বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সংঘর্ষে নিহত ৩

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সংঘর্ষে নিহত ৩

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভূমিধস জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী পরবর্তী সহিংসতা। নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংঘর্ষ ও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।

নিহতদের মধ্যে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের বিজেপি কর্মী যাদব বার (৪৫), নিউটাউনের বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডল এবং বীরভূমের নানুরের তৃণমূল সমর্থক আবির শেখ রয়েছেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক রেষারেষি ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরেই এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হাওড়ার ঘটনায় লোহার রড দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে বীরভূমের ঘটনায় তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলেছে, যা বিজেপি অস্বীকার করেছে।

সহিংসতার ঘটনায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এসব ঘটনায় বিজেপির কোনও কর্মী জড়িত নেই। বরং তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে বিপক্ষ গোষ্ঠী বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে এসব করছে। যদি আমাদের দলের কেউ জড়িত থাকে, তবে তাকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হবে।

এদিকে পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার বিভিন্ন স্থানে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিম বর্ধমানের জেলা তৃণমূল সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের কার্যালয় দখল হতে দেখেছি। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন এই পুরো প্রক্রিয়ায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

Ads small one

সাতক্ষীরায় দিনদুপুরে গৃহবধূর ওপর সন্ত্রাসী তাণ্ডব: চাঁদা না পেয়ে বাড়ি ভাঙচুর, স্বর্ণালঙ্কার লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দিনদুপুরে গৃহবধূর ওপর সন্ত্রাসী তাণ্ডব: চাঁদা না পেয়ে বাড়ি ভাঙচুর, স্বর্ণালঙ্কার লুট
নিজস্ব প্রতিনিধি: ​সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় জমি জবরদখল ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক গৃহবধূর নির্মাণাধীন বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়েছে চিহ্নিত একদল সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীরা কেবল বাড়ি ভাঙচুর ও টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লুট করেই ক্ষান্ত হয়নি, ওই নারী ও তাঁর ভাইকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা এবং প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামালনগর বউ বাজারের পাশে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছাঃ আরিফা খাতুন (৩৯) বাদী হয়ে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আমলী ১ নম্বর আদালতে একটি সি.আর. মামলা দায়ের করেছেন (আরজি তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ৩২৩, ৩৭৯, ৩০৭, ৩২৫, ৩৫৪, ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০৬ (২য় অনুচ্ছেদ), ৩৪ ও ১১৪ ধারায় আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
​অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—কামালনগর এলাকার মোঃ রফিকুল ইসলাম (মন্টু) (৪২), মহাসিন আলী (৪০), মুজিবর রহমান (৪৫), আক্তার হোসেন (চঞ্চল) (৪০) এবং আব্দুস সবুর (৪৫)। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী এ হামলায় অংশ নেয় বলে জানা গেছে।
​ভুক্তভোগী আরিফা খাতুন জানান, তিনি ও তাঁর বোন ২০১৩ এবং ২০২২ সালে কামালনগর এলাকায় ৮.২৫ শতক জমি খরিদ করেন (কোবলা নং-১০৪৪ ও ৩০১৬)। স্বামী ব্যাংকে চাকরির সুবাদে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকায় উক্ত আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের জমি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছিল এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। চাঁদা না দিলে জমিতে ঘর তুলতে বা বসবাস করতে দেবে না বলে ক্রমাগত ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল তারা।
​ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে আরিফা খাতুন তাঁর নির্মাণাধীন বাড়িতে অবস্থানকালে আসামীরা মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা ছাদের সেন্টারিংয়ের বাঁশ, খুঁটি ও কাঠ ভাঙচুর শুরু করে। ভুক্তভোগী বাধা দিলে রফিকুল ইসলাম, মহাসিন আলী ও আক্তার হোসেন সরাসরি পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
​উগ্রমূর্তি দেখে আতঙ্কিত হয়ে আরিফা খাতুন ছাদের রড কেনার জন্য ব্যাগে থাকা ৮০,০০০ টাকা রফিকুল ইসলামের হাতে দিয়ে মিনতি জানান। তবে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামীরা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রফিকুল ইসলামের নির্দেশে তাঁকে পিচের রাস্তার ওপর ফেলে অমানুষিক মারধর করা হয়। রফিকুল ইসলাম লোহার রড দিয়ে আরিফা খাতুনের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে রডের আঘাত তাঁর পিঠের মেরুদণ্ডে লাগে। এরপর মহাসিন আলী বাঁশ দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
​এ সময় বোনকে বাঁচাতে ভাই মনিরুজ্জামান এগিয়ে এলে আক্তার হোসেন ও আব্দুস সবুর তাঁকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও ফোলা জখম করে। আহত আরিফা খাতুন কোনোমতে উঠে দাঁড়ালে আসামীরা তাঁকে আবার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে মহাসিন আলী তাঁর বুকের ওপর উঠে দাঁড়ায় এবং আব্দুস সবুর হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গলার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে।
​তাণ্ডব চলাকালে আসামীরা আরিফা খাতুনের গলা থেকে ১ ভরি ওজনের সোনার চেইন (আনুমানিক মূল্য ২,০০,০০০ টাকা) এবং কানের ৮ আনার সোনার দুল (আনুমানিক মূল্য ৯০,০০০ টাকা) জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া মহাসিন আলী তাঁর পরনের পোশাক ছিঁড়ে ফেলে শ্লীলতাহানি করে এবং আসামীরা দড়ি দিয়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে মুখ চেপে ধরে চরম নির্যাতন চালায়।
​পরে মনিরুজ্জামানের আর্তচিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয় যে—‘এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি ৪,২০,০০০ টাকা চাঁদা না দিলে আরিফা খাতুন ও তাঁর সন্তানকে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলা হবে’।
​ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরিফা খাতুন ও তাঁর ভাইকে রাত আনুমানিক ৭টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, গৃহবধূর মেরুদণ্ডের হাড়ে আঘাত লাগায় এক্স-রে এবং মাথায় মারাত্মক আঘাত থাকায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর ব্রেনের সিটি স্ক্যান করানো হয়। মনিরুজ্জামান ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং আরিফা খাতুন ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
​হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবার সাতক্ষীরা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। সুস্থ হয়ে আরিফা খাতুন আদালতে সি.আর. মামলা দায়ের করেন।
​বর্তমানে এ ঘটনায় গভীর আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি। আসামীরা প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আরিফা খাতুন ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। পরিবারটির জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।

সাতক্ষীরায় মানবাধিকার সাংবাদিক নেটওয়ার্কের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মানবাধিকার সাংবাদিক নেটওয়ার্কের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: ​সাতক্ষীরায় মানবাধিকার সুরক্ষা ও নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে ‘সাতক্ষীরা জেলা হিউম্যান রাইটস জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক’-এর সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে ‘ডিফেন্ডিং হিউম্যান রাইটস থ্রু নেটওয়ার্ক স্ট্রেনদেনিং (ডিএইচআরএনএস)’ প্রকল্পের আওতায় এই সভার আয়োজন করা হয়।

​ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস নেটওয়ার্ক, সাতক্ষীরা-এর আয়োজনে এবং উত্তরণ ও মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া এতে জাতীয় এনডোমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি-এর সহায়তা রয়েছে।

​সভায় বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষায় সাংবাদিকদের ভূমিকা এবং তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

সাতক্ষীরা জেলা হিউম্যান রাইটস জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক’-এর সভাপতি এম কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এমএসএফ সমন্বয়কারী সেলিনা হাসিন, এমএসএফ-এর সিনিয়র স্টাফ ল’ইয়ার অ্যাডভোকেট নাহিদ সামস, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক মিজানুর রহমান, মমতাজ আহমেদ বাপী, আসাদুজ্জামান, ড. দিলীপ কুমার দেব, অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, এসএম শহীদুল ইসলাম, এসএম বিপ্লব হোসেন, আহসানুর রহমান রাজিব, শহিদুল হক রাজু, আসাদুজ্জামান সরদার, গোলাম সরোয়ার, মো. হোসেন আলী, প্রমুখ।

​​অনুষ্ঠানে আয়োজক সংস্থাসমূহের কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিশু অপ্রতীমসহ সব শিশু হত্যার বিচারে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
শিশু অপ্রতীমসহ সব শিশু হত্যার বিচারে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: ​সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে শিশু অপহরণ, হত্যা ও নির্যাতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং শিশু অপ্রতীমসহ নিহত সব নিরপরাধ শিশুর খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে সাতক্ষীরার শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্কের শহীদ মিনার চত্বরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

​ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস নেটওয়ার্ক (সাতক্ষীরা), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ (সাতক্ষীরা জেলা শাখা), হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার ফোরাম, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ), এইচআরডি কোয়ালিশন, হিউম্যান রাইটস ল’ ইয়ারস ফোরাম, স্বদেশের আয়োজনে এবং উত্তরণ, এনইডি, সিডো, হেড, ক্রীসেন্ট ইয়ুথ স্কুল গার্লস গ্রুপ ও সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা স্ব-স্ব সংগঠনের প্রতিবাদী ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশ নিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

​স্বদেশ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এমএসএফ-এর প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, ঢাকা এমএসএফ সমন্বয়কারী সেলিনা হাসিন, এমএসএফ-এর সিনিয়র স্টাফ ল’ইয়ার অ্যাডভোকেট নাহিদ সামস, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জ্যোৎস্না দত্ত ও সভাপতি আঞ্জুয়ারা মিলি।

​এছাড়াও বক্তব্য দেন নাগরিক নেতা আলী নুর খান বাবুল, আবদুস সামাদ, আবু জাফর সিদ্দিকী, সিডো সংস্থার পরিচালক শ্যামল বিশ্বাস, এমএসএফ সাতক্ষীরা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মনিরউদ্দীন, হেড সংস্থার পরিচালক লুইস রানা গাইন, মোহাম্মদ বায়জিদ হোসেন, নুসরত জাহান, শেহনাজ পারভীন, জারিন তাসনিম, দৈনিক ‘দক্ষিণের মশাল’ সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, চ্যানেল আইয়ের প্রতিনিধি এম কামরুজ্জামান এবং ডেইলি স্টার-এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জী।

​সমাবেশে বক্তারা শিশু হত্যা ও নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ (আসক) এবং পুলিশ সদর দপ্তরের এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। আসকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নিখোঁজের পর অন্তত ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে; যার মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯ এবং ধর্ষণের পর ২৬ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে।

​অন্যদিকে, পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য উল্লেখ করে জানানো হয়, জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সারাদেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও ২ হাজার ৩৮ শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

​বক্তারা বলেন, শিশু নিখোঁজ, অপহরণ ও হত্যার বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের নিরাপত্তায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দৃঢ় ও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসঙ্গে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সকল হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও নির্যাতনের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তারা।#