অরবিন্দ মৃধা
দূর্গবেষ্টনী সৃষ্টি করে শত্রুকে প্রতিরোধ করার হিম্মত দেখিয়ে যিনি দূর্গতদের রক্ষা করেন,তিনি দূর্গা।প্রাচীন যুগ থেকে বিশ্বাসের ভিত্তিতে মানুষ দুষ্টুের দমনকারী মাতৃশক্তি হিসেবে দূর্গাদেবীর পূজার প্রচলন করেছেন।
বাঙালি সমাজে শারদীয় দূর্গাপূজা ও উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি এক সুগভীর সামাজিক সম্প্রীতি, সংস্কৃতি’র সেতু বন্ধন। ধর্ম গোত্র, বর্ণ নির্বিশেষ সব শ্রেণীর মানুষের মিলনের উৎসব। সামাজিক তাৎপর্যে শ্রেণীভেদ ও বৈষম্যহীন মিলনমঞ্চ। ইউনেস্কোর মতে, দুর্গাপূজা হলো এমন এক সর্বজনীন উৎসব যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণীর ভেদাভেদ মুছে যায়। ম-পে ম-পে সব মানুষের ঢল নামে,মেলবন্ধন তৈরী হয়। এইরূপ মিলন থেকে মেলার উদ্ভব হয়েছে। মেলা থেকে হয়েছে দ্রব্য বিনিময়,শিল্পজাত দ্রব্য সৃষ্টি ও বেচাকেনা।
পারিবারিক পুনর্মিলন: শরৎকালে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ও পিতৃগৃহে আসাকে কেন্দ্র করে প্রবাস থেকে মানুষ নিজ ঠিকানায় ফিরে আসে। এটি পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করে।
প্রতীকী রূপ ও সামাজিক ভারসাম্য: প্রতিমার বিন্যাসে দেবীর চার সন্তান (গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতী) মানবজীবনের চর্তুর্বগ ফল (ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ) এবং সমাজের বিভিন্ন স্তর বা শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন।
অর্থনৈতিক ও শিল্প সংস্কৃতির বিকাশ: পূজাকে কেন্দ্র করে মৃৎশিল্পী, বাঁশবেত শিল্প, কাঠ শিল্প, লৌহ শিল্প, মিষ্টি শিল্পদ্রব্য কাজে এবং ঢাকী, আলোকশিল্পী, কারিগরী শ্রমের সাথে জড়িতদের কর্মসংস্থান হয়। ম-প সজ্জা ও প্রতিমা শিল্প বাংলার সৃজনশীল ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: ইতিহাস ও বর্তমান সময়ে দুর্গাপূজা কেবল একটি সম্প্রদায়ের গ-িতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এতে আনন্দ ভাগ করে নেয়, যা সামাজিক সম্প্রীতি, সৌভ্রাত্র ও মানবধর্মের এক অনন্য চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
দূর্গাপূজার প্রচলন: হিন্দু-সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ পূজা ও উৎসব এই দূর্গাপূজা। চ-ী ও ব্রহ্মবৈবত্য পুরাণশাস্ত্র মতে, দুর্গাদেবী আদ্যাশক্তি মহামায়া, শক্তির দেবী। তিনি কালী, চ-ী, ভগবতী, বাসন্তী, কাত্যায়নী, জগদ্ধাত্রী, মহিষাসুরমর্দিনী, দূর্গা নামে মানুষের কাছে পরিচিত। দূর্গা দুষ্কৃতিকারীদের দমন এবং নিপিড়ীত, দূর্গতদের রক্ষার করে থাকেন, এমনই বিশ্বাসের ভিত্তিতে প্রাচীন যুগ থেকে শক্তির প্রতীক হিসেবে বাঙালি জাতি’র মধ্যে দূর্গা দেবীর পূজা বা আরাধনা, উৎসবের প্রচলন হয়েছে।
দূর্গার পূজার উৎপত্তি;
শ্রীশ্রী চ-ী গ্রন্থে উল্লেখ আছে,
“মেধাস্ত কথায়ামাস সুরথায় সমাধয়ে
সা কথা কথিতা পশ্চাৎ মার্কন্ডেয়েন ভাগুরৌ।
মার্কন্ডেয় নামে মুনির মাধ্যমে দেবীদূর্গা’র পূজা- মাহাত্ম্য সম্পাদন ও প্রচার হয়।
বাংলাদেশের চট্রগ্রাম জেলার করালডাঙা বোয়ালখালি সন্যাসী পাহাড়ে এই মার্ক-েয় মুনির আশ্রম অবস্থিত।পাহাড়ের পাদদেশ থেকে প্রায় পাঁচশত ফুট উঁচুতে বিস্তর্ণ এলাকা জুড়ে এই আশ্রম,ও দূর্গা মন্দির। ‘মন্দিরের অনতিদূরে পাহাড়ের গায়ে মার্ক-েয় মুনির ধ্যানের আসর ও মার্ক-েয় কুন্ডু এবং আছে সীতা সরোবর’।
আদ্যাশক্তি মহামায়া
মেধস্ মুনির আশ্রম:
দেবী দূর্গার পূজার ফল ও মাহাত্ম্য কথা সঅব প্রথম মেধস: নামক এক মুনি রাজ্য ও সংসার থেকে বিতাড়িত রাজা সুরথ ও বৈশ্য সমাধি নামক দু’ব্যক্তি’র নিকট ব্যক্ত করেন এবং তাঁর পরামর্শে আত্মশুদ্ধি,জ্ঞান লাভ,শান্তি ও ফল লাভের আশায় উল্লিখিত মেধস: মুনির আশ্রমে মাটির দূর্গাপ্রতিমা তৈরি করে রাজা সুরথ ও বৈশ্য সমাধি পূজা সম্পন্ন করত: ‘বেতসা’ নামক নদীতে দেবীপ্রতিমা বিসর্জন দেন। শ্রীশ্রী চ-ী,পুরাণ গ্রন্থ মতে এই রূপে তান্ত্রিক শক্তির দেবী দূর্গা’র পূজার প্রচলন হয়। অর্থ্যাৎ বেতসা নদীর তীরে মেধস:নামক মুনির আশ্রমে পূজা’র উৎপত্তি হয়। কোথায় এই বেতসা নদী এবং মেধস: মুনির আশ্রম:
স্বামী পরদেবানন্দজী মহারাজ প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী মেধস: মুনি’র আশ্রমের ভৌগলিক অবস্থান চট্রগ্রামের কর্ণফুলি নদী সন্নিহিত অঞ্চলে। তিনি উল্লেখ করেছেন, কামাহ্ম্যা তন্ত্রের ৩৫তম পটলে উল্লেখ রয়েছে-
‘তত্রাস্তি বেতসা না¤œী দিব্যা পূর্ণতোয়ানদী। তত্রৈবাসীন্মুনী শ্রেষ্ঠ মেধস:ঋষিরাশ্রম। অর্থ্যাৎ দক্ষিণে সাগর তীরবর্তী এলাকায় কর্ণফুলি নদী সন্নিহিত স্থানে বেতসা নদী তীরে মেধস: মুনির আশ্রম, (শ্রীশ্রী চ-ী)। এ সব তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতীয়মান হয় দ্র্গূাপূজা’র উৎপত্তি বাংলাদেশে হয়েছে। যা কালে কালে যুগ থেকে যুগান্তর বয়ে চলেছে নিরন্তর। শারদীয় দূর্গা পূজা বাঙালি জনজাতির প্রধান উৎসব। বাঙালি অধ্যুসিত বিশ্বের বহু দেশে এই পূজা হয়ে থাকে।কালের পরিবর্তনের সাথে, প্রতিমা, রং, পোশাক, প্যা-ের, ডেকোরেশন
ইত্যাদির পরিবর্তনও হচ্ছে।
অকাল বোধন; ত্রেতা যুগের শ্রীরামচন্দ্র অকালে: দূর্গাপূজা করেছিলেন, তখন ছিল শরৎকাল। তাই এই পূজাকে শারদীয় দূর্গা পূজাও বলা হয়। শাস্ত্র মতে বছরকে দু’টি কালে ভাগ করা হয়, মাঘ থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত উত্তরায়ণ কাল এবং শ্রাবণ থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত দক্ষিণায়ন কাল। উত্তরায়ণ কাল দেবদেবীদের জাগ্রত কাল এবং দক্ষিণায়ন নিদ্রা কাল। কথিত আছে শ্রীরামচন্দ্র রাবণ বধের জন্য আদ্যশক্তি মহামায়াকে দেবীদূর্গা নামে দক্ষিণায়ন কালে(অকালে)আহ্বান ও পুজো করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। এ জন্য দূর্গাপূজাকে অকাল বোধন পূজা বলা হয়।
বর্তমানে শারদীয় দূর্গাপূজা ও উৎসব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধকালে বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে মহামায়ার পূজা করতে বলেছেন। এই রূপে তন্ত্র সাধকগণ বিশ্বাসের ভিত্তিতে সিদ্ধিলাভের আশায় বিভিন্ন নামে শক্তির দেবদেবীর পূজা আরাধনা করে চলেছেন ।
প্রাচীন যুগ: প্রাক-বৈদিক যুগের শক্তির দেবী দূর্গা। বাংলাদেশের করতোয়া ও ব্রহ্মপুত্র নদ বিধৌত প্রাচীন সভ্য নগরের নাম পু-্রনগর। এটি স্বতন্ত্র ভাবে গড়ে উঠা প্রাচীন পু-্রদেশ বা পু-্র জনপদ নামে পরিচিত যা বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়া জেলায় মহাস্থানগড়ে অবস্থিত। এই প্রাচীন নগরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রতœ নিদর্শন পাওয়া গেছে।
এই মহাস্থানগড় যাদুঘরে রক্ষিত আছে চতুর্ভূজা মহিষমর্দিনী দ্র্গূা মূর্তি।যেটি ওই অঞ্চলের সারিয়াকান্দি’র কোনো গ্রামের প্রাচীন এক মন্দির থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রতœত্বত্ত্ববিদ্গণের মতে পু-্রনগরে মৌজ্য, গুপ্ত, পালসহ বিভিন্ন সময়ের প্রতœস্তর আবিস্কৃত হয়েছে। এ থেকে বুঝা যায়, এই পু-্রনগর খ্রীষ্টপূর্ব, মহাভারতীয় যুগের জনপদ। প্রাপ্ত মূর্তিটি সে যুগের চতুর্ভূজ বা চার বাহু বিশিষ্ট দূর্গার মূর্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভাস্কর্যটি যাদুঘরে সংরক্ষিত হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কাঠ, লোহা, কাঁসা, পিতলের তৈরি দ্বিভুজ, চতুর্ভূজ, দশভুজ বিশিষ্ট দূর্গা, কালী ও অন্যান্য দেবদেবী মূর্তির নিদর্শন পাওয়া গেছে। এ থেকে বুঝা যায় প্রাচীন পু-্র, বঙ্গাল, অঙ্গজ, কিরাত, সবর ও অন্যান্য জাতির মানুষ দূর্গা পূজা করতেন। মধ্যযুগ: শ্রীচৈতন্য প্রভাবিত মধ্যযুগে বাংলা ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি,ধর্মবোধ বিকশিত হয়েছে। ষোড়শ শতকে পাঠন মোগল আমলে বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম রাজশাহীর তাহিরপুরের রাজা কংসনারায়ণ মাটির প্রতিমা তৈরী করে বাংলায় সাড়ম্বরে দূর্গাপূজা ও উৎসব পালন ও প্রচলন করেন। তারই অনুকরণে ভাদুড়িয়ার রাজা জগৎনারায়ণ বহু অর্থ ব্যয় করে বসন্তকালে বাসন্তী পূজা ও উৎসব পালন করেন। এই রূপে জগদ্ধাত্রী, কাত্যায়নী, চ-ী, কালীকা দেবীর পূজার প্রচলন হয়। বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম যশোহর রাজ্যের রাজা প্রতাপাদিত্য (১৫৮৭-১৬১০)শক্তির দেবী যশোরেশ্বরী কালী মাতার পূজার প্রচলন করেন।
চাঁচড়ার(যশোর) রাজা মনোহর রায়ের রাজত্ব কালে(১৬৫৮-১৭০৪) খ্রীষ্টাব্দ যশোর অঞ্চলে প্রথম দূর্গাৎসব প্রচলন হয়।সেখানকার দশমহাবিদ্যার(মন্দির) মধ্যে জগদ্ধাত্রী মন্দির ছিল। একই ধারায় মুহাম্মাদপুরের রাজা সীতারাম শক্তিপুজার প্রচলন করেন। কীর্ত্তন যুগের পর রাজা জমিদার শ্রেণী প্রভাবশালীগণ শক্তি পুজোর প্রতি আকৃষ্ট হন। বৃটিশ যুগ; বৃটিশ শাসনামলে অষ্টাদশ শতকের পর থেকে সাহিত্য-শিক্ষাচর্চার পাশাপাশি পূজা-অর্চনায় একটা পরিবর্তন ঘটেছে। এই সময় থেকে প্রভাবশালী ভূঁইয়া, জমিদার,জোতদার,তালুকদার শ্রেণীর পরিবারের অনেকেই পারিবারিক ভাবে জাঁকজমকপূর্ণ দূর্গাপূজা শুরু করেন,তবে সংখ্যায় কম। এ সব পূজা উৎসবকে কেন্দ্র করে মেলা বসেছে, নানা ধরণের কুটির শিল্প উদভব হয়েছে,আজও হচ্ছে। এ ধারা বিশ শতকের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত অব্যহত ছিল।
ধোঁয়াশা যুগ; ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অধিকাংশ জমিদার,জোতদার,প্রভাবশালী শ্রেণীর পরিবার গুলির বৃহৎ অংশ পশ্চিমবঙ্গে চলে যাওয়ায় এবং রাজনৈতিক, সামাজিক,মানসিক অস্থিরতার কারণে বলা যায় ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে দূর্গাপূজা ও উৎসবের একটা ধোঁয়াশা যুগ কেটেছে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়; স্বাধীনতা পরবর্তী একটা বিধস্ত কাঠামোয় দাঁড়িয়ে সাধ থাকলেও সাধ্যের অভাব ছিল সমাজচিত্রে।তাই দূর্গাপুজায় জৌলুসও তেমন ছিলনা। ১৯৭৫ এর পট পরিবর্তন,অস্থির সময়কাল। ১৯৮০ এর দশকে সামরিক শাসন একনায়কতন্ত্র,ইসলামী রাষ্ট্র ঘোষণা,স্বৈরশাসন, সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতা’র মধ্যে কাটে ফলে গতানুগতিক ভাবে পুরাতন মন্দির, মঠকে কেন্দ্র করে দূর্গাপূজা সম্পন্ন হয়।
বিশ শতকের শেষ দশক থেকে এবং একুশ শতকের শুরু থেকে ‘বারোয়ারী’ ব্যানারে গ্রাম ও শহর পর্যায় পর্যন্ত স্থানীয় ভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে কমিটি’ গঠন করে ম-পে ম-পে দূর্গা পূজার প্রবনতা বৃদ্ধি পায়,পূজা উদযাপন পরিষদ দেশব্যাপী জেলা উপজেলা,ইউনিয়নে,কমিটির মাধ্যমে গ্রাম পর্য্যায় পর্যন্ত ক্রমান্নয়ে সার্বজনীন দূর্গা পূজা চালু করায় পূজার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
সংগৃহীত তথ্য মোতাবেক ১৯৯০এর দশকে: ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির এবং রামকৃষ্ণ মিশনকে কেন্দ্র করে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির মাধ্যমে দেশব্যাপী পূজার সমন্বয় কাজ শুরু হয়। এই ১৯৯০-১৯৯৯ দশকে
সারাদেশে আনুমানিক ৪(চার) হাজার থেকে ৬(ছয়) হাজার ম-পে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে প্রতিহিংসার মধ্যেও সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব পালনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
সুবর্ণ যুগ; ২০০০ সাল থেকে পূজা ম-প বৃদ্ধির ক্রমবর্ধমান দশক হিসেবে ধরা যায়। এই সময় থেকে পারিবারিক পূজার পাশাপাশি সামাজিক(বারোয়ারী) পূজা সম্প্রসারণ শুরু হয় ২০০১ সালে কিছু সহিংসতা, পরিবর্তন,প্রাকৃতিক দূর্যোগ,পরে সিডর,আইলা’র কারণে গ্রামীণ জনপদে পূজায় সাময়িক প্রভাব পড়লেও,পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় প্রতিকূলতার সাথে খাপখাওয়ায়ে এই দশক থেকে সার্ব্বজনীন পূজা ম-প সংখ্যা প্রতিযোগিতামূলক বাড়তে থাকে,এতে বুঝা যায় মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে ।২০০৯ সালের তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে পূজা ম-পের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪(চব্বিশ)হাজার+। ২০১০ সালে ২৫হাজার। ২০২০ সালে উন্নীত হয়ে সে সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০হাজার ২শত ২৫+টিতে। পরের দশকের ২০২১সালে ৩২হাজার ১শত ১৮টি,ক্রমান্নয়ে ২০২৫ সালে সারাদেশে পূজা ম-প সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩ হাজার ৩শত ৫৫টি।
(এই তথ্যচিত্র গুগল থেকে সংগৃহীত)
এই সময়ে রাজনৈতিক, সামাজিক,পারিপার্শ্বিক অনুকূল প্রতিকূল পরিবেশে সরকারী ও স্থানীয় সুধীমহলের পৃষ্টপোষকতার মধ্যদিয়ে দ্র্গূা পূজা ও উৎসব পালন হয়েছে। দেশে যখন ক্রোমহ্রাসমান হিন্দু-সনাতনী জনসংখ্যা,তখন ক্রোমবৃদ্ধিমান পূজা ম-পের চিত্র একটা ভিন্ন সমীকরণ দাঁড় করিয়েছে।
পূজামন্ডপ বৃদ্ধি: সর্বজনীন প্রধান উৎসব হিসেবে বাঙালি বিশেষ করে হিন্দু সনাতনীদের কাছে এই পূজা ও উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নি¤œবিত্ত,মধ্যবিত্ত,উচ্চবিত্ত যার যার মতন করে ভক্তিশ্রদ্ধা নিবেদন,আনন্দ,বিনোদন উপভোগ করতে পারে। সাধারণ মানুষের অংশ গ্রহন থাকে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা থাকে,গ্রাম মহল্লার বা গোষ্ঠী ভিত্তিক প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ উদ্যোক্তা কমিটি দেশব্যাপী দূর্গা পূজা উদযাপন কাজে সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা, সহিষ্ণুতা, সাম্প্রদায়িক সস্প্রীতি রক্ষা, সমন্বয়, ত্যাগ, ধৈর্য, সচেতনতার সাথে সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে এক কাতারে যুক্ত করার মধ্যদিয়ে সুবর্ণসময় বা যুগ সৃষ্টি করার প্রয়াস গ্রহন করে বলে অতীতের তুলনায় অস্থায়ী দূর্গাপূজা মন্ডপ সংখ্যা বুদ্ধি পেয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
দূর্গাপূজা বাঙালি সমাজের এক মহামিলন উৎসব।একটি প্রাচীন জনপদ হিসেবে দূর্গাপূজা’র প্রচলন হয়েছে বর্তমান বাংলাদেশে। প্রধান উৎসব হিসেবে বাংলাদেশ সহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, ওড়িশা, ঝাড়খ-, বিহার ও অন্যান্য দেশে বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলেও শারদীয় দুর্গাপূজা ও উৎসব উদযাপিত হয়। জয়তু মা দূর্গা।