বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

পানি নয়, ঢুকছে প্লাস্টিকও/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
পানি নয়, ঢুকছে প্লাস্টিকও/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

এক বোতল পানি হাতে নেওয়ার সময় আমরা সাধারণত ভাবি, তৃষ্ণা মেটাতে নিরাপদ পানি পেয়েছি। কিন্তু সেই পানির সঙ্গে অদৃশ্য প্লাস্টিক কণাও শরীরে প্রবেশ করছে কি নাÑএই প্রশ্নটি এখন আর উপেক্ষা করার মতো নয়। প্লাস্টিক দূষণ এত দিন আমরা দেখেছি নদী-খাল, সমুদ্র, রাস্তা কিংবা ড্রেনের বর্জ্য হিসেবে। এখন বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, এর ক্ষুদ্র কণা মানুষের খাদ্য ও পানীয়ের সঙ্গেও শরীরে প্রবেশ করছে। থাইল্যান্ডের বিখ্যাত ফি ফি দ্বীপে বেড়াতে গিয়ে সারা সাজেদির সামনে বিষয়টি নতুনভাবে ধরা দেয়। আন্দামান সাগরের নীল জল ও অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝেও সৈকতে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য প্লাস্টিকের বোতল তাঁকে ভাবিয়ে তোলে।

 

পরিবেশবিষয়ক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও সেই সফর তাঁকে উপলব্ধি করায়Ñপ্লাস্টিকের সমস্যা শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা নয়; এটি মানুষের জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। পরবর্তী সময়ে কানাডার কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটিতে ডক্টরাল গবেষণার অংশ হিসেবে প্রায় ১৪০টি বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিশ্লেষণ করেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল প্লাস্টিকের বোতলে রাখা পানির সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া। সেই গবেষণার তথ্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগ তৈরি করে। একজন মানুষ বছরে খাবার ও পানির মাধ্যমে গড়ে ৩৯ হাজার থেকে ৫২ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারেন।

 

আর যারা নিয়মিত বোতলজাত পানি পান করেন, তাঁদের শরীরে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৯০ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশ করতে পারে। সংখ্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়; এগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা সামনে আনে। আমরা যে জিনিসটিকে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্নতার প্রতীক মনে করছি, সেটিই যদি অদৃশ্য প্লাস্টিক কণার বাহক হয়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতেই হবে। মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। এর চেয়েও ছোট কণাকে বলা হয় ন্যানোপ্লাস্টিক। এগুলো খালি চোখে দেখা যায় না।

 

প্লাস্টিকের বোতল উৎপাদন, ব্যবহার, ঘর্ষণ, সংরক্ষণ ও পরিবহনের সময় ক্ষুদ্র কণা তৈরি হতে পারে। তাপমাত্রা বেশি হলে কিংবা বোতল দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রচ- গরমে দোকানের সামনে, বাজারে কিংবা পরিবহনের সময় পানির বোতল অনেকক্ষণ রোদে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

 

একজন ভোক্তা বোতলটি কেনার সময় জানতেও পারেন না, সেটি কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ শুধু পানির মান পরীক্ষা করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। পানি যে পাত্রে রাখা হচ্ছে, সেই পাত্রের মান এবং সংরক্ষণব্যবস্থাও জনস্বাস্থ্যের অংশ। মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের শরীরে এসব কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

 

শরীরে প্রবেশের পর এগুলো বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছাতে পারে এবং প্রদাহ, হরমোনের ভারসাম্য ও প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিছু গবেষণায় ক্যানসারের সঙ্গেও সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।তবে এখানেই সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকা জরুরি। মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলেই নির্দিষ্ট রোগ হবেÑএমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বিজ্ঞান দেয়নি। দীর্ঘমেয়াদি ও বৃহৎ পরিসরের গবেষণা প্রয়োজন।

 

কিন্তু অনিশ্চয়তা মানেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়। যখন কোনো পদার্থ নিয়মিতভাবে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে এবং তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পুরোপুরি জানা যাচ্ছে না, তখন ঝুঁকি কমানোর পথ বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শুধু বোতলকে দায়ী করলে সমস্যার গভীরে যাওয়া হবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের ভোগের সংস্কৃতি। ‘ব্যবহার করো, ফেলে দাও’Ñএই সংস্কৃতি আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কয়েক মিনিটের সুবিধার জন্য আমরা এমন একটি বস্তু ব্যবহার করছি, যা পরিবেশে বছরের পর বছর থেকে যায়।

 

একটি প্লাস্টিকের বোতল হাতে নেওয়ার সময় আমরা তৃষ্ণা মেটানোর কথা ভাবি। কিন্তু সেটি ব্যবহারের পর কোথায় যাবে, কীভাবে পুনর্ব্যবহার হবে কিংবা শেষ পর্যন্ত নদী-খাল বা সমুদ্রে গিয়ে কী ক্ষতি করবেÑতা নিয়ে খুব কমই ভাবি। ফলে প্লাস্টিকের বোতলের সংকট একই সঙ্গে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসংকট। বাংলাদেশে নিরাপদ পানির প্রশ্ন এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহর থেকে গ্রাম, উপকূল থেকে চরাঞ্চলÑঅনেক মানুষ নিরাপদ পানির জন্য নানা বিকল্পের ওপর নির্ভর করেন।

 

দুর্যোগ বা বন্যার সময় বোতলজাত পানি অনেকের জন্য জীবনরক্ষাকারীও হয়ে ওঠে। তাই বোতলজাত পানি পুরোপুরি পরিত্যাগের কথা বলা বাস্তবসম্মত নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে এটি প্রয়োজনীয়। কিন্তু যেখানে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা আছে, সেখানে প্রতিদিন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতলের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার ও জনসমাগমের স্থানে নিরাপদ পানি ও রিফিলের ব্যবস্থা করা গেলে মানুষও সহজে বিকল্প বেছে নিতে পারবেন।

 

প্লাস্টিক দূষণের দায় কেবল সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। একজন মানুষ কেন বোতলজাত পানি কিনছেন, তার পেছনে নিরাপদ পানির অভাব যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, বাজারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির প্রশ্ন। পানির মানের পাশাপাশি বোতলের মান, উৎপাদনপ্রক্রিয়া, সংরক্ষণ ও পরিবহনব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। বিশেষ করে তীব্র গরমে প্লাস্টিকের বোতল কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, সেটি নজরদারির আওতায় আনা জরুরি।

 

একই সঙ্গে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমাতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য নিরাপদ বোতল ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, সহজ ও সাশ্রয়ী বিকল্পও তৈরি করতে হবে। সমস্যাটি বড় হলেও সমাধানের শুরু হতে পারে ছোট একটি অভ্যাস থেকে।যেখানে নিরাপদ পানি পাওয়া যায়, সেখানে প্রতিদিন নতুন প্লাস্টিকের বোতল কেনার পরিবর্তে পুনর্ব্যবহারযোগ্য নিরাপদ বোতল ব্যবহার করা যায়। বাইরে গেলে নিজের বোতল সঙ্গে রাখার অভ্যাস করা যায়। ব্যবহৃত বোতল যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা যায়।

 

এসব হয়তো খুব ছোট পদক্ষেপ। কিন্তু কোটি মানুষ একই অভ্যাস গ্রহণ করলে তার প্রভাব ছোট থাকে না। ফি ফি দ্বীপের সৈকতে পড়ে থাকা একটি প্লাস্টিকের বোতল থেকে যে প্রশ্নের জন্ম হয়েছিল, তা এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পানির বোতল পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে। এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। পানি বিশুদ্ধ হলেই হবে না; পানি কীভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে, কী পাত্রে রাখা হচ্ছে এবং সেই পাত্র থেকে কী আমাদের শরীরে যাচ্ছেÑসেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

প্লাস্টিক আমাদের জীবনকে সহজ করেছে। কিন্তু সেই সুবিধার বিনিময়ে যদি ধীরে ধীরে আমাদের শরীর ও পরিবেশকে মূল্য দিতে হয়, তাহলে সেই সুবিধার হিসাব নতুন করে করা দরকার। পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। সেই পানি যেন আমাদের তৃষ্ণা মেটায়, অদৃশ্য ঝুঁকি না বাড়ায়Ñএ দায়িত্ব রাষ্ট্রের, উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের এবং আমাদের সবার। আজ একটি প্লাস্টিকের বোতল কম ব্যবহার করা হয়তো পৃথিবী বদলে দেবে না। কিন্তু কোটি মানুষ যদি একটি করে বোতল কম ব্যবহার করেন, নিরাপদ পানির বিকল্প তৈরি হয় এবং প্লাস্টিক ব্যবহারের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসে, তাহলে সেই ছোট ছোট পদক্ষেপই বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। বিশুদ্ধ পানির নামে আমরা যেন অদৃশ্য প্লাস্টিক না পান করিÑএখনই সচেতন হওয়ার সময়।

সুত্র: বিভিন্ন বিঞ্জান সামযিকী

Ads small one

তালার উন্নয়নের সঙ্গে প্রেসক্লাব ভবনেরও উন্নয়ন হবে: হাবিবুল ইসলাম হাবিব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
তালার উন্নয়নের সঙ্গে প্রেসক্লাব ভবনেরও উন্নয়ন হবে: হাবিবুল ইসলাম হাবিব

তালা প্রতিনিধি: তালা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) মাগরিবের নামাজের পর তালা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জোয়ার্দার ফারুখ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক শেখ শফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আবুল কালাম বিশ্বাস, রেজাউল ইসলাম রেজা এবং তালা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মীজা আতিয়ার রহমান।

এ সময় তালা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আছাদুজ্জামান রাজু, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মোতাহিরুল হক শাহিন, প্রচার সম্পাদক সেকেন্দার আবু জাফর বাবু, সাহিত্য সম্পাদক অর্জুন বিশ্বাস, নির্বাহী সদস্য জয়দেব চক্রবর্তী, ইমরান হোসেন, কাজী লিয়াকত হোসেন, মশিয়ার রহমান, কামাল হোসেন ও রফিকুল ইসলামসহ প্রেসক্লাবের সদস্য, স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছাত্রনেতা রিপন হোসেন ও যুবদল নেতা সরদার কামরুল উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও মানবতার জন্য তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, তালা প্রেসক্লাবকে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক প্রেসক্লাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তালার সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে তালা প্রেসক্লাব ভবনের উন্নয়নও এগিয়ে যাবে। তিনি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন তালা উপজেলা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা তাওহিদুর রহমান।

সাতক্ষীরায় জেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

সংবাদদাতা: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দেশব্যাপী সবুজায়ন আন্দোলনকে বেগবান করতে সাতক্ষীরা জেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এক বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে এ বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও প্রায় ১০০টি পরিবারের মাঝে ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

 

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, বর্তমান সরকারের ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের যে মহাউদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতেই এ কর্মসূচির আয়োজন। পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি সুন্দর, বাসযোগ্য ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

বৃক্ষরোপণকালে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে বাঁচতে ও পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তবে কেবল গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না নিয়মিত সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সেগুলোকে বড় করে তুলতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পৃথিবী রেখে যেতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

 

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি, ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক খবর বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ও সাপ্তাহিক সূর্যের আলো-এর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক দৈনিক দক্ষিণের মশাল-এর স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক গণ তদন্ত পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি সাইফুল আজম খান মামুন, সহ-সভাপতি ও দৈনিক স্বাধীন মত-এর সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি আহাদুর রহমান জনি, সাপ্তাহিক সূর্যের আলো-এর সহকারী সম্পাদক মারুফ আহমেদ খান শামীম, দৈনিক যশোর বার্তা-এর সহসম্পাদক মোহাম্মদ মুজাহিদ, দৈনিক নব চেতনা ও দক্ষিণের মশাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শেখ হাসান গফুর, দৈনিক আইনবার্তা, দৈনিক আমাদের কণ্ঠ ও ডেইলি ফিন্যান্সিয়াল পোস্ট-এর জেলা প্রতিনিধি আক্তারুল ইসলাম, দৈনিক তৃতীয় মাত্রা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মো. ইদ্রিস আলী, শাহ নেওয়াজ মৃণাল, দৈনিক আজকের বসুন্ধরা-এর সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, দৈনিক সাতক্ষীরা সকাল-এর আতাউর রহমান, দৈনিক আলোকিত সকাল-এর স্টাফ রিপোর্টার জাহাঙ্গীর সরদার, গাজী হাবিব, আলমগীর হোসেন, মো. কামাল হোসেনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

সাতক্ষীরায় সম্পত্তির জেরে বৃদ্ধ পিতার উপর পুত্রের হামলার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সম্পত্তির জেরে বৃদ্ধ পিতার উপর পুত্রের হামলার অভিযোগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ধানদিয়া চৌরাস্তা বাজারে ফসলি জমি নষ্ট করাকে কেন্দ্র করে সম্পত্তির জের ধরে এক বৃদ্ধ পিতার উপর ছোট ছেলের হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত ২২ আগস্ট (শনিবার) দুপুর ১২টার দিকে ধানদিয়া চৌরাস্তা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পিতা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিলকণ্ঠপুর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দীন মোড়লের ছেলে আব্দুল মজিদ মোড়ল (৭০) ধানদিয়া মৌজার ধানদিয়া চৌরাস্তা থেকে সরসকাটি বাজারগামী পিচ রাস্তার ধারের একটি জমিতে বোরো/আউশ ধান চাষের জন্য চারা রোপণ করেন।

 

অভিযোগ উঠেছে, সে সময় তার আপন ছোট ছেলে মো. লিটন হোসেন (৩২), লিটনের স্ত্রী মোছা. সামিরা খাতুন (২৮), ভাগনে সুজন হোসেন (২৪) ও বোন হালিমা খাতুনসহ (৪৭) কয়েকজন ব্যক্তি ওই ফসলি জমি নিজেদের স্ট্যাম্পকৃত সম্পত্তি দাবি করে রোপণ করা ধানের চারা তুলে নষ্ট করে ফেলেন। এ সময় পিতা আব্দুল মজিদ এবং তার বড় ছেলে মো. উজ্জ্বল হোসেন চারা উপড়ে ফেলতে বাধা দিলে ছোট ছেলে লিটন ক্ষিপ্ত হয়ে পিতার ওপর চড়াও হন। তিনি পিতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি দিয়ে হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম হলে স্থানীয় এলাকাবাসী এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধ পিতা আব্দুল মজিদ মোড়ল অভিযোগ করে বলেন, “ছোট ছেলের সাথে আমার সম্পর্ক ভালো না। সে সবসময় আমার উপর চড়াও হয়ে মারতে আসে। বৃদ্ধ বয়সে তার কাছ থেকে কোনো ভালো ব্যবহার পাইনি। সে আমাকে খেতে দেয় না, দেখভালও করে না; তার এমন আচরণে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। যার কারণে আমি আমার মোট সম্পত্তির মধ্য থেকে ৭ বিঘা সম্পত্তি আমার বড় ছেলের নামে লিখে দিয়েছি। ইতোমধ্যে আমার বড় ছেলে তার অংশের সম্পত্তি থেকে ছোট ভাইকেও দলিল করে দিয়েছে। কিন্তু লিটন বড় ভাইয়ের অংশের সম্পত্তি ছাড়াও বিভিন্ন জাল দলিল ও স্ট্যাম্প তৈরি করে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে সব সম্পত্তি জবরদখল নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মো. লিটন হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার বাবা সব সম্পত্তি আমার বড় ভাইকে লিখে দিয়েছেন। পরে ভাই আমাকে টাকার বিনিময়ে সাড়ে তিন বিঘা জমি লিখে দিয়েছেন। কিন্তু লিখে দেওয়া সেই জমি আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। জমি বুঝে পাওয়ার জন্য আমি বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।

 

স্ট্যাম্পের বুনিয়াদে আমার পাওনা জমিতে বাবা ধান রোপণ করায় আমি ওই ধান রোয়া উপড়ে ফেলেছি। বড় ভাই মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, “আমার বাবা ছোট ভাইয়ের উপর অভিমান করে তার সম্পত্তি আমাকে লিখে দেন। আমি ছোট ভাইকে কোনো ফাঁকি দিইনি, বরং লিখে দেওয়া সম্পত্তির অর্ধেক আমি নিজেই ছোট ভাইকে রেজিস্ট্রি করে ফেরত দিয়েছি। সে তার ভাগের সব সম্পত্তি বুঝিয়ে নিয়ে বর্তমানে ভোগদখল করে খাচ্ছে, তবুও অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করছে। স্থানীয়রা এ ধরনের পারিবারিক কলহ ও পিতার গায়ে হাত তোলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।