শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

পিঁপড়ার কাছে হাতির পরাজয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
পিঁপড়ার কাছে হাতির পরাজয়

মোঃ সৈয়দুল ইসলাম
এক বনে মস্ত বড়ো এক হাতি ছিলো। হাতিটি ছিলো অহংকারী। একদিন এক ছোট্ট পিঁপড়ার সাথে হাতির দেখা হলো। হাতি উচ্ছস্বরে পিঁপড়াকে বললো- কিরে পিঁপড়া, এতো ছোট্ট দেহ নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস? বনের মধ্যে চলাফেরা করতে তোর কী ভয় করেনা? পিঁপড়া ভয়ে ভয়ে বললো- খাবারের সন্ধানে বনের উত্তর পাশে যাচ্ছি। হাতি এই কথা শুনে রেগেমেগে আগুন। পিঁপড়াকে সতর্ক করে বললো- বনের উত্তর পাশে আমার সীমানা। তোদের জন্য ঠিকমতো বনে চলাফেরাও করতে পারিনা। বাঁচতে চাইলে বাসায় ফিরে যা। পিঁপড়া ভাবলো হাতির যে দেহ , বড় বড় যে পা বাড়াবাড়ি করলে এখান থেকে বেঁচে ফেরা মুশকিল। কোন কথা না বলেই পিঁপড়া বাসায় ফিরে গেলো এবং রাজা পিঁপড়াসহ বসতির সকল পিঁপড়াকে বিষয়টি জানালো। একেক পিঁপড়া একেক ভাবে মন্তব্য করতে লাগলো। কোন কোন পিঁপড়া বলতে লাগলো, আমরা আকারে ছোট হতে পারি কিন্ত পৃথিবীর কোন প্রাণীকে পরোয়া করিনা। রাজা পিঁপড়া সবাইকে থামিয়ে দিলো এবং বললো, আমরা বনের অন্যান্য প্রাণীদের বিষয়টি জানাবো। দেখবো তারা বিষয়টির কী সমাধান করে। এই কথা শুনে উপস্থিত পিঁপড়েরা সম্মতি পোষণ করলো।

পরের দিন সকালে রাজা পিঁপড়া বসতির এক সৈন্য পিঁপড়াকে সিংহের কাছে পাঠালো বিষয়টি জানানোর জন্য। সিংহ, হাতি ও পিঁপড়ার মধ্যকার বিষয়টি শোনার পর কষ্ট পেল এবং বলতে লাগলো ছোট হই বড় হই আমরা সবাই প্রাণী। বনের মধ্যে আমাদের সবাইকে মিলেমিশে থাকতে হবে। সিংহ সৈন্য পিঁপড়াকে বললো- তুমি বাসায় ফিরে গিয়ে রাজা পিঁপড়াকে বলো, বিষয়টি আমি দেখছি। পরের দিন, দুপুরে সিংহ বনের সব পশুদের এক জায়গায় সমবেত করলো এবং হাতি আর পিঁপড়ার বিষয়টি খুলে বললো। বিষয়টি সবাই শুনে হাতিকে ছিঃ ছিঃ বলে ধিক্কার দিলো। হাতি অপমানিত হয়ে রাগে ক্ষোভে সিংহের ডাকা মজলিস থেকে চলে গেলো। হঠাৎ করে বিকালে গোটা কয়েক পিঁপড়ার সাথে হাতির দেখা হয়ে গেলো এবং দুই চারটা পিঁপড়াকে হাতি মেরে ফেললো। এদিকে বাকি পিঁপড়েরা জান নিয়ে কোনমতে বাসায় ফিরে গেলো এবং রাজা পিঁপড়াকে ঘটনাটি সম্পর্কে বললো। সাথে সাথে রাজা পিঁপড়া বসতির সব পিঁপড়াকে ডাকলো এবং বিকালে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনাটি খুলে বললো। ঘটনাটি শোনার পর বসতির পিপড়েরা বলতে শুর“ করলো আমরা সহজে হার মানবো না। যতো বড় প্রাণীই হোক না কেন আমরা লড়াই করে যাবো। রাজা পিঁপড়া হাতিকে গায়েল করার জন্য বসতির পিঁপড়াদের নিয়ে একটি ছক আঁকলো। রাজা পিঁপড়া বসতির সকল পিঁপড়াকে বললো- শনিবার সকালে আমরা দলবেঁধে হাতিকে আক্রমণ করবো। যেই কথা সেই কাজ। শনিবার সকাল দশ ঘটিকার সময় বনের উত্তর পাশে হাতির সীমানায় গিয়ে দলবেঁধে সকল পিঁপড়েরা হাতিকে সামনে পেয়ে চোখে মুখে কামড়াতে লাগলো। হাতি নিরূপায় হয়ে এলোপাথাড়ি বনের মধ্যে দৌড়াতে লাগলো এবং বন ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হলো।

অবশেষে, ছোট ছোট পিঁপড়াদের একতার কাছে মস্ত বড় অহংকারী হাতিও পরাজয় বরণ করলো।

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।