বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

জ্বালানি সংকট বাড়িয়ে দিয়েছে মাসের সংসার খরচ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকট বাড়িয়ে দিয়েছে মাসের সংসার খরচ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজিচালিত পরিবহন, বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে। গ্যাসের কম চাপের কারণে সিএনজি চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য গ্যাস না পেয়ে অনেকে সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করছেন। এতে মাসের সংসার খরচের সঙ্গে যোগ হয়েছে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়।

রাজধানীর হাজিপাড়া পেট্রোলপাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালক হালিম উদ্দিন বলেন, ‘একবার গ্যাস নিতে আসলেই দুই থেকে তিন ঘণ্টা চলে যায়। আগে যেখানে একবার গ্যাস নিতে আসলে ৩৫০ টাকার গ্যাস ঢুকতো, এখন সেখানে ১৩০ টাকার বেশি নেওয়া যায় না। কারণ গ্যাসের চাপ কম। এই গ্যাস দিয়ে ৪ ঘণ্টার বেশি সিএনজি চালানো যায় না। আবার গ্যাস নিতে আসলে ২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। অর্থাৎ কেউ ৮ ঘণ্টা সিএনজি চালাতে হলে তাকে ৪ ঘণ্টা গ্যাসের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এদিকে আয় হোক আর না হোক মালিকের জমা তো দিতেই হয়।’

গ্যাসচালিত পরিবহনে এক চাপে যতটা গ্যাস নেওয়া যায়, তাই নিতে হয়। স্বাভাবিকভাবে গ্যাসের চাপ বেশি থাকলে সিলিন্ডারে বেশি গ্যাস ঢোকে, আর চাপ কম থাকলে কম গ্যাস নেওয়া যায়। একবার সিএনজিতে গ্যাস প্রবেশ করালে নির্দিষ্ট পরিমাণ শেষ না হলে নতুন করে গ্যাস নেওয়াও যায় না।

অন্যদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার আবাসিক বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনও কোনও এলাকায় একেবারেই গ্যাস থাকে না। আবার কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে টিমটিম করে চুলা জ্বলে। এতে গরম পানিও করা যায় না, রান্না তো দূরের কথা।

ফলে সকালে অফিসে যাওয়ার আগে রান্না করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন মানুষ। কেউ ভোরে উঠে রান্না করছেন, কেউ মধ্যরাতে রান্না করছেন। আবার কেউ সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করছেন। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে।

মিরপুরের বাসিন্দা রাসনা চৌধুরী বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরেই সকালে উঠে দেখি চুলায় গ্যাস নেই। দুপুরের আগে চুলা জ্বালানো যায় না। আগে সকালে রান্না করে রেখে বের হতাম। আর এখন অফিস থেকে এসে ক্লান্ত হয়েই রান্না করতে হয়। এই রান্না শুধু সেদিনের না, পরের দিনের দুপুরের রান্নাটাও সেরে ফেলতে হয়। দুপুরে যারা বাসায় থাকে তারা ওভেনে গরম করে সেই তরকারি খায়, আর ভাত রান্না করে রাইস কুকারে। সকালে নাস্তা করতে হলে হয় আগের দিনের বাসি খাবার ওভেনে গরম করি, না হলে বাইরে থেকে কিনে আনি। কারণ বিদ্যুতের চুলায় রান্না করতে সময় লাগে। সকালে এত সময় থাকে না। প্রতিদিন এভাবে চলা সম্ভব নয়।’

খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আনজুম সুলতানা বলেন, ‘গ্যাসের চাপ কখন থাকবে, কখন থাকবে না, তার ঠিক নেই। সকাল ১০টার দিকে রান্না বসানোর পর হঠাৎ গ্যাসের চাপ কমে যায়। আধা রান্না করে পরে সেটা আবার সিলিন্ডার চুলায় নিয়ে যেতে হয়। সিলিন্ডারই যদি ব্যবহার করতে হয়, তাহলে আমরা গ্যাস বিল দেবো কেন? মাসের বাজারের খরচের সঙ্গে এখন গ্যাসের বাড়তি খরচও যোগ হয়েছে।’

শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও সংকট

শুধু সিএনজি বা বাসাবাড়ি নয়, গ্যাস সংকটে চাপে পড়েছে শিল্প খাতও। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও মেশিন বন্ধ রেখে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালাতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।

চট্টগ্রামে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ভারী শিল্পসহ প্রায় ৩ হাজার কারখানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে বলে সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন কমছে। এর সঙ্গে কয়লা ও জ্বালানি তেলের সংকট এবং কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কম থাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও নাজুক হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরের বিদ্যুতের হিসাবেও দেখা যাচ্ছে, গ্রীষ্মে গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। পিজিসিবির হিসাবে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় দেশে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৮৪৪ মেগাওয়াট। আজ একই সময়ে লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৯৪৩ মেগাওয়াট।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, গ্যাসভিত্তিক ৭২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৪১টিতে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনে এসব কেন্দ্রের প্রয়োজন ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ৮৫২ মিলিয়ন ঘনফুট।

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম

বর্তমানে দুটি এলএনজি টার্মিনাল সক্রিয় হওয়ার পরও রাজধানীতে গ্যাস সংকট কাটছে না। এর প্রধান কারণ, এলএনজি সরবরাহ ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি বাড়ানো যাচ্ছে না। ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহক্ষমতার এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কম পাওয়ার কারণ হিসেবে আমদানি বিঘ্নিত হওয়াকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যদিও সরকার বলছে, চলতি মাসে বেশ কয়েকটি এলএনজি কার্গো আসার কথা রয়েছে। কিন্তু যতক্ষণ সেগুলো না আসবে, ততক্ষণ সাধারণ মানুষের কষ্ট কমানো যাচ্ছে না।

দেশে এখন মোট গ্যাসের চাহিদা ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার হিসেবে মোট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ২ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ৭০৯ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি থেকে পাওয়া যাচ্ছে। দেশীয় খনি থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট।

সংসদে দুঃখ প্রকাশ

সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ২ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে দেশের মানুষ কষ্টে আছে বলে স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

এ সময় বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। জাতীয় সংসদে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা লুকোচুরি করতে চাই না। মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে কষ্টে আছে। আমি আমার মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আজকের এই পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। বিগত দেড় দশক ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি আজ এ দেশের মানুষকে ভোগ করতে হচ্ছে।’

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু তাৎক্ষণিকভাবে এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি টেকসই সমাধান নয়। দেশের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘এই পরিস্থিতি একদিনে হয়নি। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি আর এক শ্রেণিকে সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর ভর্তুকির বোঝা চাপানোর ফলেই আজকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকার এলএনজি টার্মিনাল করার কথা বলছে, এই টার্মিনাল করতেও কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগবে। ফলে আজকের সংকট সমাধানের কোনও গতি নেই সরকারের হাতে।’

ফলে একদিকে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট, অন্যদিকে এলএনজি আনার পরিকল্পনা, ভোলার গ্যাস আনার পরিকল্পনা, স্থলভাগে বা সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান—যে পরিকল্পনাই করা হচ্ছে, তার কোনোটিই এখনকার গ্যাস সংকট কমাতে পারবে না। দীর্ঘমেয়াদে হয়তো চাহিদা পূরণ করা যাবে। সব মিলিয়ে গ্যাসের ভোগান্তি থেকে সহসাই মুক্তি মিলছে না সাধারণ মানুষের।

Ads small one

গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ভর্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ভর্তি

পত্রদূত রিপোর্ট: ফুসফুসে বাতাস প্রবেশের জটিলতাজনিত কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার নিজস্ব প্রতিনিধি শেখ আব্দুল আলিম। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে রাজধানী ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত ডক্টর সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতাল সূত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ফুসফুস বিশেষজ্ঞ টিমের তত্ত্বাবধানে শেখ আব্দুল আলিমের অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি নিজ জেলা সাতক্ষীরায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার কাক্সিক্ষত কোনো উন্নতি হয়নি, বরং শারীরিক জটিলতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তাঁকে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং রাজধানীর ডক্টর সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়। শেখ আব্দুল আলিম সাতক্ষীরার স্থানীয় সাংবাদিকতা অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তিনি সামাজিক ও পেশাগত ক্ষেত্রেও একজন পরিচিত মুখ। তাঁর হঠাৎ এমন গুরুতর অসুস্থতার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরার গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজ ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পরিবার ও তাঁর সহকর্মীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী নিবিড় চিকিৎসার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল। পরম করুণাময় মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য (শেফায়ে কামেলা) কামনায় সব সহকর্মী, আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীর কাছে বিনীতভাবে দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বার্তা পাঠিয়েছেন।

কোটিপতি বাবার একমাত্র সন্তান, মাদক বিক্রির অভিযোগে আটক যুবক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
কোটিপতি বাবার একমাত্র সন্তান, মাদক বিক্রির অভিযোগে আটক যুবক

মামুনুর রশিদ খান, মণিরামপুর (যশোর): যশোরের মণিরামপুরে মাদক বিক্রি ও সরবরাহের অভিযোগে মো. বিল্লাল হোসেন (২০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার ৫ নম্বর হরিদাসকাটি ইউনিয়নের চান্দুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিল্লাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকদ্রব্য, বিশেষ করে গাঁজা কেনাবেচা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বাবা বিত্তশালী এবং তিনি পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়া সত্ত্বেও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে চান্দুয়া গ্রামে গাঁজা বিক্রির সময় এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। স্থানীয়দের দাবি, সে সময় তার কাছ থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজা ১২টি পোটলায় ভাগ করা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশ সূত্রে মাদকদ্রব্যের একটি পোটলা উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিল্লালকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা বলেন, তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে মাদক বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক যুবকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মুন্সিগঞ্জের জেলেখালিতে ৮ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
মুন্সিগঞ্জের জেলেখালিতে ৮ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি ত্রিপানী বিদ্যাপীঠ মাঠে ১০ সেপ্টেম্বর ৮ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুদীপ্তি যুব সংঘ আয়োজিত এই ফাইনালে মুখোমুখি হয় সুদীপ্তি যুব সংঘ ও আসিয়া দই ফিন্নি ভান্ডার ফুটবল একাদশ।

শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় মাঠে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ব্যবধানে আসিয়া দই ফিন্নি হাউসকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সুদীপ্তি যুব সংঘ।
খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন ৮ নম্বর ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান সাদেম। বিশেষ অতিথি ছিলেন আবদুর রাজ্জাক সরদার, প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম মল্লিকসহ এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। খেলায় ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন রিজভী।

দীর্ঘদিন পর ত্রিপানী বিদ্যাপীঠ মাঠে এমন বৃহৎ একটি ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। ফাইনাল খেলা উপভোগ করতে মাঠে বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। দর্শকদের করতালি, উচ্ছ্বাস ও সমর্থনে পুরো মাঠ এক আনন্দঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়। সুন্দর ও প্রাণবন্ত এই আয়োজন উপভোগ করতে পেরে দর্শকেরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে সুদীপ্তি যুব সংঘের আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান তাঁরা।