সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

কয়রায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
কয়রায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: কয়রায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন পালিত হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০ টায় উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, কয়রা শাখার আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এসময় উপজেলা বিআরডিপির চেয়ারম্যান এফ এম মনিরুজ্জামান মনি সভাপতিত্বে ও পল্লী উন্নয়ন অফিসার (ইরেসপো) মোঃ আল মামুনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সমীর কুমার সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব নুরুল আমিন বাবুল, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার নিশাত ইসলাম, সমাজসেবা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ, কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিয়াছাদ আলী, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন অফিসার মোঃ বিল্লাল হোসেন, বিআরডিবির সহ সভাপতি মোঃ আব্দুস ছালাম, সমবায়ী মোঃ আলমগীর হোসেন, রেক্সনা হক প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি, সমবায়ী সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে সমবায়ীদের মাঝে ঋণের চেক বিতরনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

Ads small one

কুয়ালালামপুরের মালুরি রাতের বাজারে বাংলাদেশি নাগরিকসহ ২০০ বিদেশি আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
কুয়ালালামপুরের মালুরি রাতের বাজারে বাংলাদেশি নাগরিকসহ ২০০ বিদেশি আটক
মোঃ শাহিনুর রহমান শাহিন, মালয়েশিয়া: মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের চেরাস (মালুরি) রাতের বাজারে ৫ জুলাই পরিচালিত অপ কুটিপ (Op Kutip) অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগ এবং কুয়ালালামপুর সিটি হল (DBKL) যৌথভাবে ২০০ জন অবৈধ বিদেশিকে আটক করেছে।
কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক হামশা ইনজাউ (Hamsha Injau) জানান, সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া অভিযানে মোট ৫০০ জনকে তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে ৪০৭ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন স্থানীয় নাগরিক ছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ২০০ জন বিদেশিকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১২৫ জন পুরুষ এবং ৭৫ জন নারী।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভিয়েতনাম, চীন ও ভারতের নাগরিক রয়েছেন।
তদন্তে যেসব অপরাধ ধরা পড়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, ভিজিট পাস বা কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্রের অপব্যবহার এবং ইমিগ্রেশন আইনের শর্ত লঙ্ঘন।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ অনুযায়ী পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জালান দুতা ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

বিশ্ব চকোলেট দিবস: ভালোবাসা, উপহার ও বৈশ্বিক সংস্কৃতির যাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
বিশ্ব চকোলেট দিবস: ভালোবাসা, উপহার ও বৈশ্বিক সংস্কৃতির যাত্রা

সাকিবুর রহমান বাবলা

৭ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব চকোলেট দিবস। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্যপণ্যের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, এর দীর্ঘ ইতিহাস এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অবদানকে স্মরণ করতেই দিনটি উদযাপিত হয়। ২০০৯ সাল থেকে দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়ে আসছে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ১৫৫০ সালের ৭ জুলাই ইউরোপে চকোলেটের বিস্তৃত পরিচিতির সূচনা হয়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই বিশ্ব চকোলেট দিবস পালিত হয়।

চকোলেটের ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। মধ্য আমেরিকার মায়া ও অ্যাজটেক সভ্যতার মানুষ কোকো বীজ থেকে তৈরি পানীয়কে মূল্যবান সম্পদ ও বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত। বর্তমানে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড ভোগের দিক থেকে শীর্ষে। উন্নত উৎপাদন ও ঐতিহ্যের কারণে সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়াম বিশেষভাবে সমাদৃত। সুইজারল্যান্ড এবং বেলজিয়াম চকোলেটকে তাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ও অন্যতম “জাতীয় প্রতীক” বা গৌরব হিসেবে গণ্য করে।

বিশ্বের বিলাসবহুল ও উচ্চমূল্যের চকোলেট ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ইকুয়েডরের টো’আক চকোলেট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিরল ‘ন্যাসিওনাল’ কোকো বীজ দিয়ে তৈরি এই পণ্যটি বিশ্বের অন্যতম দামি ও অভিজাত চকোলেট হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব নিপশিল্ট-এর তৈরি ‘লা মাদেলিন ও ট্রাফল’ বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ট্রাফল চকোলেট হিসেবে খ্যাত। ইতালির আমেদেই ব্র্যান্ডের ‘আমেদেই পোর্সেলানা’ ডার্ক চকোলেট বিরল সাদা কোকো বীজ থেকে প্রস্তুত হওয়ায় এটি অত্যন্ত মূল্যবান ও সমাদৃত। সুইজারল্যান্ডের টয়শার ও লিন্ডট দীর্ঘ ঐতিহ্য, উৎকৃষ্ট মান এবং প্রিমিয়াম উৎপাদনের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত।

 

একইভাবে বেলজিয়ামের গোদাইভা ও গাইলিয়ান তাদের আভিজাত্য, নান্দনিক উপস্থাপন এবং রাজকীয় স্বাদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। অন্যদিকে ফেরেরো রোশে, ক্যাডবেরি ডেইরি মিল্ক, কিন্ডার, হার্শেজ, টোব্লেরোন ও লিন্ডট-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলো আজ বিশ্বজুড়ে উৎসব, উদ্যাপন, উপহার প্রদান এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

বাংলাদেশে আশির দশকে ‘মিমি’ চকোলেটের মাধ্যমে এ দেশে চকোলেট সংস্কৃতির পরিচিতি ঘটে। বর্তমানে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের সমন্বয়ে বাজার বিস্তৃত হয়েছে। মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা ও উপহার সংস্কৃতির প্রসারে জন্মদিন, বিবাহোত্তর সংবর্ধনা, করপোরেট অনুষ্ঠান ও ভালোবাসা দিবসে চকোলেটের ব্যবহার বেড়েছে। একই সঙ্গে ‘ফেয়ার ট্রেড’ সার্টিফিকেশন কোকো চাষিদের ন্যায্য মূল্য ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।

শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও অতিরিক্ত গ্রহণ দাঁতের ক্ষয় ও স্থূলতার কারণ হতে পারে। তবে ডার্ক চকোলেটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষের সুরক্ষা, হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতি, রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি ও মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। পরিমিতি বজায় রেখে সচেতন খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই এটি গ্রহণ করা শ্রেয়।

বিশ্ব চকোলেট দিবসে আমরা কোকো চাষি, শ্রমিক ও উৎপাদনশিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখো মানুষের অবদানকে স্মরণ করি। একটি চকোলেট বারের পেছনে থাকে দীর্ঘ শ্রম ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিশাল শৃঙ্খল। এই দিবস কেবল স্বাদের উদযাপন নয়; বরং মানুষের সৃজনশীলতা, পরিশ্রম ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক অনন্য স্বীকৃতি।

ন্যায়বিচারের রাষ্ট্র, নাকি প্রতিহিংসার রাজনীতি?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ন্যায়বিচারের রাষ্ট্র, নাকি প্রতিহিংসার রাজনীতি?

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎‎বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল গণতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রতিটি ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যদি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে গণগ্রেপ্তার, মামলা, হয়রানি, রাজনৈতিক প্রতিশোধ কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ সামনে আসে, তাহলে একটি মৌলিক প্রশ্ন অনিবার্য হয়ে ওঠে আমরা কি সত্যিই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছি, নাকি প্রতিহিংসার এক অন্তহীন রাজনৈতিক চক্রের মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছি?

‎বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে, ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেও রাজনৈতিক সংস্কৃতির কাঙ্খিত পরিবর্তন সব সময় ঘটেনি। যে দল বিরোধী অবস্থায় থেকে দমন-পীড়নের অভিযোগ করেছে, ক্ষমতায় গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এই পুনরাবৃত্তি বাস্তবতা জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে এবং গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা দুর্বল করে।

‎আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক হয়রানি ও বিরোধী মত দমনের অভিযোগ তুলেছে। এসব অভিযোগের যেগুলো তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হবে, সেগুলোর অবশ্যই আইনানুগ বিচার হওয়া উচিত। একইভাবে বর্তমান সময়ে যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠলে তারও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ আইনের শাসনের মূলনীতি হলো আইন ব্যক্তি বা দলের পরিচয় নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োগ হবে।

‎বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন মহলে এমন অভিযোগও আলোচিত হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মী, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল না এবং যারা নিজ নিজ এলাকায় সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিলেন, তারাও বিভিন্ন মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের একমাত্র বৈধ ক্ষেত্র আদালত। তবে এ ধরনের আলোচনা যখন জনপরিসরে বিস্তৃত হয়, তখন বিচারব্যবস্থা ও আইনের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

‎একইভাবে আইনজীবী মহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মাঝে মাঝে এমন অভিযোগও উঠে আসে যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালত থেকে জামিন লাভের পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট আদালত ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অনুসন্ধান ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। তবে এমন ধারণা যদি জনমনে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

‎একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অপরাধের দায় ব্যক্তির, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের নয়। কোনো দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বা কর্মকান্ডের দায় সেই দলের প্রতিটি সাধারণ কর্মীর ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বর্তায় না। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিচার অবশ্যই হতে হবে। আবার নির্দোষ ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এটাই আইনের শাসনের প্রকৃত চেতনা।

‎বাংলাদেশের ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয় প্রতিহিংসার রাজনীতি কখনো স্থায়ী সমাধান এনে দেয় না। আজ যারা ক্ষমতায়, কাল তারা বিরোধী দলে যেতে পারেন; আবার আজ যারা বিরোধী, ভবিষ্যতে তারাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেন। ফলে আজ যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে, আগামী দিনে তার প্রভাব পড়বে সব রাজনৈতিক দলের ওপরই।
‎গণতন্ত্রের শক্তি প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার মধ্যে নয়; বরং ভিন্নমতকে সাংবিধানিক ও আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে নিরাপদ রাজনৈতিক পরিসর দেওয়ার মধ্যেই নিহিত। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত জনগণের রায়ে, প্রশাসনিক প্রভাব বা প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে নয়।

‎বাংলাদেশের মানুষ বহু সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন লালন করেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে তখনই, যখন আইনের শাসন বাস্তব অর্থে প্রতিষ্ঠিত হবে, বিচারব্যবস্থা হবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ, মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং কোনো নাগরিক তার রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে বৈষম্য বা অনিশ্চয়তার শিকার হবেন না।
‎আজ সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা নয়; বরং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠন করা। সেই আস্থার ভিত্তি হতে পারে একটিই অপরাধীর বিচার হবে, কিন্তু নির্দোষের অধিকারও সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে; আইন হবে নিরপেক্ষ, বিচার হবে প্রমাণভিত্তিক এবং রাষ্ট্র হবে সব নাগরিকের সমান আশ্রয়স্থল।

‎প্রতিহিংসার রাজনীতি কোনো জাতির জন্য স্থায়ী সমাধান নয়। ন্যায়বিচার, জবাবদিহি, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ওপর দাঁড়িয়েই একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।

‎‎‎লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা