মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

‘আমি গরিবের ছেলে, লোভ সামলাতে পারিনি’, জবানবন্দিতে ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
‘আমি গরিবের ছেলে, লোভ সামলাতে পারিনি’, জবানবন্দিতে ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদ

‘আমি গরিবের ছেলে। আমি টাকার লোভ সামলাতে পারিনি। আমি ক্ষমা চাই।’ সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শাম্মি আহম্মেদের বাসায় গিয়ে চাঁদা দাবি ও টাকা আদায়ের মামলায় আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির শেষ দিকে এ কথা বলেছেন আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে মামলা ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতেন।

শাম্মি আহম্মেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ১০ লাখ টাকা আদায়ের এই মামলায় রিয়াদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আহমেদ মুন্সী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আগামী ১০ নভেম্বর মামলাটির শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অভিযোগপত্রের অন্য আসামিরা হলেন জানে আলম অপু, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন এবং একজন শিশু। মামলার ছয় আসামিই বর্তমানে জামিনে আছেন। তাদের মধ্যে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

চাঁদাবাজির কৌশল ও রিয়াদের স্বীকারোক্তি

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রিয়াদ চাঁদার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। নিজেকে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে ‘ফ্যাসিবাদী লোকজন’ গ্রেফতারের ক্ষেত্রে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করেন।

জবানবন্দিতে রিয়াদ বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই রাতে শাম্মি আহমেদ গুলশানের বাসায় আছেন, এমন খবর পেয়ে তারা থানায় যান। পরে পুলিশের একটি দল তাদের সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে শাম্মিকে পাওয়া যায়নি। বাসা থেকে ফেরার সময় জানে আলম অপু একটি ইয়ারপড নিয়ে আসেন। সেটিতে ‘শাম্মি ইয়ারপড’ লেখা ছিল। সেটি ফেরত দেওয়ার জন্য তারা পরদিন সকাল ১০টার দিকে আবার ওই বাসায় যান। অপু পানি খাওয়ার অজুহাতে বাসার ভেতরে ঢোকেন।

এরপর বাদীকে বলা হয়, তারা বুঝতে পারছেন তার স্ত্রী বাসায় আছেন এবং তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হবে। বাদী টাকা দিতে রাজি হলে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। বাদী ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তারা তাতে রাজি হন। পরে ওই টাকা নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে সমান ভাগ করে নেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন রিয়াদ।

বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের বিষয়ে রিয়াদ বলেন, ২৬ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে তিনি ইব্রাহিম হোসেন, সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাবকে ওই বাসায় পাঠান। তার ভাষ্য, পুলিশ তাকে ফাঁদে ফেলার জন্য বাসায় যেতে বলে। তখন তিনি গোলচত্বরে অবস্থান করছিলেন। পুলিশের কথা বিশ্বাস করে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর বাদী থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে তাদের হাতেনাতে আটক করে।

সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আসামিরা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সক্রিয় কর্মী পরিচয় দিয়ে এ ধরনের চাঁদাবাজি করতেন। সমন্বয়ক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তারা নিয়মিত থানায় যাতায়াত করতেন। বিভিন্ন মামলার আসামি আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও তাদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন।

পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের দোসর, সহযোগী বা সমর্থক আখ্যা দিতেন আসামিরা। মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানির ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি ও আদায় করতেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিয়াদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আগে আলোচনা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য হন। গ্রেফতারের পর তাকে সংগঠনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

৫ আগস্টের পর জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন

রিয়াদের গ্রেফতারের খবর প্রকাশের পর তার নিজ জেলা নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নেও আলোচনা শুরু হয়। সে সময় স্থানীয়দের বক্তব্যে তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা এবং ৫ আগস্টের পর জীবনযাপনে পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে আসে।

২০২৫ সালের ২৮ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াদের দাদা ওয়ালীউল্যাহ রিকশা চালাতেন। তার বাবা আবু রায়হানও আট বছর আগেও রিকশা চালাতেন। পরে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের আয়ও সংসারে ব্যয় হতো। দরিদ্র পরিবারের দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট রিয়াদ। তার মা গৃহিণী ছিলেন এবং একসময় অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নবীপুর হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাসের পর রিয়াদ কোম্পানীগঞ্জের সরকারি মুজিব মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। একপর্যায়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন।

ওই সময় রিয়াদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরোনো ঘরের পাশে পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। দামি গাড়িও কিনেছেন তিনি। পরিবারের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে তার নতুন জীবনযাপনের এই পার্থক্য দেখে বিস্ময়ের কথা জানিয়েছিলেন স্থানীয়রা।

রিয়াদের পাশের বাড়ির এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছিলেন, ‘রিকশা চালানোর মাধ্যমে যে পরিবার চলতো, দিন এনে দিন খেতে হতো; সেখানে ৫ আগস্টের পর রিয়াদের বিলাসী জীবনযাপন, ছাদ ঢালাই করে পাকা বাড়ি নির্মাণ করা দেখে আমরা অবাক হয়েছি।’

নবীপুর হাই স্কুলের সাবেক সভাপতি শিহাব উদ্দিনও রিয়াদের পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা জানিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, দরিদ্র রিকশাচালক বাবার পক্ষে লেখাপড়ার খরচ বহন করা সম্ভব না হওয়ায় স্কুলের সবাই মিলে রিয়াদকে পড়াশোনায় সহযোগিতা করতেন। এমন একজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠায় বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

রিয়াদের মা সে সময় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, তার ছেলে চাঁদাবাজি করতে পারে, তা তিনি বিশ্বাস করেন না। তার দাবি ছিল, কেউ ষড়যন্ত্র করে ছেলেকে চাঁদাবাজ বানিয়েছে।

২০২৫ সালের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফেসবুকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ছবি পোস্ট করতেন রিয়াদ। তার ছবিতে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টাকেও দেখা গেছে।

মামলার বিবরণ

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গুলশান থানায় মামলাটি করেন শাম্মি আহম্মেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফর (৭৫)। আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্যের পরিবার গুলশান-২-এর ৮৩ নম্বর সড়কের একটি বাসায় থাকতেন। সেখানেই চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে শাম্মি আহম্মেদের বাসায় অভিযান চালান আসামিরা। তাকে না পেয়ে পুলিশ চলে যাওয়ার পর আসামিরা আবার ওই বাসায় যান। এ সময় শাম্মির স্বামীকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তারা। পরে ১০ লাখ টাকা আদায় করেন। কয়েক দিন পর ২৬ জুলাই বিকেলে বাকি ৪০ লাখ টাকা নিতে ওই বাসায় যান তারা। বাদী সঙ্গে সঙ্গে গুলশান থানায় খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আবদুর রাজ্জাক, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন ও কিশোর আমিনুল ইসলামকে আটক করে। পরে গ্রেফতার হন জানে আলম অপু।

Ads small one

গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন আমির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২০ পূর্বাহ্ণ
গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন আমির

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে দামি টি-টোয়েন্টি লিগ আইপিএলে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে মোহাম্মদ আমিরের। এমন গুঞ্জন ছড়ালেও পাকিস্তানের সাবেক এই বাঁহাতি পেসার জানিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন আইপিএল নিলামে নাম লেখানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

ক্রিকবাজকে দেওয়া বার্তায় ৩৩ বছর বয়সী আমির নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুবাই থেকে পাঠানো বার্তায় আইপিএল নিলামে নিবন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘না, আমি নিবন্ধন করছি না।’

আগামী ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আইপিএল ২০২৭-এর নিলাম। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আইপিএলে খেলার অনুমতি না থাকায় দেশটির খেলোয়াড়েরা দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রতিযোগিতার বাইরে। তবে সম্প্রতি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ায় আমিরের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

আইপিএলের উদ্বোধনী আসরের পর থেকে পাকিস্তানের কোনো ক্রিকেটার এই লিগে খেলেননি। তবে ব্রিটিশ পাসপোর্ট থাকায় পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার আজহার মাহমুদ কয়েক মৌসুম আইপিএলে খেলেছিলেন। আমিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তার ক্ষেত্রেও একই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যদিও নিলামে নাম লেখালেই দল পাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল না।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) সোমবার জানিয়েছে, আইপিএল নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী বিদেশি ক্রিকেটাররা নিজ নিজ দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া। ইংল্যান্ডে এখন স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আমির চাইলে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) মাধ্যমে নিলামে নাম লেখাতে পারতেন।

ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ইতোমধ্যে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবেই খেলেছেন আমির। দ্য হান্ড্রেডে নটিংহ্যামভিত্তিক দল ট্রেন্ট রকেটসের হয়ে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে সোমবার যুক্তরাজ্যের নাগরিক হিসেবে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের (এপিএল) প্লেয়ার্স ড্রাফটে নিবন্ধন করেছেন আমির। অর্থাৎ আইপিএলে আগ্রহ না থাকলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলার সুযোগ খুঁজছেন এই পেসার।

চলতি বছরের পর ইসরায়েলকে আর আর্থিক সহায়তা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
চলতি বছরের পর ইসরায়েলকে আর আর্থিক সহায়তা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

চলতি বছর শেষে ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে তার একটি সমঝোতা হয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলাকালে ফক্স নিউজ-এর ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে আমি ও বিবি নেতানিয়াহু চুক্তি করেছি যে আমরা তাদের বছরে ৪০০ কোটি ডলার দিই। মাসখানেক আগেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এটি বন্ধ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আগেই একমত হয়েছি যে এই বছরের শেষ নাগাদ আমরা ইসরায়েলকে আর কোনও অর্থ দেব না। তবে প্রয়োজন হলে আমরা ইসরায়েলকে সহায়তা করব।

ট্রাম্প ঠিক কোন ধরনের সহায়তার কথা বলছেন, তা তাত্ক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা এবং মার্কিন রাজনৈতিক প্রচারণায় ইসরায়েল সমর্থকদের অর্থায়ন চলতি বছর ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের জন্যই একটি স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর ধরে চলা দ্বিপক্ষীয় সমর্থনের জায়গা থেকে সরে মার্কিন নেতাদের তরফ থেকে ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা দেখা যাচ্ছে।

গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের জেরে গত জুলাইয়ে মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের একটি সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করা হয়। কেন্টাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি এই সংশোধনী আনেন। প্রায় অর্ধেক ডেমোক্র্যাট সদস্য এর পক্ষে সমর্থন জানালেও শেষ পর্যন্ত ৩১৪-১০৪ ভোটে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়।

সূত্র: আল জাজিরা

ইরানে ‘অনেক মানুষ মারতে চান না’ ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
ইরানে ‘অনেক মানুষ মারতে চান না’ ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে ‘অনেক মানুষ মারতে চান না’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রয়োজনে ওয়াশিংটন যে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না, সেই হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।

ভোট গ্রহণ চলাকালে ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দেখুন, আমি তো আর অনেক মানুষ মেরে ফেলতে চাচ্ছি না। তবে আমাদের যদি করতেই হয়, তবে আমরা তা করতে বাধ্য হব।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো প্রথাগত যুদ্ধের চেয়ে আলাদা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌ ও বিমান শক্তি পঙ্গু করে দেওয়ার পর তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছি। আমরা চাইলে তাদের একদম নিঃশেষ করে দিতে পারি, অথবা আমরা নমনীয় হয়ে এমন হাজার হাজার মানুষকে বাঁচতে দিতে পারি, যারা এই যুদ্ধে মারা পড়ত।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, গত রাতে মার্কিন বাহিনী ইরানের সদ্য নির্মিত একটি বিমান বিধ্বংসী স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যার ওপর গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নজর রাখা হচ্ছিল। এটিকে ‘সামান্য হামলা, কোনও যুদ্ধ নয়’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানায়, সোমবার ইরানের কেশম দ্বীপে প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি