তিন মাস সুন্দরবন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে কয়রার বনজীবীরা
জি এম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা): ৪০ বছর ধরে সুন্দরবনে কাকড়া ধরে তাই বিক্রি করে জীবন যাপন করিতেছি। আমার নিজস্ব কোন জায়গা জমি নেই, এই কাকড়া বিক্রি করে যা আয় হয় তাতে সংসার চলে। সুন্দরবন যখন বন্ধ থাকে তখন কোন কাজ কাম থাকেনা। এই তিন মাস সম্পূর্ণ বাড়ি বসে থাকতে হয়। আয় রোজগারের কোন সুযোগ নেই। বয়স হয়ে গেছে কেউ কাজে নিতে চায় না। সরকার থেকে যে চাউল দেয় তাতে চলে না। বাজার ঘাট করতে হয়, অসুখ-বিসুখ আছে ঔষধ পানি কিনতে হয়।
সুন্দরবন বন্ধের সময় যদি আমাকে সরকারের পাশাপাশি কোন এনজিও সংস্থা বা কেউ সাহায্য করতো তাহলে বাঁচতে পারতাম। বন্ধের সময়টা খুব কষ্টে দিন কাটে এভাবে কথাগুলো বলেছিলেন তেঁতুলতলা গ্রামের মৃত মইজুদ্দিন শেখের ছেলে সুন্দরবনের বনজীবী আব্দুল বারিক শেখ। চৌকুনি গ্রামের বনজীবী মোঃ জামাল হোসেন শেখ বলেন, আমি লেখাপড়া করতাম, অভাবের কারণে আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকে আমার আব্বার সাথে সুন্দরবনে কাকড়া ধরার পেশা বেছে নেই। তিনি আরও বলেন, আমার আয়ের উপর আমাদের পরিবার চলে। ৩ মাস সুন্দরবন বন্ধের সময় আমাদের কোন কাজ থাকেনা, খুব কষ্টে জীবন যাপন করতে হয়।
সুন্দরবনের বনজীবী মোঃ আব্দুস সাত্তারসহ একাধিক বনজীবী জানান, সুন্দরবন বন্ধের সময় অতি কষ্টে তাদের জীবন যাপন করতে হয়। তারা কর্মহীন হয়ে পড়ে। সরকারের পাশাপাশি তারা বিভিন্ন বিভিন্ন এনজিও সংস্থাকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানান।
বন বিভাগ জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে নদী-খালে মাছ ডিম ছাড়ে, বন্যপ্রাণীদের প্রজনন ঘটে এবং বিভিন্ন গাছের বীজ থেকে নতুন চারা গজায়। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ নির্বিঘ রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও তিন মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পাস-পারমিট ইস্যু করা হবে না। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কাশিয়াবাদ ফরেস্ট ষ্টেশন কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দীন বলেন, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের বেশিরভাগ বন্য প্রাণী ও জলজ প্রার্ণীর প্রজনন মৌসুম। পাশাপাশি এই সময়ে বনে প্রচুর চারা গজায়। তাই এই তিন মাস সুন্দরবন বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে সুন্দরবনের সজীবতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় সুন্দরবন সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
এদিকে, দীর্ঘ তিন মাসের জন্য সুন্দরবন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন উপকূলীয় এলাকার হাজারো বনজীবী। বনের সম্পদের ওপর নির্ভরশীল এসব মানুষের জীবন-জীবিকা থমকে যাওয়ায় তারা এখন দিশেহারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংসার চালাতে সরকারি সহায়তা পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বনজীবীরা।












