বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

কোন বিপদের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
কোন বিপদের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের তিন মাস পরই দেশে এক ধরনের অস্থিরতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, সীমান্তে পুশ-ইন ও সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের সরকারবিরোধী ভূমিকা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব বিষয় সরকারকেও ভাবনায় ফেলেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ‘‘দেশের জন্য সামনে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে’’— সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন মন্তব্যের পরই এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি আসলে কোনও বিপদের ইঙ্গিত দিলেন? আসলে ভেতরের খবর কী? সামনে কী হচ্ছে? এমন অসংখ্য প্রশ্ন সামনে আসছে।

জানতে চাইলে সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট আলতাফ পারভেজ বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কোনদিক থেকে এমনটি বলেছেন জানি না। তবে দেশের সামগ্রিক অবস্থা কিছুটা জটিলই বলা যায়। অর্থনীতি ভালো নেই, ব্যাংকগুলোতে অস্থিরতা, আইএমএফ’র ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না, ইসলামী ব্যাংকের কর্তৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব। আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টিও সরকারকে চাপে ফেলেছে।

অপরদিকে একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের তৎপরতা নিয়েও এক ধরনের উদ্বিগ্নতা কাজ করছে প্রশাসনে। এসব বিষয় হয়তো প্রধানমন্ত্রীকে ভাবাচ্ছে। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার তাগিদ দিতে পারেন।’’

কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের ১০০ দিনের মাথায় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে ইতোমধ্যে নানা মূল্যায়ন করেছেন রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সামনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এমন শঙ্কাকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘দেশের জন্য সামনে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। বিএনপির কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তাই কঠিন সময়ে হেসেখেলে চললে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক বড় ক্ষতি হবে।’’

গত ৩১ মে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি)-এ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থনীতিতে বড় ধরনের শঙ্কা

সামনে দেশে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তার আভাস সরকারের পক্ষ থেকেই বিভিন্ন সময়ে দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সরকার-প্রধান থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই কৃচ্ছ্রসাধন করার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসি না চালানো, রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে মিতব্যয়িতা, বিপণিবিতান খোলা রাখার বিষয়ে সময়সীমা নির্ধারণসহ বেশ কিছু পদক্ষেপের কারণে সামনের আরও কঠিন সংকট মুহূর্তের শঙ্কার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে দেশের ব্যাংকিং খাতও টালমাটাল। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোনও অগ্রগতি নেই। জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতাড়িত ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সেখানে চলছে গ্রাহক-শেয়ার হোল্ডারদের আন্দোলন। এমনকি সংঘর্ষ-গুলির ঘটনাও ঘটেছে। সেই সংকটেরও সমাধান সহসা হবে কিনা বলা কঠিন। ২০২৫ সালের বেশিরভাগ সময় মূল্যস্ফীতি ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকলেও মার্চে তা কিছুটা কমে আসে। কিন্তু এপ্রিলে আবার ৯ শতাংশের ওপরে উঠে যায়, ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ও নির্দিষ্ট আয়ের জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হয়। এ নিয়েও শঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আইএমএফের ঋণ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে সামনে চরম আর্থিক সংকট সরকারকে চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চ্যালেঞ্জ

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয় গত ২৭ মে। তবে এই সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।

সারা দেশে হত্যা, চাঁদাবাজি, গণপিটুনি, চুরি-ছিনতাই ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা খুব একটা কমেনি। এতে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা নতুন করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অপরাধবিরোধী অভিযান চালানো হলেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এখনও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। গত ১৯ মে মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ঘটনায় এ পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামনে আসছে। এর বাইরে একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। মব কালচার বন্ধ হচ্ছে না। মাজারে হামলা অব্যাহত আছে।

সম্প্রতি মিরপুরে শাহ আলী মাজারে উগ্রবাদী হামলায় মারধরের শিকার হন ভক্ত অনুরাগীরা। কিন্তু প্রকৃত অভিযুক্তদের গ্রেফতার নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।

যদিও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদের কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ সংস্কার এবং বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নতুন চাপ

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার।

আলোচনা আছে, সেই সময়ে চুক্তির আয়োজন ও শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর করা—এই পুরো প্রক্রিয়ায় নেতৃত্বে ছিলেন ড. খলিলুর রহমান। গত ৪ মার্চ এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এই চুক্তিতে প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্মতি ছিল।’’

তিনি আরও জানান, ‘‘ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন।’’ যদিও তা অস্বীকার করে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ওই চুক্তি নিয়ে তার দলের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।

তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেও এই সরকারের অবস্থানের ইঙ্গিত রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন।

এই চুক্তি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের এমন অবস্থানের মধ্যেই সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে এই আইন বাতিলের দাবি উঠেছে।

এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি তাদের। বিশেষ করে সংসদে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধী দলের তেমন উচ্চবাচ্য না থাকা, স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানার আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাম দলগুলোও এ নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতকে দায়ী করে আসছে। তারা অবিলম্বে এ চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে তারা নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এ চুক্তির বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হবে।’’ ‘‘এটি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের একটি প্রক্রিয়া।’’ তিনি এ চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

সংসদের বাইরে থাকা ধর্মীয় দলগুলোও এ চুক্তি নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। সব মিলিয়ে সামনে বিষয়টি নিয়েও উত্তপ্ত হতে পারে রাজনৈতিক ময়দান।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার পথে বাজার পরিস্থিতি

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সরকারের মধ্যেও এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। যদিও সরকার এ নিয়ে বাজার মনিটরিংসহ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছুতেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। সম্প্রতি আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায় এর প্রভাব বাজারের ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ওজনে কারচুপি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। সিন্ডিকেট দমনে কোনও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেট যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ কতটুকু ফলপ্রসূ হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

দীর্ঘ মেয়াদে ভোগাতে পারে হাম

গত দুই মাসেরও বেশি সময়ে চলা হামে শিশুমৃত্যু অব্যাহত আছে। এটি পুরোপুরি কবে শেষ হবে এ নিয়ে কোনও সুখবর নেই। সরকার নানা পদক্ষেপের কথা জানালেও থামছে না শিশুমৃত্যুর মিছিল। সর্বশেষ গত ১ জুন আরও ৩ জনসহ এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৮৮ জন।

সম্প্রতি ইউনিসেফ জানিয়েছে, তারা বারবার অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে সম্ভাব্য টিকা সংকট এবং বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। তবে সেই সতর্কবার্তাগুলো মূলত উপেক্ষিতই ছিল।

যদিও সরকার ইতোমধ্যে শিশুদের টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে শিশুমৃত্যু থামছে না। অনেকের ধারণা, হামের প্রাদুর্ভাব না থামাতে পারলে সরকারকে বড় ধরনের সংকটে পড়তে হতে পারে।

পুশ-ইন নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা

পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়লাভের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন সামীন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বিএসএফ-এর গুলিতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ ১ ‍জুন যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া খুলে ১০-১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। যদিও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি সরকার কীভাবে মোকাবিলা করবে, এ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি

আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরকারকে চিন্তায় ফেলেছে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বড় ধরনের শোডাউন দিয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। গত ১ জুন ঢাকার ধানমন্ডিতে দলটির প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঘিরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। অনেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এর মধ্যে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। আর পরদিন ২ জুন তার নিজ জেলা ভোলাতেও ঘটেছে এমন ঘটনা।

অপরদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতও সরকারকে চাপে রাখতে নানা কর্মসূচি দিচ্ছে। দুই শক্তিকে সরকার কোন কৌশলে মোকাবিলা করবে তা দেখার বিষয়।

কীভাবে দেখছেন রাজনীতিবিদরা?

জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতন বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। হত্যা, ধর্ষণ ও মব কালচার বন্ধ হচ্ছে না। বৈশ্বিক সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশেও নেতিবাচক প্রভাব পরতে পারে। জুনের মধ্যেই সরকার পড়তে পারে আর্থিক সংকটে।’’

তিনি বলেন, ‘‘অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে তথাকথিত বিরোধী দল জামায়াত যে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, সেটাও এক ধরনের অশনি সংকেত। এর বাইরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতাও সরকারকে এক ধরনের চিন্তায় ফেলেছে। তারাও হয়তো ফেরার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। আগামী দিনে এসব বিষয় মোকাবিলা করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এমনটি হয়তো কিছুটা আঁচ করতে পেরেছেন সরকার-প্রধান।’’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘‘সরকার কোনও কিছুই সঠিকভাবে সামাল দিতে পারছে না। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। আর ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। চাঁদাবাজি ও খুনোখুনির খবর সামনে আসছে। তাই সরকার-প্রধানের আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’’

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘‘একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তাছাড়া বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন। আশা করি তার যোগ্য নেতৃত্বে কঠিন পরিস্থিতি থেকেও ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।’’

Ads small one

সাতক্ষীরার শিকারি ব্র্যান্ড বিডির ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার শিকারি ব্র্যান্ড বিডির ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সংবাদদাতা: মফস্বল শহর থেকে যাত্রা শুরু করে আধুনিক ফটোগ্রাফি, সিনেমাটোগ্রাফি ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে ‘শিকারি ব্র্যান্ড বিডি’। দীর্ঘ ১১ বছরের সফল পথচলা শেষে প্রতিষ্ঠানটি ১২ বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির পাশে অবস্থিত শিকারি ব্র্যান্ড বিডির প্রধান কার্যালয়ে আনন্দঘন পরিবেশ ও মিলনমেলার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের টিম সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন। কেক কাটা, ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়, ফটোসেশন এবং স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।

২০১৫ সালের ২৮ মার্চ সাতক্ষীরা শহর থেকে ছোট পরিসরে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেন প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মাহফুজ আহমেদ এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইমরুল কায়েস পিয়াস। মফস্বল শহরের গন্ডি পেরিয়ে আধুনিক ওয়েডিং ফটোগ্রাফি ও সিনেমাটোগ্রাফিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই ১৫-২০ জন তরুণকে নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল শিকারি ব্র্যান্ডের।

দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়ের পথচলায় সেই ছোট পরিসরের উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে একটি বড় প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে দেশের ৩০টিরও বেশি জেলায় প্রায় ৩ হাজার ইভেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছে শিকারি ব্র্যান্ড বিডি। ঢাকায় শাখা কার্যালয়সহ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন বহু তরুণ।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাজের সুনাম অর্জনের পাশাপাশি শিকারি ব্র্যান্ডের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। প্রতিষ্ঠানটির আলোকচিত্রীদের তোলা ছবি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে এবং পুরস্কৃতও হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শিকারি ব্র্যান্ড বিডির সিইও মাহফুজ আহমেদ বলেন, ‘আমার কাছে শিকারি ব্র্যান্ড বিডি শুধু কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি ভালোবাসার পরিবার। ২০১৫ সালে যাত্রা শুরুর সময় ভাবিনি প্রতিষ্ঠানটি একদিন আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাবে। ১১ বছরের এই পথচলায় যারা পাশে ছিলেন, তাদের সবার প্রতি আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আগামীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম আরও উজ্জ্বল করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

এক নজরে শিকারি ব্র্যান্ড বিডি: প্রতিষ্ঠা-২৮ মার্চ ২০১৫; প্রধান খাত-ফটোগ্রাফি, সিনেমাটোগ্রাফি ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট; প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও-মাহফুজ আহমেদ; সহ-প্রতিষ্ঠাতা-ইমরুল কায়েস পিয়াস; প্রধান কার্যালয়-ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির পাশে, সাতক্ষীরা; শাখা-ঢাকা।

ভূমি অপরাধ আইনে মামলা গ্রহণে সাতক্ষীরায় জটিলতা: দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
ভূমি অপরাধ আইনে মামলা গ্রহণে সাতক্ষীরায় জটিলতা: দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের
বদিউজ্জামান: ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারায় অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করার আইনগত সুযোগ থাকলেও সাতক্ষীরায় এ ধারায় মামলা গ্রহণের কার্যক্রম অদ্যাবধি শুরু না হওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিস থেকে চীফ গিগ্যাল এইড অফিসার মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) দেবহাটা উপজেলার আলমগীর নামে একজন নালিশকারীকে তার দখলীয় জমি থেকে অবৈধভাবে উচ্ছেদের অভিযোগে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মামলা করার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরামর্শ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করতে গিয়ে তিনি তা দাখিল করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের নথিতে দেখা যায়, ২৩/০৮/২০২৬ তারিখের আদেশে উপস্থিত ছিলেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার এবং বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, সাতক্ষীরা। ওই আদেশে নালিশকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ অবৈধভাবে তার স্বত্ব দখলীয় জমিতে ঘেরা বেড়া ও প্রাচির দিয়ে বেদখল করেছে উল্লেখ করে তাকে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারার বিধান অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মামলা দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হয়।
আইনের ৮ ধারার উপধারা (১)-এ বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে উপযুক্ত আদালত বা কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া তার দখলীয় ভূমি থেকে উচ্ছেদ বা দখলচ্যুত করা হলে তিনি দখল পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্রের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন বা মামলা করতে পারবেন। উপধারা (২) অনুযায়ী, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সন্তুষ্ট হলে পূর্ব-দখলীয় ভূমিতে দখল পুনর্বহালের জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন।
এছাড়া ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিধিমালা, ২০২৪-এও ধারা ৮-এর অধীনে অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন করার পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় দলিলাদি সংযুক্ত করে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করার বিধান রয়েছে।
ফলে আইন ও বিধিমালায় যেখানে দখলচ্যুত মানুষের দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছে, সেখানে সাতক্ষীরায় সংশ্লিষ্ট আদালতে এ ধারায় মামলা গ্রহণের কার্যক্রম কার্যকর না থাকায় আইনটির সুফল থেকে বিচারপ্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “বিষয়টি নিয়ে উনারা কাজ করছেন। দ্রুতই মামলা নেওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার পেছনে ছুটতে হয়। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারা অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ আইনি প্রতিকার সৃষ্টি করেছে। তাই সাতক্ষীরায় এ ধারার মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা দ্রুত চালু করা হলে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা উপকৃত হবেন।
বিচারপ্রার্থী জনগণের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ধারা ৮-এর আবেদন বা মামলা গ্রহণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট আদালতের কার্যক্রম স্পষ্টভাবে নির্ধারণ এবং জনসাধারণকে তা অবহিত করবেন—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের।

সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা:)-২০২৬ উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা:)-২০২৬ উদযাপন

পত্রদূত ডেস্ক: পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা:)-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) ১২ রবিউল আউয়াল বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে বিদ্যালয়ের হলরুমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ।

এসময় পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা:) এর তাৎপর্য তুলে ধরে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (প্রভাতী শাখা) খান মাকসুদুর রহমান ও সহকারি প্রধান শিক্ষক (দিবা শাখা) জিএম আলতাফ হোসেন প্রমুখ। পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা:)-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয়ের আয়োজনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এসময় সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম, খালিদ ও মাহিদ।