মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

আগের দিনটাই ভালো ছিল!/ শেখ আমিনুর রহমান কাজল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
আগের দিনটাই ভালো ছিল!/ শেখ আমিনুর রহমান কাজল

শেখ আমিনুর রহমান কাজল

একটা সময় ছিল, যখন আনন্দ মানেই ছিল একসাথে থাকা। প্রযুক্তি ছিল কম, কিন্তু মানুষের মধ্যে হৃদ্যতা ছিল অনেক বেশি। আজ সবকিছু হাতের মুঠোয় চলে এসেছে, কিন্তু সেই প্রাণখোলা আনন্দ, সেই মিলেমিশে থাকার উষ্ণতা যেন কোথাও হারিয়ে গেছে।

আগে টিভি ছিল গ্রামের বা পাড়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। একটা-দুটো বাড়িতে টিভি থাকত, আর সন্ধ্যা নামলেই আশেপাশের মানুষজন সেখানে জড়ো হতে শুরু করত। কেউ মাদুর নিয়ে আসত, কেউ চাটাই, কেউবা একটা ছোট্ট টুল। ঘরের ভেতর জায়গা না হলে উঠোনে বসেই টিভি দেখা হতো। টিভির পর্দার চেয়ে বেশি প্রাণবন্ত ছিল মানুষের মুখের হাসি, গল্প আর উচ্ছ্বাস।

বিশ্বকাপ ফুটবল এলে পুরো পাড়া যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হতো। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, মেক্সিকো কিংবা ক্যামেরুন—প্রতিটি দলেরই আলাদা সমর্থক ছিল। খেলা শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই চলত তর্ক-বিতর্ক, ভবিষ্যদ্বাণী আর খুনসুটি।

কারো বাড়ির ছাদে উড়ত ব্রাজিলের পতাকা, কারো উঠোনে আর্জেন্টিনার। জার্মানির সমর্থকরা নিজেদের দলকে সবচেয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ বলে গর্ব করত, ইতালির সমর্থকরা বলত তাদের রক্ষণভাগের তুলনা নেই। ফ্রান্সের সমর্থকরা তারকাদের নিয়ে আলোচনা করত, আর ক্যামেরুন বা মেক্সিকোর সমর্থকরা নিজেদের দলকে আন্ডারডগ হিসেবে সাহস দিত।

খেলা চলাকালে গোল হলে পুরো পাড়া কেঁপে উঠত। ব্রাজিল গোল দিলে একদল লাফিয়ে উঠত, আর্জেন্টিনা গোল দিলে আরেকদল আনন্দে চিৎকার করত। কেউ বাঁশি বাজাত, কেউ পটকা ফুটাত, কেউ আবার দৌড়ে গিয়ে বন্ধুদের খোঁচা দিত। পরাজয়ের পরও মন খারাপের মাঝেও ছিল এক ধরনের আনন্দ, কারণ পরদিন আবার নতুন করে তর্ক শুরু হবে।

রাত জেগে খেলা দেখার সেই দিনগুলো ছিল অন্যরকম। মাঝরাতে চা বানানো হতো, মুড়ি, চানাচুর, বিস্কুট আর বাদাম ভাগাভাগি করে খাওয়া হতো। কারো চোখে ঘুম চলে এলে পাশের জন ধাক্কা দিয়ে বলত, “এই ওঠ! খেলার আসল মজা এখন শুরু!” মনে হতো পুরো বিশ্বকাপটাই যেন আমাদের পাড়ার মাঠে হচ্ছে।

শুধু খেলা নয়, পিকনিকের আনন্দও ছিল অসাধারণ। শীতের সকালে ট্রাক বা বাস ভাড়া করে সবাই মিলে পিকনিকে যাওয়া হতো। রান্নার দায়িত্ব একদল, খেলাধুলার দায়িত্ব আরেকদল। কেউ মাংস কাটছে, কেউ সবজি ধুচ্ছে, কেউ আগুন জ্বালাচ্ছে। রান্না শেষ হওয়ার আগেই সবাই দশবার জিজ্ঞেস করত, “খাওয়া কবে হবে?”

খাওয়ার পর শুরু হতো গান, কৌতুক, লটারির খেলা, দৌড় প্রতিযোগিতা আর দলবেঁধে ছবি তোলা। তখন ছবি তুলতে মোবাইলের শত শত ক্যামেরা ছিল না, কিন্তু প্রতিটি ছবির পেছনে ছিল শত শত স্মৃতি।

ঈদ, পূজা, নববর্ষ কিংবা যে কোনো উৎসব মানেই ছিল একসাথে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। বিকেলে মাঠে আড্ডা, রাতে গল্প, আর ছোট ছোট বিষয় নিয়েই অনেক বড় আনন্দ।

তারপর ধীরে ধীরে সময় বদলালো। ঘরে ঘরে টিভি এলো। এরপর এলো স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, ইউটিউব, ফেসবুক আর অসংখ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এখন খেলার স্কোর মোবাইলে, সিনেমা মোবাইলে, খবর মোবাইলে, বিনোদন মোবাইলে। এমনকি অনেক সময় সম্পর্কও এখন মোবাইলের পর্দার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

আগে মানুষ মানুষকে খুঁজত, এখন খোঁজে ওয়াই-ফাইয়ের পাসওয়ার্ড। আগে বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে খেলা দেখা হতো, এখন একই বাড়িতে থেকেও সবাই আলাদা আলাদা স্ক্রিনে ব্যস্ত।

আগে বিশ্বকাপের ফাইনাল মিস হয়ে গেলে কষ্ট লাগত। এখন সবাই বলে, “সমস্যা কী? পরে হাইলাইটস দেখে নেব।” কিন্তু হাইলাইটস কি সেই উত্তেজনা ফিরিয়ে দিতে পারে? সেই একসাথে চিৎকার করা, সেই বুক ধড়ফড় করা মুহূর্তগুলো কি আর ফিরে আসে?

প্রযুক্তি আমাদের অনেক সুবিধা দিয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। কিন্তু সেই সঙ্গে অজান্তেই কে যেন আমাদের কাছ থেকে কিছু মূল্যবান জিনিস নিয়ে গেছে—একসাথে বসে হাসার সময়, গল্প করার সময়, সম্পর্কের উষ্ণতা আর প্রাণখোলা আনন্দ।

আগে টিভি কম ছিল, কিন্তু মানুষ বেশি ছিল। এখন টিভি বেশি, মোবাইল বেশি, ইন্টারনেট বেশি—কিন্তু একসাথে বসে আনন্দ করার মানুষ যেন একটু কমে গেছে।

আজও যখন কোনো পুরোনো বিশ্বকাপের কথা মনে পড়ে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সেই তর্কের কথা মনে পড়ে, জার্মানি-ইতালির সমর্থকদের উল্লাস মনে পড়ে, পিকনিকের সেই হাসির শব্দ কানে ভেসে আসে—তখন মনটা অদ্ভুত এক নস্টালজিয়ায় ভরে ওঠে।

তখন সত্যিই মনে হয়Ñ আগের দিনগুলোতে হয়তো প্রযুক্তি কম ছিল, কিন্তু জীবনটা ছিল অনেক বেশি জীবন্ত। সুবিধা কম ছিল, কিন্তু সুখ ছিল বেশি। বিনোদনের মাধ্যম কম ছিল, কিন্তু আনন্দ ছিল অফুরন্ত।

তাই আজও হৃদয়ের গভীর থেকে একটি কথাই বারবার ভেসে আসেÑ “আগের দিনটাই ভালো ছিল; কারণ তখন মানুষ একে অপরের অনেক বেশি কাছাকাছি ছিল।”

লেখক: শিক্ষক

 

 

Ads small one

বাণিজ্য গতিশীল করতে ভোমরা কাস্টমস হাউসে মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
বাণিজ্য গতিশীল করতে ভোমরা কাস্টমস হাউসে মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গতিশীল করা এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে ভোমরা কাস্টমস হাউসের সম্মেলনকক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ভোমরা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অতিরিক্ত কমিশনার মিনহাজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় ব্যবসায়ী নেতারা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের নানা জটিলতা ও সমস্যা তুলে ধরেন। সভায় আরও বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু, ভোমরা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, প্রচার সম্পাদক মো. আনারুল ইসলাম, ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা।
এ সময় কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মোস্তফা কামালসহ অন্যান্য রাজস্ব কর্মকর্তা ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শোনার পর কাস্টমস কমিশনার মুশফিকুর রহমান ভোমরা বন্দরের বাণিজ্য গতিশীল করা এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

আশাশুনিতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রবিউল বাশার।
সভায় উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাঁদাবাজি বন্ধ, পাউবোর বেড়িবাঁধের ভাঙন প্রতিরোধ, মাদকের বিস্তার রোধ, অনলাইন জুয়া বন্ধ, ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার এবং চুরির উপদ্রব কমানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া চিলেডাঙ্গা মোড়ের দুটি পরিবেশবান্ধব পুরোনো বটগাছ রক্ষার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উপস্থিত ছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আ. সবুর, উপজেলা আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন, ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর ছিদ্দিক ও অন্যান্য স্থানীয় প্রতিনিধিরা।

দেবহাটার কুলিয়ায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটার কুলিয়ায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মতবিনিময় সভা

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার ১ নম্বর কুলিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও সহযোগীদের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার রাত ৮টায় পুষ্পকাটি সরদার বাড়ি মোড়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আফছার আলী মল্লিকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য মহিউদ্দিন সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোকলেছুর রহমান মুকুল, যুবদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান সবুজ, আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হাদিউজ্জামান বাদশাহ।
সভায় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, দেবহাটা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মন্টু, কুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন হোসেনসহ বিএনপি, যুবদল, কৃষক দল ও তাঁতী দলের উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।