সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আপুর রুম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
আপুর রুম

দোলনা বড়ুয়া তৃষা
কাল কলেজের অনুষ্ঠানে নাচানাচি করে সকালে বাসায় এসে কোন রুমে গিয়ে শুয়ে পড়েছি জানি না। নিশ্চয় আপুর রুম এইটা। কাঁঠালচাপা ফুলের গন্ধ এই রুমে। ও মনে হয় বাসায় নেই। ভার্সিটি গিয়েছে। আমার রুমে তো নিজের মোজা আর শার্টের গন্ধে নিজেরেই বমি আসে।
হঠাৎ আপুর চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গে।
-এই ছাগলটা আমার রুমে কেন? পুরো ঘরে পাঠা পাঠা গন্ধ বেড়োবে এখন। এই উঠ, যা বের হয় রুম থেকে।
গায়ে কয়েকটা কিল ঘুসি দিতেই ঘুম আর একটু ভাঙ্গল। কোন মতে উঠে ঢুলতে ঢুলতে রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। এতক্ষন নাকে সুবাস ছিলো। নিজের রুমে আসতেই আর নেই।
বাসায় মেহমান এলে সব গাদাগাদি করে আমার রুমে। আপুর রুম টা কত বড়। সব কেমন যেন গুছানো। একটা জানলা আছে। এইটার জন্য রুমটা প্রতি আমার লোভ। আমার রুম টা সামনের দিকে জানলা খুললে রাস্তা। রাতের ১ টা অবধি মানুষ হাটে। সিগারেট খাওয়া যায় না। আপুর রুম টা পিছনের দিকে। ওদিকে সব গাছ। ওর রুমে শুধু কাজিনরা আসলে শুতে পারে। কাজিন-
ও শিট। মিতুকে ফোন করতে ভুলেই গেছি। আবার বাসায় না বিচার নিয়ে আসে। মামাতো বোনের সাথে প্রেম করলেও জ্বালা আছে। মায়ের বোনের কাছে বিচার পাঠিয়ে দেয়। উঠে ফ্রেশ হয়ে খেতে গেলাম।
আপু তখনো নাকি রুম পরিস্কার করছে। আমি নাকি গন্ধ করে ফেলেছি সারা রুম। দেখলাম আমার ফেলে আসা শার্ট গেঞ্জি সব ধুয়ে দিয়েছে। খেতে বসলাম। সবাই আসল।
আজ মাছ রান্না হয়েছে।
– মা মাছের মাথাটা কিন্তু আজ আমি খাবো,
-আহা, কত শখ! আমি খাবো মাছের মাথা। তুই আবার মাথা খেতে জানিস?
এই বলে মাথা টা নিয়ে নিলো আপু।
-মা, তুমি কিছু বলো না আপুকে।
মা বলল-
– ও খেতে চায়। খেতে দেয় না।
-মায়েরা নাকি ছেলের পক্ষ নেয়। আর তুমি?
-মেয়েকে তো বিয়ে দিয়ে দিলে চলে যাবে। যত ভালো ঘরে দিই না কেন আমি দেখব কি খাচ্ছে না খাচ্ছে? খাওয়াতে পারব? তোকে তো সারাজীবন খাওয়াতে পারব।
-কখন দিচ্ছো বিয়ে? তারাতারি দিয়ে দাও। তারপর ওর রুমটা আমি নিয়ে নিবো।
-কত শখ! মাথা ফাটিয়ে দিবো আর আমার রুমে গেলে।
বিকেলে আপুর রুমে গেলাম। আপুর রুমে ডুকলেই মনে হয় ভিন্ন এক রুম। চারিদিকে কেমন টানাটানা গুছানো সব। বিছানার চাদর, পড়ার টেবিল, ওর জিনিসপত্র। জানলা দিয়ে বাগানবিলাস দেখা যায়। আর কোথায় থেকে যেন কাঠালচাঁপা ফুলের সুভাস। ওর সাথে অনেকক্ষন গল্প করে আসার সময় পারফিউমের বোতলটা নিয়ে এলাম।

কিছুদিন পর বাসায় বেশ নাস্তা রেডি হচ্ছে। জানলাম আপুকে দেখতে আসছে। বিয়ের পাকা কথা ওরা আপুকে আগেই দেখেছে।
বেশ খুশী সবাই। আপুকে বেশি খুশি লাগছে।আমারো বেশ খুশি লাগছে। সব হয়ে যাওয়ার পর মিতুকে ফোন দিলাম,
-জানো আপুর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। সামনের মাসে বিয়ে।
– বাহ, বেশ ভালো তো। এখন তাইলে তিশা আপুর রুমটা তোমার হবে।
-মানে? আপু কোথায় থাকবে তো?
-ওমা, আপু শুশুড় বাড়ি চলে যাবে না? তখন তো রুমটা খালিই পড়ে থাকবে।
আমার মনটা কেমন যেন খালি খালি লাগছে এরপর থেকে। আপু থাকবে না?
একটা মাস কোনদিকে চোখের পলকে চলে গেল। আপুর বিয়ে হয়ে গেলো। আপুকে বিদায় দিতে আমার মনে হচ্ছিল কি যেন হারিয়ে যাচ্ছে।
আপুর বিয়ের পর থেকেই বুঝা যায় কি হারিয়ে গেছে ঘর থেকে। সব যেন নিশ্চুপ। ঘরে টানাটানা গুছানো ভাবটা নেই। ঘরে সে হাসি খুশি ভাবটা নেই। খেতে বসলে আমি মা বাবা কেমন যেন চুপচাপ খেয়ে উঠি। আপু থাকতে এমন খাবার টেবিল চিন্তায় করা যেত না।
আমি আপুর রুমে যাই এখন। কেমন যেন ঢিলেঢালা এখন রুম। সব আছে তারপর ও কেমন যেন। ফুল গাছ ও আছে তবে এখন আর কাঁঠালচাপা ফুলের গন্ধটা নেই।
আমি প্রায় আপুর রুমে গিয়ে বসে থাকি। ওর অনুভব পাই। ওর বিছানায় ঘুমাই না এখন। ঘুমালে মনে হয় এই বুঝি এসে মারবে।
-এই ছাগল, এই সৌরভ, উঠ।
আপু আসে না। এই ভাবে ডেকে তুলে দেয় না। এইভাবে ঘুম ভাঙার আশায় আমার ঘুমেই আসে না।
আপু এখন বাসায় আসে দুই দিনের জন্য। আসলে এই রুম নিয়ে ওর কোন বাড়াবাড়ি নেই। মায়ের সাথেই থাকে। নানান কথা সংসারের। যে আপু গল্প আর কবিতা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করত। এখন নুন পেয়াজ আর শাশুড়ীর গল্পে তার ঘন্টা চলে যায়। দুলাভাই সহ ঘুমাই সে রুমে। তারপর চলে যায়। সে রুমে তার কিছু ফেলে যায় না। শুধু ফেলে যায় আমার জন্য ওর গায়ের গন্ধ এই রুমে।
আমি ওকে জিজ্ঞেস করি –
-তোর এই রুমের জন্য মন কেমন করে না?
ও বলে-
-খুব করে রে। এই রুমটাই আমার বলতে শুধু আমার ছিলো। খাট, টেবিল, আয়নাটাও শুধু আমার ছিলো। এখন যতই আমি সব গুছিয়ে রাখি না কেন যেন ঠিক তা আমার নয়।
দুপুরে খেতে বসলে মা আমায় মাছের মাথা তুলে দিলে। আমি বলি-
-আমাকে দিচ্ছো কেন?
-তো কাকে দিবো?
-আপুকে –
বলতে গিয়ে থেমে যাই আমি। মাকে বলি,
-তুমি মাছের মাথাটা হটবক্সে দাও আমি আপুকে দিয়ে আসি।
-যা, একটা মাছের মাথা নিয়ে বোনের বাড়ি যায় নাকি?
-আরে তুমি দাও না। কিছু হবে না।

মায়ের কথা না শুনে আমি আপুর শশুড় বাড়ি গিয়ে ভুলেই করে ফেলি। বাসা ভর্তি মেহমান। কোরমা, পোলাও, খাসির রেজালা রান্না হয়েছে। আমি গিয়ে হাজির একটা মাছের মাথা নিয়ে। আপুরও সবার সামনে বক্স খুলে লজ্জায় পড়ে গেল।
সবার খাওয়ার পর আমাকে খেতে বলে। আমি আপুকে ডাকতে গিয়ে দেখি আপু আবার ভাত রান্না করছে।
-কিরে আবার ভাত রাধছিস? আমি খেয়ে এসেছি।
-আরে না। পোলাও অনেক আছে। তুই খেয়ে ফেল। আমি মাছের মাথাটা খাওয়ার জন্য সাদা ভাত রাধছি। আসলে এইখানে মাথা খাওয়া হয় না। ছেলেরা খায় তো।
আপু অপ্রস্তুত হাসি দিয়ে ভাত নাড়তে থাকে।
খেয়ে আপুর রুমে গেলাম। এই রুমটা আমাদের বাড়ির রুম থেকে বিশাল। এইখানে সব কেবিনেট। বড় বড় আলমারি কেমন যেন সব সাজানো। আপুর কোন ছোঁয়া নেই। জানলাও নেই কারণ সব দিকে এসি।
এই রুম টা দুলাভাইয়ের। কেমন যেন আপুর মনে হয় না আমার। এই রুম টা নাকি আগে দুলাভাইয়ের বড় বোনের ছিলো।
আমি আর কখনো মাছের মাথা নিয়ে আপুর শশুড় বাড়ি যাই নি।
অনেক বছর পর এক সকালে আপুর রুমটা চেঞ্জ হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলে,
বাবা বলে,
-তোর জন্য নতুন খাট আর আলমারী বসানো হচ্ছে।
-কেন?
– কেন মানে? বিয়ের পর তুই কি তোর ঐ গুদাম ঘরে থাকবি নাকি? এখন থেকে তোর রুম এইটা।
আমার রুম? না আমি মানতে পারি না। আমার মনের মাঝে অজান্তে এইটা আপুর রুমেই জানি।
মা আমাকে মাঝে মধ্যে বলে,
– তোর রুম থেকে জিনিসটা নিয়ে আয়।
আমি সারাঘর খুঁজে আসি। শেষে মা বলে
– আরে গাধা তোর আপুর রুমে।
-হুম। আপুর রুম এখন যা আমার রুম।
আস্তে আস্তে মুছে যাচ্ছে আপুর সব কিছু। মা এখন আপুর ফেলে যাওয়া ওরনা গুলো দিয়ে কাথা কম্বল ঢেকে রাখে। ওর সেলোয়ার কামিজ এখন ফ্লোরে পানি পড়লে উইজ করা হয়। হারিয়ে যাচ্ছে ওর ছোঁয়া এই ঘরের থেকে।
রুমটাতে এখন আবার প্রাণ ফিরে এসেছে। মিতু ও সব গুছিয়ে রাখে। তবে সে যেন টানটান ভাবটা নেই। তবে এখন কামীনি ফুলের সুবাস ছড়ায় এই রুমে।
এক দুপুরে খেতে বসলাম। তখন বেল বেজে উঠে। অয়ন এসেছে। অয়ন আর মিতু পিটেপিটি ভাই বোন। খুব মারামারি করত।
একবার মিতুর হাত ভেঙ্গে দিয়েছিল মারামারি করে।
– অয়ন, আয় আয়।
– মা একটা মাছের মাথা পাঠিয়েছিল মিতুর জন্য।
আমি হেসে বলি,
-মামী পাঠিয়েছে নাকি তুই এনেছিস?
মিতু তুমি মাছের মাথা খেতে ভালোবাসো বলো নি কেন?
– না মানে তুমি খাও তো।
-আরে আমি তো কেউ খায় না তাই খাই। এখন থেকে তুমি খাবে।

আমি রুমে গিয়ে সিগারেট ধরালাম। টেবিল থেকে অয়ন আর মিতুর হাসির শব্দ হচ্ছে। আসলে কি অদ্ভুত পবিত্র হয় ভাই-বোনের সর্ম্পক গুলো তাই না?
বিশ বছর পর। বাসায় চিৎকারের শব্দ। এখন বাবা মায়ের রুম টা আমাদের রুম। আমি রুম থেকে বের হই, আমার ছেলে অর্ক চোখ মুছতে বের হচ্ছে।
-কি রে কি হয়েছে?
-আপুর রুমে শুয়েছিলাম। আপু মেরে বের করে দিয়েছে।
আমি বিড়বিড় করে বলে উঠলাম,
-আপুর রুম?
যেন অনেক বছর পর কারো সাথে দেখা এমন লাগল শব্দটা৷
আমি সে রুমে গেলাম। এইটা এখন আমার মেয়ে পারুলের রুম। সব দিক যেন সে টানাটানা গুছানো ভাব টা আছে এখন। আর আমার নাকে হঠাৎ সেই কাঁঠালচাপা ফুলের গন্ধটা লাগলো।

Ads small one

বেসরকারি কুরিয়ারের ভোগান্তি বনাম ডাক বিভাগের ‘স্পিড পোস্ট’: সাতক্ষীরার আম পরিবহনে নতুন বিপ্লব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
বেসরকারি কুরিয়ারের ভোগান্তি বনাম ডাক বিভাগের ‘স্পিড পোস্ট’: সাতক্ষীরার আম পরিবহনে নতুন বিপ্লব

নিজস্ব প্রতিনিধি: আসে সাতক্ষীরার সুস্বাদু গোবিন্দভোগ, হিমসাগর ও ল্যাংড়া আমের সুনাম দেশজুড়ে। আর হিমসাগর আম দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। দেশজুড়ে এই আমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও, এতদিন দূর-দূরান্তে আম পাঠাতে গিয়ে বেসরকারি কুরিয়ার খরচের ধাক্কায় হিমশিম খেতে হতো সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের।

 

অনেক সময় আমের দামের চেয়ে কুরিয়ার খরচই হয়ে যেতো দ্বিগুণ। তবে এবার সেই চিরায়ত ভোগান্তি ও বেসরকারি কুরিয়ারের নানা অনিয়ম দূর করে অবিশ্বাস্য সাশ্রয়ী মূল্যে ও শতভাগ নিরাপত্তায় আম পরিবহনের দারুণ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ডাকবিভাগ।

 

প্রযুক্তি-নির্ভর ‘স্পিড পোস্ট’ সার্ভিসের মাধ্যমে এখন নামমাত্র খরচে সাতক্ষীরার আম পৌঁছে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ডাকবিভাগের এই ডিজিটাল, আধুনিক ও বিশ্বস্ত সেবায় এখন উচ্ছ্বসিত সাতক্ষীরার আম চাষী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষ।

বেসরকারি কুরিয়ারে আম চুরি ও অনিয়ম: বিপাকে তরুণ উদ্যোক্তারা: যেখানে সরকারি ডাক বিভাগ আম পরিবহনে স্বস্তি এনে দিয়েছে, সেখানে বেসরকারি কিছু নামী-দামী কুরিয়ার সার্ভিসের চরম অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতায় বিপাকে পড়েছেন আম ব্যবসায়ীরা। অনেক উদ্যোক্তা ও ক্রেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরেছেন।

 

সাতক্ষীরার আম ব্যবসায়ী ও জনপ্রিয় ব্লগার রাহাত রাজা নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্টিড ফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস তরুণ আম ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অনলাইনে আম বিক্রয়ের অন্যতম পছন্দের মাধ্যম হলেও, ঈদের আগ মুহূর্তে সাতক্ষীরার আম সময়মতো ডেলিভারি না হওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে আমের লট হারিয়ে যাওয়ার কারণে বহু উদ্যোক্তা আজ চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

 

কুরিয়ার সার্ভিসের অনলাইন সেবায় যোগাযোগ করলে বারবার শুধু ‘স্যার দেখছি’ বলে সময় পার করা হয়, কিন্তু বাস্তবে সমস্যার কোনো সমাধান মেলে না। একটি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের এমন দায়িত্বহীনতা তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসা ও স্বপ্ন-দুটোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সাতক্ষীরা হাবের নাম্বার সারাদিন বন্ধ থাকে, জোনাল ম্যানেজার ফোন রিসিভ করেন না। আম পচে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে। এদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

অনুরূপ এক অভিযোগ তুলে ধরে এস এম হারুন নামে একজন আম ব্যবসায়ী ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, স্টিট ফাস্ট এর অভিনব পদ্ধতিতে চুরি! উপরে বস্তা খুলে আবার সুন্দরভাবে প্যাকেজিং করে দিছে। কিন্তু ভিতরে পেপার ছিঁড়ে ২ কেজি আম চুরি করে ফেলেছে। এত এত ভোগান্তি যদি একটা কুরিয়ার করে, তাহলে ছোটখাটো উদ্যোক্তারা কীভাবে টিকে থাকবে?

শুধু একটি প্রতিষ্ঠানই নয়, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধেও উঠেছে চুরির অভিযোগ। কুমিল্লার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মারুফ জানান, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সাতক্ষীরা থেকে আম আসার পরে আমার ক্যারেট থেকে কিছু আম বের করে নেওয়া হয়েছে।

এইসব বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত বেসরকারি কুরিয়ার স্টিট ফাস্ট-এর সাতক্ষীরা হাবের জোনাল ম্যানেজার গোলাম রসুলের ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আশার আলো ‘পোস্ট অফিস’: পানির দামে দ্রুততম ডেলিভারি: বেসরকারি কুরিয়ারগুলোর এই চুরির আতঙ্ক ও চরম অব্যবস্থাপনার বিপরীতে সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘর সূত্রে জানা গেছে, ডাক বিভাগের বিশেষ ‘স্পিড পোস্ট’ সার্ভিসে আম বুকিংয়ের খরচ অবিশ্বাস্য রকম কম।

বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসগুলো যেখানে প্রতি কেজিতে ১৩ থেকে ২০ টাকা বা তারও বেশি চার্জ নিচ্ছে, সেখানে ডাকবিভাগের এই রেট আমূল পরিবর্তন এনেছে। হিসাব অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক ২০ কেজি আম পাঠালে তার মোট খরচ পড়ছে ভ্যাট ও উৎস করসহ মাত্র ১১৬ টাকা। ফলে, আমের মূল্যের চেয়ে কুরিয়ার খরচ বেশি হওয়ার সমস্যা এখন অতীত।

কম খরচের পাশাপাশি ডাকবিভাগের দ্রুততম ডেলিভারির বিষয়টি নজর কেড়েছে ব্যবসায়ীদের। সকালে বুকিং করলে ওইদিন সন্ধ্যার মধ্যেই খুলনায় আম পৌঁছে যাচ্ছে। বুকিং করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরের গ্রাহক আম হাতে পাচ্ছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বুকিংয়ের এক থেকে দুই দিনের মধ্যে আম পৌঁছে যাচ্ছে।

সরকারি সেবায় শতভাগ নিরাপত্তা ও গ্রাহক সন্তুষ্টি: ডাক বিভাগের এই আধুনিক ও নিরাপদ সেবা পেয়ে কুড়িগ্রামের আম ক্রেতা আরিফুল ইসলাম রিগান অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, পোস্ট অফিস সার্ভিস পেয়ে খুব ভালো লেগেছে, খুব দ্রুত আম পেয়েছি। অন্যান্য কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যাপারে শুনেছি আম বের করে নেয়। কিন্তু পোস্ট অফিসে যারা কাজ করেন, তারা সরকারি চাকরি করেন। সামান্য কিছু আমের জন্য তারা চাকরি হারাবেন না-এই দায়িত্ববোধ তাদের মাথায় রাখতে হয়। তাই পোস্ট অফিসের সেবাই সবচেয়ে নিরাপদ।

ঢাকা শহরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ জিপিও এবং সাব-পোস্ট অফিসের আওতায় এই আম সরাসরি ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম এলাকাগুলো হলো, গুলশান, বনানী, ভাটারা, খিলক্ষেত, উত্তরা, পল্লবী, মিরপুর, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সাব-পোস্ট অফিস, মোহাম্মদপুর, জিগাতলা, নিউ মার্কেট, তেজগাঁও, ঢাকা পলিটেকনিক, খিলগাঁও, বাসাবো, ওয়ারী, পোস্তা, গ্যান্ডারিয়া, ধোলাইপাড় (ধনিয়া), ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা সদর সাব-পোস্ট অফিস এবং ঢাকা জিপিও।

তালা ও পাটকেলঘাটা থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
তালা ও পাটকেলঘাটা থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা ও পাটকেলঘাটা থানা বার্ষিক পরিদর্শনের অংশ হিসেবে পরিদর্শন করেছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। সোমবার (২৫ মে) তিনি থানা দুটিতে যান এবং দাপ্তরিক ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম খতিয়ে দেখেন।

থানা পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার বিভিন্ন সেরেস্তার গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক রেজিস্টার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদারকি করেন। পরে তিনি থানার কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

সভায় পুলিশ সুপার পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং সেবার গতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, পুলিশকে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হবে এবং আইনি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এস এম রাজু আহমেদ এবং সহকারী পুলিশ সুপার (তালা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নূরুল্লাহসহ থানা দুটির বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

যুগীপোতায় ধান ও বিচলীর গাদায় আগুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
যুগীপোতায় ধান ও বিচলীর গাদায় আগুন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের যুগীপোতা গ্রামে ধান ও বিচলীর গাদা আগুনে পুড়ে দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

 

জানা গেছে, যুগীপোতা গ্রামের আব্দুল সামাদের পুত্র আব্দুল হাই সরদার ১৪বিঘা জমি হারি নিয়ে মৎস্য চাষের পাশাপাশি ধান চাষ করে আসছিল। এবছর ঘেরের জমিতে ইরিবোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও ২৫মে ভোররাতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষ আগুন দিয়েছে বলে আব্দুল হাই অভিযোগ করেন।

 

আগুনে পুড়ে দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী আব্দুল হাই জানিয়েছেন। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।