শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

নিঃশব্দ বিদ্রোহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
নিঃশব্দ বিদ্রোহ

জহুরুল হক জুলু
যারা ভেবেছিল
মানুষের কণ্ঠ চেপে রাখলেই
নদীর স্রোত থেমে যাবে,
তারা বোঝেনি—
জমে থাকা নীরবতাও একদিন
বজ্রের ভাষা শিখে নেয়।

এই নগরের বাতাসে আজ
অদ্ভুত এক ধাতব গন্ধ।
প্রতিটি মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে
অবিশ্বাসের কালো ছায়া।

চোখে চোখ পড়লেই
মানুষ এখন হিসেব কষে
কে বন্ধু, কে ছদ্মবেশী শত্রু।

একসময় বিকেলের মাঠে
শিশুরা দৌড়ে বেড়াতো পাখির মতো,
এখন সন্ধ্যা নামলেই
দরজাগুলো নিঃশব্দে বন্ধ হয়ে যায়।

মায়েরা জানালার ফাঁক দিয়ে
ফিরে আসা পথের দিকে তাকিয়ে থাকে,
যেন প্রতিটি পদধ্বনি
ভয়ের কোনো সংবাদ বহন করে।

রাত গভীর হলে
অনেক ঘরে চুলা জ্বলে না,
তবু ক্ষুধার শব্দ
দেয়াল ভেদ করে বেরিয়ে আসে।

একজন বাবা অন্ধকারে বসে
নিজের হাত দুটো দেখেন
কেন এত অসহায় লাগে আজ!
চারদিকে এত উচ্চারণ,
তবু সত্যের জন্য কোথাও জায়গা নেই।

মানুষের দীর্ঘশ্বাসগুলো
ধোঁয়ার মতো জমে আছে আকাশে।
যে মুখগুলো একদিন
স্বপ্নে দীপ্ত ছিল,
আজ সেখানে কেবল
ক্লান্ত সময়ের দাগ।

তোমরা শুনতে পাও না?
ভেঙে পড়া মানুষের বুকের ভেতর
কেমন প্রচ- শব্দ ওঠে!
সেটা কোনো ঝড় নয়,
কোনো সমুদ্রের গর্জনও নয়-
সেটা বেঁচে থাকার শেষ আর্তি।

মনে রেখো,
অত্যাচারের আয়ু কখনও অনন্ত হয় না।
একদিন জমে থাকা প্রতিটি কান্না
আগুন হয়ে জ্বলে ওঠে।
আর তখন
সমস্ত নীরব রাস্তা জেগে উঠে
মানুষের পক্ষ নেয়।

যারা এতদিন
ভাঙা হৃদয়ের শব্দ শুনেও
অবিচল থেকেছিল,
তারাও হঠাৎ টের পাবে
পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য
ক্রুদ্ধ মানুষের চোখ নয়,
বরং তার নিঃশেষ হয়ে যাওয়া বিশ্বাস।
কারণ
একবার যদি মানুষ
স্বপ্ন দেখা ভুলে যায়,
তবে সভ্যতার সমস্ত আলোকসজ্জাও
অন্ধকার ঢাকতে পারে না।

Ads small one

বুকের নিরামিষ বোতাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
বুকের নিরামিষ বোতাম

 

জ্যোৎস্না রহমান
তুমি আবদার করলে, রসালো প্রেমের কবিতা লিখতে ;
কিন্তু আমার ছাপোষা শব্দরা নিরামিষাশী।
তবুও উনুন জ্বালিয়ে রান্না বসালাম,
কয়েক পদ আমিষ রাঁধব বলে
আঁশ বটিতে রাতকে কেটে হাঁড়িতে চাপালাম ;
ঢুলু ঢুলু চোখ, খুলে ফেলল সমস্ত বসন
কিন্তু হৃদয় চাইছে, নিরামিষ স্পর্শ।
আসলে একটু যতœ পাওয়ার খিদে
হৃদয়ের অলিগলিতে পোস্টার লাগিয়েছে,
যেখানে শুশ্রূষা পাওয়ার বিজ্ঞাপন
হয়তো একদিন কারো চোখে পড়বে,
যার নিঃস্বার্থ প্রেম ওষুধের মতো তেতো
অথচ শিয়রে বসে রাতকে ভাঁজ করতে করতে
শোনাতে থাকবে জলপট্টির ইতিহাস।

ভালোবাসা হৃদয়ের অমোঘ উচ্চারণ;
যে নিভৃতে কবিতা হয়ে
প্রেমিক প্রেমিকার চোখে দোল খায়।

অনুমোদনহীন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
অনুমোদনহীন

রেশম লতা
রাষ্ট্রীয় অনুমোদনহীন একটা প্রেম করছিলাম
ভাবছিলাম সফল শাসনযন্ত্র দিয়া বেবাকরে পোষ মানাইমু
পল্টিবাজ বেয়াইনে বেগড়া দিছে
দিছে নিরীহ জনতাও!

গতকাইল মাইজ্জামিয়ার একাডেমিত গেছিলাম ওয়ালীরে পড়তে-
বাংলায় ঢুইক্কা শুনি শিক্কিত বাক্যরা পুলিশ হইয়া গেছে
ব্যাকরণ হইছে লাঠি
মুষ্টিবদ্ধ হাতে ঘোষণা করলাম, যে শব্দ শোষণের পক্ষে দাঁড়ায় তাকে ছিঁড়া ফেলো-
আমি নির্দোষ হন্তাকারী কেননা শব্দ হত্যা কোনো অপরাধ নয়।

ঈশ্বরকে জবাবদিহির কাঠগড়ায় তুলব। যদি তিনি নির্দোষ হন, তবে প্রমাণ দিক
না পারলে
নীরবতাও অপরাধ।

স্বাক্ষর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
স্বাক্ষর

মোঃ রহমত আলী
আমার সবগুলো সাজানো অক্ষর,
তোমাদের প্রাণ ছোঁবে.. তা তো নয়।
ভালোবাসা আর ভালোলাগা যে এক, তাও নয়;
অনর্থক কিছু নয়.. যদি অর্থ (মানে) রয়।
ভুল তো সবার হয়, আমারও হয়,
তবে সার্থকতা ভুল শুধরে যদি শুদ্ধ রয়;
এতে হাসির কী বন্ধু.. যদি রহস্য উদঘাটন হয়!

আমার আঁকা হরফ সাহিত্য তো নয়,
যা শায়েরী বা কোনো কবিতা হয়;
এতো এক স্বাক্ষর মাত্র.. যা সাক্ষ্য হয়ে রয়।