বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কলারোয়ায় নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্বারোপ জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্বারোপ জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের
আরিফ মাহমুদ: কলারোয়ায় বাল্যবিবাহ, মাদকদ্রব্য, ইভটিজিং ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কলারোয়া পাইলট হাইস্কুলে অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ছিলেন সাতক্ষীরার নবাগত জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ।
নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোন বিভেদ নয়, আসল কথা মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। ইভটিজিং থেকে বাল্যবিবাহের প্রবনতা বাড়ে। সকলের সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বাল্যবিবাহ, মাদকদ্রব্য, ইভটিজিং ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সম্ভব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন নাহার আক্তার, বেত্রবতী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শেখ রাশেদুল হাসান কামরুল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পাইলট হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক শেখ তামিম আজাদ মেরিনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
পরে ডিসি কাউসার আজিজ কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে ও বিদ্যালয় পরিবেশ উন্নয়নে” শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের শিষ্টাচার ও নৈতিকতা ক্যাম্পেনিং” শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন এবং উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুস্থ নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ করেন।
এদিকে, উপজেলার পাঁচপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প, হেলাতলা কমিউনিটি ক্লিনিক, কলারোয়া গার্লস স্কুলে সাইক্লোন সেন্টার কাম একাডেমিক ভবন নির্মান, টিআর প্রকল্প, বিভিন্ন দপ্তর ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরার ডিসি কাউসার আজিজ।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর কাউসার আজিজের এটাই প্রথম কলারোয়া উপজেলায় আগমন।
উল্লেখ্য, গত ০২ মে কাউসার আজিজ সাতক্ষীরার জেলা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন।
তিনি এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি ২৮তম বিসিএস (প্রশাসন) ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তিনি সহকারী কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপসচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষাজীবন: তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায়।

Ads small one

বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

আজ (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’।

১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানব পরিবেশবিষয়ক সম্মেলনে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে বৈশ্বিক উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘ ৫ জুনকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং ১৯৭৩ সাল থেকে দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়। পরিবেশ বিষয়ে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি হিসেবে এটি পরিচিত।

দিবসটি উপলক্ষে পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা আলোচনা সভা, র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক প্রচারণার আয়োজন করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও পৃথক কর্মসূচি পালন করছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, বন্যা, খরা ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ, বায়ুদূষণ এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ পরিবেশগত সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। তাদের মতে, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগই একটি নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ এবং উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, জলবায়ু ও পরিবেশের সংকট মোকাবিলা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারি-বেসরকারি খাত, গবেষক, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও জনসচেতনতার মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

কলারোয়ায় নারী ও শান্তিবিষয়ক আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় নারী ও শান্তিবিষয়ক আলোচনা সভা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে নারী, শান্তি ও সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) ও অর্জন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
নারী উদ্যোক্তা মৌসুমী সরদারের সভাপতিত্বে সভায় সামাজিক শান্তি রক্ষা এবং নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন দীপা রানী, মনিকা রানী, রঞ্জন ম-ল, প্রভা মন্ডল ও ইশিতা মন্ডল। বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

এক বছরে দেশে ৫২ হাজার বৃক্ষনিধন, জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ার দাবি পরিবেশবাদীদের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
এক বছরে দেশে ৫২ হাজার বৃক্ষনিধন, জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ার দাবি পরিবেশবাদীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশে আশঙ্কাজনক হারে গাছ কাটা ও বন উজাড় রোধে একটি ‘জাতীয় বন ও বৃক্ষনিধন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্প, নগরায়ণ, শিল্পায়ন, কৃষিজমির সম্প্রসারণ এবং জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে দেশের বনভূমি ও সবুজ আচ্ছাদন ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে, যা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বৃহস্পতিবার পরিবেশ অধিদপ্তর মিলনায়তনে ‘গাছনিধন মিডিয়া মনিটরিং ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়। রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) কোষাধ্যক্ষ আমিনুর রসুল বাবুল অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে যৌথ আয়োজক হিসেবে ছিল আরডিআরসি, গ্রীন ভয়েস, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, ব্রাইটার্স এবং ন্যাশনাল ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম।

গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরে দেশে ৫২ হাজার ৩৭৫টি বৃক্ষনিধনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই সংখ্যাটি আগের বছরের (২০২৪-২৫) তুলনায় ৭১.২ শতাংশ কম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলাভিত্তিক হিসাবে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ২৩ হাজার ৪১টি এবং কক্সবাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ হাজার বৃক্ষনিধনের তথ্য পাওয়া গেছে। বন ও পরিবেশ সুরক্ষায় অনুষ্ঠানে ৯ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বন আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, টেকসই কৃষিবনায়ন সম্প্রসারণ, নগর পরিকল্পনায় সবুজ অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা এবং বনের ওপর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, বৃক্ষনিধনের ফলে মাটিক্ষয়, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ছে। তবে আশার কথা হলো, সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে গাছ কাটার হার গত বছরের চেয়ে কমেছে। সরকার পরিবেশ সুরক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, আইন ও নীতিমালা থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় বৃক্ষনিধন পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। পরিবেশগত অপরাধ দমনে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস এবং গ্রিন সেভারসের প্রতিষ্ঠাতা এহসান রনিসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।