সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাংলার কৃষি-ই বাঙালির প্রাণ সঞ্চালিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
বাংলার কৃষি-ই বাঙালির প্রাণ সঞ্চালিকা

সুদয় কুমার মন্ডল

বাংলার কৃষি ই বাঙালির প্রাণ সঞ্চালিকা। জাতীয় অর্থনীতির চালিকা শক্তি। বহু প্রাচীনকাল থেকে অর্থাৎ সভ্যতার বিবর্ণ যুগ থেকে মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে আদিম যুগের মানুষ যখন গাছের ফল মূল পাতালতা খেয়ে জীবনধারণ করতো পাথরে পাথরে ঘষে আগুন জ্বালানো ও জীবন রক্ষায় পাথর দিয়ে অস্ত্র বানানোসহ নানা ধরনের আবিষ্কার প্রবণতা মানুষকে উৎসাহী ও উদ্যমী করে তোলে। কঠোর পরিশ্রমি মানুষ কালে কালে তাদের সফলতা ও সাফল্য অর্জন করে সভ্যতার পত্তন ঘটায়। উৎসাহ উদ্দীপনা মানুষের সংস্কারপন্থি করে তোলে। আবিষ্কারের বিপ্লব ও জীবনধারা পরিবর্তনের সুযোগ সুবিধা অর্জন স্বীয় মেধা ও প্রতিভার বিকাশ সাধনে উত্তরোত্তর প্রবৃদ্ধি সাধিত হয়।

মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে উৎপাদন মুখী হয়ে কৃষি ব্যবস্থার প্রচলন ও প্রসারণ ঘটায় তারা খাদ্য সামগ্রীসহ জীবন ধারণের সকল কার্যকলাপে প্রবৃত্ত হয়। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর ছিল। নানা প্রতিকূলতা ও সমস্যা সংকুল দিনগুলিতে মানুষ একতাবদ্ধ হয়ে সমাজ গঠন ও সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়। ক্রমান্বয়ে মানুষ এ ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধির দ্বারপ্রান্তে উপনীত করতে থাকে। কৃষি ব্যবস্থায় মানুষের মূল উপজীব্য, সাথে সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাকে মানুষ অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করে। সামাজিক প্রথা ও রীতিনীতি মানুষকে শৃঙ্খলা বদ্ধ ও কর্তব্য পরায়ন করে তোলে।

 

গড়ে উঠতে থাকে সভ্যতার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী অভাবনীয় স্তম্ভ। মানুষের প্রতিভার বিকাশ আদিম যুগের অসহায় মানুষকে প্রগতিশীল করে তোলে। মেধা ও প্রতিভার বিকাশ মানব কল্যাণের আশীর্বাদ। সৃষ্টির উষা লগ্নে মানুষ ছিল অরণ্যচারি যাযাবর মেধা ও প্রতিভার উন্মেষ সে কলঙ্ক থেকে মুক্ত করে। বিজ্ঞান দর্শন সমাজ সভ্যতা রাষ্ট্র সংস্কৃতি সৃজনশীলতা সবই মানুষের প্রতিভার ফসল। পূর্ব সুরীর অবদান উত্তরসূরীরীর রক্তে প্রবাহমান।

 

আবহমান কালের বঙ্গদেশ বিভিন্ন সময়ে বা যুগে যুগে বিভিন্ন শাসকের অধীনস্থ হলেও বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আজ এ দেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ। সাগর বনানী নদী-নালা বিধৌত ৫৫ হাজার ৫২৬ বর্গ কিলোমিটারব্যাপী এদেশের অবস্থিতি। উর্বর পলল মৃত্তিকা সম্পন্ন এদেশের মাটি। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা প্রকৃতির এক অপরূপ বন্ধন। পূর্ব পুরুষের এ মাটি আজ ও খাঁটি সোনার চাইতেও খাঁটি। এদেশের ভূমিজ সন্তানের অনাবিল সুখের আশ্রয়স্থল ও ঠিকানা। বাংলাদেশ কৃষি সমৃদ্ধি শালী দেশ। পৃথিবীর অপর কোন দেশের সাথে যার তুলনা মেলে না।

কবির ভাষায় বলতে হয়Ñ“এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি , সকল দেশের সেরা সে যে আমার জন্মভূমি”। মাটির সাথে নাড়ীর সম্পর্ক অতুলনীয় এক জন্মভূমি। আতিথিয়তা ও স্বজন প্রীতির বিরল দৃষ্টান্ত।
এদেশের প্রকৃতি কৃষি বান্ধব। ৮০% ভাগ মানুষ কৃষি নির্ভর। গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ পূর্বপুরুষের আমল থেকে স্বাচ্ছন্দ্য সুখের এ আবাসস্থল। অধিক ক্যালরি ও পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্যের যথেষ্ট প্রাচুর্য বিদ্যমান। নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া জীবন বান্ধব। ষড় ঋতুর এ দেশ। ভিন শক্তির শাসনামলে ও এদেশের কৃষি ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছিল। কৃষকদের ভাগ্যন্নয়ন অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সংগ্রাম ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন।

সেকেলে প্রথায় যেমন লাঙ্গল জোয়াল, মই হালের গরু দিয়ে চাষাবাদ করলেও সনাতনী প্রথায় কৃষকরা উৎপাদনমুখী ও সুখী সমৃদ্ধশীল জীবন যাপন করত। উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে তারা আনুষঙ্গিক খরচ ও অন্যান্য চাহিদা পূরণ করত। সামাজিক প্রথা ও রীতিনীতি অধিকাংশ মানুষ মেনে চলত। বিশেষ করে বাংলার কৃষকরা চাষ মৌসুমের আগে থেকে তোড়জোড় বা কৃষি কাজে ব্যবহৃত যাবতীয় সরঞ্জাম যেমনÑলাঙ্গল জোয়াল মই হালের বলদ ধান ভেজানো ডোল, ঝুড়ি, কোদাল এমনকি বর্ষা মৌসুম অবধি স্থায়ীভাবে কাজের লোক বা মসুমী রেখে মহাজন বা আভিজাত্যশালীরা কৃষি কাজ করাতো।

 

যাদের হালের বলদ ঘাটতি থাকতো তারা অপার কৃষকের নিকট থেকে বোটায় বা ধান চুক্তিতে হালের বলদ সংগ্রহ করতো। এও একটা প্রথা ছিল। আবার অনেকে আষাঢ় মাসে গরুর হাটে যেয়ে হালের বলদ কিনেও আনতো। বিনিময়ে কুড়ি পালিতে এক সলা, আট সলায় এক বিশ ধান চুক্তিতে মসুমী খাটত। এরা চাষের আনুষঙ্গিক সমস্ত কাজকর্ম করে (বীজতলা থেকে জমি রোপন পর্যন্ত) তারপর হাট থেকে কিসেন বা মজুর হাট চুক্তি কিনে এনে জমি রোপন কর তো।

বাংলার কৃষি ব্যবস্থায় আবহমান কালের এই সংস্কৃতি বিরাজমান ছিল। বাংলার কৃষি বাঙালি সংস্কৃতিতে চির প্রবাহমান সংস্কৃতির এক ফল্গুধারা, বলিষ্ঠ প্রবাহ। বর্ষা ঋতুকে কেন্দ্র করে বাঙালি সংস্কৃতি জাগ্রত। বর্ষা বাংলার চাষিকুলের এক ফলিত আশীর্বাদ। এর ঋতুতে বাংলার কৃষক পরিবার আনন্দে মেতে ওঠে। সমৃদ্ধির ফসলে ভরে তুলবে এই প্রতিষ্ঠ এই প্রত্যাশায়। বর্ষায় বিলম্ব বা ঘাটতি হলে নারী-পুরুষ মিলে ঈশ্বরের আরাধনা করে ঈশ্বরের আরাধনা করে। আল্লাহ বা ভগবান ‘মেঘ দে পানি দে’। ধুলোয় পানি ঢেলে গড়াগড়ি বায়। প্লাবন ও জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যথোপযোগী ভূমি রক্ষা বাঁধ না থাকায় পাবলিক বাঁধ দেওয়ার রেওয়াজ বা প্রথা ছিল। ভূমি মালিকগণ বা জনসাধারণের মতে, ভূমি রক্ষা বাঁধ বা ছোট ছোট বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে জনবসতি ও ফসলি জমি রক্ষা করতো।

 

অধিকাংশ সময় বিশেষ করে জোয়ারের সময় থালের ভাত ফেলে রেখে জনগণ এ কাজে সম্পৃক্ত হতো। সরকারিভাবে কোন উদ্যোগ না থাকলেও নিজেদের ভালো-মন্দ নিজেরাই একতা ও আবশ্যকতায় তা সম্পন্ন করে ফেলতো। একতাবদ্ধ ছিল তখনকার মানুষের সবচেয়ে বড় গুণ। শিল্প বিপ্লবের ফলে কৃষি ব্যবস্থা চরম অবনতি ঘটে। ইংরেজদের নীল চাষ দেশীয় কৃষকদের চরম হতাশার সৃষ্টি করেছিল। তথাপিও এ বাংলা আর কৃষিকে তারা ধ্বংস করতে পারেনি।

আধুনিক সভ্যতার যুগে নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়েও বাংলার কৃষি টিকে আছে। প্রযুক্তির যুগে কৃষি ব্যবস্থা টিকে থাকলেও আগের মত এখন আর কৃষকদের সুখ-শান্তি সুরক্ষা অনিশ্চিত। যা বাংলার কৃষক কুলের ভাগ্য বিড়ম্বনার সামিল। কৃষক কূলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। এক সময় মহাজনদের কাছে গরিব মধ্যবিত্ত কৃষকরা নিপীড়িত হয়েও তাদের অস্তিত্ব বিলীন হতে দেয়নি। তাদের কষ্টার্জিত ফসল ঋণের দায়ে মহাজনদের দিয়েও দেউলে হয়নি, তাদের যা সহায় সম্পদ ছিল তাতে উৎপাদন করে তারা টিকে ছিল। কিন্তু আজ বাংলার কৃষক কুল অসহায়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বিপর্যস্ত। রাষ্ট্রীয় সহানুভূতি ক্ষীণ।

 

অধিকার সুরক্ষা অনিশ্চিত। কৃষিতে নানা অন্তরায়। আভিজাত্য ও প্রভাবশালীরা জবর দখলে কৃষকদের যৎসামান্য কৃষি জমিতে লবণাক্ততা সৃষ্টি করে তাদের ভাতে মেরে দিচ্ছে। বাস্তব ভিটা পর্যন্ত কেড়ে নেচ্ছে। বাংলার কৃষি আজ বিপন্ন নানা প্রতিকূলতায়। দূর্জয় বাঙালির কত সাধনার ফল এদেশের মাটি স্বাধীনতার স্পর্শে হয়েছে খাঁটি এই সোনার বাংলায় কিন্তু বলা বাহুল্য ঘুচেনি মেহনতী গরিব কৃষকদের দুর্গতি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোদ্দুরে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে যে চাষা জাতির খাদ্য যোগায় তারা কেন অবহেলিত বঞ্চিত। ইতিপূর্বে উন্মুক্ত জনসাধারণের ব্যবহার্য খাসখালগুলোও প্রভাবশালীরা প্রভাব বিস্তার করে নিজেদের অধীনস্থ করে রেখেছে।

 

পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধা গ্রস্ত। যার ফলশ্রুতিতে জলবদ্ধতা ফসলের ক্ষতি সহ বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও নিরন্ন-দরিদ্র অসহায় কৃষককুলের আমিষ ঘাটতি অবশ্যম্ভাবী। এমতাবস্থায় কৃষি ব্যবস্থার চরম অবনতি। জাতির প্রাণসঞ্চারিকা অবরুদ্ধ দিনে দিনে বাংলার কৃষক কুল অসহায় হয়ে পড়ছে রাষ্ট্রীয় সহানুভূতি অপ্রতুল। কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন না হলে দেশের উন্নয়ন পূর্ণতা প্রাপ্ত হয় না। কৃষি-ই কৃষি প্রধান দেশে মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম অবলম্বন।

১৯৪৭ সালে ডমিনিয়ান ভাগ হওয়ার পর তৎকালীন সরকার সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা উর্বর ভূমির স্বার্থক উৎপাদন ও জন সুরক্ষায় লবণাক্ততা ও জলোচ্ছ্বাস প্লাবন নিরাময়ে উপকূলীয় রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে এ জনপদে মেহনতী মানুষ ও কৃষককূলের স্বার্থ সংরক্ষণ করে। ফলে গবাদি পশু হাঁস মুরগিও নানাবিধ ফসল উৎপন্ন করে অতি দরিদ্র মানুষও ভাগ্য পরিবর্তন করে। অথচ আজ সেই রক্ষা বাঁধ কেটে লবণাক্ততা সৃষ্টি করে প্রভাবশালীরা প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট সহ গরিব মেহনতী মানুষের অবর্ণনীয় দুর্দশায় ফেলেছে। যার থেকে পরিত্রাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

 

কৃষকরা দেশের জনগণের খাদ্য যোগায় অথচ এই কৃষকরা আজ সভ্যতার করাল গ্রাসে নিপতিত। কবির ভাষায়,” সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা।” রৌদ্রে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে চাষীকূল মানুষের খাদ্য যোগায়। অথচ অট্টালিকা বাসি তাদের কথা কখনো ভাবে না বরং তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে দূরে সরিয়ে দেয়। অথচ কত প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিক নাট্যকার রাজনৈতিক প্রবক্তা বাংলার কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে সংস্কৃতির অঙ্গন মাতিয়ে তুলেছেন। যা অনেকেই হিসাব রাখে।

 

বাংলার কৃষি-ই বাঙালি জীবন্ত সত্তা। যা বাঙালি সংস্কৃতিতে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। বাঙালি ঐতিহ্য নির্ভর কৃষি। অপসংস্কৃতির বিষাক্ত ছোবলে শুদ্ধ সংস্কৃতি আক্রান্ত। অট্টালিকায় বাস করলেও কৃষকদের কুড়ে ঘরের নিবিড় শান্তি কত মাধুর্যময় ছিল। রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপনায় কৃষক ও কৃষি ব্যবস্থার সুরক্ষা ও উন্নয়ন একান্ত অনিবার্য। তবেই এই বাংলার ভাগ্যাহত কৃষককূল স্বস্তির প্রাণ সঞ্চালন ফিরে পাবেÑএই প্রত্যাশায়।

Ads small one

কালশীর বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
কালশীর বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানী মিরপুরের কালশী এলাকার বস্তিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৫ ইউনিটের দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের প্রচেষ্টার পর সোমবার (২৫ মে) রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে, আজ সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। তবে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্যমতে, আজ সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে কালশীর একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় তারা। ৭টা ৩২ মিনিটে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। পরবর্তীতে ১৫টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের প্রচেষ্টার পর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

গাজায় টানা তৃতীয় বছরেও ফিলিস্তিনিদের ‘ঈদ নেই’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
গাজায় টানা তৃতীয় বছরেও ফিলিস্তিনিদের ‘ঈদ নেই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বছরের এই সময়টাতে সাধারণত পবিত্র ঈদুল আজহার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন মাজেন আল-জেরজাউই। কোরবানির পশুর খোঁজে গাজাবাসী যখন এদিক-ওদিক ছুটতেন, তখন তিনি নিজের খামারে লালন-পালন করা শত শত ভেড়া ও ছাগল বিক্রি করতেন।

তবে সেই দিন এখন শুধুই অতীত। গাজার অন্যতম শীর্ষ পশু খামারি হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি এখন কেবল একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালান। যেখানে ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় আসা হিমায়িত মাংসের ওপর নির্ভর করতে হয় তাকে।

গাজা সিটির বাসিন্দা জেরজাউই বলেন, ‘বছরের এই সময়ে আমি প্রায় ২০০টি ভেড়া ও গরু বিক্রি করতাম। আজ আমার কাছে একটিও পশু নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় কোনও জীবন্ত পশু একেবারেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ইসরায়েল গাজার মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করছে যেন তারা এখানে সাময়িকভাবে বসবাস করছে এবং যা কিছু অনুমতি দেওয়া হচ্ছে তা কেবল ন্যূনতম স্তরে কোনও রকমে টিকিয়ে রাখার জন্য।’

ঈদুল আজহা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। এই উৎসবে সামর্থ্যবান মুসলমানরা ঈদের নামাজের পর ভেড়া, ছাগল, গরু বা উট কোরবানি দেন এবং সেই মাংস পরিবার, প্রতিবেশী ও অভাবীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে, কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে গাজা প্রতি বছর ঈদের আগে ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার ভেড়া ও বাছুর আমদানি করত। কিন্তু ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা ও অবরোধের কারণে গাজার ফিলিস্তিনিরা টানা তৃতীয় বছরের মতো এই উৎসবের প্রধান ঐতিহ্য পালন করতে পারছে না।

বিলুপ্তির পথে গাজার গবাদিপশু

গাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলা এবং পণ্য ও কৃষি সরঞ্জাম চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের কারণে গাজার গবাদিপশু খাতের ৯০ শতাংশের বেশি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় পশু উৎপাদন ধ্বংসের পাশাপাশি গাজায় জীবন্ত পশুর প্রবেশও বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল, যা এই ভঙ্গুর সাপ্লাই চেইনকে আরও সংকটে ফেলেছে।

এর ফলে পশুর দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে গাজায় একটি ভেড়ার দাম ছিল সাধারণত ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার। এখন হাতেগোনা যে কয়েকটি পশু অবশিষ্ট রয়েছে, তার একেকটির দাম ৭ হাজার ডলার পর্যন্ত উঠছে।

জেরজাউই বলেন, ‘আমি ভেড়া বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি কারণ গাজায় গবাদিপশু অত্যন্ত দুর্লভ হয়ে পড়েছে।’ তিনি জানান, প্রবাসে থাকা ফিলিস্তিনিরা এখনও গাজায় তাদের আত্মীয়দের পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়ার জন্য পশু কিনতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, কিন্তু তিনি তাদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেন।

জেরজাউই বলেন, ‘আমি তাদের বলি যে, একটি ভেড়ার পেছনে এত টাকা খরচ না করে ৫০ কেজি হিমায়িত মাংস কেনা অনেক ভালো। একটি ভেড়ার জন্য ২০ হাজার শেকেল (৭ হাজার ডলার) খরচ করার চেয়ে এই টাকা দিয়ে একটি দম্পতির বিয়ের খরচ চালানো সম্ভব।’

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসের মধ্যেই গাজার অন্তত ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল যুদ্ধের কারণে মারা গেছে বা হত্যা করা হয়েছে। একসময় যা ছিল গাজার তাজা মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের শেষ নির্ভরযোগ্য উৎস, সেই গবাদিপশু খাত এখন কার্যত নিশ্চিহ্ন। এর ফলে গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হয়েছে।

এই ধ্বংসযজ্ঞ শুধু পশুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। খামার, গোয়ালঘর, পশুখাদ্যের গুদাম ও পশু চিকিৎসা ক্লিনিকগুলো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। পশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি এই খাতকে সম্পূর্ণ ধসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

জেরজাউই বলেন, ‘পশুগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা পাস্তা এবং যা পেয়েছি তা-ই খাইয়েছি। কিন্তু পাশের একটি বাড়িতে বোমা হামলার পর আমার অনেকগুলো ভেড়া মারা যায়। গাজার বেশির ভাগ পশু মালিকের ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটেছে; বিমান হামলার কারণে আমরা আমাদের পশু হারিয়েছি।’

তিনি জানান, বারবার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনাটি এই খাতের ওপর শেষ আঘাত হেনেছে। বোমাবর্ষণ থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারগুলো তাদের পশুর যত্ন নিতে পারেনি এবং অনেক সময় বাধ্য হয়ে যে দামে পাওয়া যায় সেই দামেই পশু জবাই বা বিক্রি করে দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি উচ্ছেদ আদেশের সঙ্গে সঙ্গে গাজায় গবাদিপশুর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। আমি যখন বাস্তুচ্যুত হই, তখন বোমার আঘাতে যেন মারা না যায় সেজন্য তড়িঘড়ি করে পশুগুলো জবাই করতে বা বিক্রি করতে বাধ্য হই। একসময় আমার মালিকানাধীন সব পশু এভাবেই বিক্রি হয়ে যায়। অত্যন্ত চড়া দামে আটা ও মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য আমি যে দামে পেরেছি এগুলো বিক্রি করেছি। শেষ পর্যন্ত, একজন মানুষ নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের রক্ষা করার চেষ্টা করার পাশাপাশি কীভাবে গবাদিপশুর যত্ন নেবে?’

‘নেই কোনও ঈদ’

গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ভেড়া ও ছাগলের সংখ্যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের প্রায় ৬০ হাজার থেকে কমে আজ মাত্র ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। আর বাছুর ও গরু তো প্রায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাফাত আসালিয়া বলেন, ‘এখনও যে অল্পসংখ্যক ভেড়া ও ছাগল বেঁচে আছে, তা যাযাবর রাখালদের কাছে রয়েছে এবং সেগুলো ঈদের মৌসুমে বিক্রির জন্য পাওয়া যাচ্ছে না।’ তিনি আরও জানান, পানির কূপগুলো সচল করতে না পারায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে, যার ফলে এই খাতের পুনরুদ্ধারের আর কোনও বাস্তব উপায় বা সম্ভাবনা অবশিষ্ট নেই।

আসালিয়া বলেন, ‘এটি এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা হাজার হাজার পরিবারকে ঈদের কোরবানি দেওয়া থেকে বঞ্চিত করছে।’

গাজার অনেক ফিলিস্তিনির কাছে এই উৎসবটি এখন প্রায় অচেনা হয়ে পড়েছে। গাজা সিটির একজন স্কুলশিক্ষক মুহাম্মদ আবু রিয়ালা আগে প্রতি বছর কোরবানি দিতেন। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমরা তিন বছর ধরে ঈদ উদযাপন করি না। কোরবানির সেই আচার এবং অন্যের সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ বিলীন হয়ে গেছে। কোরবানি ও ভাগ করে নেওয়ার সামর্থ্য না থাকলে সেখানে কোনও ঈদ নেই।’

আবু রিয়ালা জানান, জীবন্ত পশুর অনুপস্থিতি সংকটের একটি অংশ মাত্র, অনেক পরিবার এখন মৌলিক খাদ্য জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কোনও জীবন্ত পশু নেই, আর বেশির ভাগ পরিবারের কোনও কিছু ভাগ করে নেওয়ার সামর্থ্যও নেই। অনেকে কোনও রকমে দৈনিক খাবার জোগাড় করছে এবং কেউ কেউ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত মাংসও খায়নি। গাজায় যা প্রবেশ করে তা সীমিত এবং তা সম্পূর্ণভাবে সীমান্ত ক্রসিং বা পারাপারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে, যার অর্থ দাম অত্যন্ত চড়া থাকে।’

জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ নাগাদ গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৭৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৬ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি ছিল। যুদ্ধবিরতি হওয়া সত্ত্বেও মানবিক সহায়তা এবং বাণিজ্যিক পণ্যের ওপর ইসরায়েলের কঠোর ও প্রায়শই অননুমেয় বিধিনিষেধ এবং বারবার সীমান্ত বন্ধের কারণে এই সংকট আরও খারাপের দিকে গেছে। এর ফলে মৌলিক খাদ্যসামগ্রী প্রায়শই বাজার থেকে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যায় এবং গাজায় কী পণ্য ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে দামের তীব্র ওঠানামা ঘটে।

আবু রিয়ালা বলেন, গবাদিপশুর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা গাজার হাজার হাজার পরিবারকে টিকিয়ে রাখা একটি সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘যদি গাজায় গবাদিপশু প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো, তবে এটি অনেক পেশাকে বাঁচিয়ে রাখত, যেমন- পশু চিকিৎসক, পশু খামারি, গোবর বা জৈব সারের ওপর নির্ভরশীল কৃষক, কসাই এবং রেস্তোরাঁ মালিকরা এর সুবিধা পেতেন। কিন্তু ইসরায়েল তা চায় না। তারা সমাজকে পঙ্গু করে দিতে চায় এবং একে স্বাবলম্বী হওয়া থেকে বিরত রাখতে চায়।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আমার বিশ্বাস ছিল, আমি মাসুদ রানা হবো: রাসেল রানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আমার বিশ্বাস ছিল, আমি মাসুদ রানা হবো: রাসেল রানা

বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে রোমাঞ্চের ঝড় তোলা সেবা প্রকাশনীর কালজয়ী স্পাই চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ এবার আসছে রূপালী পর্দায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নানামুখী অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আগামী ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এই সিনেমাটি।

গতকাল (২৪ মে) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিনেমাটির প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশ ও আনুষ্ঠানিক প্রচারণার ঘোষণা দেওয়া হয়। জমকালো এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে নিজের দীর্ঘ জার্নি ও অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সিনেমার মূল চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ অর্থাৎ অভিনেতা রাসেল রানা।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আপনারা সবাই জানেন যে মাসুদ রানা সবাই লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তো এবং মুরুব্বিদের সাথে এখানে কিছু ঝামেলা ছিল। তো, আমার বাবাও আমাকে পড়তে দিত না। আমার বাবা মাসুদ রানার অনেক বড় ফ্যান ছিল। উনি মাসুদ রানার বই পড়তেন এবং আমাদের বাসায়ও মাসুদ রানার বই ছিল। আমি দেখতাম ওই বইগুলো, বাট আমি ওইভাবে পড়তাম না কারণ আমি ফ্যান ছিলাম হচ্ছে ঐ কিশোর উপন্যাস বা টিন উপন্যাসের।”

 

জেমস বন্ডের প্রতি নিজের ভালোলাগার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “জেমস বন্ডের আমি অনেক বড় ফ্যান ছিলাম এবং জেমস বন্ডের মুভিগুলো দেখেই আমি বড় হয়েছি—পিয়ার্স ব্রসনান থেকে শুরু করে ড্যানিয়েল ক্রেইগ পর্যন্ত। ওনাদের মুভিগুলো দেখার পর আমি যখন জানতে পারলাম যে আমাদের বাংলাদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স, বিসিআই-এর একজন এজেন্ট হচ্ছে এই মাসুদ রানা ক্যারেক্টার এবং সে হচ্ছে বাংলাদেশের বলতে গেলে জেমস বন্ড, তো তখন আমার আগ্রহটা তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যায় যে না, আমার মাসুদ রানার সবগুলো বই পড়তে হবে।”

‘কে হবে মাসুদ রানা’ রিয়েলিটি শো-র মাধ্যমে এই পথচলার শুরুটা মনে করিয়ে দিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আমি বেশ কিছু বই পড়ি। পড়ার পর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়। হঠাৎ একদিন দেখলাম ‘কে হবে মাসুদ রানা?’। এটা দেখার পর আমি টোটালি অ্যামেজড—ও মাই গড! মানে, আমি মাসুদ রানার এত বড় ফ্যান, আর এই রিয়েলিটি শোটা হচ্ছে মাসুদ রানাকে খোঁজার জন্য! সো, আই থিংক দিস ইজ দ্য টাইম।”

 

সব প্রতিকূলতা জয় করার গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, “সবকিছু শেষ করে, প্রতিকূলতা পার করে, ফাইনালি আমি সিলেক্ট হই। তো, আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি মাসুদ রানা হব। এরপর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়, আমরা মুভিটা শুরু করি এবং ফাইনালি আমরা মাসুদ রানা কমপ্লিট করতে পারি।”

নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্নের মঞ্চে দাঁড়ানোর অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সবসময় আয়নার সামনে দাঁড়াই এবং নিজেকে বলি যে তোমাকে করতে হবে, তুমি পারবে। এই জিনিসটা আমি সবসময় নিজেকে বলি। তো, আজকেও আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এই কথাটাই বলেছি যে এই মঞ্চে, এই পোডিয়ামের সামনে দাঁড়াতে পারাটা অনেক দিনের একটা স্বপ্ন ছিল। আজকে আমি এখানে দাঁড়াতে পারছি, এজন্য আসলে আমি অনেক ইমোশনালি ওভারহোয়েল্মড এবং ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না যে কী বলবো। যা মুখে আসছে, যতটুকু কথা বলতে পারছি, আমি বলছি। আর যেহেতু এটা আমার ফার্স্ট মুভি, সো আমার মনে হয় যে কথাগুলো গুছিয়ে বলতে পারছি না।”

 

পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে রাসেল রানা বলেন, “আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে আমার যেটা স্বপ্ন ছিল, এই পোস্টারের মাধ্যমে আমার স্বপ্নটা আমার সামনে দেখতে পাচ্ছি। এবং ইনশাল্লাহ আগামী ঈদে এই মুভিটা রিলিজ হতে যাচ্ছে। আশা করি মুভিটা আপনাদের সবার ভালো লাগবে।”

প্রসঙ্গত, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সৈকত নাসির। সিনেমাটিতে নামভূমিকায় রাসেল রানা ছাড়াও ‘সোহানা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি এবং ‘অবনিতা’ চরিত্রে দেখা যাবে সৈয়দা তিথি অমনিকে।

উল্লেখ্য, সিনেমাটির প্রথম অফিশিয়াল পোস্টারটি তৈরি করা হয়েছে সেবা প্রকাশনীর সেই চেনা ক্লাসিক বইয়ের প্রচ্ছদের আদলে, যা পাঠকদের মাঝে নতুন করে নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ছবিটি আগামী ঈদুল আজহায় দেশের বড় বড় প্রেক্ষাগৃহ ও মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে একযোগে মুক্তি পাবে।