সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

উপকূলীয় জনপদে কৃষিতে রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারে প্রভাব পড়ছে অর্থনীতি ও পরিবেশের উপর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
উপকূলীয় জনপদে কৃষিতে রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারে প্রভাব পড়ছে অর্থনীতি ও পরিবেশের উপর

ফারুক রহমান: দেশের দক্ষিণে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ফসলের জমিতে কয়েক দশক নদী থেকে লোনা পানি তুলে চিংড়ি চাষের ফলে এই এলাকার মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে বর্তমানে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে সেখানে এখন আর চাইলেও মিষ্টি পানি ব্যবহার করে কৃষিকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও বিগত এক দশক স্থানীয় কৃষকরা চেষ্টা করছে জমিতে মিষ্টি পানির ফসল ফলাতে। সেজন্য তারা এখন কৃষিজমিতে বছরে একাধিকবার ধান চাষ করছে। একই সাথে হারিয়ে যাওয়া বীজ সংগ্রহ করে স্থানীয় বিভিন্ন জাতের সবজি ও ফসলের চাষ করছে। জমিতে ফসল ফলাতে কৃষকদের এখন মুখোমুখি হতে হচ্ছে নানারকম সমস্যার।

কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বদ্ধি ও রোগাক্রান্ত হচ্ছে মানুষ:
স্থানীয় কৃষিকাজে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের যেমন ক্ষতি হচ্ছে। তেমনি বাড়ছে কৃষকের খরচ। স্থানীয় কষকরা জমির মাটিতে লবণাক্ততা থাকায় অধিক পরিমাণে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন জমি তার উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে। কৃষককে ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে অধিক হারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। সময়মতো জমিতে সার ও কীটনাশক না ব্যবহার করলে উৎপাদন কম হচ্ছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে কৃষককে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। কৃষকরা এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করে প্রাকৃতিকে সার ব্যবহার করে যে পরিমাণ ফসল উৎপাদন করছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার তার প্রায় পাঁচগুন বেশি ফসল পাচ্ছে। সে কারণে কৃষক বাধ্য হচ্ছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে। এই অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরা শক্তি কমছে। আবার কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। এর নানামুখি প্রতিক্রিয়াও দেখা দিচ্ছে। কৃষক প্রাকৃতিক সার ব্যবহার করে যে পরিমাণ ফসল উৎপাদন করছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে তার প্রায় দ্বিগুন বেশি ফসল উৎপাদন করছে। তবে, আশার কথা শ্যামনগর উপজেলায় কর্মরত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় স্থানীয় কৃষকরা ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হওয়ায় আশার আলো দেখছেন সাধারণ কৃষক।

ঋণনির্ভরতা:
কৃষক তার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করার জন্য ঋণগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ কৃষক আর্থিকভাবে যথেষ্ট স্বাবলম্বী নয়। ফসল উৎপাদনের সময় তার হাতে টাকা থাকে না। তখন তাকে বীজ কিনে জমিতে চাষাবাদ শুরুর পর সময়মতো সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে না পারলে ফসল উৎপাদনে মার খাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যে কারণে কৃষককে সার ও কীটনাশক কেনার জন্য ঋণ গ্রহণ করতে হচ্ছে। কৃষক বীজ কোম্পানি, স্থানীয় সারের ডিলার, কীটনাশক ব্যবসায়ী, মহাজন ও ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করছে মৌসুমে। কিন্তু তাকে এই ঋণ পরিশোধ করার জন্য সারাবছর কিস্তি দিতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারের নারী সদস্যসের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে। আবার কখনও কখনও স্থানীয় মহাজনদের নিকট থেকে উচ্চসুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়।

পরিবেশ বিপর্যয়:
দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলের কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। এখন আর এই অঞ্চলে আম, জাম, লেবু, নারিকেল, সবেদা, জামরুল এসব ফলের গাছ দেখা যায় না। আগে যেখানে প্রতিটি বাড়িতে বিভিন্ন ফলের গাছ ছিল, বাড়িতে পারিবারিকভাবে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন গাছ লাগানো হতে যা থেকে কাঠ সংগ্রহ করে ঘর ও ফার্নিচারের কাজে ব্যবহার করা হতো। এখন এসব গাছ আর খুজে পাওয়া যায় না। এলকায় কোথাও কোথাও নারিকেল, কদবেল, তাল, কাঠাল গাছ দু’একটি থাকলে ফল আগের মতো হয় না। লোনা পানি আর কীটনাশকের থাবায় এসব স্থানীয় জাত হারিয়ে যেতে বসেছে। আগে বিভিন্ন ফল গাছ থাকায় পাখিরা বাসা তৈরি করে এলাকায় থাকতো। এখন পাখি ও স্থানীয় বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণির অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে শাামুক, ব্যাঙ, সাপ, জোনাক পোকা, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এলাকায় এখন নেই বললেই চলে। অনেক প্রজাতি একেবারে হারিয়ে গেছে।

কর্পোরেট কোম্পানির প্রভাব:
উপকূলের কৃষকরা কর্পোরেট কোম্পানির হাতে বন্দি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন কৃষকরা অন্যান্য বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করে কৃষিকাজ চালিয়ে গেলেও এখন আর কর্পোরেট কোম্পানির বাইরে যেয়ে কৃষির কোনো কাজ করতে পারছে না। তাদের হাতে এখন আর বীজের নিয়ন্ত্রণ নেই। এলাকার ফসলের জমিতে লবণাক্ততা থাকায় স্থানীয় জাতের সব বীজের চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কৃষককে কর্পোরেট কোম্পানির নিকট থেকে বীজ কিনতে হচ্ছে। ওই বীজের চাষাবাদ করতে হলে তাকে অবশ্যই রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে জমিতে ফসল উৎপাদন হবে না। প্রতিবছর কৃষককে বীজ কিনতে হচ্ছে। আগে যেখানে কৃষক তার নিজ জমি থেকে উৎপাদিত ফসল থেকে বীজ বাড়িতে সংরক্ষণ করতো। আবার কৃষকরা বীজ বিনিময় করতে পারতো। উপকূলের কৃষক কোনোভাবেই কর্পোরেট কোম্পানির কব্জা হতে বের হয়ে কৃষিকাজ করতে পারছে না। কারণ তাদের হাতে না আছে বীজ, না আছে যথেষ্ট প্রাকৃতিক সার ও কীটনাশক, না আছে বড় পুঁজি। এই জনপদের কৃষককে বেঁচে থাকার তাগিদে, অস্তিত্ব রক্ষায় নিজেদের পূর্বপুরুষের জ্ঞান বিসর্জন দিয়ে কর্পোরেট কোম্পানির হাতে বন্দি হয়ে কৃষিকে এগিয়ে নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্যঝুকি বাড়ছে:
এই অঞ্চলে কৃষিতে ধারাবাহিকভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার উৎপাদিত সবজি ও ফসল মানব স্বাস্থ্যের জন্য নানারকম রোগবালাই বয়ে আনছে। নারী ও শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে। একদিকে উচ্চ ফলনশীল জাতের সবজি ও ধান অপরদিকে লবণাক্ততা এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যঝুকি বাড়িয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে এখানকার নারীরা জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রতিক্রিয়ায় জরায়ু ক্যান্সার, চোখে কম দেখা, প্রজনন স্বাস্থ্যহানি, হার্টের সমস্যা, নিয়মিত সর্দিজ¦রসহ নানারকম রোগে সারাবছর আক্রান্ত থাকছে।

সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাঠামোগত সংকট:
উপকূলের মানুষের বেঁচে থাকার যে লড়াই সেখানে রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সমাজের উপর তলার মানুষের কাছে তা গুরুত্ব পাচ্ছে না। এই জনপদের কৃষকরা কখনও রাজনৈতিক গুরুত্ব পায়নি। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কৃষির সমস্যা আর উপকূলীয় জনপদের কৃষির সমস্যা একরকম না। কিন্তু রাষ্ট্র কাঠামোতে এই অঞ্চলের কৃষকের জন্য আলাদা কোনো সেল নেই। দুর্যোগপ্রবণ এই অঞ্চলের কৃষির জন্য কৃষকরা আলাদা মন্ত্রণালয় অথবা অধিদপ্তর গঠনের দাবি জানিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো সরকার উপকূলীয় জপদের কৃষি ও কৃষকের অস্তিত্ব রক্ষায় কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যার করনে তারা বঞ্চিত থেকেই গেছে।

এত সংকটে মাঝেও আশার কথা শুনিয়েছেন কয়েকজন কৃষক। সরজমিনে কথা হয় কৃষক টুম্পা রানী মন্ডল, কল্পনা রানী মিস্ত্রি ও যোগেশ চন্দ্র মন্ডলের সাথে। দীর্ঘ আলাপ এবং সরজমিনে তাদের কৃষি খেতে বসে কথা আলাপকালে তারা জানিয়েছেন স্থানীয়ভাবে কর্মরত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বার্ষিক কিভাবে তাদেরকে বিষমুক্ত সবজি ও ধান চাষে এবং ফল ও ফসল উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলায় বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছে এই অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের অস্তিত্ব রক্ষায়। তারই ধারাবাহিকতায় বারসিকের সংগঠিত ‘শতবাড়ি’র সদস্য সফল কৃষক টুম্পা রানী মন্ডলের সাথে কথা হয় তার দশ কাঠা জমির কৃষি খামারে। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের কুলতলি গ্রামে টুম্পা রানী বারসিকের সহযোগিতায় প্রাকৃতিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে কৃষি কাজ করছেন। তিনি বলেন, বাবা-মাকে দেখেছেন খেতে কাজ করতে। কিন্তু তখন এত বেশি সার, কীটনাশক কিনে জমিতে দিতে হতো না। বাড়ির আবর্জনা, তরকারির কুটনো, ছাই এসব জমা করে বছরে একবার জমিতে ফেলে দিয়ে সেখানে চাষাবাদ করতে তার বাবা, চাচা, দাদা ও পূর্বপুরুষরা। কিন্তু এখন বীজ, সার ও কীটনাশক কোম্পানির নিকট থেকে কিনতে হয়। অনেক সময় কোম্পানির লোকজন বাড়িতে এসে নতুন জাতের বীজ ও নতুন নতুন সার ও কীটনাশকের নমুনা দিয়ে যায়। তবে, তিনি বারসিকের সহযোগিতায় নিজে স্থানীয় বীজ সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ করার কাজ শুরু করেছেন। নিজের ও বর্গা নেওয়া জমিতে ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে প্রাকৃতিক সার ও কীটনাশক, পোকা মারার ফাঁদ ব্যবহার শুরু করেছেন।

প্রাকৃতিক সার ও প্রাকৃতিক জৈব বালাইনাশক ব্যবহার প্রসঙ্গে কৃষক টুম্পা রানী মন্ডল বলেন, বারসিকের সহযোগিতায় সবজি ও ধান খেতে প্রাকৃতিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে কৃষি কাজ করছেন। এতে তার খেতের ফসল কেনার জন্য একটি ক্রেতা গ্রুপ তৈরি হয়েছে যারা তার জমিতে প্রাকৃতিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে উৎপাদিত ফসল কেনার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ করেন। তার সবজি ও ধান দ্রুত সময়ের মধ্যে বিক্রি হয়ে যায়।

আধুনিক কৃষি নিয়ে কথা হয় শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামের কৃষক যোগেশ চন্দ্র মন্ডলের সাথে। তিনি বলেন, বর্তমানে সময়ে কৃষিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কর্পোরেট কোম্পানিগুলো নিয়মিত প্রান্তিক কৃষকের সাথে যোগাযোগ করছে। বিভিন্ন বাজার ও পাড়ায় নতুন নতুন বীজ, সার ও কীটনাশক নিয়ে তারা আমাদের কাছে আসছে। প্রতিবছর নতুন নতুন জাতের হাইব্রিড সবজি ও ধানের বীজ আমাদেরকে কখনও বিনামূল্যে, আবার কখনও নামমাত্র মূল্যে প্রথমবার দিয়ে যাচ্ছে। আমরা কৃষকরা এসব নতুন জাত চাষ করার পর পরের বছর বেশি লাভের আশায় ওইসব কোম্পানির ডিলারদের নিকট থেকে বীজ, সার ও কীটনাশক নিতে বাধ্য হচ্ছি। কারণ এখানে উৎপাদন বেশি। আমাদের দেশিয় ও স্থানীয় জাতের ধান ও সবজির ফলন কম। বাধ্য হয়ে আমরা এসব কোম্পানির সাথে কাজ করছি। একসময় আমাদের বাপ-দাদারা স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ করে পরের বছর সেই বীজ ব্যবহার করতেন। বাড়িতে জমানো প্রাকৃতিক সার যেমন- ছাই, তরকারির কুটনো, গাছের পচা পাতা, গরুর শুকনো গোবর এসব দিয়ে তারা চাষবাষ করতেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় লোনাপানির প্রভাবে এলাকায় গাছপালা কমে গেছে। কোথাও কোথায় কোনো গাছ নেই বললেই চলে।

যোগেশ চন্দ্র মন্ডল আরও বলেন, তার মতো আরও অনেক কৃষক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সাথে হওয়ায় সামনে তারা আশার আলো দেখছেন। স্বল্প পরিসরে তারা স্থানীয় জাতের বীজ চাষবাষ শুরু করেছেন। সেখানে ব্যবহার করছেন প্রাকৃতিক সার ও বালাইনাশক।

ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট গ্রামের কৃষক কল্পনা রানী মিস্ত্রি বলেন, তিনি বিগত কয়েক বছর ধরে জড়িয়ে আছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সাথে। বারসিকের সহযোগিতায় কল্পনা রানী মিস্ত্রী এলাকায় নারী কৃষকদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন কয়েকটি কৃষক দল। এই কৃষক দলের সদস্যরা বিগত প্রায় এক দশক ধরে স্থানীয় জাতের ধান, সবজি, ফল, ফুলসহ বিভিন্ন বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময় করছেন। এখন কৃষক কল্পনা রানী মিস্ত্রির সংগ্রহে দুই শতাধিক বিভিন্ন জাতের স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ আছে। তিনি এলাকার কৃষকদের মাঝে বীজ বিতরণ ও বিনিময় করেন। প্রতিনিয়ত তার বীজ সংরক্ষণের সংখ্যা বাড়ছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলায় লবণাক্ত জমিতে ফসল, সবজি ও ধান চাষে কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে, লবণ সহনশীল জাতের সম্প্রসারণ, জৈব সার ব্যবহার বৃদ্ধি, পলিমালচের ব্যবহার বৃদ্ধি, বস্তায় আদা ও সবজি চাষ সম্প্রসারণ, মিনি পুকুর খনন, ড্রিপ ইরিগ্রেশন, ঘেরের আইলে অমৌসুমি তরমুজ ও সবজি চাষ, বিনা চাষে সরিষা, খেসারি, ভুট্টা চাষ, সাথি ফসল হিসেবে সবজি চাষ (আখের সাথে মসুর ও ছোলা, সল্পজীবনকালীন সবজি, সবুজ সার হিসেবে ধৈঞ্চা চাষ বৃদ্ধি, টাওয়ার পদ্ধতিতে সবজি চাষ, সরজান টেকনিকে অবলম্বন, বেড নালা পদ্ধতিতে শাক ও সবজি চাষ, লবণ সহনশীল ফল সূর্যমুখী, কদবেল, সফেদা, তেতুল,নারিকেল, আমলকি চাষ।

 

Ads small one

জাকারিয়া হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি সাগর গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
জাকারিয়া হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি সাগর গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আলোচিত জাকারিয়া খান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি মো. সাগর ওরফে মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরা পৌরসভার লেকভিউ রিসোর্টের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সাগর সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মো. হাসান উল্লেখ করা হলেও প্রকৃত নাম মো. শাহাজান আলী ওরফে বাবু।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি চায়ের দোকানের সামনে বিরোধের জেরে জাকারিয়া খান ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাগরকে ৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলেন পেসার হাসান মাহমুদ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনের সকালে হ্যাটট্রিক করে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৩৪৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলেছিল আফগানিস্তান। তবে তৃতীয় দিনের সকালে এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে দ্রুত পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। অল্প সময়ের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকেরা।

দিনের শুরুতে ৩২ রান করা ইকরাম আলি খিলকে বোল্ড করে আফগানিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙেন এবাদত হোসেন। এরপর নিজের বোলিংয়ে ঝলক দেখান হাসান মাহমুদ।

পরপর দুই বলে ইসমত আলম ও কায়েস আহমেদকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন হাসান। প্রথমে ইসমতকে বোল্ড করেন তিনি। পরের বলে সুইং করা ডেলিভারিতে কায়েসের ব্যাটের কানায় লেগে আসা বল তালুবন্দী করেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস।

হ্যাটট্রিকের তৃতীয় বলে জিয়াউর রহমানের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন বাংলাদেশের বোলাররা। মাঠের আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটে লাগেনি এবং স্টাম্পে আঘাত হানত। ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে যায়। জিয়াউর রহমানকে এলবিডব্লিউ ঘোষণা করতেই হ্যাটট্রিকের আনন্দে মেতে ওঠে বাংলাদেশ দল।

এর মধ্য দিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন হাসান। এর আগে ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অলক কাপালি এবং ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সোহাগ গাজী টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। তবে হাসানই বাংলাদেশের প্রথম পেসার, যিনি টেস্টে এই কীর্তি গড়লেন।

হাসানের এই সাফল্যের পাশাপাশি এবাদত হোসেনের কার্যকর বোলিংয়ে আফগানিস্তানের ইনিংস বড় ধাক্কা খায়। একপর্যায়ে ৮ উইকেটে ২২১ রান নিয়ে লড়াই করছিল স্বাগতিকেরা। তখন ৮৭ রানে অপরাজিত ছিলেন রহমত শাহ।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে হাসান মাহমুদের এই হ্যাটট্রিক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে টেস্টে দেশের পেসারদের জন্য নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করলেন তিনি।

বার্লিন সামিট: ২৫০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তায় বাংলাদেশে আসছে ‘নারী স্বাস্থ্য কর্মসূচি’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
বার্লিন সামিট: ২৫০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তায় বাংলাদেশে আসছে ‘নারী স্বাস্থ্য কর্মসূচি’

জার্মানির বার্লিনে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট (ডব্লিউএইচএস) ২০২৬ উপলক্ষে চ্যারিটি ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ও প্রযুক্তিবিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

বৈঠকে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ২৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাবিত ঋণের আওতায় বাংলাদেশে ‘নারী স্বাস্থ্য কর্মসূচি’ চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময় বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সার্বক্ষণিক জরুরি প্রসূতি সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।

এ ছাড়া জেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পেশেন্ট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

স্বাস্থ্য খাতের এই নতুন যুগান্তকারী উদ্যোগে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল, বার্লিনের চ্যারিটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করছে।

বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী ও মেয়েদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বার্লিনের চ্যারিটি হাসপাতালের আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও ক্যান্সার স্ক্রিনিং সুবিধাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং ভবিষ্যতে উভয় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বাসস।