শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আগের দিনটাই ভালো ছিল!/ শেখ আমিনুর রহমান কাজল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
আগের দিনটাই ভালো ছিল!/ শেখ আমিনুর রহমান কাজল

শেখ আমিনুর রহমান কাজল

একটা সময় ছিল, যখন আনন্দ মানেই ছিল একসাথে থাকা। প্রযুক্তি ছিল কম, কিন্তু মানুষের মধ্যে হৃদ্যতা ছিল অনেক বেশি। আজ সবকিছু হাতের মুঠোয় চলে এসেছে, কিন্তু সেই প্রাণখোলা আনন্দ, সেই মিলেমিশে থাকার উষ্ণতা যেন কোথাও হারিয়ে গেছে।

আগে টিভি ছিল গ্রামের বা পাড়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। একটা-দুটো বাড়িতে টিভি থাকত, আর সন্ধ্যা নামলেই আশেপাশের মানুষজন সেখানে জড়ো হতে শুরু করত। কেউ মাদুর নিয়ে আসত, কেউ চাটাই, কেউবা একটা ছোট্ট টুল। ঘরের ভেতর জায়গা না হলে উঠোনে বসেই টিভি দেখা হতো। টিভির পর্দার চেয়ে বেশি প্রাণবন্ত ছিল মানুষের মুখের হাসি, গল্প আর উচ্ছ্বাস।

বিশ্বকাপ ফুটবল এলে পুরো পাড়া যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হতো। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, মেক্সিকো কিংবা ক্যামেরুন—প্রতিটি দলেরই আলাদা সমর্থক ছিল। খেলা শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই চলত তর্ক-বিতর্ক, ভবিষ্যদ্বাণী আর খুনসুটি।

কারো বাড়ির ছাদে উড়ত ব্রাজিলের পতাকা, কারো উঠোনে আর্জেন্টিনার। জার্মানির সমর্থকরা নিজেদের দলকে সবচেয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ বলে গর্ব করত, ইতালির সমর্থকরা বলত তাদের রক্ষণভাগের তুলনা নেই। ফ্রান্সের সমর্থকরা তারকাদের নিয়ে আলোচনা করত, আর ক্যামেরুন বা মেক্সিকোর সমর্থকরা নিজেদের দলকে আন্ডারডগ হিসেবে সাহস দিত।

খেলা চলাকালে গোল হলে পুরো পাড়া কেঁপে উঠত। ব্রাজিল গোল দিলে একদল লাফিয়ে উঠত, আর্জেন্টিনা গোল দিলে আরেকদল আনন্দে চিৎকার করত। কেউ বাঁশি বাজাত, কেউ পটকা ফুটাত, কেউ আবার দৌড়ে গিয়ে বন্ধুদের খোঁচা দিত। পরাজয়ের পরও মন খারাপের মাঝেও ছিল এক ধরনের আনন্দ, কারণ পরদিন আবার নতুন করে তর্ক শুরু হবে।

রাত জেগে খেলা দেখার সেই দিনগুলো ছিল অন্যরকম। মাঝরাতে চা বানানো হতো, মুড়ি, চানাচুর, বিস্কুট আর বাদাম ভাগাভাগি করে খাওয়া হতো। কারো চোখে ঘুম চলে এলে পাশের জন ধাক্কা দিয়ে বলত, “এই ওঠ! খেলার আসল মজা এখন শুরু!” মনে হতো পুরো বিশ্বকাপটাই যেন আমাদের পাড়ার মাঠে হচ্ছে।

শুধু খেলা নয়, পিকনিকের আনন্দও ছিল অসাধারণ। শীতের সকালে ট্রাক বা বাস ভাড়া করে সবাই মিলে পিকনিকে যাওয়া হতো। রান্নার দায়িত্ব একদল, খেলাধুলার দায়িত্ব আরেকদল। কেউ মাংস কাটছে, কেউ সবজি ধুচ্ছে, কেউ আগুন জ্বালাচ্ছে। রান্না শেষ হওয়ার আগেই সবাই দশবার জিজ্ঞেস করত, “খাওয়া কবে হবে?”

খাওয়ার পর শুরু হতো গান, কৌতুক, লটারির খেলা, দৌড় প্রতিযোগিতা আর দলবেঁধে ছবি তোলা। তখন ছবি তুলতে মোবাইলের শত শত ক্যামেরা ছিল না, কিন্তু প্রতিটি ছবির পেছনে ছিল শত শত স্মৃতি।

ঈদ, পূজা, নববর্ষ কিংবা যে কোনো উৎসব মানেই ছিল একসাথে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। বিকেলে মাঠে আড্ডা, রাতে গল্প, আর ছোট ছোট বিষয় নিয়েই অনেক বড় আনন্দ।

তারপর ধীরে ধীরে সময় বদলালো। ঘরে ঘরে টিভি এলো। এরপর এলো স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, ইউটিউব, ফেসবুক আর অসংখ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এখন খেলার স্কোর মোবাইলে, সিনেমা মোবাইলে, খবর মোবাইলে, বিনোদন মোবাইলে। এমনকি অনেক সময় সম্পর্কও এখন মোবাইলের পর্দার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

আগে মানুষ মানুষকে খুঁজত, এখন খোঁজে ওয়াই-ফাইয়ের পাসওয়ার্ড। আগে বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে খেলা দেখা হতো, এখন একই বাড়িতে থেকেও সবাই আলাদা আলাদা স্ক্রিনে ব্যস্ত।

আগে বিশ্বকাপের ফাইনাল মিস হয়ে গেলে কষ্ট লাগত। এখন সবাই বলে, “সমস্যা কী? পরে হাইলাইটস দেখে নেব।” কিন্তু হাইলাইটস কি সেই উত্তেজনা ফিরিয়ে দিতে পারে? সেই একসাথে চিৎকার করা, সেই বুক ধড়ফড় করা মুহূর্তগুলো কি আর ফিরে আসে?

প্রযুক্তি আমাদের অনেক সুবিধা দিয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। কিন্তু সেই সঙ্গে অজান্তেই কে যেন আমাদের কাছ থেকে কিছু মূল্যবান জিনিস নিয়ে গেছে—একসাথে বসে হাসার সময়, গল্প করার সময়, সম্পর্কের উষ্ণতা আর প্রাণখোলা আনন্দ।

আগে টিভি কম ছিল, কিন্তু মানুষ বেশি ছিল। এখন টিভি বেশি, মোবাইল বেশি, ইন্টারনেট বেশি—কিন্তু একসাথে বসে আনন্দ করার মানুষ যেন একটু কমে গেছে।

আজও যখন কোনো পুরোনো বিশ্বকাপের কথা মনে পড়ে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সেই তর্কের কথা মনে পড়ে, জার্মানি-ইতালির সমর্থকদের উল্লাস মনে পড়ে, পিকনিকের সেই হাসির শব্দ কানে ভেসে আসে—তখন মনটা অদ্ভুত এক নস্টালজিয়ায় ভরে ওঠে।

তখন সত্যিই মনে হয়Ñ আগের দিনগুলোতে হয়তো প্রযুক্তি কম ছিল, কিন্তু জীবনটা ছিল অনেক বেশি জীবন্ত। সুবিধা কম ছিল, কিন্তু সুখ ছিল বেশি। বিনোদনের মাধ্যম কম ছিল, কিন্তু আনন্দ ছিল অফুরন্ত।

তাই আজও হৃদয়ের গভীর থেকে একটি কথাই বারবার ভেসে আসেÑ “আগের দিনটাই ভালো ছিল; কারণ তখন মানুষ একে অপরের অনেক বেশি কাছাকাছি ছিল।”

লেখক: শিক্ষক

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১:২০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে বলে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে আকস্মিক এ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা “শেখ হাসিনা আসবে-বাংলাদেশ হাসবে, আওয়ামী লীগৈর নিষেধাজ্ঞা মানি না মানবো না, ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা মানি না মানবো না” সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলের স্থানটি সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা এলাকায় হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।
স্থানীয় বিভিন্ন নিউজ পোটাল ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, “শিশু হত্যা, খুন, ধর্ষণ, তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ এর সংকট ও শিক্ষার অধিকার হরণের দায়ে সরকারের পদত্যাগ করতে হবে” স্লোগান লেখা ব্যানার হাতে মছিলটি সড়কের কিছু অংশ অতিক্রম করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিল শেষে নেতাকর্মীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। মিছিলটি শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে এসব নিউজ পোটালের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আশাশুনিতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রতিযোগিতা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কনফারেন্স কক্ষে এ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়।
“মেধা-বিজ্ঞান উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে” এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোের্ট স্কিম, এসইডিপি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ, ঢাকার আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু। একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ হাসানুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনের এমপি, মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের প্রতিনিধি ও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাও. নূরুল আফসার মুর্তাজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলাম, সাবেক সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন, আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাজহারুল ইসলাম মুকুল। অন্যদের মধ্যে আশাশুনি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়েরর প্রধান শিক্ষক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, আশাশুনি প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক লিংকন আসলাম, কোষাধ্যক্ষ এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক মুস্তাহিদুর রহমানসহ উপজেলার ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ ১২টি বিদ্যালয়ের “স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী আইডিয়া উপস্থাপনকৃত মেলার স্টল ঘুরে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করেন। মেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে, সরাপপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয় আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে, গুনাকরকাটি শাহ মোহাম্মদ ইয়াহিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী শিক্ষাশিবির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী শিক্ষাশিবির

সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা সদরের ৯নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এক কর্মী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়াস্থ আল-আমিন ট্রাস্ট মিলনায়তনে এ শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা জাকির হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি মো. শাহিনুর রহমানের সঞ্চালনায়
অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য শহীদুল ইসলাম মুকুল।
এছাড়াও বিভিন্ন সেশনে বিষয় ভিত্তিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন,জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী প্রফেসর আব্দুল ওয়ারেছ, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শহিদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি মাওলানা আনিছুর রহমান, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা উসমান গনি, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি আলী আহসান আল মুজাহিদ প্রমুখ।