ৩১ মে ওই জমিতে উভয় পক্ষ অবস্থান নিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে এছার আলী সরদারসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষই কয়রা থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষ থানায় মামলা করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এছার আলী সরদার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় এখন মামলায় হত্যার ধারা সংযুক্ত করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।