বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

জমে উঠেছে ইউপি নির্বাচন: চায়ের দোকান থেকে হাটে-বাজারে প্রার্থীর জল্পনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ
জমে উঠেছে ইউপি নির্বাচন: চায়ের দোকান থেকে হাটে-বাজারে প্রার্থীর জল্পনা

জিএম আমিনুল হক: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা জেলায় রাজনৈতিক আমেজ ও উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। এখনো নির্বাচনের সময়সূচি (তফসিল) ঘোষণা না হলেও জেলার ৭টি উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার (সদস্য) প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, গণসংযোগ ও শোডাউনে সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা জনপদ।

গ্রামের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ইউনিয়নের হাট-বাজার, মসজিদের প্রাঙ্গণ কিংবা খেলার মাঠÑসর্বত্রই এখন আলোচনার মূল বিষয়: কে হচ্ছেন আগামী দিনের মেম্বার ও চেয়ারম্যান? স্থানীয় নির্বাচনে সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও এই নির্বাচন ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদরের ফিংড়ী, ধুলিহর, ব্রহ্মরাজপুর, বাঁশদহা, কুশখালী, লাবসা, আগরদাড়ী, ভোমরা ও আলীপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে একই উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। সকালে চায়ের কাপে আড্ডার পাশাপাশি কে কে নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সদরের ফয়জুল্যাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান আক্ষেপ করে জানান, নির্বাচন এলে সাধারণ মানুষের গুরুত্ব বাড়ে। সবাই এসে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু ভোটের পর আর তাঁদের খোঁজ পাওয়া যায় না। বাঁশদহা বাজারের চা-দোকানি রফিকুল ইসলাম জানান, আগে সকালে মানুষ কৃষিকাজ বা ক্ষেত-খামারের গল্প করলেও এখন পুরো আলোচনাজুড়ে কেবল নির্বাচন, উন্নয়ন আর প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার বিষয়গুলোই স্থান পাচ্ছে।

ধুলিহরের প্রবীণ ভোটার আবুল হোসেন জানান, অতীতে রাস্তাঘাটের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেখে ভোট দিলেও এবার প্রধান বিবেচনা হবে জলাবদ্ধতা নিরসন। বিলের পানি আটকে ফসল নষ্ট হওয়ার সমস্যা যে সমাধান করতে পারবে, তাকেই ভোট দেবেন তারা।

এবারের নির্বাচনে নতুন সংযোজন তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। প্রবীণদের পাশাপাশি অনেক শিক্ষিত ও তরুণ মুখ এবার মাঠে নেমেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও এলাকার নানা সমস্যা তুলে ধরে মতামত প্রকাশ করছেন তাঁরা। শ্যামনগর এলাকার এক তরুণ প্রার্থীর সমর্থকেরা জানান, নাগরিক সনদ ও জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা যেন হয়রানিমুক্তভাবে পাওয়া যায়, তেমন এক ‘ডিজিটাল ইউনিয়ন’ গড়তে তরুণদের ওপর ভরসা রাখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে বর্তমান জনপ্রতিনিধিরাও বসে নেই। বিগত মেয়াদের উন্নয়নকাজের হিসাব তুলে ধরে এবং ভিজিডি ও ভিজিএফ সুবিধা বিতরণের তথ্য জানিয়ে নতুন করে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা।

সাতক্ষীরার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে প্রধান পাঁচটি দাবির কথা জানা গেছে। সেগুলো হলোÑ সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, পাটকেলঘাটা, তালা ও আশাশুনির বিল এলাকায় অপরিকল্পিত মৎস্যঘেরের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসন করা। বর্ষাকালে কাদা ও পানি থেকে মুক্তি পেতে গ্রামীণ কাঁচা সড়কগুলো পাকাকরণ ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ ও নাগরিক সনদ গ্রহণে অতিরিক্ত টাকা লেনদেন ও হয়রানি বন্ধ করা। সীমান্তঘেঁষা এলাকা হওয়ায় মাদক বিস্তার রোধসহ চুরি-ছিনতাই বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ। সার ও বীজের সুষ্ঠু বণ্টন এবং বয়স্ক ও বিধবা ভাতা প্রকৃত দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ নিশ্চিত করা।

ফিংড়ী ইউনিয়নের সালমা খাতুন নামের এক নারী ভোটার জানান, জনগণের দুঃখ-কষ্টে পাশে থাকবে এবং সরকারি ভাতা বিতরণে দুর্নীতি করবে নাÑএমন জনপ্রতিনিধিকেই বেছে নিতে চান তাঁরা।

একই ইউনিয়নের সদস্য ও সাংবাদিক মো. আরশাদ আলী জানান, আগামী ডিসেম্বরে বর্তমান পর্ষদের মেয়াদ পূর্ণ হতে যাচ্ছে। বিগত মেয়াদের পুরোটা সময় মানুষের সেবায় কাটানোর পর এবার তিনি আর নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রস্তুত করার কাজ চলছে। সময়সূচি ঘোষণা না হলেও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জানান, উন্মুক্ত পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এবার প্রতিটি পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যেতে পারে। এতে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ভোটাররা বাড়তি সুযোগ পাবেন।

তফসিল ঘোষণার আগেই সাতক্ষীরার ৭৮টি ইউনিয়নে যে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে, তা কেবল ভোটের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং মানুষের অধিকার ও স্থানীয় উন্নয়নের এক বড় ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ব্যালটের মাধ্যমে কার মুখে জয়ের হাসি ফোটে।

 

Ads small one

‘আমি ডিলার, চেয়ারম্যান হলে গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেবো’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
‘আমি ডিলার, চেয়ারম্যান হলে গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেবো’

 

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘আমি চেয়ারম্যান হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেবো’ এমন ঘোষণা সংবলিত পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো ইউনিয়ন। পোস্টারে ছবি ও নাম রয়েছে সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি খোকনের। তবে তিনি বলছেন, এ পোস্টার তিনি লাগাননি। এটি জামায়াতের ষড়যন্ত্র বলে দাবি তার।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে উপজেলার সিরাজপুরে এমন পোস্টার বিভিন্ন দেয়ালে দেখা যাচ্ছে।
দেয়ালে দেয়ালে লাগানো ওই পোস্টারে লেখা হয়, ‘আসন্ন ১নং সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি গাঁজার ডিলার (খোকন) চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি। আমি কথা দিচ্ছি, আমি চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রিতে দেবো।’

পোস্টারে ‘বেকারের জন্য গাঁজা ভাতা, মাদকসেবীদের জনা বিশেষ কার্ড, স্কুল-কলেজের সামনে ফ্রি সাপ্লাই, থানা-পুলিশ আমার ভাই, উন্নয়ন হবে, আগে চাঁদা হবে’ এমন স্লোগান লেখা রয়েছে।

 

এদিকে এমন পোস্টারের ছবি স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নানা মতামত দিয়েছেন নেটিজেনরা। এমন পোস্টার নিয়ে ফেসবুক পোস্টে বেলাল হোসেন অপেল নামের এক তরুণ লেখেন, আর কি বলবো।

রাজু নামে একজন লেখেন, মাদক কত এভেইল হলে এমন পোস্টার করা হয়। সজিব মাহমুদ নামের একজন লেখেন, এটি প্রতিহিংসা থেকে হতে পারে।

পোস্টারে নিজের নাম ব্যবহারের বিষয়ে সিরাজপুর ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি খোকন বলেন, ৫ দিন আগে আমার ছেলেকে চড় মারে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাসেমের ছেলে। তা নিয়ে আমি প্রতিবাদ করি। মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি। তা দেখে তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। আমি সিসিটিভি ফুটেজ নিচ্ছি, যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি নুরুল হাকিম বলেন, এ ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সত্যতা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশিদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসা বন্ধ করলো এক দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশিদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসা বন্ধ করলো এক দেশ

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানির পরিকল্পনা এবং শ্রম প্রকল্পগুলোর অনুমোদন স্থগিত করেছে লাওস। দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে, এই স্থগিতাদেশ গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা এক নির্দেশনায় মন্ত্রণালয় জানায়, অবৈধ প্রবেশ, মানবপাচার, অনুমোদনহীন শ্রম দালাল এবং শ্রমিক এনে তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নিয়োগকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেই কেন এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় স্পষ্ট কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

নির্ধারিত চুক্তির সময়সীমা রয়েছে এমন বড় ধরনের সরকারি অনুমোদিত অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো এই স্থগিতাদেশের আওতামুক্ত থাকবে।

এই আদেশের ফলে ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগকর্তা এবং লেবার অপারেটররা স্বাধীনভাবে কোনও বাংলাদেশি নাগরিকের প্রবেশ বা কর্মসংস্থানের অনুমতি দিতে পারবেন না। এছাড়া ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য লেবার ভিসা পারমিট অনুমোদন দেওয়াও বন্ধ রাখা হয়েছে।

মক্কার আকাশে হুথি ড্রোন, ভূপাতিত করলো সৌদি আরবমক্কার আকাশে হুথি ড্রোন, ভূপাতিত করলো সৌদি আরব
আইন অমান্যকারীদের জরিমানা, বাধ্যতামূলক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল করার মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

অনুমোদন ছাড়া শ্রমিক আমদানি বা নিয়োগ করলে প্রতি শ্রমিক ও প্রতি লঙ্ঘনের জন্য নিয়োগকর্তাকে ২৫ লাখ লাও কিপ বা ১১০ ডলার জরিমানা দিতে হবে। অন্য শ্রম ইউনিটে পুনর্বণ্টনের জন্য শ্রমিক আমদানি করলেও একই পরিমাণ জরিমানা প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে ভিন্ন শ্রম ইউনিটে নিয়োজিত কর্মী ব্যবহার বা গ্রহণকারী নিয়োগকর্তাদের প্রতি কর্মী প্রতি ২০ লাখ লাও কিপ বা ৮৯ মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে।

অনুমতি ছাড়া শ্রমিক নির্ধারিত কর্মস্থল ছেড়ে অন্য জায়গায় কাজ করতে গেলে প্রতি ব্যক্তি ও প্রতি ঘটনার জন্য ১০ লাখ লাও কিপ বা ৪৪ ডলার জরিমানা এবং ৩০ দিনের মধ্যে বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে। ওই শ্রমিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সব খরচ নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট লঙ্ঘনকারীকে বহন করতে হবে।

একই ধরনের অপরাধ পুনরায় করলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ হবে। পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা দিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা দিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
লাওসে বর্তমানে কতজন বাংলাদেশি কর্মরত আছেন, সে সংখ্যা নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে, এই স্থগিতাদেশে কোন কোন খাতে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে, তাও জানানো হয়নি। উল্লেখ্য বাংলাদেশ থেকে লাওসে শ্রম অভিবাসন ঐতিহাসিকভাবে মূলত নির্মাণ ও উৎপাদনখাত কেন্দ্রিক হয়ে থাকে।

সূত্র: দ্য লাওতিয়ান টাইমস

একলাফে ইলিশের মণে দাম কমেছে ২০ হাজার টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
একলাফে ইলিশের মণে দাম কমেছে ২০ হাজার টাকা

দীর্ঘদিনের চড়া দামের পর বরিশালের বাজারে ইলিশের দাম কমেছে। গত কয়েক দিনে মোকামগুলোতে ইলিশের সরবরাহও বেড়েছে। এতে পাইকারি বাজারে মণপ্রতি দাম কমেছে সর্বোচ্চ প্রায় ২০ হাজার টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বরিশাল নগরীর ইলিশের প্রধান পাইকারি মোকাম পোর্ট রোড ও বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী, জেলে ও ক্রেতারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মোকামগুলোতে ছোট, মাঝারি ও বড় ধরনের ইলিশ তুলনামূলক বেশি আসছে। সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে শুরু করেছে দামও। আর এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝেও।

পোর্ট রোড বাজারে মাছ কিনতে আসা রাসেল হাওলাদার বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে এক কেজি সাইজের ইলিশ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আজ একই সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকা কেজি।’ তাই আগের তুলনায় দাম কিছুটা কমায় দুই কেজি মাছ কিনেছেন বলে জানান।

নগরীর বাংলাবাজারে মাছ কিনতে আসা রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘গত সপ্তাহে ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের দুটি ইলিশ কিনেছি ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে। একই সাইজের ইলিশ আজ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা কেজিতে। বিক্রেতারা বলছেন, ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে।’

পোর্ট রোড মোকামের খুচরা বিক্রেতা নাসির উদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহে ৪টায় এক কেজি হয় এমন ইলিশ এক হাজার টাকায় কিনেছেন। এ সপ্তাহে সেই মাছ কিনেছেন ৬০০ টাকা কেজিতে। আর এক কেজি ওজনের ইলিশ এখন ২ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে কিনছেন, যেখানে আগে দাম ছিল ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।

পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. জহির শিকদার বলেন, ‘গত সপ্তাহে পোর্ট রোডের মোকামে ইলিশ এসেছিল প্রায় ৭৫ মণ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সেখানে বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৬০ মণ। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে সরবরাহ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।’ এ ধারা অব্যাহত থাকলে সামনে ইলিশের দাম আরও কমতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি জানান, সাত দিন আগে দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই মাছ বিক্রি হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকায়। একইভাবে, এক কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশের দাম এক লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে কমে হয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা।

এ ছাড়া এক কেজি থেকে এক কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণ ছিল এক লাখ ১০ হাজার টাকা, যা এখন ৯৬ হাজার টাকা। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের মাছ ৯৯ হাজার থেকে কমে ৮০ হাজার, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের মাছ ৮৫ হাজার থেকে কমে ৭০ হাজার এবং ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের ইলিশ ৬৫ হাজার থেকে কমে ৫০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরও ছোট আকারের মধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের ইলিশের দাম ৫৫ হাজার টাকা থেকে নেমে হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। ২৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণপ্রতি দাম ৪২ হাজার টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার টাকায়। এর চেয়েও ছোট আকারের ইলিশের দাম ৩২ হাজার টাকা থেকে কমে হয়েছে ২০ হাজার টাকা মণ।