শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেবহাটায় পহেলা বৈশাখ উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় পহেলা বৈশাখ উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

Oplus_131072

 

দেবহাটা প্রতিনিধি: বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। এই উৎসবকে আনন্দঘন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে বরণ করে নিতে সাতক্ষীরার দেবহাটায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন শাহ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির সাংস্কৃতিক মিলনমেলা ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক। পুরোনো বছরের সব গ্লানি মুছে নতুন আহ্বানে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার দিন এটি। উপজেলার সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নববর্ষ উদযাপনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সদস্যসচিব মহিউদ্দিন সিদ্দিকী এবং জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম।
এ ছাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা অলিউল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা সভায় অংশ নেন।
প্রস্তুতি সভা শেষে উপজেলা চত্বরে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং ১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড মেলার উদ্বোধন করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই আয়োজন মুখর হয়ে ওঠে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।

Ads small one

ঢাকাস্থ ভারতীয় নব নিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
ঢাকাস্থ ভারতীয় নব নিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও সীমান্তে উত্তেজনার মাঝেই বাংলাদেশে এলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শুক্রবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সড়কপথে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। সীমান্তে পৌছালে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

সীমান্ত ইসু নিয়ে ভারতীয় নব নিযুক্ত হাই কমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভৌগোলিক দিকে থেকে দু দেশের শক্তিশালী ডেমক্রেসি রয়েছে। এজন্য দরকার একে অপরের সহযোগিতা। একই আকাশ একই বাতাস ও একই জঙ্গল- দরকার আন্তরিকতা। বেনাপোলে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে তিনি একথা বলেন।

স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কলকাতা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য সড়ক পথে বেনাপোলে পৌঁছান। ঢাকায় পৌঁছে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্রেডেনশিয়াল পেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

দায়িত্বগ্রহণ ও কূটনৈতিক মিশন পূর্বে রেলমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী প্রবীণ রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদীকে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে ঢাকায় পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্কে স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ভারত ও বাংলাদেশের ১৬০ কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক স্বপ্নের অভিন্নতার কথা তুলে ধরেন।

কলারোয়া পৌরসভার পশুহাট মোড়, ২বছর ধরে মরণফাঁদে লাখো মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়া পৌরসভার পশুহাট মোড়, ২বছর ধরে মরণফাঁদে লাখো মানুষ

সংবাদদাতা: পৌরসভা আছে ঠিকই, কিন্তু জনগণের ভোগান্তি লাঘবে কিংবা নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা নেই। সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রধান সড়ক দীর্ঘ দুই বছর ধরে চরম সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে কলারোয়া পশুহাট মোড়ের এই স্থানটির পিচ-খোয়া পুরোপুরি উঠে গিয়ে বিশাল ও গভীর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে নোংরা পানির এক স্থায়ী ‘কৃত্রিম পুকুরে’ এবং পথচারীদের জন্য এক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

 

দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই নরকযন্ত্রণা সহ্য করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ। সামান্য বৃষ্টি হোক বা না হোক, ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম ত্রুটি ও রাস্তার মাঝখানে বিশাল গর্তের কারণে এখানে বারো মাসই নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকে। এই জলমগ্ন মরণফাঁদে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত পড়ে যাচ্ছে ভ্যান, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল। প্রায় প্রতিদিনই এখানে উল্টে যাচ্ছে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন, ঘটছে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা।

 

কলারোয়া পশুহাট মোড়টি এখন সাধারণ পথচারী ও চালকদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কলারোয়া পশুহাট মোড়টি অত্র অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এখানে প্রতি সপ্তাহে বিশাল পশুর হাট বসে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ব্যবসায়ী ও খামারিরা আসেন। কিন্তু রাস্তার এই মরণফাঁদের কারণে কোনো যানবাহনে করে পশু নিয়ে ওই স্থানটুকু পার হওয়া সম্ভব হয় না।

 

অনেক সময় পশু বোঝাই ভ্যান বা গাড়ি গর্তে উল্টে গিয়ে পশু মারাত্মক জখম হয়। ফলে ব্যবসায়ী ও খামারিদের চরম লোকসান ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতিতে। রাস্তার এই বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এই নোংরা পানি ও কাদার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিনিয়ত দ্রুতগামী যানবাহনের চাকায় ময়লা পানি ছিটকে তাদের স্কুল ইউনিফর্ম, বই-খাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

 

প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্ন পোশাক কাদায় একাকার হওয়ার ঘটনা ঘটছে। বাধ্য হয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে জুতো-মোজা হাতে নিয়ে নোংরা কাদা-পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক। স্থানীয় ব্যবসায়ী, চালক ও পথচারীদের অভিযোগ-পৌর কর্তৃপক্ষ জনগণের এই চরম অসুবিধা ও নিত্যদিনের ভোগান্তি দেখেও না দেখার ভান করে অন্ধ সেজে আছে।

 

মাসের পর মাস পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঠিকই জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন তুলছেন, কিন্তু এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বেহাল দশা ও মরণফাঁদ দূর করার কোনো উদ্যোগ নেই। ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, কলারোয়া পৌরসভা এখন জনগণের সেবা দেওয়ার চেয়ে কেবলই এক ‘নামসর্বস্ব’ সংস্থায় পরিণত হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের এমন চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

 

এই দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি ও মরণফাঁদ থেকে মুক্তি পেতে এবং কলারোয়া পশুহাট মোড়ের এই বিপজ্জনক স্থানটি দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলামের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সুদৃষ্টি কামনা করেন ভুক্তভোগী পথচারী, ব্যবসায়ী এবং সচেতন এলাকাবাসী।

 

এ বিষয়ে শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতা প্রকাশ করেন। তিনি পথচারী ও ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “জনসাধারণের ভোগান্তির বিষয়টি আমি জেনেছি। জনস্বার্থে ওই বিপজ্জনক স্থানটি দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ইউএনও’র এমন আশ্বাসে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কলারোয়ার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

ভেড়ির কুঁড়েঘর থেকে স্বপ্নের প্রাসাদে মৌলুদা-মোস্তাফার পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
ভেড়ির কুঁড়েঘর থেকে স্বপ্নের প্রাসাদে মৌলুদা-মোস্তাফার পরিবার

পত্রদূত রিপোট: একসময় তাদের ঠিকানা ছিল মাছের ঘেরের ভেড়ির পাশে তৈরি করা একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘর। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়ত মাথার ওপর, শীতের রাতে কাঁপতে কাঁপতে কাটত সময়, আর ঝড় এলেই বুকের ভেতর বাসা বাঁধত অজানা আতঙ্ক। ভূমিহীন ও হতদরিদ্র মৌলুদা খাতুন এবং তার স্বামী গোলাম মোস্তফার কাছে জীবন ছিল বেঁচে থাকার এক নিরন্তর সংগ্রামের নাম। দুবেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন ছিল, সেখানে নিজের জমিতে একটি নিরাপদ ঘরের স্বপ্ন দেখাও ছিল বিলাসিতা। কিন্তু সেই অসম্ভব স্বপ্নই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে মানবতার দুই মহান বন্ধু ভিনসেনজো ফালকোনে এনজো ও গ্রাজিয়েল্লা মেলানো লাওরার হাত ধরে।

 

মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের মানুষের কষ্ট তাদের হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। সেই টানেই ইতালি থেকে এ দেশে ছুটে এসেছিলেন তারা। তারপর কেটে গেছে কয়েক দশক। আশির কোঠায় পৌঁছেও থেমে যাননি। মানুষের জন্য ভালোবাসা আর সেবার অঙ্গীকার নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। তাদের প্রতিষ্ঠিত ঋশিল্পীর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, কর্মসংস্থান ও মানবিক সহায়তার নানা কর্মসূচিতে উপকৃত হয়েছেন দেশের লাখ লাখ প্রান্তিক মানুষ। অসংখ্য পরিবার পেয়েছে নতুন আশ্রয়, নতুন জীবন এবং নতুন করে বাঁচার সাহস।
সম্প্রতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পারকুখরালি গ্রামের মৌলুদা খাতুনের পরিবারের অসহায় জীবনযাত্রার কথা জানতে পারেন এনজো ও লাওরা। ঘেরের ভেড়ির পাশে মানবেতর পরিবেশে বসবাস করা পরিবারটির দুর্দশার কথা শুনে তারা বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।

পরিবারটির জন্য জমি ক্রয় করে নির্মাণ করা হয়েছে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। বাড়িটিতে রয়েছে তিনটি প্রশস্ত শয়নকক্ষ, যেখানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারবেন। রয়েছে একটি আলাদা রিডিং রুম, যাতে শিশুদের লেখাপড়া ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এছাড়া সুপরিসর ড্রয়িং ও ডাইনিং রুম, আধুনিক স্বাস্থ্যসম্মত বাথরুম এবং বড় পরিসরের রান্নাঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরের প্রতিটি অংশ এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে একটি পরিবার শুধু আশ্রয়ই না পায়, বরং মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে। জমি ক্রয় ও গৃহনির্মাণ বাবদ মোট ব্যয় হয়েছে ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৫১ টাকা।

বাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঋশিল্পী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রশান্ত কুমার বল্লভ, কনসালটেন্ট মো. আকতারুল আলম, প্রোগ্রাম অফিসার মো. নাঈমুজ্জামান এবং হিসাবরক্ষক মীর মাহমুদুর রহমান।
নতুন ঘরের চাবি হাতে নিয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মৌলুদা খাতুন বলেন, আমাদের কোনো জমি ছিল না, কোনো নিরাপদ আশ্রয়ও ছিল না। আজ মনে হচ্ছে আমরা নতুন জীবন পেলাম। যারা আমাদের এই ঘর দিয়েছেন, তাদের ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না।

এন্সো ও লাওরা আজীবন মানুষকে যত দৃষ্টান্তমুলক সেবা দিয়েছে তা নিরবে। জাহির করে নয়। মানবতার পাশে তাদের সব কর্মকান্ড তাই অনন্য ও অসাধারণ। তার তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের পক্ষে জমির দলিল ও বাড়ির চাবি হস্তান্তর করে সমাজকর্মী ও সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।

সুমন বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার ক্ষেত্রে এনজো ও লাওরা কখনও প্রচার বা স্বীকৃতি খোঁজেননি। নীরবে, নিরলসভাবে তারা হাজারো অসহায় মানুষের জীবন বদলে দিয়েছেন। আজ মৌলুদা খাতুনের পরিবারের মুখে যে হাসি দেখা যাচ্ছে, সেটিই তাদের মানবিক কর্মকান্ডের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। মানবতার জন্য তাদের এই ভালোবাসা আমাদের সকলের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এটি শুধু একটি বাড়ি নির্মাণের ঘটনা নয়; এটি মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাদের ভাষায়, অনেকেই সাহায্য করেন, কিন্তু মানুষের ভাগ্য বদলে দেওয়ার মতো কাজ খুব কম মানুষই করেন। এনজো ও লাওরা একটি পরিবারকে শুধু ঘর দেননি, তাদের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন, সম্মান ও ভবিষ্যৎ ফিরিয়ে দিয়েছেন।

ঋশিল্পী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রশান্ত কুমার বল্লভ বলেন, একটি পরিবারের মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ নিশ্চিত করা শুধু দান নয়, এটি মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কাজ। এনজো ও লাওরা আজীবন সেই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন।

ফাউন্ডেশনের কনসালটেন্ট মো. আকতারুল আলম বলেন, ভূমিহীন মানুষের জন্য জমি ও বাসস্থান নিশ্চিত করা তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। মৌলুদা খাতুনের পরিবারের জন্য এই উদ্যোগ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

সাতক্ষীরার এই গল্প তাই কেবল একটি গৃহহস্তান্তরের সংবাদ নয়; এটি মানুষের প্রতি মানুষের সীমাহীন ভালোবাসা, মমতা ও দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দলিল, যা দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।