বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রভাষক মোঃ জুলমত আলী।

জানা যায়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং- ১৭০৫/২০২৬-এর আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। অপরদিকে, আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে কেশবপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান চৌধুরী বহাল রয়েছেন।

সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার সকালে প্রভাষক জুলমত আলী মাদ্রাসা পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাষক মোঃ আব্দুল হান্নান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা বিএনপি’র স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শামসুল আলম বুলবুল, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও সুধীজন।

মতবিনিময় সভায় সভাপতি প্রভাষক জুলমত আলী বলেন, “এই মাদ্রাসাকে একটি আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। সভাপতি হিসেবে আমি সব সময় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের পাশে থাকব।”

তিনি আরও বলেন, “এই মাদ্রাসায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অনার্স বিভাগ চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি, অচিরেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাদ্রাসা পরিদর্শনে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

স্থানীয় শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, প্রভাষক মোঃ জুলমত আলী একজন সুশিক্ষিত, জ্ঞানী, ভদ্র, সৎ ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি শিক্ষা বিস্তার, নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। একজন দক্ষ শিক্ষাবিদ হিসেবে তিনি শুধু শ্রেণিকক্ষেই নয়, সামাজিক কর্মকান্ডেও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছেন।

এলাকাবাসীর বিশ্বাস, তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, সততা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে একটি সুন্দর সমন্বয় গড়ে তুলে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে তিনি সফল হবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিশেষে সভাপতি প্রভাষক মোঃ জুলমত আলী সকলের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। তাঁর আগমন ও দিকনির্দেশনাকে ঘিরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

 

 

 

 

 

Ads small one

ময়লার ভাগাড় এখন নান্দনিক ক্যাফে: দুই তরুণের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
ময়লার ভাগাড় এখন নান্দনিক ক্যাফে: দুই তরুণের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: একসময় জায়গাটি ছিল ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। কপোতাক্ষ নদের তীরের এই অংশে প্রতিদিন ফেলা হতো বাজারের বর্জ্য। দুর্গন্ধ আর অপরিচ্ছন্নতার কারণে পথচারীরাও মুখ ফিরিয়ে নিতেন। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি আর সঠিক পরিকল্পনা যে যেকোনো দৃশ্যপট বদলে দিতে পারে, তার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করলেন সাতক্ষীরার তালার দুই তরুণ। নিজেদের শ্রম ও উদ্যোগে সেই পরিত্যক্ত স্থানটিকেই তাঁরা রূপ দিয়েছেন এক নান্দনিক ও পরিবারবান্ধব বিনোদন কেন্দ্রে। কপোতাক্ষ নদের তীরে তাঁদের গড়া ‘জলধারা ক্যাফে’ এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিনোদনপিয়াসীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনের কারিগর শেখ সানজিদুল হক ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন এই দুই বন্ধু। সানজিদুল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ এবং মামুন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

পড়াশোনা শেষে সানজিদুল হক প্রথমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। পরে চাকরির জমানো টাকা দিয়ে ২০২৩ সালে শুরু করেন ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা। কিন্তু কিস্তি ও বাকিতে পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে ব্যবসা বন্ধ করে বেকার হয়ে পড়েন সানজিদুল।

অন্যদিকে, আব্দুল্লাহ আল মামুনও বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাচ্ছিলেন না। একটি ওষুধ কোম্পানিতে একসঙ্গে চাকরি করার সুবাদেই দুজনের বন্ধুত্ব এবং নতুন কিছু করার স্বপ্ন দেখা। চাকরির অনিশ্চয়তা থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন যৌথ আত্মকর্মসংস্থানের।

সেই স্বপ্নের হাত ধরেই তাঁরা বেছে নেন পাটকেলঘাটা ইকো পার্ক সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের তীরের এই পরিত্যক্ত অংশটি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শুরু হয় তাঁদের নতুন পথচলা।

উদ্যোক্তারা জানান, ক্যাফেটি গড়ে তোলার প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে পুরো এলাকার স্তূপীকৃত ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। এরপর পরিবেশবান্ধব উপাদান যেমন—বাঁশ, কাঠ ও ছন ব্যবহার করে তৈরি করা হয় চমৎকার একটি বসার আবহ। কপোতাক্ষের মৃদু বাতাস আর গ্রামীণ পরিবেশের মেলবন্ধনে ক্যাফেটি দ্রুতই ইকো পার্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হয়ে ওঠে।

ক্যাফে ডায়েরিতে জানানো হয়Ñ প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে পাওয়া যায়Ñ চা, স্পেশাল দুধ চা, কফি, ফুচকা, চটপটি, মোমো, রুটি ও নানা পদের হালকা খাবার।

বিকেলের আলো ফুরিয়ে আসতেই প্রতিদিন এখানে ভিড় জমান পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের দল। প্রাকৃতিক পরিবেশে একটু স্বস্তির খোঁজে মানুষ ছুটে আসছেন ‘জলধারা’য়।

শুধু নিজেদের ভাগ্যবদলই নয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অন্য শিক্ষার্থীদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন সানজিদুল ও মামুন। বর্তমানে স্থানীয় দুজন কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী এই ক্যাফেতে পার্ট-টাইম কাজ করছেন। এতে পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁদের যেমন আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি নিজের খরচের একটা বড় অংশ তাঁরা নিজেরাই চালাতে পারছেন।

উদ্যোক্তা শেখ সানজিদুল হক বলেন, “ব্যবসায় লোকসান হয়েছে, কিন্তু সাহস হারাইনি। চাকরির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা না করে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়া উচিত। একজন উদ্যোক্তা শুধু নিজের নয়, অন্য আরও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ব্যবসা করা নয়; সমাজে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। যে জায়গাটি একসময় ডাস্টবিন ছিল, সেটি আজ মানুষের আনন্দের স্থান। ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়িয়ে এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের পাশে দাঁড়াতে চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দুই শিক্ষিত যুবকের এই প্রচেষ্টা শুধু একটি ক্যাফে প্রতিষ্ঠার গল্প নয়; এটি পরিবেশ সংরক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান এবং স্থানীয় পর্যটন বিকাশের এক চমৎকার উদাহরণ। তরুণদের এমন সৃষ্টিশীল উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবেশ বদলে দিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

 

প্লাস্টিক দূষণের বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
প্লাস্টিক দূষণের বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের করণীয়

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতিবছর ৩ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করাই এ দিবসের লক্ষ্য। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে দিবসটির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
প্লাস্টিক আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত সংকট সৃষ্টি করছে। ২০০৮ সালে স্পেনভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ‘রেজেরো’ প্রথম এ দিবস পালন শুরু করে। পরে ‘ব্যাগ ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ ও ‘ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিক’ আন্দোলনের মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে পরিণত হয়।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, যার প্রায় অর্ধেকই একবার ব্যবহারযোগ্য। বছরে ৫ ট্রিলিয়নেরও বেশি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহৃত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্লাস্টিক ব্যাগ সম্পূর্ণভাবে পচতে শত শত বছর সময় লাগে, এ সময়ে তা ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়, যা এখন সমুদ্র, নদী, মাটি, এমনকি মানুষের রক্ত, ফুসফুস ও মাতৃদুগ্ধেও পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এটিকে মানবস্বাস্থ্যের জন্য নতুন বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

প্লাস্টিক দূষণের সবচেয়ে বড় শিকার সামুদ্রিক পরিবেশ। প্রতিবছর আনুমানিক ৮ থেকে ১১ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে প্রবেশ করে। এর ফলে মাছ, কচ্ছপ, ডলফিন, তিমি ও সামুদ্রিক পাখিসহ অসংখ্য প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ সামুদ্রিক পাখি এবং এক লক্ষের বেশি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী প্লাস্টিক দূষণের কারণে মারা যায়। ফলে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এছাড়া বর্জ্যের একটি বড় অংশ ভূমিতে জমা হয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। মানবস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব উদ্বেগজনক। খাদ্য, পানি ও বাতাসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। গবেষণায় এর সঙ্গে হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনজনিত সমস্যা, প্রজনন সমস্যা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশে প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব আরও স্পষ্ট। জনসংখ্যার ঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সচেতনতার অভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য দ্রুত পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ড্রেন, খাল ও নদীতে জমে থাকা প্লাস্টিক নগর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে নদীনির্ভর জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও মৎস্যসম্পদও ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট বায়ুদূষণ মানুষের শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আইন প্রনয়ন করে পাতলা পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করে, আইনে পলিথিন উৎপাদনের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদ- বা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে। এছাড়া, পলিথিন বিক্রি, প্রদর্শন ও বিতরণের জন্য সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদ- বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা রাখা হয়েছে। তবে আইন থাকা সত্ত্বেও এর কার্যকর বাস্তবায়নে এখনও ঘাটতি। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কাপড়, পাট ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব ব্যাগের ব্যবহার বাড়ানো এবং জনসচেতনতা জোরদার করা জরুরি।

 

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস আমাদের মনে রাখতে হবে যে পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকেরও কর্তব্য। একটি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তই হতে পারে পরিবেশ রক্ষার বড় পদক্ষেপ। সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাসের মাধ্যমেই আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতে পারি।

মুক্তমত: পতন মানেই শেষ নয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
মুক্তমত: পতন মানেই শেষ নয়

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎রাজনীতির ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয় এখানে উত্থান যেমন স্থায়ী নয়, তেমনি পতনও চিরস্থায়ী নয়। যে রাজনৈতিক শক্তি আজ প্রভাবশালী, কাল সে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে; আবার যে শক্তি আজ সংকটের মুখোমুখি, সময়, নেতৃত্ব ও জনমতের পরিবর্তনে সে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এটাই রাজনীতির স্বাভাবিক বাস্তবতা এবং ইতিহাসের পুনরাবৃত্ত সত্য।

‎গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জনগণই শেষ কথা। জনগণের আস্থা, নেতৃত্বের দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং সময়ের চাহিদার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতাই একটি রাজনৈতিক শক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। তাই কোনো দলের উত্থানে অতি উল্লাস কিংবা কোনো দলের পতনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় নয়। কারণ রাজনীতিতে সময়ের চাকা কখন কোন দিকে ঘুরবে, তা আগেভাগে নির্ধারণ করা যায় না।

‎ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, অনেক রাজনৈতিক শক্তিকে একসময় অপ্রাসঙ্গিক মনে করা হলেও তারা পরবর্তীতে নতুন নেতৃত্ব, নতুন কৌশল ও নতুন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে আবারও জনগণের সমর্থন অর্জন করেছে। আবার ক্ষমতার শীর্ষে থাকা অনেক শক্তিও জনবিচ্ছিন্নতা, ভুল সিদ্ধান্ত বা সময়ের পরিবর্তনের কারণে দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে। সুতরাং রাজনীতিকে কখনোই স্থির বা চূড়ান্ত কোনো অবস্থান থেকে বিচার করা উচিত নয়।

‎প্রকৃতপক্ষে রাজনীতি হলো পরিবর্তনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এখানে চিরস্থায়ী বন্ধু যেমন নেই, তেমনি চিরস্থায়ী প্রতিপক্ষও নেই; চিরস্থায়ী ক্ষমতা নেই, নেই চিরস্থায়ী পতনও। জনগণের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রের প্রয়োজন এবং সময়ের বাস্তবতাই রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করে।

‎তাই আজকের বাস্তবতাকে চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে স্থায়ীভাবে বিজয়ী বা স্থায়ীভাবে পরাজিত মনে করা ইতিহাসের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়ার নামান্তর। রাজনীতির সবচেয়ে বড় সত্য হলো পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের সম্ভাবনাই রাজনীতিকে জীবন্ত, গতিশীল এবং প্রাসঙ্গিক করে রাখে। লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা