শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকৃতির শৃঙ্খলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
প্রকৃতির শৃঙ্খলা

 

লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
ভোরের আকাশে রবি হাসে, সোনার আলো ভাসে,
শিশিরভেজা ঘাসের বুকে মুক্তো ঝিলিক জ্বালে।
ভোরের পাখি মধুর সুরে জাগায় বন-প্রান্তর,
নিয়ম মেনে নদী ছুটে চলে নিরন্তর।
নদী চলে সাগর পানে, থামে না তার ধারা,
পাহাড় দাঁড়ায় মাথা তুলে, অটল সে চিরসারা।
দিনের শেষে সন্ধ্যা নামে রাঙা মেঘের ভেলায়,
চাঁদের হাসি জোছনা হয়ে নামে রাতের খেলায়।
তারার মেলা নীল আকাশে জ্বলে আপন তালে,
নিশির হাওয়া ফুলের গন্ধ বিলায় বন-ডালে।
ঋতুর পরে ঋতু আসে, বদলায় ধরার রূপ,
শীতের বুকে কুয়াশা নামে, বসন্তে ফুলের ধূপ।

গ্রীষ্ম আনে তপ্ত রোদন, বর্ষা আনে জল,
শরৎ হাসে সাদা মেঘে, হেমন্তে সোনার ফল।
পাতার ফাঁকে বাতাস বাজায় অদৃশ্য এক বাঁশি,
প্রজাপতির রঙিন ডানায় জাগে বনের হাসি।

মৌমাছিরা ফুলের বুকে খোঁজে মধুর দান,

ফুলের গন্ধে ভরে ওঠে প্রকৃতিরই প্রাণ।
নিয়ম মেনে আপন পথে চলে বিশ্বভুবন,
ছন্দে বাঁধা এই পৃথিবী, ছন্দে বাঁধা জীবন।

সূর্য ওঠে নিয়ম মেনে, নিয়ম মেনে নামে,
চাঁদও হাসে আপন তালে নীল আকাশের থামে।
দিনের পরে রাত যে আসে, রাতের পরে দিন,
নিয়ম মেনে ঘুরছে ধরার জীবন-রথ প্রতিদিন।
প্রকৃতিই শেখায় মোদের নিয়ম মানাই ধর্ম,
ছন্দময় এই বিশ্বজুড়ে শৃঙ্খলাই তো মর্ম।
নিয়ম মেনে চললে জীবন সুন্দর হয়ে ওঠে,
শৃঙ্খলারই ছন্দ বাজে সৃষ্টির প্রতিটি পাঠে।

Ads small one

পূজা মন্ডপের সংখ্যা বাড়ুক বা কমুক, নিরাপত্তায় প্রস্তুত পুলিশ: এসপি আশরাফুল আলম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
পূজা মন্ডপের সংখ্যা বাড়ুক বা কমুক, নিরাপত্তায় প্রস্তুত পুলিশ: এসপি আশরাফুল আলম

মিলন বিশ্বাস: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘœ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ। জেলার ৬০৯টি পূজামন্ডপকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ডপের সংখ্যা বাড়ুক বা কমুক, প্রতিটি মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার (এসপি) আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ সুপার বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৬০৯টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এর আগে মন্ডপের সংখ্যা ৬১২টি পাওয়া গিয়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ের কারণে এ সংখ্যা কমতে বা বাড়তে পারে। তবে মন্ডপের সংখ্যা যা-ই হোক, প্রতিটি মন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

তিনি বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিট পুলিশিং কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সার্কেল অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করছেন। প্রতিমা ও মন্ডপের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পূজার দিনগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে পুলিশ সুপার জানান, মন্ডপগুলোতে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘেœ পূজামন্ডপ পরিদর্শন করতে পারেন, সে জন্য সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সতর্ক থাকবে।

তিনি আরও জানান, অধিকাংশ পূজামন্ডপে ইতিমধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যেসব মন্ডপ এখনো সিসি ক্যামেরার আওতায় আসেনি, সেগুলোতেও দ্রুত ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে মন্ডপগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

পুলিশ সুপার বলেন, সাতক্ষীরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছেন। দুর্গাপূজাও সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, পূজামন্ডপে আগত দর্শনার্থীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার না হন, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে পুলিশ, পূজা উদযাপন কমিটি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সার্বিকভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।

মাদকমুক্ত সমাজ ও শ্যামনগর গড়ার আহ্বান পুলিশ কর্মকর্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
মাদকমুক্ত সমাজ ও শ্যামনগর গড়ার আহ্বান পুলিশ কর্মকর্তার

শ্যামনগর প্রতিনিধি: মাদকমুক্ত সমাজ ও পরিচ্ছন্ন শ্যামনগর গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি অনঙ্গ কুমার ম-লের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রুস্তম আলী, বিএনপি নেতা মোজাম মোল্লাসহ স্থানীয় মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাফিউল ইসলাম বলেন, সমাজ থেকে মাদককে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে মাদকসেবী ও কারবারিদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। মাদক সমাজকে গ্রাস করে চলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতার কারণে সন্তান জন্মদাতা মা-বাবাকে পর্যন্ত মারধর কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ ঘটাচ্ছে। অতীতে মাদকাসক্তির কারণে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

শারদীয় দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে মানুষের বিবেককে সর্বাগ্রে কাজে লাগাতে হবে। ধর্ম ভিন্ন হলেও সুষ্ঠু সমাজ গঠনে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে এবারের শারদীয় উৎসব উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পূজা উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে বা মাদকদ্রব্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তাকে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এ সময় তিনি দেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী সব ধরনের অপপ্রচার থেকে দূরে থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

সদরের ইন্দারায় পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, ২ নারীসহ আহত ৩

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
সদরের ইন্দারায় পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, ২ নারীসহ আহত ৩

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদরের আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের ইন্দারা গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই নারীসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মারাত্মক জখম অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১০ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন মোছা. হামিদা খাতুন (৬৫), লাভলী পারভীন (৩৮) এবং মো. আব্দুল গফুর (৪৩)।
হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন আব্দুল গফুর জানান, জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে স্থানীয় আবাদের হাট বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। আগে থেকে ওত পেতে থাকা তাঁর আপন সেজ ভাই পাটকেলঘাটা পূবালী ব্যাংক শাখার নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে ৬-৭ জনের একদল উগ্র কিশোর ও যুবক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এ সময় আঘাত সামলাতে না পেরে তিনি ড্রেনের মধ্যে পড়ে যান। তাঁর আত্মচিৎকারে মা হামিদা খাতুন ও স্ত্রী লাভলী পারভীন বাঁচাতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁদের ওপরও চড়াও হয়। লোহার রডের আঘাতে আব্দুল গফুরের মাথা ফেটে যায় এবং বাঁ হাতের দুটি আঙুল ভেঙে যায়।
এ ঘটনায় রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তাঁরা শঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জামিরুল মারামারির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।