বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

এসএসসি পাস করেও এইচএসসিতে নেই সাড়ে ৫ লাখ, কোথায় হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
এসএসসি পাস করেও এইচএসসিতে নেই সাড়ে ৫ লাখ, কোথায় হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা?

বিগত দুই বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। নবম ও দশম শ্রেণিতেও বেড়েছে ঝরে পড়ার প্রবণতা। শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা, দারিদ্র্য, বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রমসহ নানা কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর পর গত দুই বছরের একটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। ২০২৪ সালে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, আগে এসএসসির পর সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ত। কিন্তু এবার মাদ্রাসায় ৪৪ শতাংশ, কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং সাধারণ শিক্ষায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আমাদের জন্য বড় প্রশ্ন।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, করোনা-পরবর্তী শিখন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার আগেই শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন সংকটে পড়েছে। জুলাই আন্দোলন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিক্ষাঙ্গনে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত শ্রেণিমুখী হতে পারেনি। পাশাপাশি দারিদ্র্যের কারণে পরিবারের উপার্জনে যুক্ত হওয়া এবং বাল্যবিয়ের মতো ঘটনাও শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বাড়িয়েছে।

সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষার বাইরে

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ২৪ হাজার ৭৮৪ জন। অপরদিকে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েও প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী এইচএসসি’র ফরম পূরণ করেনি।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একাদশ শ্রেণিতে ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। তাদের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৭ জন। আর ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৪ জন ফরম পূরণ করেনি। অর্থাৎ নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ পরীক্ষার বাইরে চলে গেছে।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম প্রথম বর্ষে নিবন্ধন করেছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৭৮ হাজার ২৬৯ জন ফরম পূরণ করেছে। বাকি ৬১ হাজার ৬৬০ জন ফরম পূরণ না করায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। এ বোর্ডে ফরম পূরণ না করার হার ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একাদশ শ্রেণির (ভোকেশনাল) ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। তাদের মধ্যে ফরম পূরণ করেছে ৭৫ হাজার ১৯৭ জন। ফলে ৯০ হাজার ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা থেকে ছিটকে গেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ফরম পূরণ না করা শিক্ষার্থীর হার ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ, যা সব বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সবমিলিয়ে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেও প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসায় ৬১ হাজারের বেশি এবং কারিগরিতে ৯০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে।

করোনা থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা: কেন বাড়ছে ঝরে পড়া

ঝরে পড়ার কারণ জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই ঝরে পড়া শুধু দুই বছরের বিষয় নয়। করোনা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষাঙ্গনের ক্ষতি ঠিকমতো নিরূপণ করা হয়নি, সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কার্যকর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। করোনা-পরবর্তী সময় ধরলে প্রায় পাঁচ বছর ধরে আমরা একটি টানা-পোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। প্রথমত, পুরো শিক্ষাঙ্গন করোনা-পরবর্তী ক্ষতি সামাল দিতে পারেনি। দ্বিতীয়ত, আমরা এমন একটি সময় পার করেছি, যখন ঘন ঘন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন করা হয়েছে।’

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর শিক্ষাঙ্গনে মব সন্ত্রাসের কারণে শিক্ষকরা এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। আন্দোলনের মূল চেতনাকে পাশ কাটিয়ে একাংশ শিক্ষার্থীও মব সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাব শিক্ষার পরিবেশে নেতিবাচকভাবে পড়ে।

তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালে অটোপাস দেওয়া হয়। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি নিয়ে তখন তেমন আলোচনা হয়নি। শুধু শিক্ষার্থীদের শিখন-ঘাটতিই নয়, পুরো শিক্ষাঙ্গনই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। শিক্ষকরা দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন। এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষা, সমাজ এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধেও। কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়—এসবও সেই সংকটের অংশ। এই পরিস্থিতি থেকে এখনও পুরোপুরি উত্তরণ ঘটেনি। এরই প্রভাব হিসেবে এখন শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পাস করার পর উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার আগেই ঝরে পড়ে। আবার ভর্তি হলেও অনেকেই শেষ পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না। কেউ জীবিকার জন্য কাজ শুরু করে, কেউ নিবন্ধন করেও টেস্ট পরীক্ষার আগেই পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। আবার অনেকে নিবন্ধন করলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেয় না। গত তিন-চার বছর ধরে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটি শুধু এ বছরের সমস্যা নয়। আমরা বিষয়টিকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিইনি। জাতি হিসেবে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার থেকে সরিয়ে ফেলেছিলাম। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও শিক্ষা সেই অগ্রাধিকার পায়নি। এখন বর্তমান সরকারের সময়ে সেই অবহেলার ফল সামনে আসছে।

দারিদ্র্য, বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রমের প্রভাব

শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে বাল্যবিয়ের কথা উল্লেখ করেন রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে ১৮ বছরের নিচে বাল্যবিয়ের হার বেড়েছে। অনেকে একে ‘আর্লি ম্যারেজ’ বললেও ১৮ বছরের নিচে হলে সেটি বাল্যবিয়েই।

তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে এবং শিশুদের শ্রমবাজারে যুক্ত হওয়া—দুটিই ঝরে পড়ার বড় কারণ। একইসঙ্গে শিক্ষা এখনও ব্যয়বহুল। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা সম্ভব হয়নি। সরকার উপবৃত্তি, বই, পোশাক, জুতা ও মিড-ডে মিল দিচ্ছে। কিন্তু নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বহন করা অনেক পরিবারের পক্ষেই সম্ভব হয় না। অথচ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তাই পর্যায়ক্রমে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালুর পরামর্শ দেন তিনি।

সমাধান কী দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হক বলেন, এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় কিছু শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এই প্রবণতা বেড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী বাবা-মায়ের কর্মসংস্থান হারানোর কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির মুখোমুখি হয়েছে। চাকরি বা কাজ হারিয়ে অনেক পরিবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনার মতো বড় শহর ছেড়ে শহরতলি বা গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯–এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও এখনও কাটেনি। মহামারির সময়ে অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত শিখন অর্জন করতে পারেনি, যার নেতিবাচক প্রভাব এখনও রয়ে গেছে। এর সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার কারণে অনেক পরিবার মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার ব্যয় বহন করতে পারছে না। ফলে অনেকেই সন্তানদের মাদ্রাসা বা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে বাধ্য হচ্ছে।

কে এম এনামুল হক বলেন, অনেক শিক্ষার্থী এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ফরম পূরণ করলেও আর্থিক সংকটের কারণে প্রাইভেট টিউশন, কোচিং কিংবা বিদ্যালয়ের পরীক্ষা প্রস্তুতির অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে পারেনি। আবার অনেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে অন্য এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। ফলে তারা শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। তাঁর মতে, বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা এখনও শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য কার্যকরভাবে প্রস্তুত করতে পারছে না। ফলে প্রান্তিক পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়াকে বড় ক্ষতি বলে মনে হয় না।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে শুধু শিশুর ইতিবাচক মনন, জাতীয়তাবোধ, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ নয়, স্কুল টু ওয়ার্ক ট্রানজিশন বা শিক্ষা থেকে কর্মজীবনে যাওয়ার প্রক্রিয়াকেও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা-সংক্রান্ত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, বিশেষ করে উপবৃত্তি, মেয়েশিশুদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তি এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত ফিরতে পারেনি। এর প্রভাব এখনও রয়ে গেছে।

তার ভাষ্য, পড়াশোনার বাইরে চলে গেছে এমন একটি বড় অংশ রয়েছে। টেস্ট পরীক্ষার সময় এসে অনেকেই আর আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে না। ফলে একাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। যদিও সংখ্যাটি খুব বেশি নয়, তবু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শিক্ষার্থীদের আবার বিদ্যালয়মুখী করা। ‘ব্যাক টু স্কুল’ কর্মসূচিকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সরকারকে সেটি ভাবতে হবে।

Ads small one

ডেঙ্গু কেড়ে নিলো আরও ৪ প্রাণ, হাসপাতালে ভর্তি ১৫১২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু কেড়ে নিলো আরও ৪ প্রাণ, হাসপাতালে ভর্তি ১৫১২

 

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮ পর্যন্ত সময়ে তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১ হাজার ৫১২ জন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫০৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৯৪ জন, খুলনা বিভাগে ২০৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬২ জন, রংপুর বিভাগে ৪৪ জন, বরিশাল বিভাগে ২৩১ জন এবং সিলেট বিভাগে ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

আরও জানানো হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জন। এদের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ১১১ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর বর্তমানে হাসপাতালে ৬ হাজার ২৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে মারা গিয়েছে ৩৬৮ জন।

 

 

 

সবুজে সাজবে কলারোয়া, ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ তরুণ প্রকৌশলী চয়নের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
সবুজে সাজবে কলারোয়া, ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ তরুণ প্রকৌশলী চয়নের
কলারোয়া প্রতিনিধি:  বজ্রপাত প্রতিরোধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আগামীর প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য কলারোয়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০০ কিলোমিটার সড়কে তালবীজ রোপণের পর এবার ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ সিভিল প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় তিনি এ পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।
বৃহস্পতিবার কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় প্রাঙ্গণে ৫০টি কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিজ হাতে কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ উপজেলার ১ নম্বর জয়নগর, ২ নম্বর জালালাবাদ, ৩ নম্বর কয়লা, ১০ নম্বর কুশোডাঙ্গা, ১১ নম্বর দেয়াড়া ও ১২ নম্বর যুগিখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রধান বাজারে পর্যায়ক্রমে এসব কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করা হবে। আগামী চার দিন এ কর্মসূচি চলার কথা রয়েছে।
রোপণ করা চারাগুলো যাতে গরু-ছাগলসহ গবাদিপশুর কারণে নষ্ট না হয়, সে জন্য প্রতিটি চারার চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে চারাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেগুলোকে বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কলারোয়া উপজেলার ১২ নম্বর যুগিখালী ইউনিয়নের প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করেন আসিফ ইকবাল চয়ন। তাঁর রোপণ করা তালবীজের প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে চারা গজিয়েছে। ওই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আগামী ছয় বছরের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন প্রধান ও আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটারজুড়ে তালবীজ রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
পরিবেশবান্ধব এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সড়কের পাশে সবুজায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ-শ্যামল উপজেলা গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
আসিফ ইকবাল চয়ন বলেন, “একটি সবুজ ও সুন্দর কলারোয়া উপজেলা গড়ে তুলতে আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে হাত বাড়াই।”

আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৩ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস। এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো বিরল এই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং পাহাড়ি বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। তুষার চিতাবাঘ শুধু প্রকৃতির অপূর্ব সৃষ্টি নয়, এশিয়ার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশ সুস্থ রাখারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়া মানে শুধু একটি প্রাণী হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় বিপদের সংকেত।

দিবসটির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকের নাম। ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর সেখানে প্রথম বৈশ্বিক তুষার চিতাবাঘ ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। তুষার চিতাবাঘের আবাসভুক্ত ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা এ প্রাণী সংরক্ষণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশকেক ঘোষণা গ্রহণ করেন। এর প্রথম বার্ষিকী স্মরণে ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর প্রথম আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস পালিত হয়। পরে ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৩ অক্টোবরকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস ঘোষণা করে।

বৈজ্ঞানিকভাবে তুষার চিতাবাঘের নাম প্যানথেরা আনসিয়া। সহজে দেখা যায় না বলে একে ‘পাহাড়ের ভূত’ বলা হয়। এরা মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের খাড়া, পাথুরে ও দুর্গম পরিবেশে বসবাস করে। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মিটার উচ্চতার এলাকায় এদের বিচরণ দেখা যায়। আফগানিস্তান, ভুটান, চীন, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান-এই ১২টি দেশে এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল বিস্তৃত। এর মধ্যে চীনে এদের আবাসস্থলের উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে।

বিশ্বে বন্য পরিবেশে তুষার চিতাবাঘের সংখ্যা আনুমানিক ৪ হাজার থেকে ৭ হাজারের মধ্যে বলে বিভিন্ন সংস্থা ধারণা করে। তবে দুর্গম আবাসস্থল, বিচরণক্ষেত্রের বিশালতা এবং সঠিক গণনার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন। এ প্রজাতির কোনো স্বীকৃত পৃথক উপপ্রজাতি বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত নয়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের লাল তালিকায় তুষার চিতাবাঘ ‘সংবেদনশীল’ শ্রেণিতে রয়েছে। অর্থাৎ প্রজাতিটি বন্য পরিবেশে বিলুপ্তির উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ১৯৭৫ সাল থেকে এটি বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বিপন্ন প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক কনভেনশন-সাইটিসের পরিশিষ্ট-১ এবং ১৯৮৬ সাল থেকে পরিযায়ী বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক কনভেনশনের পরিশিষ্ট-১-এ অন্তর্ভুক্ত।

তুষার চিতাবাঘ পাহাড়ি খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষ শিকারি প্রাণী। এরা মূলত আইবেক্স, নীল ভেড়া ও অন্যান্য বুনো তৃণভোজী প্রাণী শিকার করে। এর মাধ্যমে শিকারযোগ্য প্রাণীর সংখ্যা ও চারণের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। তুষার চিতাবাঘকে আমব্রেলা স্পিসিস বা ছাতাপ্রজাতি বলা হয়, কারণ এদের সংরক্ষণের জন্য বিস্তৃত প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করতে হয়। ফলে একই সঙ্গে অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থানও সুরক্ষিত হয়। এরা কীস্টোন স্পিসিস হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এদের উপস্থিতি একাই কোনো অঞ্চলের পানির উৎস বা পরিবেশের সুস্থতার নিশ্চয়তা দেয় না; বরং অন্যান্য পরিবেশগত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে এদের অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়।

তুষার চিতাবাঘের অস্তিত্ব আজ নানা সংকটে বিপন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় ও আলতাইসহ বিভিন্ন পর্বতাঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়ছে এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল বদলে যাচ্ছে। বনসীমা উঁচুতে উঠে যাওয়া, মানুষের বসতি বৃদ্ধি, খনি খনন ও সড়ক নির্মাণের কারণে তাদের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত ও খন্ডিত হচ্ছে। অতিরিক্ত পশুচারণ এবং বন্য প্রাণী শিকারের ফলে আইবেক্স ও নীল ভেড়ার মতো প্রধান খাদ্যের প্রাপ্যতাও কমছে। পাশাপাশি চামড়া, হাড় ও অন্যান্য অঙ্গের অবৈধ বাণিজ্যের জন্য চোরাশিকার এদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্বও একটি বড় সমস্যা। প্রাকৃতিক শিকার কমে গেলে তুষার চিতাবাঘ কখনো কখনো লোকালয়ে এসে ছাগল, ভেড়া কিংবা ইয়াক শিকার করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও রাখালেরা প্রতিশোধ নিতে এদের হত্যা করতে পারেন। এ সমস্যা কমাতে গৃহপালিত পশুর নিরাপদ খোঁয়াড় নির্মাণ, ক্ষতিপূরণব্যবস্থা, বিকল্প জীবিকার সুযোগ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সংরক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করা জরুরি। শুধু আইন করে নয়, পাহাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুষার চিতাবাঘ রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে।

তুষার চিতাবাঘের আবাসভুক্ত দেশগুলো প্রজনন কর্মসূচি, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা এবং আন্তসীমান্ত সহযোগিতার মাধ্যমে এ প্রজাতি রক্ষায় কাজ করছে। উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক তুষার চিতাবাঘ ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষা কর্মসূচি, রাশিয়ার তুষার চিতাবাঘ সংরক্ষণ কৌশল, নেপালের ২০২৪-২০৩০ সালের সংরক্ষণ কর্মপরিকল্পনা, ভুটানের ২০২৪–২০৩৪ সালের কর্মপরিকল্পনা এবং পাকিস্তানের তুষার চিতাবাঘ ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষা কর্মসূচি। পশ্চিম তিয়েন শান ও পামির-আলাই অঞ্চলে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের সমরখন্দ প্রস্তাব জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন ও সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।

তুষার চিতাবাঘ সংরক্ষণ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গেও সম্পর্কিত। বিশেষ করে লক্ষ্যমাত্রা-৬ বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, লক্ষ্যমাত্রা-১৩ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং লক্ষ্যমাত্রা-১৫ স্থলজ বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অর্জনে পাহাড়ি পরিবেশ রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়কে এশিয়ার বহু মানুষের পানির ভান্ডার বলা হয়। এসব অঞ্চলের বন, তৃণভূমি, হিমবাহ ও নদীর স্বাভাবিক কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে সুস্থ বাস্তুতন্ত্র অপরিহার্য।

আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবসে ডব্লিউডব্লিউএফ, স্নো লেপার্ড ট্রাস্টসহ বিভিন্ন সংস্থা সচেতনতামূলক প্রচার, গবেষণা, সংরক্ষণ তহবিল সংগ্রহ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেও সচেতনতা ছড়ানো যায়। তবে দিবসটি পালনের সার্থকতা শুধু প্রচারে সীমাবদ্ধ নয়; অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য বন্ধ, আবাসস্থল সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর মধ্যেই এর প্রকৃত তাৎপর্য। তুষার চিতাবাঘ বাঁচলে পাহাড়ি প্রকৃতির অসংখ্য প্রাণ ও উদ্ভিদ রক্ষার সুযোগ বাড়বে। তাই আসুন, তুষার চিতাবাঘের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হই।