বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

তালায় উইমেন জব ক্রিয়েশন সেন্টারের কোঅর্ডিনেশন সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
তালায় উইমেন জব ক্রিয়েশন সেন্টারের কোঅর্ডিনেশন সভা

তালা সংবাদদাতা: বৃহস্পতিবর (১৮ জুন) সকালে তালা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উইমেন জব ক্রিয়েশন সেন্টারের কোঅর্ডিনেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও খ্রীষ্টান এইডের অর্থায়নে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উইমেন জব ক্রিয়েশ’ন সেন্টারের নির্বাহী প্রধান আশরাফুন নাহার আশা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা।

সংস্থার নির্হাহী কমিটির চেয়ারম্যান হাসিনা পারভীনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ তৌহিদ কামাল, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের দেবকী রানী রায়, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের আব্দুস সোবহান, জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু, তালা সদরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম, ভূমিজ ফাউন্ডেশ পরিচালক অচিন্ত্য সাহা, রুপালীর পরিচালক শফিকুল ইসলাম, পানি কমিটির সদস্য সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, শহীদ কামেল মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সাংবাদিক গাজী জাহিদুর রহমান, উপকারভোগী লতা দাস, স্বপ্না রায়, সুমাইয়া খাতুন প্রমুখ।

 

সভায় শিক্ষক, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, নারী দলের প্রতিনিধিসহ ৫০ জন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টশনের মধ্যমে প্রকল্পের বিগত ২ বছরের কার্যক্রম ও অর্জনসমূহ তুলে ধরেন সংস্থার প্রকল্প সমন্বয়কারী কাজী বাবর আলী।

 

 

 

 

Ads small one

প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে সাতক্ষীরায় বাঁশ ও গোবর সারে অনিয়ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে সাতক্ষীরায় বাঁশ ও গোবর সারে অনিয়ম

কাগজে-কলমে ১৫০ কেজি সার, মিলছে ৪০ কেজি, ৫০ টাকার খুঁটির দাম ১০ টাকা!

মো: হোসেন আলী: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। কিন্তু সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পটিতেই ভর করেছে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির ছায়া। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে গাছের চারা, বাঁশের খুঁটি ও জৈব সার বিতরণের নামে চলছে প্রকাশ্য হরিলুট। সরকারি পত্রে বরাদ্দের যে হিসাব দেখানো হয়েছে, বাস্তবতার সাথে তার কোনো মিল নেই। সাধারণ কৃষকদের মুখ বন্ধ রেখে কাগজে-কলমে সই নিয়ে লাখ লাখ টাকা পকেটে ভরার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১ হাজার ২০০ জন কৃষককে এই প্রণোদনা সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিজন কৃষক পাঁচটি গাছের চারা, ৫টি বাঁশের খুঁটি এবং ১৫০ কেজি জৈব সার (গোবর) পাওয়ার কথা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রতি পিস গাছের চারা ১৬০ টাকা, প্রতি পিস বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি জৈব সার (গোবর) ৪ টাকা। এছাড়া পরিবহন ও আনুষঙ্গিক অপ্রত্যাশিত ব্যয়ও ধরা হয়েছে পৃথকভাবে।

কিন্তু গত সোমবার (২৯ জুন) সদর উপজেলায় চারা ও উপকরণ বিতরণকালে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। কৃষকদের ১৫০ কেজি গোবর সার দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪০ কেজি। অথচ চতুর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের কাছ থেকে ১৫০ কেজি সার বুঝে পেয়েছেন মর্মে স্বাক্ষর বা টিপসই করিয়ে নিচ্ছেন।

মাঠে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তন্ময় মন্ডলের কাছে এই গড়মিলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ধোঁয়াশাপূর্ণ কণ্ঠে তিনি কেবল বলেন, একটু সমস্যা আছে। স্যারদের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রকল্পের বড় ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়েছে গাছের চারা সোজা রাখার জন্য দেওয়া বাঁশের খুঁটিতে। সরকারি খাতায় প্রতি পিস খুঁটির মূল্য ধরা হয়েছে ৫০ টাকা। কিন্তু কৃষকদের সরবরাহ করা হয়েছে অত্যন্ত নি¤œমানের বাঁশের কঞ্চি বা খুঁটি, যার বাজারমূল্য কোনোভাবেই ১০ থেকে ২০ টাকার বেশি নয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে স্থানীয় বাঁশ ব্যবসায়ী আশারুল ইসলামের দ্বারস্থ হলে তিনি খুঁটি পরীক্ষা করে জানান, এই খুঁটির মান খুবই খারাপ, স্থানীয় বাজারে এর মূল্য ১০ টাকার বেশি হতে পারে না।
এমনকি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. জামালউদ্দীনও খুঁটির নমুনা দেখে স্বীকার করেছেন, যে এগুলোর মান অত্যন্ত নি¤œ এবং এর প্রকৃত মূল্য ১০ টাকার বেশি নয়।

সার বিতরণের এই হরিলুট নিয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র’র দাবি এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। ১৫০ কেজি গোবরের পরিবর্তে তাদের ৬০০ টাকা মূল্যের ৪০ কেজির ‘কোম্পানির সার’ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. জামালউদ্দীনের দাবি, ওই এক বস্তা সারের মূল্য ৪৮০ টাকা। সরকারি পত্রে যেখানে ৪ টাকা কেজি দরে ১৫০ কেজি গোবরের দাম ৬০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সেখানে কর্মকর্তারা একেক সময় একেক দামের বস্তা সারের অজুহাত দিয়ে কৃষকদের ঠকাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক প্রশ্ন তুলে বলেন, সরকারি পত্রে যেখানে স্পষ্ট ‘গোবর সার’ ও সুনির্দিষ্ট ওজনের কথা উল্লেখ আছে, সেখানে কর্মকর্তারা কার অনুমতিতে কোম্পানির বস্তা সার দিলেন এবং ওজনে ১১০ কেজি কম দিলেন?
ভুক্তভোগী কৃষকেরা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগকে মাঠপর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের পকেট ভারী করার হাতিয়ারে পরিণত করেছেন।

হিসাব কষে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১ হাজার ২০০ কৃষকের বরাদ্দের কেবল বাঁশের খুঁটি এবং জৈব সারের অংশটি থেকেই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রায় ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা লুটপাট করেছেন। সমগ্র সাতক্ষীরা জেলায় এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৪৮ হাজার ৬০০ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। সদর উপজেলার এই চিত্র যদি পুরো জেলার প্রতিফলক হয়, তবে সামগ্রিক লুটপাটের অঙ্ক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের এ ধরনের অনিয়ম, জালিয়াতি ও সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাতক্ষীরা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সংগঠনটির সভাপতি মো. তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান বলেন, সরকারি উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অভিযোগ ওঠা এসব বিষয় যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।

কৃষি বিভাগের এই প্রকাশ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাউসার আজিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ময়লার ভাগাড় এখন নান্দনিক ক্যাফে: দুই তরুণের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
ময়লার ভাগাড় এখন নান্দনিক ক্যাফে: দুই তরুণের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: একসময় জায়গাটি ছিল ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। কপোতাক্ষ নদের তীরের এই অংশে প্রতিদিন ফেলা হতো বাজারের বর্জ্য। দুর্গন্ধ আর অপরিচ্ছন্নতার কারণে পথচারীরাও মুখ ফিরিয়ে নিতেন। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি আর সঠিক পরিকল্পনা যে যেকোনো দৃশ্যপট বদলে দিতে পারে, তার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করলেন সাতক্ষীরার তালার দুই তরুণ। নিজেদের শ্রম ও উদ্যোগে সেই পরিত্যক্ত স্থানটিকেই তাঁরা রূপ দিয়েছেন এক নান্দনিক ও পরিবারবান্ধব বিনোদন কেন্দ্রে। কপোতাক্ষ নদের তীরে তাঁদের গড়া ‘জলধারা ক্যাফে’ এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিনোদনপিয়াসীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনের কারিগর শেখ সানজিদুল হক ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন এই দুই বন্ধু। সানজিদুল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ এবং মামুন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

পড়াশোনা শেষে সানজিদুল হক প্রথমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। পরে চাকরির জমানো টাকা দিয়ে ২০২৩ সালে শুরু করেন ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা। কিন্তু কিস্তি ও বাকিতে পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে ব্যবসা বন্ধ করে বেকার হয়ে পড়েন সানজিদুল।

অন্যদিকে, আব্দুল্লাহ আল মামুনও বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাচ্ছিলেন না। একটি ওষুধ কোম্পানিতে একসঙ্গে চাকরি করার সুবাদেই দুজনের বন্ধুত্ব এবং নতুন কিছু করার স্বপ্ন দেখা। চাকরির অনিশ্চয়তা থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন যৌথ আত্মকর্মসংস্থানের।

সেই স্বপ্নের হাত ধরেই তাঁরা বেছে নেন পাটকেলঘাটা ইকো পার্ক সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের তীরের এই পরিত্যক্ত অংশটি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শুরু হয় তাঁদের নতুন পথচলা।

উদ্যোক্তারা জানান, ক্যাফেটি গড়ে তোলার প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে পুরো এলাকার স্তূপীকৃত ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। এরপর পরিবেশবান্ধব উপাদান যেমন—বাঁশ, কাঠ ও ছন ব্যবহার করে তৈরি করা হয় চমৎকার একটি বসার আবহ। কপোতাক্ষের মৃদু বাতাস আর গ্রামীণ পরিবেশের মেলবন্ধনে ক্যাফেটি দ্রুতই ইকো পার্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হয়ে ওঠে।

ক্যাফে ডায়েরিতে জানানো হয়Ñ প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে পাওয়া যায়Ñ চা, স্পেশাল দুধ চা, কফি, ফুচকা, চটপটি, মোমো, রুটি ও নানা পদের হালকা খাবার।

বিকেলের আলো ফুরিয়ে আসতেই প্রতিদিন এখানে ভিড় জমান পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের দল। প্রাকৃতিক পরিবেশে একটু স্বস্তির খোঁজে মানুষ ছুটে আসছেন ‘জলধারা’য়।

শুধু নিজেদের ভাগ্যবদলই নয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অন্য শিক্ষার্থীদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন সানজিদুল ও মামুন। বর্তমানে স্থানীয় দুজন কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী এই ক্যাফেতে পার্ট-টাইম কাজ করছেন। এতে পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁদের যেমন আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি নিজের খরচের একটা বড় অংশ তাঁরা নিজেরাই চালাতে পারছেন।

উদ্যোক্তা শেখ সানজিদুল হক বলেন, “ব্যবসায় লোকসান হয়েছে, কিন্তু সাহস হারাইনি। চাকরির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা না করে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়া উচিত। একজন উদ্যোক্তা শুধু নিজের নয়, অন্য আরও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ব্যবসা করা নয়; সমাজে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। যে জায়গাটি একসময় ডাস্টবিন ছিল, সেটি আজ মানুষের আনন্দের স্থান। ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়িয়ে এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের পাশে দাঁড়াতে চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দুই শিক্ষিত যুবকের এই প্রচেষ্টা শুধু একটি ক্যাফে প্রতিষ্ঠার গল্প নয়; এটি পরিবেশ সংরক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান এবং স্থানীয় পর্যটন বিকাশের এক চমৎকার উদাহরণ। তরুণদের এমন সৃষ্টিশীল উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবেশ বদলে দিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

 

প্লাস্টিক দূষণের বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
প্লাস্টিক দূষণের বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের করণীয়

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতিবছর ৩ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করাই এ দিবসের লক্ষ্য। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে দিবসটির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
প্লাস্টিক আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত সংকট সৃষ্টি করছে। ২০০৮ সালে স্পেনভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ‘রেজেরো’ প্রথম এ দিবস পালন শুরু করে। পরে ‘ব্যাগ ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ ও ‘ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিক’ আন্দোলনের মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে পরিণত হয়।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, যার প্রায় অর্ধেকই একবার ব্যবহারযোগ্য। বছরে ৫ ট্রিলিয়নেরও বেশি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহৃত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্লাস্টিক ব্যাগ সম্পূর্ণভাবে পচতে শত শত বছর সময় লাগে, এ সময়ে তা ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়, যা এখন সমুদ্র, নদী, মাটি, এমনকি মানুষের রক্ত, ফুসফুস ও মাতৃদুগ্ধেও পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এটিকে মানবস্বাস্থ্যের জন্য নতুন বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

প্লাস্টিক দূষণের সবচেয়ে বড় শিকার সামুদ্রিক পরিবেশ। প্রতিবছর আনুমানিক ৮ থেকে ১১ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে প্রবেশ করে। এর ফলে মাছ, কচ্ছপ, ডলফিন, তিমি ও সামুদ্রিক পাখিসহ অসংখ্য প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ সামুদ্রিক পাখি এবং এক লক্ষের বেশি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী প্লাস্টিক দূষণের কারণে মারা যায়। ফলে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এছাড়া বর্জ্যের একটি বড় অংশ ভূমিতে জমা হয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। মানবস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব উদ্বেগজনক। খাদ্য, পানি ও বাতাসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। গবেষণায় এর সঙ্গে হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনজনিত সমস্যা, প্রজনন সমস্যা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশে প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব আরও স্পষ্ট। জনসংখ্যার ঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সচেতনতার অভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য দ্রুত পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ড্রেন, খাল ও নদীতে জমে থাকা প্লাস্টিক নগর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে নদীনির্ভর জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও মৎস্যসম্পদও ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট বায়ুদূষণ মানুষের শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আইন প্রনয়ন করে পাতলা পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করে, আইনে পলিথিন উৎপাদনের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদ- বা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে। এছাড়া, পলিথিন বিক্রি, প্রদর্শন ও বিতরণের জন্য সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদ- বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা রাখা হয়েছে। তবে আইন থাকা সত্ত্বেও এর কার্যকর বাস্তবায়নে এখনও ঘাটতি। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কাপড়, পাট ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব ব্যাগের ব্যবহার বাড়ানো এবং জনসচেতনতা জোরদার করা জরুরি।

 

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস আমাদের মনে রাখতে হবে যে পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকেরও কর্তব্য। একটি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তই হতে পারে পরিবেশ রক্ষার বড় পদক্ষেপ। সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাসের মাধ্যমেই আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতে পারি।