পাটকেলঘাটায় জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার, রাতভর পাম্পে বাইকারদের ভিড়
এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তেলের আশায় পাম্পগুলোতে রাত যত গভীর হচ্ছে, মোটরসাইকেল চালকদের সারি তত দীর্ঘ হচ্ছে। সোমবার সকাল থেকে তেল দেওয়া হবেÑএমন খবরে রবিবার রাত থেকেই খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাম্পগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন শত শত বাইকার।
সরেজমিনে রবিবার রাতে পাটকেলঘাটা বাণিজ্যিক কেন্দ্রের মজুমদার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। তীব্র গরম উপেক্ষা করে অনেকেই পরদিন সকালের সিরিয়াল ধরতে রাত থেকেই পাম্পে অবস্থান নিয়েছেন। রোদের তাপ থেকে বাঁচতে কেউ কেউ বাড়ি থেকে ছাতাও নিয়ে এসেছেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেক চালক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার ৩ হাজার লিটার পেট্রোল বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার সকাল আটটা থেকে পুনরায় আরও ৩ হাজার লিটার পেট্রল বিতরণ করা হবে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। একেকজন বাইকারকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদল নেতা মিরাজসহ কিছু রাজনৈতিক অসাধু ব্যক্তি তাঁদের পছন্দের লোকদের বেশি তেল দেওয়ার জন্য পাম্পে চাপ সৃষ্টি করছেন।
মজুমদার ফিলিং স্টেশনের একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা সুষ্ঠুভাবে তেল বিতরণের চেষ্টা করছি। একই চালক দিনে দুবার আসলে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জরুরি সেবার সঙ্গে জড়িতদের অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা থাকলেও মাঝে মাঝে রাজনৈতিক চাপে তা সম্ভব হয় না।”
এদিকে শুধু পেট্রোল বা অকটেন নয়, ইরি ধান কাটার মৌসুম চলায় ডিজেলের জন্যও ভিড় করছেন কৃষকেরা। সন্ধ্যায় বাস, ট্রাক ও পিকআপের ভিড় বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পাম্প কর্তৃপক্ষ।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরা খাতুন নিয়মিত পাটকেলঘাটা ও তালার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করছেন। তিনি জানান, তেলের এই সংকট মুহূর্তে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুদ করলে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাটকেলঘাটা থানার ডিএসবি কর্মকর্তা মো. হাসান জানান, পাম্পগুলোতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ তদারকি অব্যাহত থাকবে।












