শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

আব্বুর জন্য কাঁদছে আট মাসের শিশু আরহাম: আমি ওরে কই পাব?: নিহত শামীমের স্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
আব্বুর জন্য কাঁদছে আট মাসের শিশু আরহাম: আমি ওরে কই পাব?: নিহত শামীমের স্ত্রী

ফেসবুক লাইভের উসকানি কাড়লো মানসিক রোগীর প্রাণ

আসাদুজ্জামান সরদার: আট মাসের অবুঝ শিশু আরহাম কিছু বোঝে না। সে শুধু চেনে এক জোড়া চেনা কোল, আর এক অচেনা ভালোবাসার ডাক। ঘুমের ঘোরে ও জাগরণে শিশুটি থেকে থেকে আধো আধো শব্দে ‘আব্বুৃ আব্বুৃ’ বলে ডাক পাড়ছে। নিস্তব্ধ ঘরটাতে থেকে থেকে কেঁদে ওঠা শিশুটিকে শান্ত করার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন মা নাজমা খাতুন। পাশে বসে চোখ মোছারও শক্তি যেন হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বিলাপ করছেন, “আমার সোনাটা ঘুমাইতে আব্বা আব্বু করতেছে। আমি তো ওর আব্বুর কাছে দিতে পারতিছ নে। ওর আব্বুর জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে অরে ওর আব্বুরে আমি কোথায় পাব?

যাঁর বুকে মাথা গুঁজে শিশুটির ঘুমোনোর কথা ছিল, সেই ওয়াহিদুজ্জামান শামীম আর কোনোদিন ফিরবেন না। গত সোমবার সন্ধ্যায় সামান্য পারিবারিক বচসার জের ধরে এক প্রতিবেশীর গোপনে রেকর্ড করা অডিও, তারপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো উসকানিমূলক তা-বে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এই মানসিক রোগাক্রান্ত যুবককে।

শামীম নিয়মিত অসুস্থ থাকতেন। মাথায় গ-গোল দেখা দিলে এলোমেলো হয়ে যেতেন, কিন্তু কারো ক্ষতি করতেন না। নিজের জীবন চালাতে কখনো মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতেন, কখনো হোটেলে কাজ করতেন। মাদ্রাসা থেকে পাস করা শামীমের মুখে সবসময় থাকত হাদিস ও কোরআনের বাণী। দৈনিক দুই-তিনটা করে ওষুধ না খেলে সুস্থ হতে পারতেন না। টানা ওষুধ খাওয়ার টাকা জোগাড় করতে মানুষকে ধরে ঘুরে ঘুরেই টাকা আনতে হতো তাকে। ওষুধ না থাকলে ঘরের এক কোণে কিংবা নিজের মতো শুয়ে কাটিয়ে দিতেন।

অশ্রুসজল চোখে স্ত্রী নাজমা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী তো মানসিক রোগী, ওষুধ ছাড়া একটা দিনও চলতে পারত না। জুতোও ছিল না পায়ে। এমনও দিন গেছে সপ্তাহকে সপ্তাহ সে নিজে নিজে শুইয়ে জীবন কাটাইছে, দুটো ভাতও খেতে পারত না। এতটুকু অসুস্থ মানুষের সাথে কে শত্রুতা করবে? কেন তারে এভাবে মারল?”

হঠাৎ হঠাৎ শামীমের মাথা গরম হয়ে যেতে এবং স্ত্রীকে মারধর করতেন। ঘটনার দিন শামীমের মাথা গরম হলে স্ত্রী নিজেই বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন পরিস্থিতি ঠান্ডা হওয়ার আশায়। কারণ নাজমা জানতেন, মানসিক রোগী হওয়ায় ঘণ্টাখানেক পর শামীমের মাথা অবশ থেকে আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু স্থানীয় এক ব্যক্তি ঘরের ভেতরের তাদের বাকবিত-ার কথা গোপনে অডিও রেকর্ড করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এরপর তথাকথিত ‘ধর্মীয় অবমাননার’ তকমা দিয়ে ফজলুল হক আমিনী নামে এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে ‘তৌহিদী জনতা’ আহ্বান করে এক অসুস্থ মানুষকে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

ক্ষোভ আর কষ্টে নাজমা প্রশ্ন তুলেছেন সমাজের বিবেক নিয়ে- আমার স্বামী যদি ভুলও করত, অন্যায় তো করেছিল আমার সাথে। আমি তো কোনো বিচার চাইনি। কারণ আমি জানি মানসিক রোগী সে, একটু পরেই মাথা ঠান্ডা হয়ে আমাদের মিল হয়ে যেত। আর সে যদি সত্যিই অন্যায় করে থাকত, দেশের পুলিশ ছিল, পাগলা গারদ ছিল, জেলে দিত বা ফাঁসি দিত। দুনিয়া থেকে সরায়ে দিল কেন?

১২ বছরের এক ছেলে আর আট মাসের এই দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে এখন ঘোর অন্ধকারে নাজমা। উপার্জনের একমাত্র মানুষটা হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারটি এখন বেঁচে থাকার তাগিদে দিশাহারা। মানুষ ধরে কাজ করবেন, কোলে আট মাসের বাচ্চার কারণে সেই শক্তিও এখন তাঁর নেই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাজমা খাতুন বলেন, “আমার সংসার কীভাবে চলবে এখন? ছোট দুটি সন্তানকে যারা এতিম করে দিল, তারা এখন এই অবুঝ বাচ্চাদের ও আমার দায়িত্ব নিক। আমার স্বামী তো আর ফিরে আসবে না, কিন্তু আমাদের এখন কী হবে?”

স্থানীয় এই সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম অপব্যবহার করে নৃশংসতা ও মর্মান্তিক হত্যাকা-ের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করেছেন। দুটি পিতৃহারা সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এখন প্রহর গুনছেন এই অসহায় নারী।

 

প্রসঙ্গত: এঘটনায় নিহত শামীমের বড় ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় পারুলিয়া এলাকার ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে পুলিশি অভিযানে এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি মোক্তার হোসেন এবং অন্য আসামি আসাদুল মোল্লাসহ মোট দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

 

Ads small one

সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলীর আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলীর আহ্বান

সাতক্ষীরার মায়ের বাড়ি মন্দিরে আলোচনা সভা

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার মায়ের বাড়ি মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে সব ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি বলেন, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের ধারা বজায় রাখতে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তারিকুল হাসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শের আলী, সাতক্ষীরা জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. আব্দুস সামাদ, জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক ও সাবেক কাউন্সিলর আইনুল ইসলাম নান্টা, সাতক্ষীরার জিপি অসীম কুমার ম-ল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভুট্টো, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল মামুন রাজু, জেলা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক আহসানুল কাদির স্বপন, জেলা বিএনপির সদস্য প্রভাষক আতাউর রহমান, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক সিকদার, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু রায়হান ও সাধারণ সম্পাদক দুদায়াভ মাসুদ অর্ঘ্য। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা মন্দির সমিতির সভাপতি সোমনাথ ব্যানার্জি।

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: জনবসতি ও পৌরসভার অভ্যন্তরে বেআইনি ইটভাটা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: জনবসতি ও পৌরসভার অভ্যন্তরে বেআইনি ইটভাটা

সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভার সোনারমোড় এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের কোনো অনুমতি ব্যতিরেকেই বহাল তবিয়তে দুটি বৃহৎ ইটভাটা গড়ে তোলার খবর উদ্বেগজনক। ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী, পৌরসভা এলাকা, জনবসতি, কৃষিজমি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি স্থানে ইটভাটা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ সব আইনি বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনবসতি, বাজার, মাদ্রাসা ও কলেজের অতি সন্নিকটে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনে স্পষ্ট যে, স্থানীয় অধিবাসীরা অতীতেও এই ইটভাটাগুলোর কারণে শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি, কৃষিজমির ক্ষতি এবং পরিবেশদূষণের নির্মম শিকার হয়েছেন। নতুন করে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে এই জিগজ্যাগ ইটভাটা দুটি নির্মাণের প্রক্রিয়া স্থানীয় জনজীবন, কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং আশপাশের পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল পৌরসভার একটি ট্রেড লাইসেন্সকে পুঁজি করে কীভাবে ছাড়পত্র ছাড়া এমন পরিবেশবিনাশী কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের অজ্ঞাতে পৌরসভার অভ্যন্তরে এ ধরনের মেগা স্থাপনা তৈরি হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ইটভাটা দুটিকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ বা ‘অবৈধ’ আখ্যা দিলেও সেগুলোর নির্মাণকাজ সচল থাকা প্রমাণ করে যে তদারকির ক্ষেত্রে বড় ধরনের শৈথিল্য রয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শুধু আইনি পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া যথেষ্ট নয়, বরং দৃশ্যমান ও কঠোর উচ্ছেদ অভিযান এখন সময়ের দাবি।

পৌরসভা এলাকা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যেকোনো মূল্যে এই অবৈধ নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথ অভিযানের মাধ্যমে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেÑএমনটাই প্রত্যাশা।

কলারোয়ায় পূজাম-পে শাড়ি বিতরণ করলেন জেলা যুবদল নেতা চন্দন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় পূজাম-পে শাড়ি বিতরণ করলেন জেলা যুবদল নেতা চন্দন

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজাম-পে নারীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল ইসলাম চন্দন।
দুর্গাপূজার সপ্তমীতে উপজেলার তুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া মাতৃ পূজা মন্দিরে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সহযোগিতায় নারীদের হাতে শাড়ি তুলে দেন তিনি। এ ছাড়া উপজেলার গোপীনাথপুর দক্ষিণ ও মুরারিকাটি দক্ষিণ পূজাম-পেও অনুরূপভাবে শাড়ি বিতরণ করেন মমতাজুল ইসলাম চন্দন। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত এ শাড়ি বিতরণকালে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় মমতাজুল ইসলাম চন্দন বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু আনন্দ ও উৎসবের উপলক্ষ নয়, এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তাও বহন করে। তিনি সবাইকে আনন্দ-উৎসাহের মধ্য দিয়ে শারদীয় উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।
শাড়ি বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কলারোয়া উপজেলা শাখার সভাপতি প্রকাশ চন্দ্র হালদার, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাস (দেবু), স্বপন কুমার পাল, নিশীত রায় চৌধুরী, প্রদীপ পাল (ঝুনি), চয়ন কুমার কু-ু, সরজিত, জয়ন্ত, শম্ভু, রঞ্জিত, দীপক ঘোষ, অমিত চৌধুরী ও অসিত ঘোষসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।