শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

অবহেলা ও সংরক্ষণের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে বুধহাটার দ্বাদশ শিব ও কালীমন্দির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
অবহেলা ও সংরক্ষণের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে বুধহাটার দ্বাদশ শিব ও কালীমন্দির

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারের অদূরে বেতনা নদীর তীরে অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো দ্বাদশ শিব ও কালীমন্দির। একসময় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল ১২টি শিবমন্দির। প্রতিটি মন্দিরে ছিল কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ। কিন্তু সময়ের বিবর্তন, অবহেলা ও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যের বড় অংশ হারিয়ে গেছে। বর্তমানে ১২টি মন্দিরের মধ্যে ছয়টি এবং ১২টি শিবলিঙ্গের মধ্যে মাত্র দুটি টিকে আছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোও সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ শিক্ষক সাধন কুমার দে ও এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা যায়, বাংলা ১১৪৬ সালে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলি গ্রামের জমিদার রাজা রাজবংশী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় বুধহাটায় তাঁর কাছারি ছিল। জমিদারি খাজনা আদায়ের কাজে তিনি নৌকা বা বজরা নিয়ে সেখানে আসতেন।

স্থানীয়ভাবে প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, একবার খাজনা আদায়ের কাজে এসে তিনি রাতে কাছারিতে ঘুমিয়ে পড়েন। স্বপ্নে দেবী তাঁকে বুধহাটায় মন্দির প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। গভীর রাতে ঘুম ভেঙে তিনি নদীতে একটি সাজানো পূজার ঘট ভাসতে দেখেন। দিনটি ছিল চৈত্র মাসের শেষ মঙ্গলবার। তিনি ঘটটি তুলে এনে পূজা করেন এবং সেখানে মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সেই উদ্যোগ থেকেই দ্বাদশ শিব ও কালীমন্দিরের গোড়াপত্তন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্দিরের পূজা-অর্চনা ও পরিচালনার জন্য জমিদার রাজা রাজবংশী ৭৪ একর জমি দান করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সম্পত্তি কমে বর্তমানে মাত্র ২ দশমিক ০৩ একর অবশিষ্ট রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মন্দিরের জমির একাংশে গরুর হাট বসে। কিন্তু ওই হাট থেকে মন্দির পরিচালনা কমিটি কোনো আয় পায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

মন্দিরের সম্পত্তির সঠিক হিসাব নিরূপণ, জমির সীমানা নির্ধারণ এবং বেদখল হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, সম্পত্তি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে মন্দিরের নিয়মিত পূজা-পার্বণ ও সংস্কারকাজ পরিচালনা সহজ হবে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মন্দিরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাধীনতার পরও দীর্ঘদিন এর উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। ১৯৭৬ সালের দিকে নওয়াপাড়ার দিনবন্ধু সরকার এবং মহাজনপুরের কার্তিক দেবনাথ ও রমেশ দেবনাথ নিজেদের অর্থায়নে সংস্কারকাজ শুরু করেন। তবে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সেই উদ্যোগ বেশি দূর এগোয়নি।

পরবর্তী সময়ে আত্মচৈতন্য সংঘের প্রতিষ্ঠাতা বিল্বমঙ্গল দেবনাথ এবং নবজাগরণী সাংস্কৃতিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সচ্চিদানন্দ দে সদয়ের তত্ত্বাবধানে মন্দিরটি রক্ষা ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্দিরের অবস্থা তুলে ধরে সংস্কারের জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা অনুদান পাওয়া যায়।

মন্দিরের পুরোহিত অসীম ব্যানার্জী জানান, এখানে প্রতিদিন নিত্যপূজা, সাপ্তাহিক হরিবাসর এবং চৈত্র মাসজুড়ে শিবপূজা ও জল ঢালার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া প্রতিবছর শিবরাত্রি, জন্মাষ্টমী, নামযজ্ঞ, জগদ্ধাত্রী পূজা ও সরস্বতী পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। তবে মন্দিরের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় নানা অসুবিধা হয়।

বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও ভাগবতীয় আলোচক বিল্বমঙ্গল দেবনাথ বলেন, “বুধহাটার দ্বাদশ শিব ও কালীমন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি বহু শত বছরের ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের স্মারক। এমন একটি প্রাচীন মন্দির অবহেলা ও অযত্নে পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। মন্দিরটির জরুরি সংস্কার ও সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য সরকার, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবান ধর্মপ্রাণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা দরকার।”

মন্দিরের সভাপতি সচ্চিদানন্দ দে সদয় বলেন, “এই মন্দির শুধু পূজা-অর্চনার স্থান নয়, এটি কয়েক শত বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। একসময় এখানে ১২টি মন্দির ও ১২টি শিবলিঙ্গ ছিল। আজ তার অধিকাংশই হারিয়ে গেছে। ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। মন্দিরটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও সংরক্ষণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক অজয় পাইন বলেন, “এই মন্দির সংরক্ষণ করা গেলে এলাকার ইতিহাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষা পাবে। নতুন প্রজন্মও জানতে পারবে তাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া সম্পদের কথা। মন্দিরের জমি জরিপ করে সঠিক সীমানা নির্ধারণ, বেদখল হয়ে থাকলে জমি উদ্ধার এবং দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি মন্দিরটিকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়ে সংরক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন।”

এদিকে মন্দিরটির উন্নয়ন ও ধর্মীয় কার্যক্রম সম্প্রসারণে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্যোগে নতুন কিছু কাজ শুরু হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে রাধাগোবিন্দ মন্দির নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ভক্তদের রাত্রিযাপনের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ, জগদ্ধাত্রী মন্দির ও গ্রহরাজ মন্দির প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, মন্দির প্রাঙ্গণকে একটি পূর্ণাঙ্গ তীর্থস্থান ও ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন বিপুল অর্থ। এ জন্য সরকারি সহায়তার পাশাপাশি হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, দেশ-বিদেশে বসবাসরত সনাতন ধর্মাবলম্বী, ভক্ত ও বিত্তবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে মন্দিরের অবশিষ্ট স্থাপনা রক্ষা, সংস্কার ও নতুন অবকাঠামো নির্মাণ সম্ভব হবে।

সাতক্ষীরা শহর থেকে আশাশুনি সড়ক ধরে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে বুধহাটা বাজারে পৌঁছানো যায়। বাজারের কাছেই বেতনা নদীর তীরে মন্দিরটির অবস্থান। আশাশুনি সদর থেকেও সড়কপথে সেখানে যাওয়া যায়।

প্রায় তিন শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহনকারী বুধহাটার দ্বাদশ শিব ও কালীমন্দির এখন সংরক্ষণের অপেক্ষায়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগ, ধর্মীয় সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় মন্দিরটির অবশিষ্ট স্থাপনা রক্ষা এবং হারানো ঐতিহ্যের স্মৃতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকবে এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ধর্মীয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

Ads small one

কালিগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
কালিগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

Oplus_16908288

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার।
সভায় বক্তব্য দেন কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওয়াসিম উদ্দীন, জেলা বিএনপির সদস্য শেখ নুরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রউফ।
এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শংকর কুমার দে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার আব্দুর রউফ, উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড়, কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসানুর রহমান ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান ফেরদৌস রনিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া কালিগঞ্জ রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজ, কালিগঞ্জ সরকারি কলেজ, সরকারি কালিগঞ্জ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দিবসটি পালিত হয়েছে।

আশাশুনিতে নানা আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে নানা আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে উপজেলা প্রশাসন, আশাশুনি সরকারি কলেজ ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে পৃথকভাবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রচনা প্রতিযোগিতা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কু-ুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মশিউল হুদা তুহিন ও জাকির হোসেন বাবু, যুবদলের সদস্যসচিব আবু জাহিদ সোহাগ, প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জি এম মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আকাশ হোসেন এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক উপজেলা কমান্ডার আবদুল হান্নান। পরে স্থানীয় শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।
এদিকে, সকাল ১১টায় আশাশুনি সরকারি কলেজে আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. রবিউল ইসলাম।
প্রভাষক শিরিন বাহার যুথির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। পরে দিবসের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সভায় বক্তব্য দেন জাকির হোসেন, রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সজল কুমার আঢ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আবদুল মালেক, ইসলামী শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক খাদিজা খাতুন, দর্শন বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমান এবং শিক্ষার্থী তোয়া ও নেহা। এ ছাড়া প্রভাষক শিরিন বাহার যুথি ও শিক্ষার্থী অর্মিতা সোম সংগীত পরিবেশন করেন।
রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রচনা সরকার, দ্বিতীয় সুমনা খাতুন এবং তৃতীয় অর্মিতা সোম। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বাদ জোহর কলেজ জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে, বিকেল ৪টায় উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি ডা. রোকনুজ্জামান। বিশেষ আলোচক ছিলেন বায়তুল মাল সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সদর ইউনিয়ন আমির হাফেজ আবদুল্লাহ, বুধহাটা ইউনিয়ন আমির মাওলানা আবদুল ওয়াদুদ, নায়েবে আমির হাফেজ বেলাল ও আবদুল হাই। বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য ও জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

শ্যামনগর সরকারি মহসীন কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগর সরকারি মহসীন কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

শ্যামনগর প্রতিনিধি: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রি কলেজে রচনা প্রতিযোগিতা শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ কে এম আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যসচিব ড. প্রতাপ কুমার রায়, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মুহাম্মাদ আল মোকাররম বিল্লাহ, অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সৈয়দ রাফসান জানিসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এ ছাড়া বনশ্রী শিক্ষা নিকেতনে প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের সভাপতি অমেদ আলী। সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি এম মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম, শিক্ষক রণজিৎ কুমার বর্মন ও সঞ্জয় কুমার থান্দার।
দিবসটি উপলক্ষে শ্যামনগর আতরজান মহিলা মহাবিদ্যালয়, ত্রিপানি বিদ্যাপীঠ, জহিরনগর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা, ইসলামাবাদ দাখিল মাদ্রাসা ও নওয়াবেঁকী মহাবিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা কর্মসূচি পালিত হয়।