শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

তহশীল অফিস: নাগরিকের আরও কাছে পৌঁছাতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
তহশীল অফিস: নাগরিকের আরও কাছে পৌঁছাতে হবে

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে এমন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম তহশীল অফিস, যেখানে মানুষ আনন্দ নিয়ে নয়, প্রয়োজনের তাগিদে যায়। জমির খাজনা পরিশোধ, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান সংক্রান্ত তথ্য, রেকর্ড সংশোধন কিংবা জমির মালিকানা সংক্রান্ত নানা কাজে সাধারণ মানুষকে এই অফিসের দ্বারস্থ হতে হয়। ভূমি মানুষের জীবনের সঙ্গে, জীবিকার সঙ্গে এবং অস্তিত্বের সঙ্গে ও তপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ভূমি-সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যা মানুষের জন্য কেবল প্রশাসনিক জটিলতা নয়, এটি মানসিক উদ্বেগ ও নিরাপত্তা হীনতারও কারণ। অথচ যে প্রতিষ্ঠানটি মানুষের এই উদ্বেগ দূর করার কথা, দেশের বহু স্থানে সেই তহশীল অফিসই আজ সাধারণ মানুষের কাছে কান্না, দীর্ঘশ্বাস ও হতাশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

 

একজন কৃষক সকালবেলা বাড়ি থেকে বের হন খাজনা দিতে। একজন বৃদ্ধা নারী স্বামীর রেখে যাওয়া জমির কাগজপত্র ঠিক করতে আসেন। একজন দিনমজুর নিজের সামান্য ভিটেমাটির রেকর্ড হালনাগাদ করার জন্য অফিসে আসেন। তাদের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। তারা শুধু চান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত ও সঠিক সেবা পেতে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, একটি সাধারণ কাজের জন্য দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হচ্ছে। কখনো কর্মকর্তা নেই, কখনো প্রয়োজনীয় কাগজের তালিকা স্পষ্ট নয়, কখনো আবার ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরছে। ফলে একটি ছোট কাজও হয়ে ওঠে বড় ভোগান্তির কারণ।

 

গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে তহশীল অফিস মানেই যেন অনিশ্চয়তার এক দীর্ঘ করিডোর। সকালে গিয়ে সন্ধ্যায় ফিরে আসতে হয়, তবুও কাজ সম্পন্ন হয় না। এতে শুধু সময়ের অপচয় হয় না, অর্থনৈতিক ক্ষতিও হয়। একজন কৃষক বা দিনমজুরের জন্য একটি কর্মদিবসের মূল্য অনেক। অফিসে আসার কারণে তার সেদিনের আয় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সরকারি সেবা নিতে গিয়েই তাকে আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তহশীল অফিসকে ঘিরে গড়ে ওঠা দালালচক্র।

 

দেশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কিছু মধ্যস্বত্বভোগী অফিসের আশপাশে অবস্থান করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তারা বোঝায় যে তাদের সাহায্য ছাড়া কোনো কাজ হবে না। অনেক ক্ষেত্রে সেবাপ্রার্থীরা ভয়, অজ্ঞতা বা দীর্ঘসূত্রতার কারণে এসব দালালের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন। এতে একদিকে জনগণের অর্থ অপচয় হয়, অন্যদিকে সরকারি ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়।

 

আরও দুঃখজনক হলো, বিভিন্ন সময়ে কিছু অসাধু তহশীলদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগও উঠে আসে। সরকারি ফি নির্ধারিত থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। খাজনা গ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ প্রদান, জমির নথিপত্র যাচাই কিংবা বিভিন্ন কাগজপত্র দ্রুত সরবরাহের ক্ষেত্রে অবৈধ সুবিধা আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। অনেকেই বলেন, সরকারি ফি দেওয়ার পরও কাজের গতি বাড়াতে আলাদা অর্থ খরচ করতে হয়। যদিও সবাই এমন নয়, তবে কিছু অসাধু ব্যক্তির কর্মকা- পুরো প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

 

এই অনৈতিক লেনদেনের সবচেয়ে বড় শিকার দরিদ্র মানুষ। একজন কৃষক, একজন বিধবা নারী কিংবা একজন বয়স্ক মানুষ যখন নিজের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হন, তখন তা শুধু দুর্নীতি নয়; এটি তার নাগরিক অধিকারের ওপরও আঘাত। দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক মানুষের মধ্যে এমন ধারণা জন্মেছে যে ‘টাকা ছাড়া সরকারি অফিসে কাজ হয় না।’ এই ধারণা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কারণ রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেলে উন্নয়নের প্রকৃত সুফলও ম্লান হয়ে যায়। তবে সমস্যার সব দায় শুধুমাত্র মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও ন্যায়সঙ্গত হবে না।

 

বাস্তবতা হলো, অনেক তহশীল অফিসে জনবল সংকট রয়েছে। একজন কর্মকর্তাকে বিপুলসংখ্যক মানুষের সেবা দিতে হয়। অনেক অফিসে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই, বসার জায়গা নেই, প্রযুক্তিগত সুবিধা সীমিত। ফলে সেবার গতি ব্যাহত হয়। কিন্তু জনবল সংকট কিংবা অবকাঠামোগত দুর্বলতা কোনোভাবেই দুর্ব্যবহার, হয়রানি কিংবা অনিয়মের অজুহাত হতে পারে না। গত কয়েক বছরে ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, ই-নামজারি, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণসহ বিভিন্ন আধুনিক সেবা চালু হয়েছে।

 

এসব উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু গ্রামীণ বাস্তবতায় এখনো অনেক মানুষ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। ফলে তাদের সরাসরি অফিসে যেতে হয়। আর সেখানেই যদি তারা হয়রানির শিকার হন, তাহলে ডিজিটাল উদ্যোগের সুফল পূর্ণমাত্রায় পৌঁছায় না। ভূমি নিয়ে বিরোধ বাংলাদেশের অন্যতম বড় সামাজিক সমস্যা। পারিবারিক কলহ, দীর্ঘদিনের মামলা-মোকদ্দমা, এমনকি অনেক সহিংস ঘটনার পেছনেও জমি-সংক্রান্ত জটিলতা কাজ করে।

 

এই অবস্থায় তহশীল অফিসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সঠিক তথ্য, স্বচ্ছ নথিপত্র এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা গেলে অনেক বিরোধেরই প্রাথমিক সমাধান সম্ভব। কিন্তু যখন সেখানে অস্বচ্ছতা ও অনিয়ম দেখা দেয়, তখন সমস্যার গভীরতা আরও বাড়ে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু বড় বড় সেতু, মহাসড়ক কিংবা দালানকোঠা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা সহজে ও সম্মানের সঙ্গে পায়। একজন কৃষকের কাছে রাষ্ট্রের মুখ হলো তহশীল অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, হাসপাতাল কিংবা থানা। সেখানে যদি তিনি ভালো ব্যবহার পান, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি তার আস্থা বাড়ে।

 

আর যদি অবহেলা ও হয়রানির শিকার হন, তাহলে তার মনে ক্ষোভ জন্মায়। তাই সময় এসেছে তহশীল অফিসকে ঘিরে বিদ্যমান সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার। প্রতিটি অফিসে সেবার ধাপ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি ফি দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে। দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নিয়মিত মনিটরিং, আকস্মিক পরিদর্শন এবং কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালু করতে হবে।

 

একই সঙ্গে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করতে হবে, যাতে জনগণ প্রকৃত সেবা পায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি অফিসে সেবাপ্রার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। একজন মানুষ যখন কোনো সমস্যার সমাধানের আশায় অফিসে আসেন, তখন তাকে সম্মান দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একটি হাসিমুখ, একটি সঠিক দিকনির্দেশনা কিংবা একটি আন্তরিক আচরণ অনেক বড় সমস্যার সমাধান করতে পারে। তহশীল অফিস কোনো কান্নার আতুরঘর হওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

 

এটি মানুষের সেবা, আস্থা ও ন্যায়বিচারের কেন্দ্র হওয়ার কথা। কিন্তু যখন মানুষ সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, দালালচক্র ও অনৈতিক লেনদেনের শিকার হয়, তখন সেই অফিস কান্নার আতুরঘরে পরিণত হয়। তাই এখনই সময় এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের। তহশীল অফিসকে জনগণের ভোগান্তির প্রতীক নয়, বরং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিণত করতে হবে।

 

যেদিন একজন কৃষক, একজন বিধবা নারী কিংবা একজন সাধারণ নাগরিক কোনো ভয়, অনিশ্চয়তা বা অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই তহশীল অফিস থেকে সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট মনে বাড়ি ফিরতে পারবেন, সেদিনই বলা যাবেÑতহশীল অফিস আর কান্নার আতুরঘর নয়; এটি সত্যিকার অর্থে জনগণের সেবার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। তখনই ভূমি প্রশাসনের প্রতি মানুষের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ফিরে আসবে, আর রাষ্ট্রও তার নাগরিকের আরও কাছে পৌঁছে যাবে।

লেখক: সাংবাদিক

 

Ads small one

ফকিরহাটে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও দোয়া অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
ফকিরহাটে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও দোয়া অনুষ্ঠিত

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ফকিরহাটে এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও মানসিক প্রস্তুতি জোরদার করতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফকিরহাট কাজি আজহার আলী কলেজ শাখা এ আয়োজন করে।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় কাজি আজহার আলী কলেজ অডিটোরিয়ামে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও দোয়া মাহফিল শুরু হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বাগেরহাট জেলা সভাপতি হাফেজ মোরশেদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মোঃ সাইফুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য বেলাল হোসেন অপু।

কাজি আজহার আলী কলেজ শাখার সভাপতি নাজমুস সাকিবের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ আবুল আলা মাসুম, ছাত্রশিবির ফকিরহাট পূর্ব থানা শাখার সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পরীক্ষার ফলাফল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এটিই শেষ নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ পথচলার একটি সূচনা মাত্র। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

তারা আরও বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেকে এগিয়ে রাখতে দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। প্রযুক্তিগত জ্ঞান, ভাষাগত দক্ষতা ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শিক বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

শেষে উপস্থিত শতাধিক পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। পরে তাদের সফলতা কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রজ্ঞা অর্জন করতে হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রজ্ঞা অর্জন করতে হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রজ্ঞাও অর্জন করতে হবে। মেধাবী প্রজন্মই দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বাগেরহাটসহ সমগ্র বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।

তিনি আজ (শনিবার) বাগেরহাট জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বৃত্তি অর্জন কেবল একটি স্বীকৃতি নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় দায়িত্ব। জেলা পরিষদ মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে যে বৃত্তি প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নানা পারিবারিক প্রতিকূলতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। তাই তাদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষা অব্যাহত রাখা সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের করের অর্থে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। ব্যক্তিগত সাফল্যের গন্ডি পেরিয়ে সমাজ, দেশ ও মানবকল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি সকল কৃতি শিক্ষার্থীকে সমাজ ও সভ্যতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক সচিব ড. মো: ফরিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনুপ দাশ,  সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: জাহাঙ্গীর আলী ও খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খোন্দকার আছিফ উদ্দিন রাখী বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো: আবু রিয়াদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সামানিয়া জান্নাত অহনা ও মো: আরহাম গাজী। বাগেরহাট জেলা পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বাগেরহাট সদরসহ জেলার নয়টি উপজেলার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-বিশ^বিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল কলেজের চারশত ১৮জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। তথ্যবিবরণী

একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্ভীক সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালুর হত্যাবার্ষিকী পালন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্ভীক সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালুর হত্যাবার্ষিকী পালন

একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্ভীক সাংবাদিক, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক জন্মভূমির সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বালুর ২২তম হত্যাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার ক্লাবের পক্ষ থেকে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা প্রেসক্লাবের আয়োজনে স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার। সভা পরিচালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ‘হুমায়ুন কবীর বালু ছিলেন একজন নির্ভীক সাংবাদিক। তাঁকে যারা হত্যা করেছে, তাদেরও সঠিক বিচার হয়নি। এই মামলার পুনরায় তদন্ত এবং প্রকৃত আসামি ও এর মদদদাতাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানানো হয়। এছাড়া এই হত্যা মামলার আসামিদের সাজা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।

স্মরণ সভায় বক্তৃতা করেন, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও আজীবন সদস্য মকবুল হোসেন মিন্টু, ক্লাবের সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন ও কাজী শামীম আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাহেব আলী ও মল্লিক সুধাংশু, ক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক বেল্লাল হোসেন সজল, সিনিয়র সদস্য মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ মাকসুদুর রহমান (মাকসুদ) ও কে এম জিয়াউস সাদাত, ক্লাব সদস্য আতিয়ার পারভেজ, রকিব উদ্দিন পান্নু, আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, এ এইচ এম শামিমুজ্জামান, এস এম নূর হাসান জনি ও সাংবাদিক আবু তাহের।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কার্যনির্বাহী সদস্য কাজী মোতাহার রহমান, সহ-সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য সোহেল মাহমুদ, ক্লাব সদস্য এস এম কামাল হোসেন,বাপ্পী খান, রিংটন মন্ডল, আল মাহমুদ প্রিন্স, মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, আলমগীর হান্নান, মোঃ হুমায়ুন কবীর, মো. আজিজুল ইসলাম, মোঃ রবিউল গাজী (উজ্জ্বল), এস এম বাহাউদ্দিন, তিতাস চক্রবর্তী, মোঃ হেলাল মোল্লা, আলী আবরার, মোঃ সোহেল রানা, মোঃ রফিক আলী, তুফান গাইন, ইমাম হোসেন সুমন, মোঃ আনিছুর রহমান কবির, মো. রাজু হাওলাদার, নূরুল আমিন নূর, মো. মাসুম বিল্লাহ ইমরান, মোঃ হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।

এর আগে ক্লাবের নেতৃবৃন্দ ক্লাব চত্বরে অবস্থিত শহিদ সাংবাদিক স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এছাড়া স্মরণসভার শুরুতে সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালুসহ নিহত সাংবাদিকদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

 

এছাড়া হুমায়ুন কবীর বালুসহ নিহত ও মৃত্যুবরণকারী অন্যান্য সাংবাদিকদেরও আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ক্লাবের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. ইউসুফ হাবিব।

উল্লেখ্য, গত ২০০৪ সালের ২৭ জুন নগরীর ইসলামপুর রোডে অবস্থিত নিজ কার্যালয় জন্মভূমি ভবনের সামনে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি