নিঃশব্দ বিদ্রোহ
জহুরুল হক জুলু
যারা ভেবেছিল
মানুষের কণ্ঠ চেপে রাখলেই
নদীর স্রোত থেমে যাবে,
তারা বোঝেনি—
জমে থাকা নীরবতাও একদিন
বজ্রের ভাষা শিখে নেয়।
এই নগরের বাতাসে আজ
অদ্ভুত এক ধাতব গন্ধ।
প্রতিটি মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে
অবিশ্বাসের কালো ছায়া।
চোখে চোখ পড়লেই
মানুষ এখন হিসেব কষে
কে বন্ধু, কে ছদ্মবেশী শত্রু।
একসময় বিকেলের মাঠে
শিশুরা দৌড়ে বেড়াতো পাখির মতো,
এখন সন্ধ্যা নামলেই
দরজাগুলো নিঃশব্দে বন্ধ হয়ে যায়।
মায়েরা জানালার ফাঁক দিয়ে
ফিরে আসা পথের দিকে তাকিয়ে থাকে,
যেন প্রতিটি পদধ্বনি
ভয়ের কোনো সংবাদ বহন করে।
রাত গভীর হলে
অনেক ঘরে চুলা জ্বলে না,
তবু ক্ষুধার শব্দ
দেয়াল ভেদ করে বেরিয়ে আসে।
একজন বাবা অন্ধকারে বসে
নিজের হাত দুটো দেখেন
কেন এত অসহায় লাগে আজ!
চারদিকে এত উচ্চারণ,
তবু সত্যের জন্য কোথাও জায়গা নেই।
মানুষের দীর্ঘশ্বাসগুলো
ধোঁয়ার মতো জমে আছে আকাশে।
যে মুখগুলো একদিন
স্বপ্নে দীপ্ত ছিল,
আজ সেখানে কেবল
ক্লান্ত সময়ের দাগ।
তোমরা শুনতে পাও না?
ভেঙে পড়া মানুষের বুকের ভেতর
কেমন প্রচ- শব্দ ওঠে!
সেটা কোনো ঝড় নয়,
কোনো সমুদ্রের গর্জনও নয়-
সেটা বেঁচে থাকার শেষ আর্তি।
মনে রেখো,
অত্যাচারের আয়ু কখনও অনন্ত হয় না।
একদিন জমে থাকা প্রতিটি কান্না
আগুন হয়ে জ্বলে ওঠে।
আর তখন
সমস্ত নীরব রাস্তা জেগে উঠে
মানুষের পক্ষ নেয়।
যারা এতদিন
ভাঙা হৃদয়ের শব্দ শুনেও
অবিচল থেকেছিল,
তারাও হঠাৎ টের পাবে
পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য
ক্রুদ্ধ মানুষের চোখ নয়,
বরং তার নিঃশেষ হয়ে যাওয়া বিশ্বাস।
কারণ
একবার যদি মানুষ
স্বপ্ন দেখা ভুলে যায়,
তবে সভ্যতার সমস্ত আলোকসজ্জাও
অন্ধকার ঢাকতে পারে না।






