সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

‘গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী উঠতে বসতে বাপ-মা তুলে গালাগাল দিতো, গায়েও হাত তুলতো’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
‘গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী উঠতে বসতে বাপ-মা তুলে গালাগাল দিতো, গায়েও হাত তুলতো’

সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে মরিয়মের লাশের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তার বাবা মাসুম বিল্লাহ ও মা। তাদের সঙ্গে ছিলেন মরিয়মের ফুফু শামসুর নাহার রোকসানা ও চাচা মো. মোস্তাসিব। মেয়েকে হারিয়ে কাঁদছিলেন মাসুম বিল্লাহ দম্পতি। তাদের সবাইকে বিষণ্ন দেখাচ্ছিল।

মরিয়মের পরিবার ও স্বজনেরা বলেন, ন্যাম ভবনে থাকাকালে মরিয়মের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। মরিয়মকে হত্যার পর তার লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তারা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

মর্গের সামনে বসে সঙ্গে কথা বলেন মরিয়মের ফুফু শামসুর নাহার রোকসানা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, মরিয়মের সঙ্গে প্রতিদিনই কথা হতো। ফোনে মরিয়ম কান্নাকাটি করতো। বলতো, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম তাকে আপত্তিকর ভাষায় গালাগাল দিতেন, এমনকি গায়েও হাত তুলতেন। বলতো, তোর জন্য আমার সব শেষ, বেঁচে থাকা হারাম হয়ে গেছে।’

রোকসানা বলেন, ‘এছাড়া প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম উঠতে বসতে বাপ-মা তুলে গালাগাল দিতো, গায়েও হাত তুলতো।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সতিনের সংসার বলে কথা, বোঝেনই তো। গলায় ফাঁস দিলে ভিডিও বের হওয়ার পরেই দিতো, বিয়ের পর কেন গলায় ফাঁস দেবে।’ মরিয়মকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন বলার সময় তার দু’চোখ ভিজে আসে।

রোকসানা বলেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও মামা ওবায়দুর মরিয়মের মৃত্যুর জন্য দায়ী।

মর্গ

একই অভিযোগ করেন মরিয়মের চাচা মোস্তাসিব। তিনি বলেন, মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। এরপর হত্যার ঘটনা চাপা দিতে তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

মেয়ের কথা জিজ্ঞাসা করতেই কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে মাসুম বিল্লাহর। তিনি বলেন, ‘ওর ছোট মনে বড় কষ্ট। ফোন দিলে কথা বলতে চাইতো না। আমি গেলে আমার সঙ্গে দেখা হতো। এমপির বাসা ছিল ওর জন্য জেলখানা।’

তিনি বলেন, ‘মেয়ে এসব বলতো আর আমার পা জড়িয়ে কাঁদতো। ওবায়দুলের কথা বলতো। ওরে খুব বিশ্বাস করে আজকে ওর এই পরিণতি। ওই ঘটনা না ঘটলে ওরে এমপি হোস্টেলে আইসা থাকা লাগে না। এভাবে মেয়ের জীবনও শেষ হতো না।’

এ ঘটনার জন্য নিজের শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে দায়ী করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ও (মরিয়ম) বলতো আমি বাইরে মুখ দেখাবো কীভাবে। সে আমার মামা, আমার এত বড় ক্ষতি করবে আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে মাফ করে দেন, আমি বাপের থেকে তাকে বেশি বিশ্বাস করতাম। বিশ্বাস করে আজকে আমি এই পরিণতি ভোগ করতেছি।’

মুদি দোকানি মাসুম বিল্লাহ বলেন, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল তার আপন খালু। বাবার খালুর সঙ্গে কীভাবে মেয়ে সম্পর্কে জড়ালো; এমন প্রশ্নে মাসুম বলেন, ‘আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। অনেক পরে জানতে পারছি। যখন জেনেছি, মেয়েকে রক্ষার আর কোনও পথ ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘আমি তো চাই সঠিক তদন্ত, আমি যেন ন্যায়বিচারটা পাই; প্রকৃত দোষী যেন শাস্তি পায়।’

ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে পুলিশ মরিয়মের হাতে লেখা চিরকুট বলে যে কাগজগুলো উদ্ধারের কথা জানিয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুম বলেন, ‘এগুলো ওর লেখা কিনা, সেটা আমি বলতে পারছি না। আমি ওর লেখা চিনি না।’

মামলায় যে অভিযোগ

রবিবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

 

মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, চলতি বছরের জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে তার বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন।

এর মধ্যে রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ। লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপরে তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন তিনি।

চিরকুটে যা লিখে গেছেন মরিয়ম

মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সময় বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

একটি চিরকুটে লেখা আছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই…তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই…।’

আরেকটিতে লেখা, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি।

‘আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’

আরেকটি চিরকুটে দুটি লেখা আছে। একটিতে আছে, ‘সে ছিলো অন্য নারীর স্বামী। কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এর…!!! আর আমি ছিলাম বোকা…!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ…!!!’

অপর লেখায় আছে, ‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশির সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়…ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’

কী বলছে পুলিশ

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেন, মামলায় গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমসহ তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। অপর আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান।

তিনি বলেন, মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা এ মামলায় গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওবায়দুর পলাতক বলেও জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছে, চিরকুটটি মরিয়মের হতে পারে। তবে লেখাটি মরিয়মের কিনা, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত করে বলা যাবে।

এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করেন।

গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।

পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।

ওবায়দুর পলাতক, বলছে পুলিশ

মরিয়ম আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৩ নম্বর আসামি ওবায়দুর পলাতক। সম্পর্কে মরিয়মের মামা হলেও এমপির কাছে নিয়ে আসা থেকে শুরু করে আত্মহত্যার ঘটনায় তাকে দায়ী করছে পরিবার। একই সঙ্গে তাকে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য ও তার প্রথম স্ত্রী গ্রেফতার হলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন ওবায়দুর।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ওবায়দুরকে ধরতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরা, ঢাকাসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় তাকে খোঁজা হচ্ছে। একাধিক টিম তাকে ধরতে কাজ করছে।

ওবায়দুরের বিষয়ে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ওবায়দুর সবচেয়ে বড় ক্রিমিনাল। তার জন্য আজ আমার মেয়েকে হারাতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পুরো পরিবারটা তছনছ করে দিয়েছে সে। সে আমার মেয়েকে এমপির কাছে না নিলে আসলে কিছুই হতো না। আজ তার জন্যই আমরা আমাদের মেয়েকে হারিয়েছি।’

Ads small one

মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়লো ‘রাকা’, নাম উঠলো গিনেস বুকে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়লো ‘রাকা’, নাম উঠলো গিনেস বুকে

আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা আল্লু অর্জুন অভিনীত ‘রাকা’ সিনেমার। ছবিটিতে দেখা যাবে দীপিকা পাড়ুকোনকেও। তবে মুক্তির এক বছর আগেই রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি।

‘রাকা’র নাম উঠেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। সর্বভারতীয় এই সিনেমার শুটিংয়ে একসঙ্গে ৩৭ জন শিল্পীর মোশন-ক্যাপচার করা হয়েছে। আর এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সিনেমাটি জায়গা করে নিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।

ছবির প্রযোজক সংস্থা সান পিকচার্স সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক্সে এই আপডেটটি শেয়ার করেছে।

ছবিতে পরিচালকের পাশে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের সনদ হাতে দেখা যায় আল্লু অর্জুনকে। ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইতিহাস তৈরি হলো। এক বিশ্বব্যাপী বিজয় যা ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে গেল!’

অন্যদিকে, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অফিসিয়াল সাইটে ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘বাস্তব সময়ে সর্বাধিক ৩৭ জন মানুষের গতিবিধি ধারণ করার রেকর্ডটি অর্জন করেছে সান টিভি নেটওয়ার্ক লিমিটেড এবং ভি. অরুণকুমার (ওরফে) অ্যাটলি (উভয়েই ভারত), আল্লু অর্জুন অভিনীত ‘রাকা’ সিনেমা।’

বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা

বাংলাদেশে সোনার গহনা পরে চলাফেরা নিরাপদ মনে করেন না জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। দেশে অনেক জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিশা।

তার কথায়, ‘সত্যি কথা বলতে, বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না। আমাদের দেশে অনেক জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে।’

তিশা বলেন, ‘আমরা নিজেরাই অনেক ঝামেলায় পড়ি, যেগুলো আমরা ডিজার্ভ করি না। অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো অন্যায় মনে হয়, ন্যায়বিচারও পাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। যে কোনও পরিস্থিতিতে নারীদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো দরকার।’

টিভি নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এর মধ্যে সিনেমাতেও নাম লেখালেন তিনি। শাকিব খানের বিপরীতে দেখা যাবে তাকে। ‘সোলজার’ সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন তারা।

বিয়ে না করা কি দেবের ভুল সিদ্ধান্ত? যা বললেন অভিনেতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
বিয়ে না করা কি দেবের ভুল সিদ্ধান্ত? যা বললেন অভিনেতা

বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই সাধারণত ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গে খুব বেশি মুখ খুলতে দেখা যায় না টলিউড অভিনেতা দেবকে। তবে ‘দাদাগিরি’র বিশেষ পর্বে অভিনেতাকে কিছুটা অন্যরকম মেজাজে দেখা গেলো। পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং এখনও কেন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেননি; এসব কিছু নিয়েই সরাসরি কথা বলেছেন তিনি।

দেবকে প্রশ্ন করেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। উত্তরে দেব যেমন নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান, তেমনই অতীতের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপের কথাও স্বীকার করেন।

‘দাদাগিরি’র নতুন প্রোমোতে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ এই পর্বে উপস্থিত রয়েছেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক, শ্রীময়ী চট্টরাজ, অম্বরিশ ভট্টাচার্য-সহ আরও অনেকে। সেখানেই দেবকে প্রশ্ন করেন সুদীপা। তার বক্তব্য, ‘ফ্যামিলি ম্যান’ হওয়ার পরেও এখনও বিয়ের পথে হাঁটেননি কেন? বিয়ে না করেই কি তিনি সত্যিই খুশি?

সুদীপার প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গে যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন দেব। অভিনেতা বলেন, ‘আমি এমন কিছু বলতে চাই না, যেখানে আমার পার্টনারের অপমান হয়। বিয়ে করিনি বলে আমি খুশি নই, সেটাও তো নয়। বিয়ে করলেই মানুষ খুশি থাকবে, আর বিয়ে না করলে খুশি থাকবে না; এটা ঠিক নয়। সন্তান হলে তবেই মানুষ খুশি থাকবে, নিজের সন্তান না থাকলে খুশি থাকবে না; এটাও ভুল ধারণা। আমি এখনও খুশি।’

তবে এখানেই থামেননি দেব। নিজের জীবনের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তার মনে আক্ষেপ রয়েছে বলেও জানান অভিনেতা।

দেবের কথায়, ‘কিছু সিদ্ধান্ত আমার নেওয়া ঠিক হয়নি। কিছু সিদ্ধান্ত হয়তো আরও আগে নিতে পারতাম। কিছু সিদ্ধান্ত নিলে হয়তো ভালো হতো। সেটা নিইনি বলে আক্ষেপ রয়েছে।’