সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ জলাবদ্ধতার অভিশাপ কাটিয়ে সম্ভাবনার আলো: সাতক্ষীরার পানি ফল চাষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ জলাবদ্ধতার অভিশাপ কাটিয়ে সম্ভাবনার আলো: সাতক্ষীরার পানি ফল চাষ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় বছরের পর বছর ধরে অগণিত একর জমি আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টির পানিতে থইথই করে। অপরিকল্পিত নদী ভরাট, অপ্রতুল নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বেড়িবাঁধের জটিলতায় হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতার শিকার। এতে ঐতিহ্যবাহী ধানচাষ বন্ধ হয়ে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের জীবন-জীবিকা প্রায় থমকে দাঁড়ানোর উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু সাতক্ষীরার পরিশ্রমী ও উদ্ভাবনী কৃষকেরা জলাবদ্ধতার এই দীর্ঘ অভিশাপকেই রূপান্তরিত করেছেন অর্থনৈতিক আশার আলোয়। অকেজো পতিত জলাশয়ে পানি ফল (পানি সিংড়া) চাষের মাধ্যমে যে নীরব অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটছে, তা আজ গোটা দেশের জন্যই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর জেলায় যেখানে ১৬৪ হেক্টর জমিতে পানি ফলের চাষ হয়েছিল, চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০ হেক্টরে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই পতিত জমি থেকেই প্রায় ১০০ কোটি টাকার পানি ফল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটি কেবল এক হাজার একর জলমগ্ন জমির সদ্ব্যবহারই নয়; বরং এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন রূপান্তরের গতি এসেছে। সামান্য বিনিয়োগে প্রতি বিঘায় ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ করে যেখানে প্রায় দেড় লাখ টাকার ফল বেচাকেনা হচ্ছে, সেখানে প্রান্তিক কৃষকের হাঁফ ছেড়ে বাঁচার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

এই কৃষি বৈচিত্র্যের সবচেয়ে আশাব্যাঞ্জক দিকটি হলো গ্রামীণ কর্মসংস্থান, বিশেষ করে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ। জলমগ্ন জমি পরিচর্যা থেকে ফল সংগ্রহ ও বিপণনের কাজে স্থানীয় শত শত নারী ও পুরুষ শ্রমিক প্রতিদিনের নিশ্চিত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। স্থানীয় বাজার থেকে শুরু করে পাইকারি ব্যবসায়ী পর্যন্ত সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) যুক্ত প্রতিটি ধাপে আয় ও কর্মসংস্থানের নিত্যনতুন দুয়ার খুলছে। এর পাশাপাশি এই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল জেলা শহরের গ-ি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য স্থানে পৌঁছে পুষ্টির চাহিদাও মেটাচ্ছে।

তবে এই উজ্জ্বল সম্ভাবনার পথ পুরোপুরি নিষ্কণ্টক নয়। মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিলে দেখা যায়, কৃষকেরা নিজস্ব উদ্যোগে ঝুঁকি নিয়ে এই চাষে নেমেছেন। চাষিদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের সরবরাহ, কীটনাশক ও সার ব্যবস্থাপনা, আর সবচেয়ে বড় কথাÑকৃষি ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে দ্রুত পচনশীল এই ফল বাজারজাতকরণের জন্য উপযুক্ত পরিবহন ও শীতলীকরণ বা হিমাগার সুবিধাও এখন সময়ের দাবি। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সঠিক বাজার সংযোগ গড়ে তুলতে না পারলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষক প্রকৃত মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা একটি দীর্ঘমেয়াদি ভূ-প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত সংকট, যার স্থায়ী সমাধান অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই সংকটকে সম্ভাবনায় রূপান্তরের যে প্রয়াস কৃষকেরা দেখাচ্ছেন, তা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ার দাবি রাখে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যদি পানি ফল চাষিদের উন্নত প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেয়, তবে সাতক্ষীরার অবহেলিত জলাবদ্ধ অঞ্চল কেবল ১০০ কোটি টাকার পানি ফলই নয়, দেশের নীল অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) ও জলজ কৃষির অন্যতম শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

 

 

 

Ads small one

জাকারিয়া হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি সাগর গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
জাকারিয়া হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি সাগর গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আলোচিত জাকারিয়া খান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি মো. সাগর ওরফে মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরা পৌরসভার লেকভিউ রিসোর্টের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সাগর সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মো. হাসান উল্লেখ করা হলেও প্রকৃত নাম মো. শাহাজান আলী ওরফে বাবু।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি চায়ের দোকানের সামনে বিরোধের জেরে জাকারিয়া খান ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাগরকে ৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলেন পেসার হাসান মাহমুদ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনের সকালে হ্যাটট্রিক করে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৩৪৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলেছিল আফগানিস্তান। তবে তৃতীয় দিনের সকালে এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে দ্রুত পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। অল্প সময়ের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকেরা।

দিনের শুরুতে ৩২ রান করা ইকরাম আলি খিলকে বোল্ড করে আফগানিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙেন এবাদত হোসেন। এরপর নিজের বোলিংয়ে ঝলক দেখান হাসান মাহমুদ।

পরপর দুই বলে ইসমত আলম ও কায়েস আহমেদকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন হাসান। প্রথমে ইসমতকে বোল্ড করেন তিনি। পরের বলে সুইং করা ডেলিভারিতে কায়েসের ব্যাটের কানায় লেগে আসা বল তালুবন্দী করেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস।

হ্যাটট্রিকের তৃতীয় বলে জিয়াউর রহমানের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন বাংলাদেশের বোলাররা। মাঠের আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটে লাগেনি এবং স্টাম্পে আঘাত হানত। ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে যায়। জিয়াউর রহমানকে এলবিডব্লিউ ঘোষণা করতেই হ্যাটট্রিকের আনন্দে মেতে ওঠে বাংলাদেশ দল।

এর মধ্য দিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন হাসান। এর আগে ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অলক কাপালি এবং ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সোহাগ গাজী টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। তবে হাসানই বাংলাদেশের প্রথম পেসার, যিনি টেস্টে এই কীর্তি গড়লেন।

হাসানের এই সাফল্যের পাশাপাশি এবাদত হোসেনের কার্যকর বোলিংয়ে আফগানিস্তানের ইনিংস বড় ধাক্কা খায়। একপর্যায়ে ৮ উইকেটে ২২১ রান নিয়ে লড়াই করছিল স্বাগতিকেরা। তখন ৮৭ রানে অপরাজিত ছিলেন রহমত শাহ।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে হাসান মাহমুদের এই হ্যাটট্রিক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে টেস্টে দেশের পেসারদের জন্য নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করলেন তিনি।

বার্লিন সামিট: ২৫০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তায় বাংলাদেশে আসছে ‘নারী স্বাস্থ্য কর্মসূচি’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
বার্লিন সামিট: ২৫০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তায় বাংলাদেশে আসছে ‘নারী স্বাস্থ্য কর্মসূচি’

জার্মানির বার্লিনে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট (ডব্লিউএইচএস) ২০২৬ উপলক্ষে চ্যারিটি ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ও প্রযুক্তিবিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

বৈঠকে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ২৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাবিত ঋণের আওতায় বাংলাদেশে ‘নারী স্বাস্থ্য কর্মসূচি’ চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময় বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সার্বক্ষণিক জরুরি প্রসূতি সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।

এ ছাড়া জেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পেশেন্ট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

স্বাস্থ্য খাতের এই নতুন যুগান্তকারী উদ্যোগে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল, বার্লিনের চ্যারিটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করছে।

বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী ও মেয়েদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বার্লিনের চ্যারিটি হাসপাতালের আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও ক্যান্সার স্ক্রিনিং সুবিধাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং ভবিষ্যতে উভয় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বাসস।