বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

কর্পূর: পরিবেশবান্ধব ভেষজ রসায়ন ও তার বৈশ্বিক উপযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
কর্পূর: পরিবেশবান্ধব ভেষজ রসায়ন ও তার বৈশ্বিক উপযোগিতা

তারিক ইসলাম

প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি কর্পূর গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Cinnamomum camphora। এটি কেবল একটি সাধারণ বৃক্ষ নয়, বরং এটি একটি প্রাকৃতিক রসায়নাগার। হাজার বছর ধরে এশীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ধর্মীয় আচারে কর্পূরের ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমান যুগে পরিবেশ দূষণ রোধ এবং সিন্থেটিক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে কর্পূর গাছের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় বিশ্বব্যাপী আলোচিত হচ্ছে।

উদ্ভিদতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও বিস্তার : কর্পূর মূলত লরেসি (Lauraceae) পরিবারের একটি চিরসবুজ বৃক্ষ। এটি ধীরগতিতে বাড়লেও দীর্ঘজীবী হয়। এর পাতাগুলো উজ্জ্বল সবুজ এবং মোমের মতো মসৃণ। বসন্তকালে এই গাছে ছোট ছোট হলদেটে ফুল ফোটে এবং পরে গাঢ় বেগুনি রঙের ফল ধরে। মূলত পূর্ব এশিয়া (চীন, জাপান, তাইওয়ান) এর আদি নিবাস হলেও বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামে এটি সফলভাবে অভিযোজিত হয়েছে।
রাসায়নিক গঠন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া : কর্পূর গাছের প্রধান আকর্ষণ হলো এর কাঠ ও পাতা থেকে প্রাপ্ত উদ্বায়ী তেল (Essential Oil)।

টারপেনয়েড যৌগ: কর্পূরে মূলত ‘টারপেনয়েড’ নামক রাসায়নিক উপাদান থাকে যা এর তীব্র ঘ্রাণের উৎস।
উৎপাদন: বয়স্ক গাছের কাঠ ও পাতা থেকে ‘স্টিম ডিস্টিলেশন’ বা বাষ্প পাতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্পূর তেল সংগ্রহ করা হয়। পরে এই তেলকে শীতলীকরণের মাধ্যমে কঠিন স্ফটিক বা ড্যালা কর্পূরে রূপান্তর করা হয়।

বহুমাত্রিক ব্যবহার ও উপযোগিতা :
১. ভেষজ ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান: কর্পূরের প্রধান গুণ হলো এটি রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং স্থানীয়ভাবে অবশকারী (Local Anesthetic) হিসেবে কাজ করে। বাতের ব্যথা, মাংসপেশির টান এবং জয়েন্টের ব্যথায় ব্যবহৃত বিভিন্ন বাম (Balm) ও মলমের এটি প্রধান উপাদান। এছাড়া ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে এবং ব্রঙ্কাইটিসের চিকিৎসায় এর ব্যবহার সুবিদিত।

২. প্রাকৃতিক পতঙ্গ নিবারক: রাসায়নিক ন্যাপথলিনের বিকল্প হিসেবে কর্পূর অধিক নিরাপদ। আলমারিতে বা কাপড়ের ভাঁজে কর্পূর রাখলে তা কেবল সুগন্ধই ছড়ায় না, বরং মথ ও বিভিন্ন ক্ষতিকারক পোকা দূরে রাখে। এমনকি ঘরে কর্পূরের ধোঁয়া দিলে মশা ও মাছি নিধন হয়।

৩. প্রসাধনী ও সুগন্ধি শিল্প: উচ্চমানের সাবান, শ্যাম্পু এবং ঘর সতেজ রাখার ‘এয়ার ফ্রেশনার’ তৈরিতে কর্পূর তেল অপরিহার্য। এটি ত্বকের চুলকানি ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

৪. পরিবেশগত গুরুত্ব: গবেষণায় দেখা গেছে, কর্পূর গাছ অত্যন্ত উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন নির্গত করে এবং বাতাস থেকে কার্বন-মনোক্সাইড শুষে নিতে সক্ষম। এর অ্যান্টি-সেপটিক বাষ্প বায়ুম-লের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে বাতাসকে বিশুদ্ধ রাখে।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বনায়ন : বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর আবহাওয়া কর্পূর চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বাণিজ্যিকভাবে এই গাছের চাষ করলে কর্পূর আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব। বিশেষ করে পাহাড়ী অঞ্চল এবং রাস্তার পাশে পরিকল্পিত বনায়নের মাধ্যমে এটি একটি লাভজনক খাত হতে পারে। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে কর্পূর ও কাঠ পাওয়া সম্ভব।

কর্পূর গাছ প্রকৃতির এক অমূল্য সম্পদ যা একই সাথে জীবনদায়ী ওষুধ এবং পরিবেশ রক্ষাকারী প্রহরী। নগরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে আমাদের বাস্তুসংস্থান রক্ষা করতে এবং টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে কর্পূরের মতো অর্থকরী ও ওষুধি বৃক্ষ রোপণ এখন সময়ের দাবি। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নার্সারিগুলোতে এর চারা সহজলভ্য করা এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করাই হতে পারে এর প্রথম ধাপ।

সতর্কতা : যদিও কর্পূর অত্যন্ত উপকারী, তবে এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার বা সরাসরি ভক্ষণ স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের নাগালের বাইরে এটি রাখা উচিত এবং ভেষজ চিকিৎসায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

লেখক: সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি

Ads small one

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

ন্যাশনাল ডেস্ক: আজ ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। আল্লাহর প্রিয় নবী ও রসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন। এ ছাড়া ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে তিনি ৬৩ বছর বয়সে ওফাত লাভ করেন। সারা বিশ্বের মুসলমান এ দিনটি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন। আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর একাত্মবাদের দাওয়াত দিয়ে সত্য-ন্যায়, শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁকে সৃষ্টি করেছিলেন ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ হিসেবে। মহান আল্লাহ তাঁর ওপর নাজিল করেন পবিত্র কোরআন। মুসলিম উম্মাহ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে উদ্যাপন করে থাকে। এ দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, বেশি বেশি দরুদ পাঠ, দান-খয়রাতসহ নফল ইবাদতে মগ্ন থাকেন। অনেকে নফল রোজা রাখেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জশনে জলুস (আনন্দ শোভাযাত্রা), আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি নিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ নানা ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীর মতো প্রধান শহরগুলোয় সুষ্ঠু ও নিরাপদে শোভাযাত্রা নিশ্চিতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

সম্পাদকীয়/ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.): বিশ্ব মানবতার মুক্তি ও সম্প্রীতির বার্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.): বিশ্ব মানবতার মুক্তি ও সম্প্রীতির বার্তা

বিশ্বমানবতার পরম বন্ধু, শান্তি, সাম্য ও ইনসাফের প্রতীক সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত মাহান্বিত দিনÑপবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.)। ১২ই রবিউল আউয়াল শুধু মুসলিম জাহানের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসেই এক অনন্য ও বৈপ্লবিক মাইলফলক। যে সময়ে আরব সমাজ চরম অজ্ঞতা, অরাজকতা, সহিংসতা ও অমানবিকতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলÑইতিহাসে যা ‘আইয়ামে জাহিলিয়াত’ বা অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিতÑঠিক সেই প্রাক্কালে আল-আমিন বা পরম বিশ্বাসী হিসেবে আবির্ভূত হয়ে মহানবী (সা.) বিশ্ববাসীকে মুক্তির আলো দেখিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, “আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।” রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্ম বা গোত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বজগতের সব জাতি ও মানুষের জন্য সার্বজনীন হেদায়েতের মশাল। তিনি তাঁর আদর্শ ও চরিত্র দিয়ে হিংসা-বিদ্বেষে জর্জরিত সমাজকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং নারী ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার। ‘মদিনা সনদ’-এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে উপহার দিয়েছিলেন ধর্মীয় সহাবস্থান ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র কাঠামোর কালজয়ী দলিল।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, যখন সারা বিশ্বে হিংসা, পরশ্রীকাতরতা, যুদ্ধ, অন্যায় এবং সামাজিক অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়েছে, তখন মহানবী (সা.)-এর শিক্ষাকে নতুন করে লালন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা বা মিলাদ মাহফিলের মধ্যে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী-এর তাৎপর্যকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আসল উদ্যাপন লুকিয়ে আছে তাঁর রেখে যাওয়া সুন্নাহ ও নীতি-আদর্শকে দৈনন্দিন জীবনের সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়নের মাধ্যমে।
সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে সৎ, আমানতদার ও ইনসাফভিত্তিক আচরণের চর্চা করা।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করা।
মানবিক সেবা: সমাজে দুস্থ, এতিম, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার সেবা নিশ্চিত করা।
পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) আমাদের আত্মশুদ্ধি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। প্রিয় নবী (সা.)-এর মহান আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় জীবন থেকে সব ধরনের অন্যায়, বৈষম্য ও হিংসা দূর করাই হোক আজকের দিনের দৃঢ় অঙ্গীকার। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ মেনে চলে দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তিময় জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন।

 

 

 

 

ফিংড়ী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতির বাবার ইন্তেকাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
ফিংড়ী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতির বাবার ইন্তেকাল

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি ও বর্তমান ইউপি সদস্য মো. আবু সাঈদ মোল্লার বাবা শামছুর রহমান মোল্লা (৮৭) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)। মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজ শেষে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং বিডিএফ প্রেসক্লাবের নেতারা।