রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

আশাশুনিতে অবৈধ আর্থিক জাল, ঝুঁকিতে মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে অবৈধ আর্থিক জাল, ঝুঁকিতে মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় ‘সমবায়’ নামটি আজ অনেকের কাছে আস্থার নয়, বরং আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠছে। নিবন্ধিত সমবায়ের আড়ালে কিংবা একেবারেই নিবন্ধনবিহীনভাবে গড়ে ওঠা অসংখ্য সমিতি ও মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম-যার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান গ্রামগঞ্জের সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ করছে।

 

ব্যাংকের চেয়েও বেশি লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা আমানত নিচ্ছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই অর্থের নিরাপত্তা বা ফেরতের কোনো নিশ্চয়তা নেই। সুযোগ বুঝে অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। জেলা সমবায় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আশাশুনি উপজেলায় নিবন্ধিত সমবায় সমিতির সংখ্যা ১৭৯টি। এর মধ্যে সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় রয়েছে ১২টি। নিবন্ধিত এসব সমিতি সরকারি নিয়ম মেনে সদস্যদের মধ্যে সঞ্চয় ও ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা। তবে বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অনেকেই নিয়ম ভেঙে সদস্যের বাইরের মানুষদের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করছে।

 

অন্যদিকে, বুধহাটা, পাইথলী, কুল্যা, গুনাকরকাটি, বাহাদুরপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লা ও বাজার এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য অনিবন্ধিত সমবায় সমিতি। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের নেই কোনো বৈধ অনুমোদন, নেই কার্যক্রমের স্বচ্ছতা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রথমে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও ছবি সংগ্রহ করে নামমাত্র কমিটি গঠন করেন। পরে সেই কমিটির আড়ালে ‘সমবায় সমিতি’ বা ‘মাল্টিপারপাস’ প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যক্রম শুরু করেন।

 

অনেক ক্ষেত্রে সমবায় অফিসের অসাধু কিছু কর্মচারীর সঙ্গেও তাদের সখ্য গড়ে ওঠে, যার ফলে নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে এসব প্রতিষ্ঠান নির্বিঘেœ চালিয়ে যায় অবৈধ লেনদেন। সমবায়ের নিয়ম অনুযায়ী, একটি সমিতি তার নির্দিষ্ট এলাকার সদস্যদের মধ্যেই সঞ্চয় ও ঋণ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখবে। কিন্তু আশাশুনির বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ সমিতিই সেই নিয়ম মানছে না। তারা সদস্য বহির্ভূত ব্যক্তিদের কাছ থেকেও চেক বা পাসবইয়ের মাধ্যমে আমানত নিচ্ছে এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরেও ঋণ বিতরণ করছে।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো-এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যকর তদারকি নেই। বিশেষ করে বুধহাটা বাজারে একাধিক অনিবন্ধিত সমবায়ের কার্যক্রম প্রকাশ্যেই চললেও তা দেখার যেন কেউ নেই। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়ছেন। এরই মধ্যে বুধহাটা বাজারের ‘প্রগতি ঋণদান সমবায় সমিতি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার আমানত নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।

 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েও তারা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আমানতের টাকা ফেরত দেওয়ার সময় হলে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করে। কখনো তারা গা-ঢাকা দেয়, আবার কখনো ফিরে এসে ‘দিচ্ছি, দেব’ বলে গ্রাহকদের ঘুরিয়ে রাখে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মূলত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ, যারা স্বপ্ন দেখেছিলেন সামান্য সঞ্চয় থেকে কিছু লাভের।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত সমবায় কার্যক্রম শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার জন্যও হুমকিস্বরূপ। তারা মনে করেন, দ্রুত এসব ভুয়া সমবায় চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সুধী মহল বলছেন, সমবায় অধিদপ্তরের নজরদারি বাড়ানো, নিয়মিত অডিট নিশ্চিত করা এবং অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো এখন সময়ের দাবি।

 

পাশাপাশি গণমাধ্যম ও প্রশাসনের সমন্বয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারণার ফাঁদে না পড়ে। সমবায়ের মূল দর্শন ছিল পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমৃদ্ধি। কিন্তু সেই দর্শনকে পুঁজি করে যদি প্রতারণার জাল বিস্তার করা হয়, তবে তা শুধু একটি ব্যবস্থার ব্যর্থতা নয়-এটি সমাজের জন্যও এক গভীর সংকেত।

Ads small one

সাতক্ষীরায় আম ক্যালেন্ডার ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় আম ক্যালেন্ডার ঘোষণা

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় ০৫ মে তারিখ থেকে ০৫ জুন পর্যন্ত আম ভাঙার তারিখ নির্ধারণ করে আম ক্যালেন্ডার ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার এ ঘোষণা দেন। এসময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ, আম চাষি সমিতির নেতা লিয়াকত আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ০৫ মে-২৬ তারিখে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাস, বৈশাখী, বোম্বাইসহ স্থানীয় জাতের আম ভাঙা হবে। এরপর ১৫ মে তারিখে হিমসাগর ও খিসরা, ২৭ মে তারিখে ল্যাংড়া ও ০৫ জুন তারিখে আম্্রপালি আম ভাঙার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এবিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, চাষিদের দাবি অনুযায়ী ল্যাংড়া ও আম্্রপালি আম ভাঙার সময় সামান্য এগিয়ে আনা হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে আমের পরিপক্কতা আসবে। তিনি অপরিপক্ক আম ভাঙা ও বাজারজাতকরণের বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারি থাকবে বলে হুশিয়ারী দেন।

১৪ বছর পর নারী কাবাডিতে ব্রোঞ্জ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
১৪ বছর পর নারী কাবাডিতে ব্রোঞ্জ

এশিয়ান বিচ গেমসে নারী কাবাডির সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারলেও বড় এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে পৌঁছে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৪ বছর পর এই আসর থেকে পদক পুনরুদ্ধার করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ২০১২ সালের পর এশিয়ান বিচ গেমসের কাবাডিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম পদক।

চীনের সানিয়ায় এশিয়ান বিচ গেমস নারী কাবাডির ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের শক্তিশালী দেয়াল টপকাতে পারেনি বাংলাদেশ। সেমিফাইনালের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ভারতের কাছে ৫০-৩১ পয়েন্টে পরাজিত হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে ফাইনালে পৌঁছাতে না পারলেও খালি হাতে ফিরছে না বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে খেলার নিয়ম অনুযায়ী নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের ব্রোঞ্জ পদক। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশের নারী দলটি র‍্যাংকিংয়ে তৃতীয় স্থান নিয়ে আসর শেষ করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতীয় ডিফেন্ডার ও রেইডারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করেন বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর ছিল ভারত ২২, বাংলাদেশ ১৫। মাত্র ৭ পয়েন্টের ব্যবধান থাকায় বিরতি পর্যন্ত ম্যাচে ফেরার ভালো সম্ভাবনা ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ভারতের অভিজ্ঞ রেইডারদের পয়েন্ট সংগ্রহের ঝড়ে ব্যবধান দ্রুত বাড়তে থাকে। শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরবোর্ডে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫০, আর বাংলাদেশ থামে ৩১ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত ১৯ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় নিয়ে ম্যাচ শেষ করে ভারত।

 

স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে ইসলামাবাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে ইসলামাবাদ

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে রবিবার সকাল থেকেই জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরিকল্পিত যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরে জারি থাকা কঠোর নিরাপত্তা ও লকডাউন ব্যবস্থা শিথিল করেছে কর্তৃপক্ষ।

এই কড়াকড়ির ফলে ইসলামাবাদ এবং পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতে লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবন চরমভাবে ব্যাহত হয়েছিল। যাত্রীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে, প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল কমে গিয়েছিল এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে পৌঁছানো নিয়ে অভিভাবকদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল।

রবিবার নাগাদ শহরের প্রধান সড়কগুলো থেকে ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং যান চলাচল ধীরে ধীরে বাড়ছে। কয়েক দিনের অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তার পর জনজীবনে স্বস্তি ফিরছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবার রাতে সরকারের এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে জানানো হয়েছে যে, পর্যটন কেন্দ্র, পার্ক এবং বাস টার্মিনালগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে।

তবে শহরের রেড জোনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও কঠোর রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোর অবস্থান এই এলাকায় এবং চলতি মাসের শুরুতে এখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সূত্র: এপি