মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আলোচনা সভায় বক্তারা: ৬৮ শতাংশ নারী বাবার বাড়িতেও সহিংসতার শিকার হন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
আলোচনা সভায় বক্তারা: ৬৮ শতাংশ নারী বাবার বাড়িতেও সহিংসতার শিকার হন
পত্রদূত ডেস্ক: “পিত্রালয়: নারীর প্রতি পারিবারিক সহিংসতার এক উপেক্ষিত ক্ষেত্র”(‘দ্য ন্যাটাল ফ্যামিলি: আ নিগলেক্টেড সাইট অব ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন’) শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার এনজিও ফোরাম, ব্লক-ই, ৪/৬ লালমাটিয়ায় প্রাগ্রসর আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভারতের বিশিষ্ট নারীবাদী অধিকারকর্মী এবং ‘স্বয়ম’-এর প্রতিষ্ঠাতা অনুরাধা কাপুর। তিনি পিত্রালয়ে নারীর প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন ধরন, এর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রেক্ষাপট এবং এ বিষয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ও পলিসি সংক্রান্ত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতাকে আমরা প্রায়ই শুধু স্বামীর বাড়ির নির্যাতনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখি। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬৮শতাংশ নারী বাবার বাড়িতেও সহিংসতার শিকার হন। ছোটবেলা থেকেই অনেক মেয়ের চলাফেরা, বন্ধুর বাড়িতে যাওয়া, বাইরে কাজ করা কিংবা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সীমিত করে দেওয়া হয়, যা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।
তিনি বলেন, বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে চরিত্র নিয়ে অপবাদ, শারীরিক ও যৌন নির্যাতন, মারধর এবং সম্পত্তির অধিকার চাইলে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকির মতো ঘটনাও ঘটে। এমনকি স্বামীর বাড়িতে নির্যাতনের শিকার হলেও অনেক নারীকে বাবার বাড়িতে ফিরে আসতে দেওয়া হয় না; বরং “মানিয়ে নেওয়ার” পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন পিত্রালয়ে  নারী সহিংসতাকে স্বাভাবিকীকরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবারে বাবা-মায়ের সম্পর্ক খারাপ হলে সন্তানের ওপর নির্যাতনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেক নারী শৈশবের সহিংসতাকে দীর্ঘদিন সহিংসতা হিসেবে চিনতেই পারেন না, কারণ তা সমাজে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে। তবে তিনি আশার কথা তুলে ধরে বলেন, অনেক নারী এসব পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, নিজস্ব কৌশলে মোকাবেলা করেছেন এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের পথ খুঁজে নিয়েছেন।
ইউ ক্যানের নির্বাহী পরিচালক জিনাত আরা হক বলেন, সমাজে আমরা ‘বাবার বাড়ি’ বলি, কিন্তু ‘মায়ের বাড়ি’ বলি না—এই ভাষাই নারীর অধিকারহীনতার বাস্তবতাকে প্রকাশ করে। ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের শেখানো হয় জমি-সম্পত্তি তাদের বিষয় নয়; তাদের ভূমিকা কেবল গৃহস্থালির কাজে সীমাবদ্ধ। এই বৈষম্যের মধ্য দিয়েই অনেক নারী নিজেকে দ্বিতীয় লিঙ্গ হিসেবে ভাবতে শেখেন। তিনি বলেন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্র—প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সহিংসতামুক্ত করতে হবে, আর সেই পরিবর্তনের শুরু হতে হবে পরিবার থেকেই।
উত্তরাধিকার ও বৈষম্য প্রসঙ্গে  নারী প্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ সুমি  বলেন, পরিবারে সম্পত্তিতে সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে অনেক মেয়ের ভাগ্য যেন আগেই নির্ধারিত হয়ে যায়। শৈশব থেকেই তারা জীবনের নানা ক্ষেত্রে কম সুযোগ, কম গুরুত্ব ও কম অধিকার পেতে পেতে বড় হয়। তিনি বলেন, এই বৈষম্যকে আর স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যাবে না। কেন একজন মেয়ের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে, কেন তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, কেন তার প্রতি নির্যাতন হচ্ছে—এসব প্রশ্ন এখনই জোরালোভাবে তুলতে হবে। অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পরিবার থেকেই সচেতনতা, প্রতিবাদ ও পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী, উন্নয়নকর্মী, গবেষক, শিক্ষক, নারী আন্দোলনের কর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নিয়ে পিত্রালয়ে নারীর প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
আলোচনায় অন্যান্যরা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়টি শুধু বৈবাহিক পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে দেখলে সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালে থেকে যায়। পিত্রালয়েও নারীরা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হতে পারেন। তাই নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বৈবাহিক পরিবারের পাশাপাশি পিত্রালয়কেও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রাগ্রসরের নির্বাহী পরিচালক ফওজিয়া খন্দকার বলেন, পিতৃতন্ত্র অনেক সময় অদৃশ্য কাঠামো হিসেবে কাজ করে, যার ভেতর থেকেই নারীর প্রতি নানা ধরনের নির্যাতন ও বৈষম্য তৈরি করে।
তিনি উল্লেখ করেন, গবেষণা অনুযায়ী প্রায় ৬৮ শতাংশ নারী শারীরিক এবং ৭২ শতাংশ নারী মানসিক (ইমোশনাল) নির্যাতনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, এসব সহিংসতা নিয়ে আরও বেশি কথা বলা জরুরি। পরিবর্তনের জন্য শুধু অন্যদের করণীয়ের দিকে তাকিয়ে না থেকে প্রত্যেককে নিজের অবস্থান থেকে প্রশ্ন তোলা, সচেতনতা তৈরি করা এবং প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু করতে হবে।
প্রাগ্রসর মনে করে,  নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পিত্রালয়ের ভূমিকাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণা, নীতিগত উদ্যোগ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে নারীর জন্য আরও নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

Ads small one

বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ থেকে বাদ পড়লেন সালমান এফ রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ থেকে বাদ পড়লেন সালমান এফ রহমান

 

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাদ পড়েছেন কোম্পানিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তাকে বাদ দিয়ে কোম্পানিটির নতুন পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিএসইসির কমিশন সভায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্গঠিত পর্ষদ অনুমোদন করা হয়।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, পুনর্গঠিত পর্ষদে মোট সদস্য থাকছেন ৯ জন। এর মধ্যে কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকের সংখ্যা তিনজন। তারা হলেন—আহমেদ সোহেল ফসিহুর রহমান (এ এস এফ রহমান), ওসমান কায়সার চৌধুরী ও ইকবাল আহমেদ।

এছাড়া চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক রাখা হয়েছে। কোম্পানির শেয়ারধারী হিসেবে আইএফআইসি ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি এবং পদাধিকারবলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পর্ষদে রাখা হয়েছে।

কোম্পানিটির ইতিহাসে এবারই প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য করা হয়েছে। পুনর্গঠিত পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় পরিচালনায় তাঁদের ভূমিকা আগের তুলনায় বেড়েছে।

সরে দাঁড়াতে সম্মত সালমান এফ রহমান

এর আগে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষ থেকে বিএসইসিকে দেওয়া চিঠিতে জানানো হয়, সালমান এফ রহমান পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াতে সম্মত হয়েছেন। তার সম্মতির ভিত্তিতেই তাকে বাদ দিয়ে পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কোম্পানির ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির পক্ষ থেকেও পর্ষদ পুনর্গঠনের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়। পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার নতুন পর্ষদ অনুমোদন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সুনামের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়েই সালমান এফ রহমান পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াতে সম্মত হয়েছেন। তার কারণে কোম্পানির ব্যবসা ও শেয়ারধারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেই বিবেচনাও এতে কাজ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও সম্মতি

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস শুধু দেশের শেয়ারবাজারেই তালিকাভুক্ত নয়, কোম্পানিটির শেয়ার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটেও (এআইএম) লেনদেন হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কোম্পানিটির বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনায় সালমান এফ রহমানকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হয়েছেন।

শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস দেশের ওষুধ খাতের একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি। তবে মালিকানা ও পরিচালনা কাঠামোর সঙ্গে সালমান এফ রহমানের সম্পৃক্ততার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির ব্যবসা ও সুনাম নিয়ে নানা ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল।

তাকে বাদ দিয়ে নতুন পর্ষদ গঠনের ফলে কোম্পানিটির পরিচালনা কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পর্ষদে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি কোম্পানির পরিচালনায় নতুন কাঠামো তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মুনাফায় শক্ত অবস্থান

রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নানা চাপের মধ্যেও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের আর্থিক কার্যক্রমে মুনাফা অব্যাহত রয়েছে।

কোম্পানিটির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটি ২২২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল ৬৯৪ কোটি টাকা।

নতুন পর্ষদ গঠনের পর কোম্পানিটির পরিচালনা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন আসে এবং তা দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্টদের।

দোলাচলে ৯ মাস, নির্ধারিত দামে এলপিজি মেলে না বাজারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
দোলাচলে ৯ মাস, নির্ধারিত দামে এলপিজি মেলে না বাজারে

সরকারি হিসাবে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু বাজারে সেই সিলিন্ডার কিনতে গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ১৫০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে ভোক্তাকে দিতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫৬৫ টাকা বেশি। অথচ বছরের শুরু থেকে এলপিজির দাম কখনও বেড়েছে, কখনও কমেছে। বিইআরসি প্রতি মাসে নতুন দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে সেই দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না।

এর মধ্যে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে গেছে। এলপিজি আমদানিতে জাহাজ ভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এলপিজি সরবরাহে সংকটের কথা মানতে নারাজ বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

৯ মাসে দামের দোলাচল

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম চার দফায় বাড়িয়েছে বিইআরসি। এর মধ্যে এপ্রিলে এক মাসেই দুই দফায় দাম বাড়ানো হয়। আবার জানুয়ারি, জুন, জুলাই ও সেপ্টেম্বরে দাম কমানো হয়েছে।

বিইআরসির নির্ধারিত দামের হিসাবে, জানুয়ারি মাসে প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। এরপর ফেব্রুয়ারিতে জানুয়ারির তুলনায় ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম করা হয় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। পরে ভ্যাট কমায় দাম সিলিন্ডারে ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। মার্চে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।

এরপর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়িয়ে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। মে মাসে এই দাম অপরিবর্তিত ছিল। জুনে ৫৫ টাকা কমিয়ে দাম ১ হাজার ৮৮৫ টাকা এবং জুলাইয়ে আরও ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। আগস্টে আবার ৭০ টাকা বাড়িয়ে দাম করা হয় ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ হিসাবে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম বেড়েছে ৩৩২ টাকা। তবে এ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ১ হাজার ৯৪০ টাকা, যা এপ্রিল ও মে মাসে কার্যকর ছিল।

‘সরকার যে দামের কথা বলে, সে দামে কখনোই পাইনি’

বিইআরসি প্রতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারের এলপিজির দাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করলেও খুচরা বাজারে সেই দামে এলপিজি পাওয়া যায় না কখনোই। সর্বশেষ চলতি মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও বর্তমানে বাজারে তা ২ হাজার ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা থেকে রুশিয়া মিলি জানান, গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এলপিজি ব্যবহার করছেন। কিন্তু সরকার যে দামের কথা বলে, বাজারে সে দামে কখনোই এলপিজি পাননি। সব সময় বাড়তি দামেই এলপিজি কিনতে হয়। চলতি মাসেও প্রায় ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে হয়েছে।

একই অভিযোগ করেন শান্তিনগরের বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ। তিনি বলেন, নতুন বাড়ি হওয়ায় গ্যাসের লাইন নেই। শুরু থেকেই এলপিজি ব্যবহার করেন। এলপিজি নিয়ে সব সময়ই ভোগান্তিতে পড়েন। কখনও দোকানদার বলেন, গ্যাস পাচ্ছেন না, বেশি দামে কিনে আনতে হয়, তাই বেশি দামেই নিতে হবে। না হলে নিয়েন না। আবার বলেন, সিলিন্ডারসহ নিতে হবে। আবার বলেন, সরকার যা-ই বলুক, তিনি এই দামেই বিক্রি করবেন। ‘আপনি নিলে নেন, না নিলে নাই। যাচ্ছেতাই অবস্থা এই এলপিজিতে। দেখার কেউ নেই। ভোগান্তি শুধু আমাদের মতো সাধারণ মানুষের।’

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম?

এদিকে কাঁঠালবাগান বাজারের এক ডিলার জানান, তারা চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি পান না। পেলেও বাড়তি দাম দিয়ে আনতে হয়। ‘আমরা তো আর লস দিয়ে বিক্রি করবো না।’

বড় খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, পরিবেশকদের কাছে চাহিদাপত্র দিয়েও আগের তুলনায় কম পরিমাণ এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে। আগে ৫০০ সিলিন্ডারের চাহিদা দিলে পুরোটা পাওয়া গেলেও এখন ২৫০টি দেওয়া হচ্ছে। আগে চাহিদাপত্র দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ পাওয়া গেলেও এখন অন্তত সাত দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

জাহাজের প্রিমিয়াম বেড়ে সরবরাহে চাপ

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এলপিজি আমদানিতে জাহাজ ভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। আমদানিকারকরা বিইআরসিকে জানিয়েছেন, বর্তমানে টনপ্রতি এ খরচ ৩০০ ডলারে পৌঁছেছে। অথচ সেপ্টেম্বরের জন্য বিইআরসি এ খাতে ১৬০ ডলার নির্ধারণ করেছিল। আমদানিকারকদের দাবি, গত মাসে এই খরচ ১২০ থেকে ১৬০ ডলারের মধ্যে ছিল।

বাড়তি ব্যয়ে এলপিজি আমদানি করলেও সেই অতিরিক্ত খরচ তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ নেই। বিইআরসি প্রিমিয়ামের পরিমাণ না বাড়ানো পর্যন্ত আমদানিকারকরা বাড়তি খরচ বিক্রয়মূল্যে সমন্বয় করতে পারেন না। এ কারণে নতুন চালান আনতে আমদানিকারকদের কেউ কেউ আগ্রহ হারাচ্ছেন।

তবে এলপিজি সরবরাহে সংকটের কথা মানতে নারাজ বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, প্রতি মাসে দেশে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন এলপিজি আসে। আগস্টে এসেছে ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এসেছে ১ লাখ ১৯ হাজার টন।

আমদানিকারকরা প্রিমিয়াম বেড়ে ৩০০ ডলারে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে কমিশনের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, তারা বাজার মনিটরিং করেন। অভিযোগ পেলে অভিযানও পরিচালনা করেন। এছাড়া ভোক্তা অধিকার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে বলে তিনি জানান।

চার জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
চার জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক

 

দেশের চার জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জেলাগুলো হলো টাঙ্গাইল, নীলফামারী, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদকে বদলি করে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীকে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অর্থ বিভাগের উপসচিব মো. হুমায়ূন কবিরকে নীলফামারী এবং একই বিভাগের উপসচিব চৌধুরী আশরাফুল করিমকে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।