শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

চলতি বছরে পানিতে ডুবে ঝরেছে ৫২৬ শিশুর প্রাণ, থামবে কীভাবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
চলতি বছরে পানিতে ডুবে ঝরেছে ৫২৬ শিশুর প্রাণ, থামবে কীভাবে

বাংলাদেশে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই দেশে পানিতে ডুবে মারা গেছে ৫৮২ জন। এর মধ্যে ৫২৬ জনই শিশু। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মৃত্যুর বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য। শিশুদের ছয় বছর বয়স হলেই সাঁতার শেখানো, নিয়মিত তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত সিপিআর দেওয়ার মাধ্যমে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ছয় বছর বয়সে সাঁতার শেখানো হলে একটি শিশু পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে প্রায় ৯০ দশমিক ৩ শতাংশ সুরক্ষিত থাকে।

‘ইউনাইট টু টার্ন দ্য টাইড’ বা ‘স্রোতের মোড় ঘোরাতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ (২৫ জুলাই) পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিকভাবে পানিতে ডুবে মৃত্যু ৩৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

পরিসংখ্যান যা বলছে

ডিজাস্টার ফোরামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পানিতে ডুবে মোট ৫৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিশু ৫২৬ জন, নারী ১১ জন এবং পুরুষ ৪৫ জন। শিশুদের মধ্যে ১ থেকে ৫ বছর বয়সী ২৫২ জন এবং ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী ১৫১ জন।

সংস্থাটি জানায়, এ সময় সবচেয়ে বেশি ৩৪৮ জন পুকুরে এবং ১০৪ জন নদীতে ডুবে মারা গেছেন।

ডিজাস্টার ফোরামের ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে পানিতে ডুবে মোট ১ হাজার ৩১১ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে শিশু ১ হাজার ১৮৪ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৯১ শতাংশ। নিহত শিশুদের মধ্যে ছেলে ৭৬১ জন এবং মেয়ে ৪২৩ জন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মারা যাওয়া ১ হাজার ১৮৪ শিশুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৩১ জনের বয়স ছিল ১ থেকে ৫ বছর। এছাড়া ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী মারা যায় ৩৫৪ শিশু।

ডিজাস্টার ফোরাম জানায়, সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। ওই সময়ে পুকুরে ৭৬৫ জন, নদীতে ১৮৫ জন এবং ডোবায় ১০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কেন ঘটছে এত মৃত্যু

বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যগত ঘাটতি, সুযোগের অভাব ও সচেতনতার অভাব; এই তিন কারণে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা কমানো যাচ্ছে না।

ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর ড্রাউনিং প্রিভেনশনের (এনএডিপি) আহ্বায়ক সদরুল হাসান মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় সমস্যা তথ্যগত ঘাটতি। একজন রিকশাচালক বা গৃহকর্মী জানেন, সন্তানের স্কুলে যাওয়ার বয়স হলে তাকে স্কুলে পাঠাতে হবে। কিন্তু অনেক শিক্ষিত অভিভাবকও জানেন না, সন্তানের ছয় বছর বয়স হলেই তাকে সাঁতার শেখানো উচিত। এই তথ্য এখনো মানুষের কাছে পৌঁছায়নি।

তিনি বলেন, আরেকটি বড় সমস্যা সুযোগের অভাব। ঢাকায় সাত বছর বয়সী সন্তানকে সাঁতার শেখাতে চাইলে কোথায় নিয়ে যাবেন—এমন প্রশ্নের বাস্তবসম্মত উত্তর নেই। সরকারি পর্যায়ে উন্মুক্ত ও সহজলভ্য সাঁতার শেখানোর ব্যবস্থা নেই। বেসরকারিভাবে কিছু উদ্যোগ থাকলেও সেগুলো সীমিত এবং অনেকেই সে সম্পর্কে জানেন না। ফলে তথ্য ও সুযোগ—দুই ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক আবু হাসানাত মোহাম্মদ কিশোয়ার হোসেন বলেন, এই ব্যর্থতার একটি বড় কারণ সামাজিক কাঠামো। সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় টিকাকেন্দ্র, স্বাস্থ্যকর্মী ও জাতীয় কর্মসূচি থাকলেও পানিতে ডোবা থেকে একটি শিশুকে রক্ষা করার দায় প্রায় পুরোপুরি পরিবারের, বিশেষ করে মায়ের ওপর বর্তায়। অথচ একজন গ্রামীণ নারীকে একই সঙ্গে রান্না, পানি সংগ্রহ, গৃহস্থালির কাজ, অন্য সন্তানের যত্ন এবং অনেক ক্ষেত্রে আয়মূলক কাজও করতে হয়। কয়েক মুহূর্তের অসতর্কতায় কোনো শিশু মারা গেলে সমাজ প্রথমেই মাকেই দোষারোপ করে। অথচ নিরাপদ শিশুযত্নের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

তিনি আরও বলেন, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া বা মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধে জাতীয় কর্মসূচি, বাজেট ও তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিবছর হাজার হাজার শিশুর প্রাণ কেড়ে নেওয়া পানিতে ডুবে মৃত্যুর জন্য নেই কোনো স্বতন্ত্র জাতীয় পরিকল্পনা, নির্দিষ্ট বাজেট বা নিয়মিত তথ্য সংগ্রহের কাঠামো। কোথায়, কখন, কোন বয়সের শিশু ডুবে মারা যাচ্ছে—সেই মৌলিক তথ্যও নিয়মিত সংরক্ষণ করা হয় না। যে সমস্যাকে পরিমাপ করা হয় না, সেটি কখনও অগ্রাধিকারও পায় না।

কীভাবে কমবে পানিতে ডুবে মৃত্যু

পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে শিশুদের নিয়মিত তত্ত্বাবধান, ছয় বছর বয়সে সাঁতার শেখানো এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত সিপিআর দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সদরুল হাসান মজুমদার বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু এখন মহামারির মতো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু নদী, পুকুর বা খালে নয়, বাথরুমে বালতিতে জমে থাকা পানিতেও শিশু মারা যায়। তাই কোনো এনজিও বা সরকারি সংস্থার পক্ষে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে বাথরুম পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিভাবক ও শিশুদের দেখাশোনাকারীদের সচেতন করা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে কার্যকর তিনটি উদ্যোগ ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। প্রথমত, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা গেলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো শিশুর ৬ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে সাঁতার শেখানো হলে সে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে প্রায় ৯০ দশমিক ৩ শতাংশ সুরক্ষিত থাকে।

তৃতীয়ত, পানিতে পড়ে যাওয়ার পর উদ্ধার করে মাথার ওপর তুলে ঘোরানো, ময়লা বা দুর্গন্ধযুক্ত পানি খাওয়ানো কিংবা পেট থেকে পানি বের করার চেষ্টা করার মতো প্রচলিত পদ্ধতিগুলো সম্পূর্ণ ভুল ও ক্ষতিকর। এর পরিবর্তে দ্রুত সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দিতে হবে। অর্থাৎ মুখে মুখ দিয়ে শ্বাস দেওয়া এবং বুকে চাপ দিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাস চালু করার চেষ্টা করতে হবে, যাতে শ্বাসনালিতে আটকে থাকা পানি বের হয়ে আসে এবং তাৎক্ষণিক মৃত্যুর ঝুঁকি কমে।

তিনি আরও বলেন, এই তিনটি কার্যকর উদ্যোগ বাংলাদেশেই গবেষণা ও পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। এর ভিত্তিতেই ২০২১ সালে জাতিসংঘ ‘গ্লোবাল ড্রাউনিং প্রিভেনশন’–সংক্রান্ত রেজুলেশন গ্রহণ করে।

সন্তানকে সাঁতার শেখানোর আহ্বান

সদরুল হাসান মজুমদার বলেন, শত প্রতিকূলতা ও শত বাধা সত্ত্বেও প্রতিটি অভিভাবককে ছয় বছর বয়সী সন্তানকে সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নিতে হবে। যেভাবে বাবা-মা শিশুকে হাঁটতে শেখান—প্রথমে হাত ধরে, পরে ধীরে ধীরে ছেড়ে দেন; ঠিক একইভাবে নিয়মিত গোসলের সময় ধাপে ধাপে সাঁতারও শেখানো যায়। তাই গ্রামাঞ্চলের বাবা-মায়েদের এই শিক্ষা দেওয়া জরুরি যে, সন্তানের ছয় বছর বয়স হলেই তাকে সাঁতার শেখাতে হবে।

তিনি বলেন, সন্তানকে নরম খাবার খাওয়ানো, হাঁটতে শেখানো, অক্ষর শেখানো কিংবা স্কুলে পাঠানোর মতোই সাঁতার শেখানোও একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা। ‘সুইমিং ইজ নো মোর অ্যা স্পোর্ট’—সাঁতার শুধু খেলাধুলা নয়, এটি একটি জীবন রক্ষাকারী দক্ষতা। তাই প্রতিটি শিশুকে ছয় বছর বয়সেই এই দক্ষতায় পারদর্শী করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের ওপর সব দায় চাপিয়ে লাভ নেই। সাঁতার শেখানোর পর্যাপ্ত জায়গা নেই—এটি সত্য। কিন্তু সন্তান মারা গেলে সেই ক্ষতি অভিভাবকেরই হবে। তাই যার সন্তানের ছয় বছর বয়স হয়েছে, তাকে অবশ্যই সাঁতার শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

Ads small one

এবার মোদি সরকারের পতনের ডাক দিলেন রাহুল গান্ধী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ
এবার মোদি সরকারের পতনের ডাক দিলেন রাহুল গান্ধী

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এবার নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, ‘এবার এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে।’ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

রাহুল গান্ধী আরও লিখেছেন, ‘এখনও দুটি দাবি রয়েছে, যা পূরণ হয়নি। আর তা হলো- শিক্ষার্থী এবং ভারতের ভবিষ্যৎকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সমাজের অন্যান্য অংশ, যাদের এই সরকার দমন ও নিষ্পেষণ করেছে (কৃষক, শ্রমিক, দরিদ্র) তাদের এখন সংবিধানসম্মত উপায়ে সাহস নিয়ে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার সময়। এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে। ভয় পাবেন না!’

এর আগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সব দাবি মেনে নিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এরপরই আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে ছাত্ররা।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে অবস্থান-বিক্ষোভ প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করার পর সিজেপি জানিয়েছে, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তারপরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।

শনিবারও কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। বৈঠক শেষে নড্ডাদের সঙ্গে একসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করে অবস্থান প্রত্যাহারের কথা জানান তাঁরা।

১২ বছরে তৃতীয়বার পিছু হটলো মোদি সরকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ
১২ বছরে তৃতীয়বার পিছু হটলো মোদি সরকার

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ শুধু একজন মন্ত্রীর বিদায় নয়, বরং গত ১২ বছরে গণআন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদি সরকারের তৃতীয় বড় ধরনের পিছু হটার ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এনআরসি ইস্যু এবং কৃষি আইনবিরোধী আন্দোলনের চাপেও সরকার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি ঘটনার মধ্যেই একটি অভিন্ন ধারা দেখা যায়। সরকার শুরুতে আন্দোলনের নৈতিক শক্তিকে গুরুত্ব না দিয়ে যতটা সম্ভব অনড় অবস্থানে থাকে। তবে রাজনৈতিক মূল্য বাড়তে শুরু করলে শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদলায়।

সিএএ-এনআরসি আন্দোলন

প্রথম বড় ঘটনা ছিল সিএএবিরোধী আন্দোলনের সময়। সে সময় জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থেকে সরকার প্রকাশ্যে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। যদিও দেশজুড়ে এনআরসি চালুর কোনও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, রাজনৈতিকভাবে সরকারের অবস্থান পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রকাশ্যে বলেন, এনআরসি নিয়ে সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। অথচ এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশব্যাপী এনআরসি বাস্তবায়নের কথা একাধিকবার বলেছিলেন এবং সরকারের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি কার্যত স্থগিত হয়ে যায়। সরকারের উপলব্ধি হয়, প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপিত বিষয়টি রাজনৈতিক দায়ে পরিণত হয়েছে।

কৃষক আন্দোলন

দ্বিতীয়বার সরকারকে পিছু হটতে হয় কৃষক আন্দোলনের মুখে। প্রায় এক বছর আন্দোলন চলার পর সরকার তিনটি কৃষি আইন বাতিল করে।

শুরুতে সরকার আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে মনে করেছিল। আন্দোলনকে ভৌগোলিকভাবে সীমিত এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলেও তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কৃষকেরা আন্দোলন চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং কৃষকদের কাছে ক্ষমা চান। এটিকে সরকারের ওপর আন্দোলনের চাপের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হয়।

প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আন্দোলন

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পেছনে থাকা প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আন্দোলনকে এই ধারাবাহিকতার তৃতীয় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ছিল ভিন্ন।

এটি কোনও নির্দিষ্ট মতাদর্শভিত্তিক সংগঠন বা একক নেতৃত্বের অধীনে গড়ে ওঠেনি। আন্দোলন ছিল বিকেন্দ্রীভূত এবং নেতৃত্বনির্ভর নয়। ফলে কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচলিত রাজনৈতিক কৌশল কার্যকর হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিম ও ইনস্টাগ্রাম রিল আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ হলেও আন্দোলনটি ছিল সুসংগঠিত, যা সরকারের জন্য মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আগের আন্দোলনগুলোর চেয়ে কেন আলাদা

এর আগে আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিজেপি সাধারণত আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করা, নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা, আন্দোলনকারীদের বিভক্ত করা কিংবা সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছিল।

কিন্তু এবার আন্দোলনের বয়ান সরকারের পাল্টা বক্তব্যের চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলও এ আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল না।

২০ জুলাইয়ের দমন-পীড়নের পর আন্দোলনকারীরা পিছিয়ে না গিয়ে আরও দৃঢ় অবস্থান নেয়। এমনকি সোনম ওয়াংচুক নিজের অবস্থান কিছুটা নমনীয় করলেও আন্দোলনকারীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে সরে আসেননি। এতে স্পষ্ট হয়, আন্দোলনের নেতৃত্ব ছিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এবং কোনও এক ব্যক্তির সঙ্গে সমঝোতা করে আন্দোলন থামানো সম্ভব নয়।

কেন অস্বস্তিতে বিজেপি

বিজেপির সূত্রগুলোর মতে, এবার আন্দোলন সরকারকে আরও বেশি অস্বস্তিতে ফেলেছে অন্য একটি কারণে। সিএএবিরোধী আন্দোলন বা কৃষক আন্দোলনের বিপরীতে এবার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের বড় অংশই বিজেপির নিজস্ব সামাজিক ভিত্তির মধ্যে থেকে এসেছে।

একজন বিজেপি নেতা বলেন, ঘোষিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আন্দোলনের চেয়ে এটি বেশি বিপজ্জনক। কারণ, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের যেসব শিক্ষার্থী সাধারণত বিজেপির সমর্থক বা সমর্থকগোষ্ঠীর কাছাকাছি বলে বিবেচিত, তাদের ক্ষোভকে সহজে বিরোধী রাজনীতির অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।

এতে সরকারের সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, রাষ্ট্রের প্রতি অসন্তোষ এখন শুধু প্রচলিত বিরোধী শিবিরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।

গণচাপের মুখে আরেক মন্ত্রীর বিদায়

মোদি সরকারের আমলে জনগণের চাপের মুখে পদত্যাগ করা আরেক মন্ত্রী ছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর। #মিটু আন্দোলনের সময় যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর ব্যাপক জনচাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। তবে সেটি সরকারি নীতি বা সরকারের বৈধতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন ছিল না।

সরকারের সামনে যে চ্যালেঞ্জ

সিএএ-এনআরসি, কৃষি আইন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস—এই তিনটি আন্দোলন মোদি সরকারের রাজনৈতিক চরিত্রও তুলে ধরেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকার রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তির প্রদর্শনে দক্ষ হলেও দীর্ঘস্থায়ী মতবিরোধের সঙ্গে গণতান্ত্রিকভাবে ধারাবাহিক সংলাপ চালিয়ে যেতে তুলনামূলকভাবে দুর্বল। সমালোচকদের মতে, সরকার সাধারণত মতভেদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় না গিয়ে রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হলে তবেই অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে। অর্থাৎ, যুক্তির চেয়ে রাজনৈতিক চাপই সরকারের সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলে।

তবে সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশলগত সিদ্ধান্ত। সরকারের বিশ্বাস, এতে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে এবং একই সঙ্গে সরকারের সামগ্রিক কর্তৃত্বও অক্ষুণ্ন রাখা গেছে।

একজন বিজেপি নেতা বলেন, তরুণদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করাই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য। যদিও শুধু পদত্যাগে সমস্যার সমাধান হবে বলে সরকার মনে করে না। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি দাবি করেন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আশাশুনিতে স্বামীর মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী হেফাজতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে স্বামীর মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী হেফাজতে

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ডুমুরপোতা কালিবাড়ি গ্রামে গলায় ফিতা পেঁচানো অবস্থায় রতন সানা (৩২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর মা অমরী রানী সানা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে স্ত্রী চন্দ্রা বাছাড়ের (২২) সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির মুঠোফোনে কথা বলা নিয়ে রতনের ঝগড়া হয়। শনিবার ভোরে মাঠে যাওয়ার আগে ছেলে সাড়া না দিলে ঘরে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
আশাশুনি থানার কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খান জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্ত্রী চন্দ্রাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।