মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: কেশবপুরে শিক্ষকসংকটে প্রাথমিক শিক্ষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: কেশবপুরে শিক্ষকসংকটে প্রাথমিক শিক্ষা

একটি জাতির ভবিষ্যতের ভিত্তি রচিত হয় প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু যশোরের কেশবপুর উপজেলার ১৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান চিত্র আমাদের চরম হতাশ ও উদ্বিগ্ন করে। সেখানে প্রধান শিক্ষকসহ ৮৬টি শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা কেবল প্রশাসনিক জটিলতা নয়, বরং ওই অঞ্চলের হাজার হাজার শিশুর শিক্ষার অধিকার হরণের শামিল।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৩৪টি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি হলেন তার প্রধান শিক্ষক। যখন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়, তখন তাঁর মূল কাজ অর্থাৎ পাঠদান ও তদারকিÑউভয়ই মুখ থুবড়ে পড়ে। এর ওপর আরও ৫২ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণিতে পাঠদান করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার মান বজায় রাখা কি আদৌ সম্ভব?
গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো মূলত সাধারণ ও নি¤œবিত্ত পরিবারের সন্তানদের একমাত্র ভরসা। সেখানে বছরের পর বছর শিক্ষকসংকট চলার অর্থ হলো গ্রাম ও শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যকে আরও উসকে দেওয়া। প্রধান শিক্ষকবিহীন স্কুলগুলোতে প্রশাসনিক স্থবিরতা যেমন বাড়ছে, তেমনি পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝরে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা কেবল অমূলক নয়, বরং এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় অবহেলারই প্রতিফলন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবসরজনিত কারণে পদগুলো শূন্য হয়েছে এবং তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শিক্ষক অবসর নেবেন—এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। কেন আগে থেকেই বিকল্প জনবল বা নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হলো না? কেন বছরের পর বছর শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা হবে? আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দোহাই দিয়ে শিক্ষার মতো মৌলিক খাতকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
আমরা মনে করি, কেবল লিখিত চিঠি পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। কেশবপুরের শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে এসব শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন করতে হবে। বিশেষ করে যে ৩৪টি স্কুলে অভিভাবকহীনতা (প্রধান শিক্ষক নেই) চলছে, সেখানে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, প্রাথমিক শিক্ষায় এই বিনিয়োগহীনতা বা গাফিলতি আমাদের পুরো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পঙ্গু করে দিতে পারে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অবিলম্বে এই সংকটের সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেÑএটাই প্রত্যাশা।

Ads small one

এআইতে আপনার গোপন জিজ্ঞাসা সত্যিই কি গোপন থাকে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
এআইতে আপনার গোপন জিজ্ঞাসা সত্যিই কি গোপন থাকে?

ইন্টারনেটে কিছু খোঁজার সময় মানুষ অনেক এমন বিষয়ও লিখে ফেলেন, যা তিনি হয়তো কারও সঙ্গে সরাসরি শেয়ার করতেন না। এখন সেই জায়গাটা ধীরে ধীরে দখল করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এআইতে করা ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল প্রশ্নগুলো কি সত্যিই গোপন থাকে?

প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি এই প্রশ্নটি এখন ব্যবহারকারীদের অন্যতম বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।

এআই কি আপনার প্রশ্ন সংরক্ষণ করে?

বেশিরভাগ এআই সিস্টেম ব্যবহারকারীর প্রশ্ন বা ইনপুট কোনও না কোনোভাবে সংরক্ষণ করে। এর উদ্দেশ্য সাধারণত সেবার মান উন্নত করা, ভুল সংশোধন করা এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো উত্তর দেওয়া।

তবে এই সংরক্ষণ সবসময় ব্যক্তিগত পরিচয়সহ হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তথ্যগুলো পরিচয়মুক্ত বা “অ্যানোনিমাইজড” করে রাখা হয়।

আপনার কথোপকথন কে দেখে?

কিছু ক্ষেত্রে এআই প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের সেবা উন্নত করতে মানুষের সহায়তা নেয়। তখন সীমিত পরিসরে কিছু কথোপকথন পর্যালোচনা করা হতে পারে।

তবে সাধারণত এসব প্রক্রিয়া কঠোর গোপনীয়তা নীতির আওতায় পরিচালিত হয় এবং নির্দিষ্ট নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়।

কোথায় ঝুঁকি?

কি একেবারে নেই—এমন বলা যাবে না। ব্যবহারকারী যদি নিজের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, পাসওয়ার্ড বা আর্থিক তথ্য সরাসরি লিখে দেন, তাহলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ যেকোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মেই তথ্য ফাঁসের সম্ভাবনা পুরোপুরি শূন্য নয়।

এছাড়া তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ বা অনির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।

গোপনীয়তা কতটা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ওপর?

বিশেষজ্ঞদের মতে, গোপনীয়তার একটি বড় অংশ নির্ভর করে ব্যবহারকারীর আচরণের ওপর।

প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা এবং সংবেদনশীল তথ্য এড়িয়ে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?

এআই ব্যবহারের সময় কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। যেমন—ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য শেয়ার না করা, অপরিচিত বা সন্দেহজনক প্ল্যাটফর্ম এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের গোপনীয়তা নীতি পড়ে নেওয়া। এসব ছোট পদক্ষেপই বড় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

তাহলে কতটা গোপন?

সহজভাবে বললে—আংশিক। এআই আপনার প্রশ্ন প্রক্রিয়াজাত করে এবং অনেক ক্ষেত্রে সংরক্ষণ করে, তবে তা সবসময় সরাসরি আপনার পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে না।

তবে শতভাগ গোপনীয়তার নিশ্চয়তা কোনও অনলাইন সেবাই দিতে পারে না—এটাই বাস্তবতা।

শেষ কথা

এআই আমাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে, পাশাপাশি তৈরি করেছে নতুন ধরনের সচেতনতার প্রয়োজন।

আপনার গোপন জিজ্ঞাসা কতটা নিরাপদ থাকবে—তা শুধু প্রযুক্তির ওপর নয়, অনেকটাই নির্ভর করে আপনার সচেতন ব্যবহারের ওপর।

যেসব অভ্যাসে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে আপনার চার্জার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
যেসব অভ্যাসে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে আপনার চার্জার

চার্জিং কেবল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এমন এক প্রযুক্তি, যাকে আমরা সাধারণত গুরুত্ব দিই না—যতক্ষণ না এটি হঠাৎ নষ্ট হয়ে যায় এবং ফোনে চার্জ দেওয়ার উপায় থাকে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই কেবল নষ্ট হওয়ার পেছনে বড় কারণ আমরা নিজেরাই। একটু যত্ন নিলেই এগুলোর আয়ু অনেক বাড়ানো সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড লাইফ সাইকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল পেক্ট তার ল্যাবে নিয়মিত চার্জিং কেবল পরীক্ষা করেন—ভাঙেন, টানেন, অতিরিক্ত ব্যবহার করেন, এমনকি এক্স-রে করে ভেতরের ক্ষতিও দেখেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যেন ইলেকট্রনিক্সের মর্গ।’

অনেকের ধারণা, কেবল সঠিকভাবে পেঁচিয়ে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পেক্ট এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চার্জিং কেবল কীভাবে পেঁচিয়ে রাখা হচ্ছে, সেটি আসলে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ঢিলেঢালা করে বা একটু এলোমেলোভাবে রাখলেও সাধারণত তাতে ক্ষতি হয় না।

তাহলে কেবল নষ্ট হয় কীভাবে?

সমস্যার মূল: প্লাগের গোড়া
বিশেষজ্ঞদের মতে, চার্জিং কেবল সাধারণত নষ্ট হয় সেই জায়গায় যেখানে তারটি প্লাগের সঙ্গে যুক্ত থাকে। কারণ ব্যবহারের সময় এই অংশটিতেই সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে।
ধরুন একটি পেপার ক্লিপ। একই জায়গায় বারবার বাঁকালে সেটি একসময় ভেঙে যায়। চার্জিং কেবলের ভেতরের ধাতব তারও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বারবার বাঁকানো বা চাপ পড়ার ফলে ধাতুর ভেতরে সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটে, যা শেষে ভেঙে যাওয়ার কারণ হয়।

যেসব অভ্যাস কেবল নষ্ট করে

তার ধরে টেনে প্লাগ খুলে ফেলা: অনেকেই কেবল ধরে টান দেন, কিন্তু এতে প্লাগের সংযোগস্থলে চাপ পড়ে। সবসময় প্লাগ ধরে খুলতে হবে।

অতিরিক্ত টান দিয়ে ব্যবহার: ছোট কেবল দিয়ে দূরের সকেটে পৌঁছাতে গেলে কেবল টানটান হয়ে যায়, যা ক্ষতিকর।

ব্যবহারের সময় বাঁকানো: বিছানায় শুয়ে ফোন ব্যবহার করার সময় প্লাগ বাঁকিয়ে রাখা খুব সাধারণ অভ্যাস—এটিই বড় ক্ষতির কারণ।

গাড়িতে চাপ দিয়ে রাখা: ফোন চার্জে রেখে কাপ হোল্ডারে রাখলে কেবলের ওপর চাপ পড়ে, বিশেষ করে গাড়ি চলার সময়।

ভালো কেবল কেনা জরুরি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সস্তা কেবল দ্রুত নষ্ট হওয়ার বড় কারণ। তাই একটু ভালো মানের কেবল কেনা দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক।

বিশেষ করে ব্রেইডেড (বোনা) কেবল। যেগুলোর ওপর নাইলনের জাল থাকে। সেগুলো বেশি টেকসই। এগুলো ভাঙার সম্ভাবনা কম এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।

চার্জিং কেবল খুব সাধারণ একটি জিনিস মনে হলেও, একটু ভুল ব্যবহারে এটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু সঠিকভাবে ব্যবহার করলে একটি ভালো কেবল অনেক বছর টিকে যেতে পারে।

অতএব, কেবলকে অবহেলা না করে একটু যত্ন নিন— এতে আপনার টাকা বাঁচবে, আর পরিবেশের ওপরও চাপ কমবে।

সূত্র: বিবিসি

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান কমিটির পদত্যাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান কমিটির পদত্যাগ

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান কমিটিকে সরে যেতে বলেছিল দেশটির সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় বোর্ডের কর্তারা মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দেশটির সবচেয়ে ধনী ক্রীড়া সংস্থা হলেও দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জর্জরিত শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ড তথা এসএলসি।

এক কর্মকর্তা জানান, সভাপতি শাম্মি সিলভা তার চতুর্থ মেয়াদের আরও ১১ মাস বাকি থাকতেই বিশেষ সভা ডেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘নতুন অন্তর্বর্তী কমিটির জন্য পথ তৈরি করতেই আমরা পদত্যাগ করেছি।’

জানা গেছে, নতুন এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন একজন সাবেক বিনিয়োগ ব্যাংকার, যিনি একই সঙ্গে বিরোধী রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত।

সরকারি এক কর্মকর্তা জানান, দেশটির প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে সপ্তাহান্তে সিলভার সঙ্গে বৈঠক করে নতুন ব্যবস্থাপনার অধীনে বোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে শ্রীলঙ্কা বিদায় নেয় সুপার এইটে। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সদস্যপদ স্থগিত করেছিল আইসিসি। তবে ২০২৪ সালের জানুয়ারির শেষে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং সিলভার কমিটিকে পুনর্বহাল করা হয়। পরে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চতুর্থ মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হন।